ফুলসজ্জার রাতে এমন একটা কান্ড ঘটে যাবে বুঝতেই পারেনি শাওন। একদিকে ভয় আর অন্যদিকে লজ্জাজনক একটা অস্বস্তিকর ঘটনা আচমকা ঘটে যাবে কল্পনাও করিনি সে। কোন উপায়ান্তর না পেয়ে শাওন তার দুলাভাইকে ফোন দিয়ে বললো-
--দুলাভাই, তন্নী তো বেহুশ হয়ে বিছানায় পড়ে আছে, কি করি এখন?
দুলাভাই হাহা করে হেসে দিলো। টিটকারির স্বরে শাওনকে বললো-
--শালাবাবু কি এমন কান্ড ঘটিয়েছো বলতো শুনি। বাসর ঘরে বউকে একেবারে বেহুস করে ফেলেছো?
এমন সময়ে দুষ্টুমী একেবারে বেমানান,সহ্য হচ্ছিলোনা শাওনের, তাই একটু উচ্চস্বরে রাগান্বিত হয়ে দুলাভাইকে বললো-
--দুলাভাই,ফাইজালামী করবেন না একদম। আমি রুমে ঢুকার পর তন্নীর হাতে একটা কলম দেখলাম। ও শুধু ঘামচ্ছিলো আর টিস্যু দিয়ে চোখমুখ মুছতেছিলো তাছাড়া ও কি বলবে বলবে বলে আকুপাকু করতেছিলো মনে হয়। শেষ পর্যন্ত কিছু না বলেই বিছানায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। আমি বাসরঘরের সব ফুলের ছড়াগুলো ছিঁড়ে একপাশে ফেলে রেখে বিছানাটা খোলামেলা করে রেখেছি আর পাখাটা সর্বোচ্চ গতিতে ছেড়ে দিয়ে ওর পাশে বসে আছি। কিছু একটা করেন প্লিজ।
--বলো কি! ডাক্তার ডাকতে হবে নাকি? আচ্ছা দাঁড়াও, আমি এক্ষুনী আসছি,তুমি দরজাটা খুলে রাখো।
দুলাভাই, শাওনের বড় আপাকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলে বাসরঘরে নিয়ে আসলো। বিশ মিনিট ধরে মাথায় পানি ঢাললো আর পায়ের তালু ও হাতের তালুতে রসুন আর সরিষার তেল গরম করে ম্যাসেজ করে তন্নীর হুশ ফিরালো, আর শাওন পাশে ভ্যাবাচ্যাকা হয়ে নির্বিকারের মতো দাঁড়িয়ে আছে। তারপর শাওনের দুলাভাই আর আপা, তন্নীকে জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে? খুব অসুস্থ কিনা জানতে চাইলো। তন্নী বললো তার কিছুই হয়নি। বিয়ে বাড়ী, তার উপর কয়েকদিন ধরে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেনি সব মিলেয়ে বিয়ের ধকলটা সে হজম করতে পারেনি বলে দুলাভাই আর আপাকে বললো।
দুলাভাই আর শাওনের আপা বুঝতে পারছেনা কি বলবে। বাসরঘরে বউকে বাসর বাদ দিয়ে ঘুমাতে বললে শাওনের উপর অন্যায় করা হবে আর ঘুমাতে না বললেও তন্নীর উপর দায়িত্ববোধ দেখানো হবে না। শেষমেশ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে শাওনের দুলাভাই আর তার বোন, তন্নীকে বললো, "তোমরা কথা বলো আমরা যাচ্ছি। আর কোনকিছুর দরকার হলে শাওনকে বলো আমাদের ফোন দিতে।"
.
দুলাভাই আর আপা শাওনকে আর তন্নীকে বাসর ঘরে রেখে চলে যায়। তন্নী উঠে বসলো, বললো-সরি,এমন একটা ব্যাপার হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি, আসলে আপনাকে কিছু বলার ছিলো, তখন ভয় হচ্ছিলো বলতে, এখন বলবো? শাওন তন্নীকে চুপ করিয়ে দিয়ে বললো, তন্নী আজ না,অন্যদিন বলো। এমনিতে ক'দিন ধরে বিয়ে নিয়ে একটা বড়সড় ধকল গেলো আর তুমি এইমাত্র অজ্ঞান থেকে হুশে ফিরলে। এক কাজ করো, তুমি ঘুমিয়ে পড়ো। যা বলার আগামীকাল বলো,আমি শুনবো। তন্নী বললো, আচ্ছা আমার হাতে একটা কলম ছিলো। কলমটা কোথায়? শাওন বিছানার একপাশ থেকে কলমটা খুজে এনে তন্নীর হাতে কলমটা দিয়ে জিজ্ঞেস করলো, এ কলমটা কি খুব দরকার? উত্তরে তন্নী বললো,জ্বী, এটা আমার খুব দরকার।
.
তন্নীকে শুইয়ে দিয়ে শাওন বেলকুনিতে এসে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে রইলো। কিছুক্ষন পর রুমে ঢুকে শোফাতে শুয়ে শাওনও ঘুমিয়ে পড়লো। এমনিতে অনেক ক্লান্তিবোধ হচ্ছে তাছাড়া তন্নীও হুট করে অসুস্থ হয়ে পড়লো।
.
পরেরদিন বৌভাতের আয়োজন করা হলো একটা কমিউনিটি সেন্টারে। শাওনের পরিবার চাচ্ছিলো বৌভাতের অনুষ্ঠানটা যেন তাদের বাসায় হয়। কিন্তু তন্নীর ফ্যামেলির লোকজনের অনুরোধে কমিউনিটি সেন্টারে বৌভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিয়েটাও হয়েছে কমিউনিটি সেন্টারে, তন্নীর পরিবারের লোকজনের অনুরোধেই।
.
বৌভাত অনুষ্ঠানে সময়মত তন্নীর ফ্যামিলির লোকজনও চলে আসলো। শাওনের ফুপি,তন্নী বাবার বাড়ির লোকজন দেখে রেগে গেলেন। শাওনের পরিবার থেকে পাত্রীপক্ষদের দাওয়াত করেছিলো একশজন। অথচ তন্নীর কয়েকজন নিকটাত্মীয় আর পরিবারের সদস্য মিলে পঁচিশ বা ত্রিশ জনের মতো এসেছে বৌভাতে। ব্যাপারটা শাওনের ফুপি কিছুতেই মানতে পারছেনা। এতোগুলো খাবার কি করবে এখন! শাওনের ফুপি গিয়ে আফজাল সাহেব ও রীনা বেগমকে অর্থাৎ শাওনের বাবা-মা'র কাছে গিয়ে জোরে চিৎকার করে বলতে লাগলো, তন্নীর পরিবারের এই কাজটা খুব খারাপ হয়েছে। একশজন দাওয়াতী লোকজন আসার কথা ছিলো, আর আসলো মাত্র ত্রিশজনের মতো। কেন এই কাজটা করলো? আফজাল সাহেব শাওনের ফুপি মহব্বতী বেগমকে কোনপ্রকার ভুলভাল বুঝিয়ে ঠান্ডা করলো। বললো, আপা তুমি এ বাড়ির মেহমান হিসেবেই থাকো। ওরা যা করেছে এটা আমি আর তোমার ভাবী দেখবো। আর এতো জোরে চিল্লালে মেহমানরা শুনে ফেলবে। পরে ব্যাপারটা খারাপ হবে।
.
শাওনের পরিবার ছিলো অনেক ধনী ও অর্থসম্পদশালী, সে কারনেই আসলে শাওনের ফুপির চাওয়া ছিলো শাওনের সাথে যেন তার মেয়ে রেহানার বিয়ে হয়। আর শাওনের মা আর আফজাল সাহেব চায়নি আত্মীয়দের মধ্যে নতুন কোন আত্মীয়ের সম্পর্ক হোক। তাই শাওনের ফুপির মনোবাসনা পূর্ণ না হওয়ার কারনে শাওনের বিয়েতে সবকিছুর ভুলত্রুটি অনেক বড় করে সবার কাছে ছড়াতে চাচ্ছে। আর শাওনের বাবা-মাও ব্যাপারটা বুঝে ফেলেছে। তাই শাওনের ফুপিকে পরিবারের সবাই শুধুমাত্র মেহমান হিসেবেই দেখছে। শাওনের অভিভাবক হিসেবে কেউ পাত্তা দিচ্ছেনা।
.
শাওন এগিয়ে গিয়ে তার শশুর আব্বার সামনে বসে পা ছুঁয়ে সালাম করলো। শশুরআব্বা এদিকওদিক তাকিয়ে শাওনকে ডেকে একটা পাশে নিয়ে বললেন-
--শাওন বাবা, তোমাকে একটা কথা বলার ছিলো।
শশুর আব্বার কথা এমন কথা শুনে শাওন কিছুটা ভয় পেলো। তার ফুপি মেহমান কম আসার জন্য যে চিল্লাচিল্লি করেছিলো এগুলো শুনে ফেলেছে কিনা,তাই ভাবছে। শাওন তার শশুর আব্বাকে বললো,
--জ্বী আব্বা,বলুন।
--আসলে ব্যাপারটা কিভাবে নিবে বুঝতে পারছিনা। আসলে কথাটা হচ্ছে....
বলতেই দূর থেকে শাওনের মায়ের ডাকের আওয়াজ শুনতে পেলো সে। শাওন তার শশুর আব্বাকে বললো, আমি একটু আসছি। এসেই শুনছি।
শাওন তার মায়ের কাছে গেলো। কি একটা কাজের জন্য বাইরে পাঠালো, পরে আর খেয়ালই হল না, শশুর আব্বা যে শাওনকে কিছু বলতে চেয়েছিলেন।
.
বৌভাত শেষ হয়ে গেলো। দু'দিন পর বাসা থেকে সিদ্ধান্ত হলো একসপ্তাহের হানিমুনে পাঠাবে শুধুমাত্র শাওনকে আর তন্নীকে। আর এই একসপ্তাহে পরিচিত কারো সাথে যোগাযোগ রাখা যাবেনা। মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে হবে,যাতে করে শাওন আর তন্নী দুজনেই হানিমুনের পুরো একটা সপ্তাহ পুরোপুরিভাবে উপভোগ করতে পারে।
.
হানিমুনে তন্নীকে নিয়ে কক্সবাজারের "হোটেল সি প্যালেস"-এ উঠে পড়লো শাওন। রাতে সমুদ্রের ঢেউ দেখতে না পেলেও মাঝরাতে ঢেউওয়ের আওয়াজ হোটেলটার বেলকুনি থেকে শুনতে পাওয়া যায়। বেলকুনিতে দাঁড়িয়ে আছে শাওন। তন্নী নাইটি পড়ে শাওনের পাশে এসে দাঁড়িয়ে বললো-
--এইযে শুনুন,আপনাকে কিছু কথা বলার ছিলো।
--অহ হ্যা, কি বলো।
--আমার একটা কালো অতীত আছে। এটা শেয়ার না করা পর্যন্ত কোনভাবেই আপনার সাথে ম্যাচ করতে পারছিনা। আসলে....
.
তন্নীকে থামিয়ে দিয়ে শাওন বললোঃ
--দ্যাখো তন্নী, হানিমুনে এসেছি এই সময়টাকে উপভোগ করার জন্যে। কালো অতীত নিয়ে কথা বলে মন খারাপ করতে চাই না। থাকুক তোমার কালো অতীত, যদি সে অতীতটা ভুলে যেতে পারো তবে ভালো হবে,সুখে থাকবে। অতীতকে টেনে এনে বর্তমানটাকে নষ্ট করো না। শোন, আমাদের এরেঞ্জ ম্যারেজ হয়েছে। তাই এখন হানিমুনের এই সময়টাতে আমরা একে অপরকে পুরোপুরি সময় দিতে না পারলে নিজেদের মধ্যে ভালো একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং হবে না। এই সময়টাতে একে অপরকে চিনতে হবে,বুঝতে হবে। নিজেদের মধ্যে ভালো একটা বোঝাপড়া হওয়ার দরকার। তাই বলছি,অতীতটাকে ভুলে যাও।
--এরেঞ্জ ম্যারেজ হলেও, বিয়ের দিনতারিখ ঠিক হওয়ার পর আপনাকে ফোন দিয়েছিলাম কথা বলার জন্য। অথচ আপনি একই কাজ করলেন। বললেন, এরেঞ্জ ম্যারেজ মানে দুটো অপরিচিত মানুষের একটা অদ্ভুত বন্ধন। আলাদা একটা অনুভুতি। তাই বিয়ের আগে ফোনেও কথা বলবেন না বলে ফোনটা রেখে দিয়েছিলেন। তখনও আমি সে কথাটা বলতে পারিনি। অথচ আমাদের বিয়ের আগে কথাটা বলার উচিত ছিলো।
শাওন তন্নীকে আশ্বস্ত করে বললোঃ
-- আচ্ছা ঠিক আছে। হানিমুনটা শেষ হোক। বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর তোমার অতীত সম্পর্কে বলো। বিয়ের আগে যদি তোমার কারো সাথে রিলেশন থাকে বা ছিলো এমন সব কিছুই মেনে নিবো। অথবা তুমি যা চাইবে তাই হবে। তোমার অতীতটা না শোনা পর্যন্ত আমি তোমার সাথে কোন প্রকার শারিরিক সম্পর্ক করবো না বা চেষ্টাও করবো না। ঠিক আছে?
তন্নী মাথানিচু করে হালকা একটা মুচকী হাসি দিয়ে বললো, আচ্ছা ঠিক আছে।
বিয়ের পর এই প্রথম শাওন তন্নীর মুখে অস্পষ্ট একটা মুচকি হাসি দেখতে পেলো, শাওন বললো- নাইটি চেঞ্জ করে শাড়িটা পড়ো। মাঝরাত,খালি পায়ে দুজন সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ গুনে আসি। আছড়ে পড়া সমদ্রের ঢেউয়ে পা ভিজিয়ে আসি…
চলবে...
গল্প- #কলঙ্কিনী
#পর্ব:- ০১
-#লেখা_আবির_আহমেদ
তারাবির নামাজের জন্য বাসা থেকে বার হয়ে হাঁটছি এমন সময় কানে সোরগোল ভেসে আসলো।
রাস্তা সংলগ্ন একটা বাসা থেকে চিৎকার চেঁচামেচি শোনা যাচ্ছে।
কয়েক মুহূর্ত থমকে দাঁড়ালাম। একটু পর একটা মাঝবয়সী ছেলে হন্তদন্ত হয়ে ওই বাসা থেকে বেরিয়ে বিপরীত দিকে হাঁটা শুরু করলো।
ছেলেটার পিছুপিছু একজন ভদ্রমহিলাও বেরিয়ে এলেন।
উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে কয়েকবার বলে উঠলেন, -'খোকা যাস না। আমি তোর বাবাকে বুঝিয়ে বলে তোর টাকা ম্যানেজ করে দেবো। ফিরে আয় খোকা।'
ভদ্রমহিলার কথার বাচনভঙ্গি দেখে যতটুকু আন্দাজ করে বুঝলাম, ছেলেটা হয়তো একটু আগে টাকার জন্য পরিবারের সাথে কথা কাটাকাটি করেই বেরিয়ে গেলো।
কে শুনে কার কথা। মায়ের কথার কোনরকম তোয়াক্কা না করে হনহনিয়ে হেঁটে চলে যাচ্ছে ছেলেটা।
খানিকটা দূরে যেতেই হাঁক দিলাম, -'এইযে ছোট ভাই?'
ছেলেটা ডাক শুনে ঘুরে দাঁড়ালো। তারপর রাগ রাগ একটা ভাবমূর্তি ধারণ করে বললো, -'কিছু বলবেন?'
মুখের হাসিটা বিদ্যমান রেখে জবাব দিলাম, -'তুমি তো সিরাজ চাচার ছেলে তাই না?'
বাবার নাম বলাতে দেখলাম ছেলেটার রাগের পরিমান আরও বেড়ে গেলো। রাগে ফসফস করতে করতে বললো, -'ছিলাম। এখন নেই। আজকের পর থেকে ওই নামে আমার কোনো বাবা ছিলো তা ভুলে যাবো।আর আপনারা,আপনাদেরকে বলছি। সবসময় কেন বাবার নামেই সন্তানদেরকে পরিচিতি হতে হবে?
আমার তো নিজেরও একটা নাম আছে। '
-'তোমার নামটা যানি কি?'
-'জাব্বার।'
-'ওহ্ আচ্ছা। তা বাবার উপর এত রাগের কারণ টা কি জানতে পারি?'
-'জেনে কি করবেন? কোনো সমাধান তো করতে পারবেন না। খামাখা সময় নষ্ট করে কি লাভ?'
-'আরে বলেই দেখো না। করলেও করতে পারি।'
-'শোনেন তাহলে। রমজানের রহমতের দশদিন পেরুতে চললো। বন্ধুমহলে সবারই ইদের কেনাকাটা শেষ।
সকাল-বিকাল যখনি বন্ধুদের মাঝে গিয়ে বসি,সবাই ব্যঙ্গাত্মক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে, -'কিরে এবারও কি ওই পাঞ্জাবিতেই ইদ পার করবি নাকি? আমাদের তো সবার কেনাকাটা শেষ।'
দুদিন ধরে মাকে বলছি কিছু টাকা দিতে। একটা পাঞ্জাবি কিনবো। কিন্তু না,মা বাবাকে বলছেই না।
আজকে ইফতারির সময় নিজে যখন বলতে গেলাম, বাবা তো পারলে খেয়ে ফেলে আমাকে। সন্তানের সখ আহ্লাদ পূরণ করতে পারবেনা তো সন্তান জন্ম কেন দিছিলো?'
-'এইজন্য তখন রাগ দেখিয়ে বেরিয়ে এলে?'
-'তো কি করবো? বেরিয়ে এসেছি,এবার একটা কাজ খুঁজবো। তারপর নিজের মত করে চলবো। আর ফিরবো না ও বাড়িতে।'
-'আমাকে তো চেনো নাকি?'
-'হ্যাঁ। আপনি সামসুল নানার নাতি। '
-' এইযে তুমিও একই ভুল করলে। একটু আগে বললে, সন্তানদেরকে বাবার পরিচয়ে কেন বড় হতে হবে? এখন কিন্তু তুমি নিজেই আমার পরিচিতিটা ঠিকি আমার নানুর নামেই করালে। কারণ আমি জন্মের পর থেকেই নানা-নানির বাড়ি বেড়ে উঠেছি দেখে।'
-'আচ্ছা এসব না বলে,কি বলবেন বলে ডাকলেন সেইটা বলেন।'
-' বাবার উপর তোমার খুব রাগ তাই না?'
-'রাগ না। তবে মাঝেমাঝে অভিমান হয়।'
-'তোমার বাবাকে আমি ভালোভাবে চিনি।
আড়তদারিতে কাজ করেন।
খুব একটা বেতন পান না। মনে হয় টেনেটুনে হাজার আটেক মত হবে। সেটা কি জানো?'
-'হ্যাঁ জানি।'
-'তোমরা তো দুই ভাই-বোন তাই না?'
-'হ্যাঁ।'
-'এটা কি জানো,তোমার বোনের বেশ কয়েকবার বিয়ে হতে হতেও আর হয়নি।
শুধুমাত্র তোমার বাবা পাত্রপক্ষকে খুশি করতে পারেনি দেখে। '
-'না।'
-'তুমি যথেষ্ট বড় হয়েছো।
সামনে এস এস সি দিবা। চারপাশ সম্পর্কে তো তোমার বেশ ধারণা থাকার কথা। তাহলে পরিবারের উপর এত তিক্ততা আসলো কীভাবে? বর্তমানের বাজার দরের হিসেব কষতে গেলে আট হাজার টাকা কিছুই না। আর সেখানে আট হাজার টাকার উপরে একটা পুরো পরিবার চলছে! একটা বার খোঁজ নিয়ে দেখেছো কীভাবে চলে? তুমি এস এস সি পরিক্ষার্থী, তোমার খরচ বহন করাটাই ওই মানুষটার জন্য অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ। সেখানে তোমার খরচাপাতি বহন করার পাশাপাশি সংসারটাকেও একা হাতে সামলাচ্ছে এটা কি কম কিছু? তুমি গতবছরের পাঞ্জাবিটা এ বছর পরতে চায়ছো না তোমার বন্ধুদের টিটকারির জন্য।
কিন্তু বাজারে যাওয়া প্রতিটা মানুষ দেখেছে তোমার বাবা এক শার্ট কতদিন পরে বাজারে এসে বসে থাকে।
কেন থাকে জানো? যাতে নতুন শার্ট কেনার টাকাটা বাঁচিয়ে তোমার একমাসের টিউশন ফি টা দিতে পারে।
তোমার বাবার যথেষ্ট বয়স হয়েছে। আমি একদিন কথার ছলে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, -'চাচা আর কতদিন, এইবার একটু অবসর নিন।
উত্তরে তোমার বাবা কি বলেছিলো যানো, বলেছিলো ছেলেটা লেখাপড়া করে একটা কিছু করলেই আমি নিশ্চিন্ত। তখন না হয় অবসর নিবো। এখন আমি অবসর নিলে ছেলের ভবিষ্যত টা যে নষ্ট হয়ে যাবে। বাবা হিসাবে তা কীভাবে হতে দেই?'
বাবা শব্দটা ছোট হলেও শব্দের আড়ালে থাকা মানুষটা সন্তানের জীবনে অক্সিজেনের মত।
অনেকটা বটবৃক্ষ গাছ যেমনটা হয়ে থাকে।
আমি জানি একজন বাবা ছাড়া সমাজের বুকে বেড়ে ওঠা টা কতটা কষ্টের। জন্মের পর থেকেই বাবার জায়গাটা কখনো নানা পূরণ করেছে তো কখনো মামারা।
আর কয়দিন পর ইদ,তোমরা এই একটা দিনের জন্য হলেও ইদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের অযুহাতে হলেও বাবাকে জড়িয়ে ধরতে পারো।
আর আমি? আমি এমনি অভাগা জন্মের পর থেকে বাবার স্পর্শটা কেমন হয় সেটাই অনুভব করার ভাগ্য হয়নি।
তাই বলছি,বাবাকে কষ্ট দিও না। তোমাদের জন্য সারাক্ষণ বুক আগলে দেওয়া মানুষটা যদি কোনোদিন অভিমান করে মুখ ফিরিয়ে নেই,সেদিন হাজার কান্না করলেও আর ফিরে পাবেনা।
বাসায় ফিরে যাও।
গিয়ে দেখো মুখের উপর দু চারটে কথা বলা মানুষটা আঁড়ালে গিয়ে চোখের পানি ছেড়ে নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছে।
সন্তানদের ইচ্ছা পূরণ করতে অক্ষম হওয়ার ব্যাথায়।'
ছেলেটা হয়তো আমার কথাগুলো সামান্য হলেও বুঝতে পেরেছে। দেখলাম রাস্তা পরিবর্তন করে বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছে।
সবারই উচিৎ আপন নীড়ে ফিরে যাওয়া।
ইদের আনন্দটা একে অপরের পাশে থেকে ভাগাভাগি করে নেওয়া।
নতুন কাপড়েই কি ইদ আনন্দ পাওয়া যায়?
আনন্দ তো আপন মানুষগুলার পাশে থেকে সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মাঝে।
®আশিক মাহমুদ
তা বউমা রোজা তো এসে পরেছে, তোমার বাপের বাড়ি থেকে তো এখনো রোজার বাজার সদাই করে পাঠালো না। নাকি মেয়ে বিয়ে দিয়ে তোমার বাপ সাপের পাঁচ পা দেখে ফেলেছে?
ভুলে গেছে মেয়ের বাড়িতে যে রোজার জন্য বাজার সদাই পাঠাতে হয়? আমাদের কে কি ছোট লোক ভেবেছে? যে উনার কাছ থেকে এই সামান্য জিনিস গুলো চেয়ে নিতে হবে? মেয়েকে আমাদের ঘা*ড়ে চাপিয়ে সকল দায়িত্ব থেকে উনি রেহাই পেয়ে গেছেন এটাই ভাবছে নাকি?
পাশের বাসার করিম ও তো আমার ছেলের আরো কয়েক বছর আগে বিয়ে করেছে। ওর বউয়ের বাপ কে তো কিছু বলে দিতে হয় না। সব কিছু আগে আগে পাঠিয়ে দেয়। এইতো কাল বিকেলে করিমের মা আমাকে নিয়ে তার ছেলের শ্বশুর বাড়ি থেকে পাঠানো সকল জিনিস পত্র দেখালো। সব কিছু ভর্তি ভর্তি করে পাঠিয়েছে।বিয়ের কয়েকবছর হয়ে গেছে এখনো মেয়েকে কোনো কিছু কম দেয় না।
করিমের মা যখন সবকিছু দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলো আমার ছেলের শ্বশুর বাড়ি থেকে রোজার বাজার সদাই কি কি পাঠিয়েছে আমি কিছু বলতে পারলাম না।
এক বছর দিয়ে তোমার বাপ কি ভাবছে আর দিতে হবে না? গত বছর শুধু বুট, মুড়ি আর খেজুর পাঠিয়ে নিজের দায়িত্ব শেষ করেছিলো।
কি কম দামি খেজুর পাঠিয়েছিলো।মুখে দেওয়ার মতো ছিলো না, একটার সাথে একটা লেগে গিয়েছিলো। এবার যেনো ভুলেও এমন খেজুর না পাঠায়।
আর হ্যা বলে দিও এবার বুট,মুড়ি আর খেজুরে হবে না। তেল ডাল চিনি থেকে যেনো সব পাঠায়।
আবার আমরা চেয়ে নিচ্ছি বলতে যেও না। বলবা তুমি নিজে বলছো দেওয়ার জন্য।
আমার এতো আদরের ছেলেকে বিয়ে করিয়েছি আমাদের ও তো ইচ্ছে করে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে জিনিস পত্র দিবে সেটা দেখে চোখ জোড়ানোর।
বিয়ের সময় তো তোমার বাপ বেঁচে গেলো তেমন কিছুই দিতে হয়নি।এবার অন্তত বলো বাপের পকেটে একটু ঝাড়া দিতে।
কথাগুলো বলে মিসেস খেয়া আমিরার দিকে তাকায়। একনাগাড়ে কথা গুলো বলে প্রায় হাঁপিয়ে গেছে মিসেস খেয়া।
আমিরা তার একমাত্র ছেলের বউ। যে কিনা শ্বাশুড়ির কথাগুলো এতো সময় ধরে একমনে মাথা নিচু করে শুনে গেছে আর মেঝেতে পায়ের নখ দিয়ে খুঁটে গেছে। চোখ তার ছলছল করছে। কিন্তু এখন কিছুতেই কাঁদা যাবে না। কাঁদলে শাশুড়ী মা আরো কথা শুনাবে।
"কি বললাম তোমার কানে ঢুকেছে,?"
আমিরা মাথা উপর নিচ নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। তার কানে ঢুকেছে।
এবার যাও আমার জন্য পানি নিয়ে আসো গলা টা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। এখনই কি গরম পরেছে। ফ্রিজ থেকে পানি নিয়ে আর জগ থেকে পানি নিয়ে মিশিয়ে নিয়ে আসো।বেশি ঠান্ডা পানি খেতে পারবো না। গলা বসে যাবে আবার।
আমিরা মাথা নাড়িয়ে শ্বাশুড়ির জন্য তারাতাড়ি পানি আনতে যায়।
যাওয়ার সময় শ্বাশুড়ির আরো কিছু কথা কানে এসে লাগে।
ফ্রিজ টা ও পুরোনো হয়ে গেছে। বরফ জমে না বেশি।আর কতো চলবে? মানুষের ছেলের শ্বশুর বাড়ি থেকে কতো কিছু পায়।এসব কি চেয়ে নিতে হয়? মেয়ে বিয়ে দিলে মেয়ের শ্বশুর বাড়ি তে কি কি দরকার বা প্রয়োজন সব কিছুর খেয়ালই রাখতে হয়।
আমিরা রান্না ঘরে এসে আঁচল দিয়ে চোখের পানি মুছে নেয়। আরো অনেক কথাই বলে যাবে আজ শ্বাশুড়ি। অন্য র বাড়ির রোজার বাজার সদাই দেখে এসেছে বলে কথা।
আমিরা চুপচাপ শুনা ছাড়া কিছু বলতে পারলো না। তার বাবার জন্য খুব খারাপ লাগছে।
শ্বাশুড়ি মা তো তার বাবার বাড়ির কথা জানে। তার বাবা গরিব মানুষ দিন আনে দিন খায়।টানা পো'ড়নের সংসার তাদের। বাবা বেশির ভাগ সময় অসুস্থ ই থাকে। একটা বিবাহ উপযুক্ত বোন ও রয়েছে।
তার বিয়েই কতো কষ্ট ধার দেনা করে দিতে হয়েছে।সেই ধার দেনা তার বাবা এখনো পরিশোধ করতে পারে নি।
যার নুন আনতে পান্তা ফুরায় তার কাছে রোজার বাজার সদাই কি করে চাইবে সে? শ্বাশুড়ি কে সে মুখ ফোটে বলতে পারলো না কিছু। নয়তো আরো অশান্তি করবে।
আমিরা যদি এখন তার বাবার কাছে এসব বাজার সদাই চায় তার বাবার মাথায় এখন বা*জ পরবে। এসব কিছু চাইলে বাবার মুখটা কেমন দেখাবে সেটা ভেবেই আমিরার কলিজা মোচড় দিয়ে উঠে।
বাবার অসহায়ত্ব মাখা মুখটা বারবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
এর মধ্যে শ্বাশুড়ির ডাক শুনতে পায় আমিরা।
"এক গ্লাস পানি এনে দিতে এতো সময় লাগে? তুমি তো দেখছি মানুষ কে মে'রে ফেলবে মেয়ে। বাপের বাড়ি থেকে কাজ শিখে আসো নি,? সংসার তো করছো কম দিন হচ্ছে না। এখনো কিছু শিখোনি?
শিখবা কেন? " কম পানির মাছ বেশি পানিতে পড়লে যা হয় আরকি।" পায়ের উপর পা তুলে শরীর বাঁচিয়ে খাওয়ার ধান্ধা সব।
আমিরা চোখের পানি মুছে তারাতাড়ি তার শ্বাশুড়ির জন্য পানি নিয়ে আসে।
পানি খেয়ে মিসেস খেয়া আমিরার দিকে তাকায়। তারপর বলে,,যা বললাম সব মনে আছে তো?
হু-,হুম আম্মা।
ভালো মনে করে বলে দিও। করিমের মা কে যেনো ডেকে এনে দেখাতে পারি তার ছেলের শ্বশুর বাড়ি থেকে বেশি বাজার আমার ছেলের শ্বশুর পাঠিয়েছে।
কথা গুলো বলে মিসেস খেয়া আরো কি কি যেনো বিরবির করতে করতে নিজের রুমে চলে যায়।
আমিরা শ্বাশুড়ির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ধপ করে চেয়ারে বসে পরে। তার মাথা কাজ করছে না কিছুতেই।চোখে সব অন্ধকার দেখছে সে।তাকে আলো দেখাবে কে?
এর মধ্যে কলিং বেল বেজে উঠে। আমিরা তার ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসে। মাথা থেকে আঁচল টা পরে গেছে। তারাতাড়ি মাথায় আঁচল টা টেনে নেয়।
একপ্রকার দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে।
দরজার অপর পাশের মানুষ টা কে দেখে আমিরার কোনো ভাবান্তর ঘটলনা। হাত থেকে অফিসের ব্যাগটা নিয়ে এসে পরে।
মুখে নেই কোনো হাসি। অফিস থেকে ফিরে আসা স্বামী কে দেখে নেই কোনো উচ্ছাস।
আমিরার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে তার স্বামী দেলোয়ার ব্রু কোচকে তাকিয়ে রয়। মূলত মেয়েটার ভাব ভঙ্গি বা কি হয়েছে সেটা বোঝার চেষ্টা মাত্র। কিন্তু আমিরা ব্যাগটা নিয়ে নিজেই রুমে চলে যায়।
দেলোয়ার খুব ক্লান্ত। রোজার মাস আসছে কাজের চাপটা এখন অনেক বেশি। রোজায় যেহেতু কাজের আওয়ার কমিয়ে দিবে তাই এখন সকলের উপর দিয়ে দ্বিগুণ খাটুনি টা যাচ্ছে।
ক্লান্তি তে হাত পা যেনো চলছে না তার।সোফায় ধপ করে হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে এক প্রকার শুয়ে পরে।
আমিরা ব্যাগটা রুমে রেখে এসে রান্না ঘরে ছুটে যায়।গিয়ে তারাতাড়ি এক গ্লাস লেবুর শরবত বানিয়ে নেয় ঝটপট।
তারপর আবার বসার ঘরে ফিরে এসে দেখে দেলোয়ার কিভাবে শুয়ে আছে। হাত বাড়িয়ে শরবত টা এগিয়ে দিয়ে বলে শরবত এনেছি।খেয়ে নিন ভালো লাগবে।
আমিরার কথায় দেলোয়ার ভালো হয়ে বসে।হাত বাড়িয়ে শরবত টা নিয়ে নেয়।তারপর এক ঢুকে পুরো গ্লাস ফাকা করে দেয়।
আমিরা জিজ্ঞেস করে,, পানি লাগবে?
নাহ্। তোমার কি হয়েছে মুখ এমন দেখাচ্ছে কেন? মা কিছু বলেছে? বা কিছু নিয়ে কথা শুনিয়েছে তোমায়?
আমিরা তার স্বামীর মুখের দিকে চোখ তুলে তাকায়।
দেলোয়ার আবার জানতে চায় মা কে কোথাও দেখতে পাচ্ছি না। মা কোথায়?
ঘরে আছে।
ওহ আচ্ছা।
এবার বলোতো তোমার কি হয়েছে?
কি হবে কিছুই হয়নি।রোজা চলে আসতেছে।রোজার বাজার সদাই লাগবে।আমার বাবা কে তো বলতে হবে মেয়ের বাড়িতে বাজার পাঠানোর কথা।
এই নিয়ে বুঝি মন খারাপ? কিভাবে বলবে বুঝতে পারছো না তাই তো?
আমিরা কিছু বলবে তার আগেই আবার দেলোয়ার বলে,,এটা নিয়ে এতো ভাবার কি আছে? সোজা বলে দিবে বাবা আপনার মেয়ের শ্বশুর বাড়ি তে অভাব লেগেছে। তাই তারা রোজার বাজার করতে পারছে না। আপনাকেই করে পাঠাতে হবে।
কথাগুলো বলে দেলোয়ার হাসতে হাসতে নিজের রুমের দিকে চলে যায়।
আমিরা অবাক হয়ে দেলোয়ারের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। কি বলে গেলো লোকটা?
চলবে,,,,,,,
পাশে_থেকো_প্রিয়
সূচনা_পর্ব
Jhorna_Islam
প্রথম পর্ব পরে সবার হয়তো মনে হচ্ছে মেয়েদের নিচু করে অ'ত্যা'চা'রিত বানিয়েই শুধু গল্প লিখা হয়। এমন কিন্তু চোখের সামনে অহরহ ঘটে চলেছে। আমি শুধু তার কিছু টা ধরে তোলার চেষ্টা করছি।আশা করি পাশে থাকবেন। পুরো গল্প টা পরলেই বুঝতে পারবেন।
ছেলে : আমার ব্রেকআপ লাগবে.!?
মেয়ে : নিয়ে নাও।
ছেলে : আর কখনও আমাকে ডিস্টার্ব করবা না।
মেয়ে : আচ্ছা।
ছেলে : কখনও আমাকে মেসেজ দিবা না। আমাকে ব্লক করে দিবে।
মেয়ে :আচ্ছা..!!
ছেলে: ফোনও দিবে না আমাকে। নাম্বার ব্লাকলিস্টে ফেলে দিবে।
মেয়ে: আচ্ছা।
ছেলে :বাসার সামনে এসে ঘুর-ঘুর করবে না।
মেয়ে : আচ্ছা। এবার আমি বলি,এতটুকুতে ব্রেকআপ হয় না। আমি পার্মানেন্ট ব্রেকআপ করছি।
ছেলে : হুমমম ।
মেয়ে : এখন থেকে ২৪ ঘন্টা আর তোমার কথা ভাববো না। মেসেন্জারে এসে আর তোমার মেসেজেরজন্য অপেক্ষা করব না। তুমি রিপ্লে দিতে দেরি করলেও আর কষ্ট পাবো না।
ছেলে : হুমমম,,,,,
মেয়ে : আজকেই অন্যান্য ছেলেদের রিকুয়েস্ট Accept করে নিবো। সকালে আর তোমাকে "গুড মর্নিং" বলবো না। তোমার ঐ হাসি মুখটা দেখার জন্য আর ব্যাকুল হবো না।
ছেলে: হুমমম
মেয়ে : শত ব্যস্ততার মাঝেও তোমার সাথে সময় করে কথা বলবো না। হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে তোমায় ভালোবাসতাম.!! এখন আর বাসবো না। এবার খুশি তো..??
ছেলে: হুমমম,,, খুশি। পারবে তো এসব করতে..??
মেয়ে : হুমমম,,,খুব পারবো.!
ছেলে : যা যা বলেছো সব পালন করতে পারবে তো..??
মেয়ে: হুমমম,, কোনো টেনশন নিও না ফাস্ট ক্লাস পারবো।
ছেলে: কানের গোড়ায় একটা এমন জোরে দেবো কাঁদতে কাঁদতে এসে জড়িয়ে ধরবে।
মেয়ে : ওমা,,, কেনো..??
ছেলে :তোমার সাহস কি করে হয় আমার সাথে পার্মানেন্ট ব্রেকআপ করার..??
মেয়ে: তুমিই তো বললে,,,,,,,
ছেলে : আমি বললেই শুনতে হবে নাকি..?
মেয়ে : হ্যাঁ,, শুনতে তো হবেই।
ছেলে : ওহ্,,, বুঝতে পারছি,,আমি তো এখন পুরাতন হয়ে গেছি,, তাই না..?? নতুন নতুন ছেলেদের রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করবা,, তাইনা..?? তুমি একটুও ভালোবাসো না আমাকে.! ( বলেই কান্না শুরু করে দিলো ছেলেটি
মেয়ে:- কি হলো লাগবে না ব্রেকআপ..??
ছেলে :- কুত্তা, শয়তান,,,,,,,,,,,,
এরপর ছেলেটা মেয়েটার মাথায় কয়েকটা বৃথা আঘাত করে।
ছেলেটা হাসতে হাসতে মেয়েটাকে বুকে জড়িয়ে নেয়। আর ছেলেটি বললো...........................
মেয়ে : পাগল একটা,,, আসছিলো ব্রেকআপ করতে"।
প্রকৃত ভালোবাসা গুলো এমনই হয়।
একটু রাগ,একটু অভিমান, একটু খুনসুটি, একটু দুষ্টুমি করা এগুলোই যেন অন্যরকম একটা সুখ এনে দেয় ভালোবাসার মধ্যে।
তাছাড়া ছোটো ছোটো চাওয়া-পাওয়া তো থাকেই ভালোবাসার মানুষটার কাছে।
A Decentralized Trading Protocol on Cardano. SundaeSwap is a native, scalable decentralized exchange and automated liquidity provision protocol.
https://sundaeswap.us.com
Install app for better experience