📷🌿 তারা গিয়েছিলেন জঙ্গলে একটি ছোট দিনের হাঁটায়। আর কখনও ফিরে আসেননি। পরে তদন্তকারীরা তাদের ক্যামেরায় যা খুঁজে পান, তা আজও প্রশ্ন জাগায়।
২০১৪ সালের ১ এপ্রিল, দুই ডাচ শিক্ষার্থী — Kris Kremers (২১) এবং Lisanne Froon (২২) — পানামায় স্বেচ্ছাসেবক কাজ করার সময় বোকেৎ অঞ্চলের কাছে El Pianista Trail-এ হাঁটতে বের হন।
এই পথটি ছিল একটি পরিচিত পর্যটন ট্রেইল।
একটি ছোট হাঁটা। মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য।
তারা আর কখনও দেখা যায়নি।
কয়েক দিন কেটে যায়, তারপর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরিবার পানামায় উড়ে আসে, এবং অনুসন্ধান দল দিন ধরে জঙ্গলে খুঁজেও কোনো খোঁজ পায়নি।
প্রায় দশ সপ্তাহ পর, এক স্থানীয় নারী নদীর ধারে একটি নীল ব্যাকপ্যাক খুঁজে পান।
ব্যাগের ভেতরে ছিল তাদের ফোন, একটি ক্যামেরা, নগদ টাকা, সানগ্লাস, এবং একটি পানির বোতল — সবকিছুই আশ্চর্যজনকভাবে অক্ষত ছিল।
কিন্তু ডিভাইসগুলো যে তথ্য দেয়, তা ছিল উদ্বেগজনক।
📱 ফোনের তথ্য অনুযায়ী, হাইক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ১১২ এবং ৯১১ নম্বরে ৭৭ বার জরুরি কল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
ঘন জঙ্গলের কারণে কোনো কলই সংযুক্ত হয়নি।
শুধুমাত্র একটি কল দুই সেকেন্ডের জন্য সিগন্যাল পেয়েছিল।
৪ এপ্রিলের পর একটি ফোন কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
অন্যটি পরবর্তী দিনগুলোতে বারবার চালু করা হয়েছিল, সম্ভবত সিগন্যাল খোঁজার জন্য — কিন্তু আর কখনও সঠিক পিন নম্বর প্রবেশ করানো হয়নি।
📷 এরপর তদন্তকারীরা ক্যামেরাটি পরীক্ষা করেন।
৮ এপ্রিল রাতে, নিখোঁজ হওয়ার এক সপ্তাহ পর, রাত ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে ৯০টি ফ্ল্যাশ ছবি তোলা হয়েছিল।
প্রায় সব ছবিতেই দেখা যায় শুধু অন্ধকার, পাথর এবং গাছপালা।
একটি ছবিতে ক্রিসের মাথার পেছনের অংশ দেখা যায়।
আরেকটি ছবিতে একটি লাঠির সঙ্গে প্লাস্টিক ব্যাগ বাঁধা দেখা যায় — যা সম্ভবত সংকেত দেওয়ার চেষ্টা ছিল।
এরপর ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যায়।
কয়েক মাস পর, অনুসন্ধান দল নদীর ধারে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কিছু দেহাবশেষ খুঁজে পায় — যার মধ্যে ছিল একটি বুট, যার ভেতরে একটি পা ছিল, এবং কিছু হাড়ের অংশ, যা পরে দুই নারীর বলে শনাক্ত করা হয়।
তাদের দেহের খুব অল্প অংশই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল, এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ করা যায়নি।
কর্তৃপক্ষের মতে, সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো তারা পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং পরে পরিবেশগত পরিস্থিতি বা আঘাতের কারণে মারা যান।
তবুও, আজও এই ঘটনাটি অনেক প্রশ্ন উত্থাপন করে।
এক দশকেরও বেশি সময় পরে, সেই ট্রেইলে ঠিক কী ঘটেছিল তা কেউ নিশ্চিতভাবে জানে না।
শুধু সম্পূর্ণ অন্ধকারে তোলা ৯০টি ছবি রয়ে গেছে — তাদের শেষ দিনের নীরব সাক্ষী হয়ে। 🌿