১৯৭৭ সালে সাইবেরিয়ার বরফে ঢাকা অঞ্চলে এক অসাধারণ আবিষ্কার হয়। পারমাফ্রস্টে সংরক্ষিত একটি শিশু উলি ম্যামথের দেহাবশেষ খননযন্ত্র চালক খুঁজে পান। পরে ম্যামথটির নাম রাখা হয় দিমা।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, দিমা প্রায় ৪০,০০০ বছর আগে বরফযুগে বেঁচে ছিল। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র ৬ থেকে ৮ মাস। হাজার হাজার বছর ধরে বরফে জমে থাকায় তার দেহের ত্বক, টিস্যু ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গসহ অনেক কিছুই আশ্চর্যজনকভাবে সংরক্ষিত ছিল।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় আবিষ্কারগুলোর একটি ছিল তার পাকস্থলীতে। সেখানে গবেষকেরা মায়ের দুধের অবশেষ খুঁজে পান। এটি ম্যামথের শাবকদের প্রাথমিক জীবন ও খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য দেয়।
দিমার আবিষ্কার জীবাশ্মবিদদের জন্য বিরল এক সুযোগ তৈরি করে—অতীতে ম্যামথেরা কীভাবে অত্যন্ত শীতল পরিবেশে খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকত, তাদের জীববিজ্ঞান ও বেড়ে ওঠার ধরন কেমন ছিল এবং তারা কোন বাস্তুতন্ত্রে বাস করত, তা অধ্যয়ন করার সুযোগ।
আজও দিমা আবিষ্কৃত ম্যামথের সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত নমুনাগুলোর একটি। এটি বিজ্ঞানীদের বরফযুগের এই পরিচিত প্রাণীদের জীবন সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে সাহায্য করছে।
Install app for better experience