বাইকের স্পিডোমিটারে কাঁটা যখন ৮০… ৯০… ১০০ ছুঁয়ে ফেলে,
মাথার ভেতর তখন আর কিছু কাজ করে না। বন্ধুদের সামনে নিজেকে হিরো মনে হয়, বাতাসের শব্দে মনে হয়—এই বুঝি জীবন জয় করে ফেললাম। কিন্তু ওই কয়েক সেকেন্ডের উত্তেজনাই কখনো কখনো পুরো জীবনটা থামিয়ে দেয়।
একটু বালি। হঠাৎ সামনে চলে আসা একটা রিকশা। চোখের পলকে নিয়ন্ত্রণ হারায় বাইক। বাইক একদিকে, মানুষটা আরেকদিকে— বাইক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা ভাঙে, তা হলো পা।
চিকিৎসার ভাষায় একে বলা হয় High Energy Trauma। নিচের ছবিটার কথা ভাবুন। এটা কোনো সাধারণ ভাঙা না। টিবিয়া আর ফিবুলা হাড় কয়েক টুকরো হয়ে গেছে— হাড় ভেঙে চামড়া ছিঁড়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছে। এটাই Open, Comminuted fracture।
এই মানুষটা হয়তো মাসের পর মাস হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকবে।
পায়ে ঢুকবে রড, প্লেট। কখনো বাইরের দিক থেকে লোহার ফ্রেম লাগানো হবে—External Fixator।
এরপরও কেউ বুক ফুলিয়ে বলতে পারে না, “সে আবার আগের মতো হাঁটতে পারবে।” আর কিছু ক্ষেত্রে? ইনফেকশন। পচন। শেষ পর্যন্ত পা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত।
একটা মুহূর্তের গতি, আর সারা জীবনের লাঠি, ক্রাচ, কিংবা হুইলচেয়ার।
এই গল্পটা শুধু “ওর” না। এটা আপনার হতে পারে, আপনার ভাইয়ের হতে পারে, আপনার সন্তানেরও।
তাই তরুণদের জন্য কয়েকটা সোজা কথা—
1 রাস্তা কোনো রেসিং ট্র্যাক না। হিরোগিরি দেখানোর জায়গাও না।
2 হেলমেট শুধু মাথার জন্য না, দায়িত্বের প্রতীক। পায়ে ভালো জুতো পরুন। স্যান্ডেল পরে বাইক মানেই বিপদ ডেকে আনা।
3 গতি কমান। কয়েক মিনিটের রোমাঞ্চ যেন আপনার পরিবারের সারা জীবনের কান্না না হয়ে দাঁড়ায়। যৌবনের জৌলুস যেন ক্রাচের খটখট শব্দে হারিয়ে না যায়। বাইকে উঠুন, কিন্তু সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরার ইচ্ছে নিয়েই উঠুন।