আল্লাহ দুই প্রকার: জানা আল্লাহ ও অজানা আল্লাহ।
জানা আল্লাহ সম্বন্ধে আমরা সব জানি। তিনি নবিগণের মাধ্যমে তাঁর বিস্তৃত পরিচয় দিয়েছেন এবং মানুষের করণীয়, বর্জনীয় সম্বন্ধে সব কথা বলে দিয়েছেন। কোনোকিছু বলতে তিনি ভুলে যাননি। পোশাকের মাপ পর্যন্ত তিনি বলে দিয়েছেন এমনকি এটি বলতেও তিনি ভুলে যাননি যে “রজঃস্রাবকালে তোমরা স্ত্রী-সংগম করবে না” এবং “ঠিক সেইভাবে স্ত্রী-সংগম করবে যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন” (সুরা বাকারা: ২২২)।
অজানা আল্লাহ সম্বন্ধে আমরা কিছুই জানি না। যেমন, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের আগে কী ছিল আমরা জানি না। সময় সৃষ্টির আগে, শক্তি সৃষ্টির আগে, স্থান সৃষ্টির আগে কিংবা সৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে কী ছিল আমরা জানি না। হিগস বোসনের নাম দিয়েছি আমরা ঈশ্বর কণা। কারণ কণা সম্বন্ধে এরপর আমরা জানি না।
তবে আমরা এটি নিশ্চিতভাবেই জানি যে, মানবজাতির জানার জগৎটি অতি ক্ষুদ্র এবং অজানার জগৎটি অতি বৃহৎ; এত বৃহৎ যে অনন্ত, অসীম।
আমি মানবজাতির অতীত জানি না, বর্তমান জানি না, ভবিষ্যৎ জানি না।
কেন কীভাবে আমার শ্বাস আসে আর যায়, আমি জানি না। কেন কীভাবে আর কতক্ষণ আমার কিডনি, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড কাজ করবে, আমি জানি না। আমি জানি না, এখন আমার রক্তচাপ কিংবা ডায়াবেটিস কত।
আমার বাহিরে অজানা, ভেতরে অজানা। আমার মাথার উপর অজানা, মাথার ভেতরে অজানা, ডানে-বামে, নিচে অজানা। আমি হাঁটছি অজানার ভেতর দিয়ে, অজানার দিকে।
আমি ডুবে আছি অজানায়।
আমি অজানা।
আমার আল্লাহ অজানা।
আমি বিশ্বাস করি অজানায়।
ঝাঁপ দেই অজানায়।
জানতে চাই অজানা।