প্রযুক্তিপণ্যে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি
***********************************************************************
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিসিএস কম্পিউটার সিটিতে শুরু হয়েছে ‘সিটি আইটি মেগা ফেয়ার-২০২২’ কম্পিউটার মেলা। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেলা উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। এ সময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নিতে বিসিএস কম্পিউটার সিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরিতেও বড় ভূমিকা রাখবে বিসিএস কম্পিউটার সিটি।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এশিয়ান-ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশনের (অ্যাসোসিও) অ্যাওয়ার্ড কমিটির আজীবন চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ এইচ কাফি বলেন, ‘প্রযুক্তিবান্ধব সরকার প্রযুক্তিপণ্যের ওপর ভ্যাট আরোপ করেছে। সরকার ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে এর প্রভাব পড়বে। সবার হাতের নাগালে প্রযুক্তিপণ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য ভ্যাট প্রত্যাহার করতে হবে।’
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি সুব্রত সরকার বলেন, ‘ভ্যাট প্রত্যাহারের পাশাপাশি প্রযুক্তিপণ্যকে জরুরি পণ্য বিবেচনা করে ঋণপত্র (এলসি) খোলার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে।’ আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এমআরপি অনুযায়ী প্রযুক্তিপণ্যের দাম নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিএস কম্পিউটার সিটির প্রথম সভাপতি আহমেদ হাসান, বিসিএস কম্পিউটার সিটির সভাপতি এ এল মজহার ইমাম চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
মেলার আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ১০ দিনের এ কম্পিউটার মেলায় হালনাগাদ প্রযুক্তিপণ্য কেনার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টায় থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
Source: প্রথম আলো
স্মার্টফোনের ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ হওয়ার ৫ কারণ
***********************************************************************
পুরো চার্জ দেওয়ার পরও দ্রুত স্মার্টফোনের চার্জ শেষ হয়ে যায় অনেকের। স্মার্টফোন পুরোনো হলে তো কথাই নেই, ব্যাটারির কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় বেশিক্ষণ স্মার্টফোন ব্যবহার করা যায় না। বেশ কিছু কারণে ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যায়। দেখে নেওয়া যাক সে কারণগুলো—
স্মার্টফোনে ভিডিও, ছবি বা সিনেমা দেখার জন্য অনেকেই পর্দার উজ্জ্বলতা বেশি রাখেন। পর্দার উজ্জ্বলতা বেশি থাকলে বেশি ব্যাটারি খরচ হয়। তবে অ্যাডাপ্টিভ ব্রাইটনেস সুবিধা চালু থাকলে আশপাশের আলো পর্যালোচনা করে পর্দার উজ্জ্বলতা কমে বা বৃদ্ধি পায়। ফলে ব্যাটারিও কম খরচ হয়।
স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য ওয়াই-ফাই বা মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে হয়। এই নেটওয়ার্ক খুঁজে পেতে ব্যাটারি বেশি খরচ হয়। কারণ, মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা হলে স্মার্টফোন মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে থাকে। ফলে ব্যাটারি খরচের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়।
জিপিএস লোকেশন সুবিধা চালু থাকলে দ্রুত ব্যাটারি খরচ হতে থাকে। অনেক সময় স্মার্টফোন গরমও হয়ে যায়। আর তাই প্রয়োজন ছাড়া জিপিএস লোকেশন সুবিধা বন্ধ রাখাই ভালো।
ব্যবহার না করলেও ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ইতিহাস সংগ্রহের জন্য বেশ কিছু অ্যাপ স্মার্টফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে সব সময় চালু থাকে। এসব অ্যাপ চাইলেও বন্ধ করা যায় না। ফলে ব্যাটারি খরচ হতে থাকে।
নিম্নমানের ত্রুটিযুক্ত চার্জারের কারণে ব্যাটারির কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমে যায়। অনেক সময় স্মার্টফোনের ব্যাটারি নষ্টও হয়ে যায়। ফলে ব্যাটারিতে চার্জ দিলেও তা বেশিক্ষণ ব্যবহার করা যায় না।
Source: প্রথম আলো
রোগীর কাছে ওষুধ পৌঁছে দেয় এই রোবট
***********************************************************************
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের কাছে নির্দিষ্ট সময়ে ওষুধ নিয়ে হাজির হয় এই রোবট। নিজ থেকে পথ চলতে সক্ষম রোবটটি যেকোনো বাধাও শনাক্ত করতে পারে। ফলে অন্যদের চলাচলে কোনো সমস্যা হয় না। কর্মীদের ওপর চাপ কমাতে পরীক্ষামূলকভাবে এ রোবট ব্যবহার শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের মিলটন কিনেস ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল।
মিলটন নামের এ রোবট তৈরি করেছে যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাকাডেমি অব রোবোটিকস। চালকবিহীন যানবাহন তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, সোনার এবং লাইডার প্রযুক্তি থাকায় নিজ থেকেই নির্দিষ্ট স্থানে যেতে পারে এই রোবট। ফলে ওষুধ এবং চিকিৎসাপত্র সহজেই একস্থান থেকে অন্যস্থানে পাঠানো সম্ভব।
একাডেমি অব রোবোটিকসের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) উইলিয়াম সচিটি জানিয়েছেন, সাহায্যকারী এই রোবট হাসপাতালের কর্মী এবং রোগী উভয়ের জন্যই সহায়ক হবে। তবে রোগীরা এই প্রযুক্তি কীভাবে গ্রহণ করবে, তা জানা হাসপাতালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে এ ধরনের রোবট বাজারজাত করা হতে পারে।
সূত্র: মেইল অনলাইন
Source: প্রথম আলো
ক্লাউডভিত্তিক নিজস্ব তথ্যভান্ডার চালু করবে সরকার
***********************************************************************
নিজস্ব প্রযুক্তি ও জনবলের মাধ্যমে যৌথভাবে ক্লাউডভিত্তিক তথ্যভান্ডার বা ডেটা সেন্টার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড (বিডিসিসিএল)। এ জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার দেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জেননেক্সট টেকনোলজির সঙ্গে চুক্তিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ জানিয়েছে, ‘মেঘনা ক্লাউড’ নামের এই তথ্যভান্ডারে সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠান সহজেই তথ্য জমা রাখতে পারবে। চুক্তির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে তথ্যভান্ডারের উপযোগী গবেষণা এবং উন্নয়নকেন্দ্রও তৈরি করা হবে।
বিডিসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ চৌধুরী এবং জেননেক্সট টেকনোলজির চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এবং বিডিসিসিএলের চেয়ারম্যান এন এম জিয়াউল আলম উপস্থিত ছিলেন।
Source: প্রথম আলো
ইউটিউবের জন্য কি-বোর্ডের ৭ শর্টকাট
***********************************************************************
কম্পিউটার বা ল্যাপটপে দীর্ঘ সময় ধরে ইউটিউব ব্যবহার করেন অনেকেই। কি-বোর্ডের বেশ কিছু শর্টকাট পদ্ধতি জানা থাকলে সহজে ইউটিউব ব্যবহার করা যায়। কি-বোর্ডের শর্টকাট কিগুলোর ব্যবহার দেখে নেওয়া যাক—
স্পেসবার বা ‘কে’ বাটন চেপে ভিডিও সাময়িকভাবে থামানো এবং চালু করা যাবে। এই কিগুলোর যেকোনো একটি চেপে ধরে থাকলে ভিডিও স্বাভাবিকের চেয়ে ধীরে দেখা যাবে।
‘জিরো’ বাটন চাপলে চালু থাকা ভিডিও শুরু থেকে দেখা যাবে।
‘এন্ড’ বাটনে চাপলে চালু থাকা ভিডিও শেষ হবে। ফলে পরবর্তী ভিডিও সহজে দেখার সুযোগ মিলবে।
ডান বা বাঁয়ের তীর চিহ্ন লেখা বাটন চাপলে চালু থাকা ভিডিও পাঁচ সেকেন্ড সামনে বা পেছন থেকে দেখা যাবে।
‘জে’ এবং ‘এল’ বাটন চাপলে চালু থাকা ভিডিও ১০ সেকেন্ড সামনে বা পেছন থেকে দেখা যাবে।
এফ বাটন চাপলে চালু থাকা ভিডিও পুরো পর্দাজুড়ে দেখা যাবে।
এম বাটন চাপলে চালু থাকা ভিডিওর শব্দ বন্ধ হবে।
Source: প্রথম আলো
১৯ পদে লড়ছেন ৩৯ প্রার্থী
***********************************************************************
এফডিসিতে চলছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নির্বাচন। ১৭ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। সম্পাদকসহ ১৯ পদের কমিটির বিপরীতে মোট প্রার্থী এখন ৩৯ জন। কাজী হায়াৎ-শাহীন সুমন এবং মুশফিকুর রহমান-জাকির হোসেন—এই দুই প্যানেল থেকে ৩৮ জন। বাকি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
শুক্রবার সকাল থেকে নির্বাচন উপলক্ষে এফডিসিতে বেড়েছে পরিচালক ও শিল্পীদের উপস্থিতি। এফডিসিতে ভোটারদের সঙ্গে দেখা হলে ভোট চাইছেন প্রার্থীরা। নয়তো ভোটারদের ফোনে পাঠাচ্ছেন খুদে বার্তা।
নির্বাচন কমিশনের অন্যতম সদস্য বি এইচ নিশান বলেন, ‘নিয়ম মেনেই সব প্রার্থী ভোট প্রার্থনা করেছেন। নিয়মভঙ্গের কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি। ভোটের মাঠে সুন্দর পরিবেশ বজায় আছে। আশা করছি, সুন্দর, আনন্দঘন পরিবেশেই ভোট হচ্ছে।’
কাজী হায়াৎ-শাহীন সুমন প্যানেল থেকে সভাপতি পদের জন্য লড়ছেন কাজী হায়াৎ।
তিনি বলেন, ‘ভোট তো মনের ব্যাপার। ভোট না দিয়ে মুখে বললে তো হবে না। তাঁদের মনের খবর তো আমি জানি না। দেখা যাক কী হয়।’ নির্বাচিত হলে কী করবেন জানতে চাইলে বলেন, ‘বহুদিন ধরে শুনছি, সিনেমাশিল্প মরে গেছে। আমার কাছেও তা–ই মনে হয়। কিন্তু এই অবস্থা থেকে সিনেমার উত্তরণের তাগিদ সমিতিগুলোর তেমন একটা দেখি না। এই সিনেমা আমাকে যশ-খ্যাতি সব দিয়েছে, আরও দিয়েছে মানুষের ভালোবাসা। চোখের সামনে সেই সিনেমা এভাবে শেষ হয়ে যাবে? জয়ী হয়ে আসতে পারলে সিনেমাকে বাঁচানোই হবে আমার প্রধান যুদ্ধ।’
মুশফিকুর রহমান-জাকির হোসেন প্যানেল থেকে মহাসচিব পদে লড়ছেন জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘ভোটাররা প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজ, তাঁর চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার দেখেন। আমি বিশ্বাস করি, সেই দিক থেকে আমার কোনো ঘাটতি নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে এই পদে অনেকেই এসেছেন। কিন্তু বড় কোনো অর্জন আসেনি। এবার ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ দেখছি। তাঁরা আমাকে এই জায়গায় দেখতে চান।’
সভাপতি পদে মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘এমনিতে মন্দাঅবস্থা ছিল। তারপর করোনার কারণে আমরা অনেকটা পিছিয়ে গেছি। আমাদের সিনেমা প্রদর্শনের জায়গা নাই। সিনেমা বানালেও সেটা দেখানোর মতো জায়গা কমে গেছে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছিলাম, দেশের সব জেলায় যেন সরকারি অর্থায়নে একটি করে সিনেপ্লেক্স বানানো হয়। সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছিলো, প্রধানমন্ত্রীও নির্দেশনা দিয়েছিলেন; কিন্তু এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। এটা যাতে বাস্তবায়ন হয়, জয়লাভ করলে সেই ব্যবস্থা নেবো। দ্বিতীয়ত; চলচ্চিত্রে সরকারি অনুদানের পাশাপাশি যেন এফডিসি থেকেও যেন অনুদান দেওয়া হয়, যেন বছরে অন্তত ২০টি সিনেমা বানানো যায়। ’
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মোট ভোটার ৩৬৮ জন। সকাল ৯টা শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ, এর মধ্যে দুপুরে এক ঘণ্টা বিরতি ছিল।
Source: প্রথম আলো
নৌকার মাঝি হতে চান কেন, জানালেন মাহিয়া মাহি
***********************************************************************
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র তুলেছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বামী রকিব সরকারকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডি কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ–২ আসনকে এগিয়ে নিতে দুটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তিনি নৌকার মাঝি হতে চান মাহি। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এক, আমার নির্বাচনী এলাকা অনেকাংশে পিছিয়ে আছে। সেই জায়গা থেকে তাদের সেবা নিশ্চিত করা। দুই, বাংলাদেশে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এত পরিমাণ উন্নয়ন করেছেন, সেই উন্নয়ন সম্পর্কে আমার এলাকার মানুষকে অবহিত করা। আমার এলাকায় প্রচার করব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য যেসব উন্নয়ন করেছেন।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ–২ আসনের সংসদ থেকে বিএনপির পদত্যাগের ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (ভোলাহাট-গোমস্তাপুর-নাচোল) আসনটি শূন্য হয়েছে। ওই আসনে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি হবে উপনির্বাচন। মাহি বলেন, ‘আমি স্বামীকে বলছিলাম, আমি নূন্যতম ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতব ও এই আসন নৌকাকে এনে দেব ইনশাল্লাহ।’
তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের কাছ থেকেও সমর্থন পাচ্ছেন বলেও জানান মাহি। নির্বাচিত হলে আপনাকে অভিনয়ে পাওয়া যাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহি আরও বলেন, ‘অভিনয় আবার মূল ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে। রাজনীতি মানুষের সেবা করা, মানুষের সেবাও করব। সিনেমাও করব।’
এর আগে মাহিকে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ওর (মাহি) পরিবার তো আওয়ামী লীগের পরিবার। তিনিও আওয়ামী লীগ করেন। ঠিক আছে ফরম সংগ্রহ করুক। তাহলে কি ওই অভিনেত্রী আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন? জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রার্থী হচ্ছেন কি না, বলতে পারব না। তাঁকে ফরম কেনার অধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেয়েছেন মাহিয়া মাহি; তাঁর স্বামী রকিব সরকার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণবিষয়ক উপকমিটির সদস্য রকিব সরকার।
Source: প্রথম আলো
গল্প বলার স্বাধীনতা চাই
***********************************************************************
একজনের কাজের সেন্সর হলে আরেকজনের মনেও সেই ভয় ঢুকে যায়। অন্যজন তখন নিজে থেকে অবচেতনে তাঁর স্ক্রিপ্ট, দৃশ্যায়ন সবকিছুতে সেন্সর করতে শুরু করেন। এমন করে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিল্পমাধ্যম। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্প নানা রকম বিধিনিষেধের বেড়াজালে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাচ্ছে। তাই সার্টিফিকেশন অ্যাক্ট ২০১৯-এর আরও বেশি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করা দরকার। অনুভূতিতে আঘাত বা সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার মতো আইনে উল্লিখিত শব্দগুলোর স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত ফ্যাব ফেস্টে ‘বাংলাদেশি সিনেমা অ্যাট আ ক্রস রোড: হাউ রিফর্ম ক্যান প্রোপেল আস’ পর্বে আলোচকদের বক্তব্যে উঠে এল এসব সংকটের কথা।
ফিল্ম অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের ( ফ্যাব) আয়োজনে শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় ফ্যাব ফেস্ট ২০২২। আয়োজনের প্রথম পর্ব ছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের ওপর আরোপ করা বিভিন্ন বিধিনিষেধের আইনের দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা। শুরুতেই এই শত বছরের পুরোনো ব্রিটিশ কলোনিয়াল আইনের ধারাবাহিকতায় তৈরি সার্টিফিকেশন অ্যাক্টের ইতিহাস তুলে ধরেন চলচ্চিত্র নির্মাতা কামার আহমেদ সাইমন।
তিনি বলছিলেন, যে সমাজে প্রশ্ন তোলা যায় না, সেই সমাজ মজাপুকুরের মতো। সেখানে নতুন কিছু উদ্ভাবন হওয়ার পথ সংকীর্ণ হয়। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তৈরি করা নির্মাতাদের কাঁটাতারের বেড়ার পেছনে বসা এরই এক বার্তা। তাঁর কথার সূত্র ধরে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মঈন গণি বললেন, রিফর্ম আসতে হবে আলোচনার মাধ্যমে। আইনপ্রণেতাদের দুই পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। পারস্পরিক আলাপের মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে আইনের কাঠামো অনেক বেশি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে কি না।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, এখন আর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র দেখে কেউ বলিউড বা কলকাতার সিনেমার কপি বলতে পারবেন না। বারবার ভাবমূর্তি নষ্ট করার যে অভিযোগ চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে আনা হয়, সে কথা তুলে ধরে জানান, ভাবমূর্তি নষ্ট করতে হলে কষ্ট করে শিল্প তৈরির প্রয়োজন হয় না। সেন্সরের ধারাগুলো যথেষ্ট নির্দিষ্ট নয় উল্লেখ করে অনুদানের নীতিতে পরিবর্তন আনার কথা বলেন এই চলচ্চিত্র নির্মাতা। সরকারি অনুদানে বানানো ছবির জন্য তরুণদেরও সমান সুযোগ পাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের প্রয়োজন।
বাংলাদেশি সিনেমা অ্যাট আ ক্রস রোড: হাউ রিফর্ম ক্যান প্রোপেল আস’ পর্বের সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক নূর সাফা জুলহাজ। ফ্যাবের দিনব্যাপী আয়োজিত সম্মেলনে এটি ছিল আলোচনার প্রথম পর্ব। চলচ্চিত্র নির্মাতা পিপলু আর খানের বক্তব্যে উঠে আসে নানা রকম প্রতিবন্ধকতার কারণে সংস্কৃতিকে অর্থনৈতিক খাতে পৌঁছে দিতে না পারার আক্ষেপ। নির্মাতারা নিজের পরিচিতি নিয়ে মানসিক সংকটে ভোগেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচকদের বক্তব্য শেষে কথা বলেন এই পর্বের প্যানেলিস্ট আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ২০৪১ সালে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে কোথায় নিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ, তা ভাবতে হলে আন্দোলন নয়, অংশীদার হয়ে এ কাজ সহজ করার কথা জানান তিনি। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। সার্টিফিকেশন আইন এখন মন্ত্রণালয়ে আছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তা পাস হয়ে নতুন আইন হবে। আলোচকদের উদ্দশে জানান, ‘আপনাদের আলোচনার আহ্বান জানাতেই এখানে উপস্থিত হয়েছি। সরকার হাতে চাপ দিয়ে নয়, হাত ধরে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়।’
বাংলাদেশি সিনেমা অ্যাট আ ক্রস রোড: হাউ রিফর্ম ক্যান প্রোপেল আস’ পর্বের প্রথমেই স্বাগত বক্তব্য দেন চলচ্চিত্রকার ও নাট্যজন নাসির উদ্দীন ইউসুফ। শুক্রবারের আয়োজন সম্পর্কে তিনি জানান, এই শিল্পে নেতৃত্বের ব্যর্থতা অতীতেও ছিল, এখনো আছে। একসময় এ দেশে শতাধিক প্রেক্ষাগৃহ ছিল, কিন্তু এখন তা অর্ধশততে নেমে এসেছে। ঐতিহ্যের আলোকে ভবিষ্যতের সোপান তৈরির চেষ্টা থেকেই এ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘আমরা গল্প বলার স্বাধীনতা চাই’ দাবি নিয়ে শুরু হয় আয়োজনের প্রথম পর্বের আলোচনা।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় উৎসবের উদ্বোধন করেন অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার, সাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর, চলচ্চিত্রকার মসিউদ্দিন শাকের ও মোরশেদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন নির্মাতা নাসির উদ্দীন ইউসুফ। উদ্বোধনী আয়োজনে গান পরিবেশন করেন আরমীন মুসা, তনুশ্রী দাস, রেজাউল করিম, ইউসুফ আলী খান, আহনাফ খান প্রমুখ।
Source: প্রথম আলো
Install app for better experience