ইংরেজিতে অনর্গল কথা বলার পাঁচটি উপায়
মো. সাইফুল ইসলাম
১৭ মে, ২০১৮, ১৩:০৫
Share to Facebook
Share to Twitter
Share to Pinterest
Share to LinkedIn
Share to Gmail
Share to More
এনটিভি অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন
বর্তমান যুগটাই এমন, যেখানে ইংরেজি ছাড়া কোনো কিছু চিন্তাও করা যায় না। কি পড়াশোনা, কি চাকরি—সব জায়গায়ই ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা এখন মুখ্য বিষয়, বিশেষ করে ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা। বহুজাতিক কোম্পানিতে ভালো চাকরি পেতে গেলে ভালো ইংরেজি বলতে পারার কোনো বিকল্প নেই। সব রকম যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় শুধু ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা না বলতে পারার কারণে অনেকেরই চাকরি হয় না। কিন্তু এই ইংরেজিতে কথা বলা নিয়ে কত বিপত্তি। মনের মধ্যে উঁকি দেয় কত ভয়। মনে হয়, আপনি সব ভুলভাল বলে বসবেন, আটকে যাবেন। সবাই আপনাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে। এভাবে আর বলা হয়ে ওঠে না। মনের কথা মনেই থেকে যায়।
তাই এ ভয় নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন। আজকে আমরা এমন কিছু কৌশল শিখব, যার মাধ্যমে আপনি ভয় কাটিয়ে উঠতে পারবেন। যদিও ইংরেজিতে কথা বলার সময় ভয় সম্পূর্ণভাবে এড়ানো অনেক কঠিন, কারণ ইংরেজি আমাদের মাতৃভাষা নয়। তবে এই পাঁচটি কৌশল আপনাকে শান্ত হতে ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে সাহায্য করবে, যেখানে অন্য সময় আপনি ভয় পেতেন। তাহলে চলুন, জেনে নেওয়া যাক কৌশলগুলো।
১. আপনার ভয়কে বোঝার চেষ্টা করুন (Understand Your Fear) :
আপনার প্রথম কাজ হলো, ভয়টাকে বোঝা। আপনি কেন ভয় পান? কোন পরিস্থিতিতে ভয় পান? ওষুধ খাওয়ার আগে যেমন রোগ নির্ণয় আবশ্যক, তেমনি ভয় তাড়ানোর জন্য কেন ভয় পাচ্ছেন, তার কারণটা জানা জরুরি। আপনি প্রথমে একটা তালিকা তৈরি করুন আপনার ভয়ের কারণগুলোর এবং সেখান থেকে যেটা দূর করতে পারবেন, সেটা কেটে দিন। এভাবে সামনে আগাতে থাকুন, যতক্ষণ না তালিকার শেষ কারণটিতে উপস্থিত হন।
২. দীর্ঘশ্বাস নিন (Take a Deep Breath) :
যদি এমন হয়, আপনি সঠিক শব্দটি খুঁজে পাচ্ছেন না বা কিছু ভুলে গেছেন, তবে বুক ভরে একবার নিশ্বাস নিন। অতিরিক্ত অক্সিজেন আপনার মস্তিষ্ককে শান্ত করতে সহায়তা করবে। আপনার ভয় কমাবে, আপনি শান্ত হতে পারবেন। অতিরিক্ত হিসেবে এটা আপনাকে কিছুটা সময় দেবে কথাগুলো গুছিয়ে নেওয়ার জন্য। কথা বলার মধ্যে এই কৌশল অনেক কার্যকর।
৩. পরিকল্পনা করুন এবং ইতিবাচক মনোভাব রাখুন (Be planned and be positive) :
ছক করুন, মনে মনে গুছিয়ে নিন কী বলবেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী ভেবে রাখুন কোন শব্দগুলো ব্যবহার করবেন। যেমন ধরুন, কোনো চাকরির সাক্ষাৎকার বা অপরিচিত কারো সঙ্গে দেখা করতে গেলেন, এমন পরিস্থিতিতে আপনি কী বলবেন বা কী রকম কথাবার্তা হতে পারে, তা নিয়ে ভেবে নিজে একটা ছক কেটে রাখুন। এ পরিকল্পনা আপনাকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। অনেকে আছেন, যাঁরা Publicly, অর্থাৎ অনেক মানুষের সামনে কথা বলতে ভয় পান। আপনি যদি এ রকম হন, তাহলে আপনাকে বলব, অনুশীলন করুন। এই দুর্বলতাটিকেই মূল ধরে আগান। ঘরের আলো নিভিয়ে নিজের সঙ্গে কথা বলুন—এটা ভেবে যে কোনো অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। চেষ্টা করুন। দু-একবার হয়তো ব্যর্থ হবেন, কিন্তু জয় আপনারই হবে। হাল ছাড়া যাবে না। যেটা করতে সবচেয়ে ভয় পান, সেটা করে ফেলতে পারলে আর কোনো ভয় থাকবে না। কোনো কিছুতে কাজ না হলেও হতাশ হবেন না। ইতিবাচক মনোভাব রাখুন, সামনে এগিয়ে যান। আপনি পারবেন, বিশ্বাস রাখুন।
৪. আত্মবিশ্বাস বাড়ান (Boost Up Your Confidence) :
অনেক সময় আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি এবং নিজের ওপর আস্থার অভাব ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর জন্য অনুশীলন করুন। নিজেকে প্রস্তুত করুন। বিভিন্ন রকম ভিডিও দেখতে পারেন, এতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। আপনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলা অনুশীলন করতে পারেন। এতে ভয় কমবে এবং নতুন কোনো জায়গায় খুব সহজেই মিশতে বা কথা বলতে পারবেন।
৫. বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন (Seek experts Help) :
যদি আপনি মনে করেন, আপনার অতিরিক্ত সাহায্যের দরকার, তাহলে পারদর্শী কারো সাহায্য নিন। দক্ষ ব্যক্তির সাহায্য নেওয়ায় কোনো লজ্জা নেই। আপনি বিভিন্ন পাঠমূলক কর্মশালায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। আপনার পরিবারে পারদর্শী কেউ থাকলে তার সাহায্য নিতে পারেন। মোটকথা, চেষ্টা চালিয়ে যান।
ভয় পাবেন না। মনে রাখবেন, সব ভয়ের একটা শেষ আছে। ভয়কে দূরে সরিয়ে দিন। জীবনকে উপভোগ করুন আর ইংরেজিতে কথা বলুন অনবরত।
পাঠকের পছন্দ
প্রথমেই বলে নিচ্ছি What is Sexual Harassment (হোয়াট ইজ সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট)/যৌন হয়রানি কী? যেকোনো ধরনের (আনওয়ান্টেড এটেনশন)/অনাকাঙ্ক্ষিত মনযোগ বা আচরণ যা শারীরিকভাবে আপনাকে বিব্রত করে তাই সেক্সুয়াল হ্যারাস্মেন্ট। এবার বলছি এর বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে।
Grope (গ্রোপ)/ অনুভব করা :
দেহের যেকোনো অংশে অন্য কারো অপ্রীতিকর এবং অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শকে Groping (গ্রোপিং) বলে। এ ক্ষেত্রে Harasser(হ্যারাসার)/ উত্ত্যক্তকারীর উদ্দেশ্য থাকে মূলত আপনাকে যৌন স্পর্শ করে আনন্দ নেওয়া। কেউ নিজ গোপনাঙ্গ স্পর্শ করে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলেও তাকে Grope বলে। এটি সবচেয়ে প্রচলিত ধরনের হয়রানি।
Facial Expression (ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন)/ মুখভঙ্গি :
Suggestive (সাজেস্টিভ)/ইঙ্গিতপূর্ণ যেকোনো ধরনের মুখভঙ্গি যেমন-জিভ দিয়ে ঠোঁট স্পর্শ করা বা Giving Inappropriate Looks (গিভিং ইনআপ্রোপ্রিয়েট লুকস্)/এমনভাবে চোখ নাচানো যা বাজে অভিপ্রায়ের ইঙ্গিত করে- এ সবই যৌন হয়রানির অন্তর্ভুক্ত।
Sexual Drawing (সেক্সুয়াল ড্রয়িং)/ যৌন চিত্র : Caption (ক্যাপশন) পড়েই ইংরেজিতে জানি যৌন হয়রানির বিভিন্ন রূপ বোঝা যাচ্ছে এই ধরনের হয়রানি মূলত ছবি বা চিত্রের মাধ্যমে সংঘটিত হয়ে থাকে। কেউ যদি কোনো ধরনের কুরুচিপূর্ণ ছবি দেখিয়ে বিরক্ত করার চেষ্টা করে তবে আপনি তার বিরুদ্ধে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের অভিযোগ করতে পারবেন।
Sexual Favor (সেক্সুয়াল ফেভার)/ যৌন প্রস্তাব :
যৌন সঙ্গমের জন্য সরাসরি প্রস্তাব দেওয়াকে sexual favor বলা হয়। সাধারণত উপরোক্ত আচরণগুলোকে এড়িয়ে গিয়ে আমরা একেই হ্যারাসমেন্টের একমাত্র রূপ বলে মনে করি, যা ঠিক নয়। আপাতদৃষ্টিতে এধরনের প্রস্তাবকে সবচেয়ে কুরুচিপূর্ণ মনে হলেও অন্য আচরণগুলো কোনো অংশে কম ক্ষতিকারক নয়। একটি কথা অবশ্যই মনে রাখবেন, আপনার সম্মতির বাইরে যে কেউ আপনাকে স্পর্শ করতে চাইলেই তা harassment, এবার প্রস্তাবটি অপরিচিত কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে আসুক বা আপনার বন্ধুর কাছ থেকে কিংবা আপনার Spouse (স্পাউস)/জীবনসঙ্গীর কাছ থেকেই আসুক না কেন।
Physical Intimidation (ফিজিক্যাল ইন্টিমিডেশন)/ শারীরিক হুমকি :
Personal Space (পারসনাল স্পেস)/ব্যক্তিগত বা শারীরিক দূরত্বকে সম্মান না করে একদম গাঁ ঘেষে দাঁড়ানো বা বসাকে শারীরিক হুমকি হিসেবে ধরা হয়। সাধারণ পরিস্থিতিতে প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত একে অন্যের শরীর থেকে Respectable (রেস্পেক্টেবল)/সম্মানজনক distance (ডিস্ট্যান্স)/দূরুত্ব বজায় রেখে আলাপচারিতা করা । কোনো ব্যক্তি যখন আপনার personal space কে সম্মান না করে গাঁ ঘেষে দাঁড়াতে বা বসতে চেষ্টা করবে তখনি আপনাকে বুঝতে হবে সে আপনাকে ফিজিক্যালি ইন্টিমিডেট করার চেষ্টা করছে এবং আপনি harassment-এর স্বীকার হচ্ছেন।
Cyber Bullying/সাইবার বুলিং :
সাইবার বুলিং শব্দটির মানে হচ্ছে ইন্টেরনেটের মাধ্যমে অর্থাৎ সামাজিক গণমাধ্যমের সাহায্য হয়রানি করা। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের সম্ভবত সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক এটি। বর্তমানে যৌন হয়রানির ঘটনা Cyber Bullying এর মাধ্যমে সংঘটিত হয়ে চলছে। কেউ যদি আপনাকে আপত্তিকর ছবি, ভিডিও বা ম্যাসেজ প্রেরণ করে তবে দ্রুত তাকে ব্লক করুন এবং যদি অবিরতভাবে আপনাকে বিরক্ত করতে থাকে তবে অবশ্যই তথ্য অধিকার আইনে মামলা করুন।
যে ১০ অভ্যাস অন্যের জন্য বিরক্তিকর
কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা এমন আচরণ করেন, যা অন্যের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর এঁদের সঙ্গে হয়তো আপনাকে হরহামেশাই ওঠবস করতে হয়। চলুন, ব্রাইটসাইড ওয়েবসাইটের এই তালিকা থেকে মানুষের কিছু অভ্যাস জেনে নেওয়া যাক, যা শুধু বিরক্তির উদ্রেক করে।
১. প্লেন বা বাসের সিটে যখন কেউ খুব আয়েশ করে বসে, তখন সে অন্যের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, নিজে আরাম করে বসার জন্য হয়তো সে সামনের সিটে পা দিয়ে ধাক্কা দেয় কিংবা অনেকটা পেছনে হেলান দিয়ে বসে। এতে অন্য যাত্রীদের বসতে কষ্ট হয়। এমন মানুষ যাত্রাপথে থাকলে বিরক্তির উদ্রেক হয়।
২. আপনি যখন কম্পিউটারে কোনো কাজ করবেন, তখন কেউ এসে পেছনে যদি দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে তো বিরক্ত হবেনই। এই অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে, যাঁরা পেছনে দাঁড়িয়ে অন্যের কাজ দেখতে পছন্দ করেন।
৩. সিনেমায় কী হচ্ছে না হচ্ছে, সেগুলো যদি জোরে জোরে কেউ সিনেমা হলে বলতে থাকে, তাহলে বিরক্ত না হয়ে উপায় আছে বলুন? এমন জ্ঞানী মানুষের সঙ্গে সিনেমা হলে দেখা হলে সেই সময়টা আপনাকে প্রচুর ধৈর্য ধরতে হবে।
৪. অনেক সময় কোনো কিছুর জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে কেউ কেউ আছেন অন্যের শরীরের সঙ্গে ঘেঁষে দাঁড়াতে পছন্দ করেন। আপনি যতই বিরক্ত হোন না কেন, তিনি এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকবেন।
৫. আপনি কথা বলতে থাকলে যখন কিছুক্ষণ পরপর কেউ ‘কী?’ বলে তাঁর প্রতিক্রিয়া দেখাবেন, তখন তো বিরক্ত লাগবেই। একবার-দুবার হলে ঠিক আছে। প্রতিবারই এমনটা করতে থাকলে আপনি নিশ্চয়ই তাঁর সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।
৬. যখন কেউ ঘরে ঢুকে খুব জোরে দরজা আটকায়, তখন অন্যরা খুবই বিরক্ত হয়। এই অভ্যাস যাঁদের আছে, তাঁরা শুধু বাসা নয়, যেকোনো জায়গায় গেলেই একই আচরণ করে।
৭. হঠাৎ করে আপনার গায়ে কফি পরে গেল কিংবা সিঁড়ি থেকে নামতে গিয়ে আপনি পড়ে গেলেন। তখন আপনাকে সাহায্য করা তো দূরের কথা, উল্টো কেউ একজন হাসতে শুরু করল। এ ধরনের মানুষদের কার পছন্দ হবে বলুন?
৮. যখন অজানা কোনো মানুষ আপনার দিকে একটানা তাকিয়ে থাকবে, তখন ভালো লাগার থেকে অস্বস্তিই বেশি লাগবে। আর এটা বিরক্তকরও বটে।
৯. যখন কেউ সঙ্গীকে সময় দেওয়ার বদলে নিজের স্মার্টফোনকে বেশি সময় দেয়, তখন বিরক্তির পাশাপাশি আফসোসও কাজ করে।
১০. আপনি কোনো সমস্যায় পড়লে যখন কেউ বলে, ‘আমি আগেই বলেছিলাম, এটা করার দরকার নেই’, তখন আপনার বিরক্তির পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে, তাই না?
Tripon Baburo
删除评论
您确定要删除此评论吗?