মেক্সিকোর নাইকা অঞ্চলে অবস্থিত কেভ অব দ্য জায়ান্ট ক্রিস্টালস বা “দানবাকার স্ফটিকের গুহা” একটি সীসা, দস্তা ও রুপার খনির প্রায় ৩০০ মিটার গভীরে অবস্থিত। এখানে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক জিপসাম স্ফটিক রয়েছে। কিছু সেলেনাইট স্ফটিকের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ মিটার এবং ওজন প্রায় ৫৫ টন পর্যন্ত হতে পারে।
এই গুহায় প্রবেশ করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এখানকার তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা এতটাই বেশি যে বিশেষ ধরনের শীতলীকরণ সরঞ্জাম ছাড়া একজন মানুষ মাত্র কয়েক মিনিটের বেশি সেখানে থাকতে পারেন না। কারণ শরীর খুব দ্রুত অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞানীরা এসব স্ফটিকের ভেতরে আটকে থাকা কিছু অণুজীবেরও সন্ধান পেয়েছেন, যাদের বয়স আনুমানিক ১০,০০০ থেকে ৫০,০০০ বছর বলে ধারণা করা হয়। এটি ইঙ্গিত দেয় যে কিছু জীবরূপ হাজার হাজার বছর ধরে বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় টিকে থাকতে পারে।
এই বিশাল স্ফটিকগুলো অত্যন্ত ধীরগতির একটি ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে। ভূগর্ভস্থ ম্যাগমার তাপে খনিজসমৃদ্ধ ভূগর্ভস্থ পানি উত্তপ্ত হয়েছিল, অন্যদিকে ভূপৃষ্ঠের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ও অক্সিজেনসমৃদ্ধ পানি এই ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে অ্যানহাইড্রাইটের স্তর তৈরি হয়। পরে গুহার তাপমাত্রা প্রায় ৫৬° সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে এই পদার্থ দ্রবীভূত হতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে সেলেনাইট স্ফটিকের বৃদ্ধি ঘটতে থাকে। এই প্রক্রিয়া অন্তত ৫ লাখ বছর ধরে চলেছে বলে ধারণা করা হয়।
এর ফল হলো পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময়কর প্রাকৃতিক গঠন—একটি ভূগর্ভস্থ স্ফটিকের জগৎ, যেখানে ভূতত্ত্ব, রসায়ন ও সময় একসঙ্গে কাজ করে সৃষ্টি করেছে অবিশ্বাস্য এক প্রাকৃতিক বিস্ময়।
২০২১ সালে ইসরায়েলের উত্তর উপকূলের সমুদ্র থেকে একজন ডুবুরি একটি প্রাচীন তলোয়ার খুঁজে পান। ধারণা করা হয়, এটি ক্রুসেডের সময়কার এবং প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ত্রটি সম্ভবত কোনো ক্রুসেডার নাইটের ছিল, যিনি ইতিহাসের বিখ্যাত ক্রুসেডে অংশ নিয়েছিলেন। ক্রুসেড ছিল ১১শ থেকে ১৩শ শতাব্দীর মধ্যে পবিত্র ভূমি, বিশেষ করে জেরুজালেমের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে খ্রিস্টান ও মুসলিমদের মধ্যে সংঘটিত একাধিক ধর্মীয়ভাবে অনুপ্রাণিত যুদ্ধ।
তলোয়ারটি সমুদ্রের বিভিন্ন ধরনের জৈব ও খনিজ আস্তরণে ঢাকা ছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই আস্তরণই বহু শতাব্দী ধরে পানির নিচে ধাতুটিকে সংরক্ষণে সহায়তা করেছিল। উদ্ধারের পর তলোয়ারটি পরিষ্কার করা ও বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করার জন্য সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়।
এ ধরনের আবিষ্কার আমাদের মধ্যযুগীয় ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে এবং মনে করিয়ে দেয়—শত শত বছর ধরে সমুদ্রের গভীরেও ঐতিহাসিক নিদর্শন অক্ষত অবস্থায় টিকে থাকতে পারে।
আনা নিকোল স্মিথ ছিলেন একজন বিখ্যাত মার্কিন মডেল ও অভিনেত্রী, যিনি ১৯৯০-এর দশকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠেন। তার আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক ছিল।
১৯৯৪ সালে, ২৬ বছর বয়সে তিনি জে. হাওয়ার্ড মার্শালকে বিয়ে করেন, যিনি ছিলেন ৮৯ বছর বয়সী এক তেল ব্যবসায়ী ও বিলিয়নিয়ার। দুজনের বয়সের বিশাল পার্থক্য এবং মার্শালের বিপুল সম্পদের কারণে তাদের বিয়ে দ্রুত গণমাধ্যমের ব্যাপক আগ্রহ ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, এই সম্পর্ক সত্যিই ভালোবাসার ভিত্তিতে ছিল, নাকি আর্থিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত ছিল।
বিয়ের এক বছরের কিছু বেশি সময় পর মার্শাল মারা যান এবং তার উইলে আনা নিকোলকে অন্তর্ভুক্ত করেননি। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আইনি ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত উত্তরাধিকার বিরোধ শুরু হয়। আনা নিকোল দাবি করেছিলেন যে মার্শাল তাকে তার সম্পদের একটি অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে মার্শালের পরিবার এই দাবি জোরালোভাবে অস্বীকার করে।
এই আইনি লড়াই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলেছিল এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু মামলাটি পুরোপুরি নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই ২০০৭ সালে আনা নিকোল স্মিথ মারা যান। তিনি যে উত্তরাধিকার দাবি করেছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত পাননি।
তার জীবনকাহিনি আজও খ্যাতি, বিতর্ক এবং দীর্ঘস্থায়ী আইনি লড়াইয়ের অন্যতম আলোচিত উদাহরণ হিসেবে পরিচিত।
ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি আমাদের চোখের আড়ালে থাকা এক অসাধারণ সূক্ষ্ম জগতকে তুলে ধরে, যেখানে সাধারণ পিঁপড়েকেও দেখতে প্রায় ভিনগ্রহের প্রাণীর মতো মনে হয়। শত শত গুণ বড় করে দেখলে তাদের মাথা সূক্ষ্ম লোমে ঢাকা, চোয়ালগুলো ধারালো যান্ত্রিক সরঞ্জামের মতো এবং যৌগিক চোখগুলোকে মনে হয় যেন কোনো সায়েন্স ফিকশন সিনেমার দৃশ্য।
কিছু প্রজাতির পিঁপড়ের মাথায় শিংয়ের মতো গঠন, হুক বা কাঁটাও দেখা যায়, যা তাদের চেহারাকে একই সঙ্গে আকর্ষণীয় ও কিছুটা ভীতিকর করে তোলে। মাটির কাছ থেকে যে প্রাণীটিকে সাধারণ একটি পোকামাকড় বলে মনে হয়, বড় করে দেখলে সেটিই হয়ে ওঠে জটিল গঠন, বর্মের মতো দেহাংশ এবং অত্যন্ত বিশেষায়িত বৈশিষ্ট্যে ভরা এক বিস্ময়কর জীব।
দৃষ্টিনন্দন হওয়ার পাশাপাশি, এসব ছবি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে বেঁচে থাকার জন্য পিঁপড়েরা কতটা নিখুঁতভাবে অভিযোজিত—শিকার করা, খাবার বহন করা, আত্মরক্ষা করা এবং উপনিবেশ গড়ে তোলার জন্য তাদের শরীরের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে কার্যকর।
ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা সাধারণত খেয়াল না করলেও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জগতের মধ্যেও অসংখ্য জটিলতা ও বিস্ময় লুকিয়ে রয়েছে।
ব্লু হোল হলো বিশাল আকারের পানির নিচের গর্ত বা সিঙ্কহোল, যা হাজার হাজার বছর আগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা অনেক কম থাকার সময় তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে সমুদ্রের পানি বাড়তে থাকলে এসব চুনাপাথরের গুহা পানিতে ডুবে যায় এবং সমুদ্রের নিচে গভীর উল্লম্ব গর্তের সৃষ্টি হয়। এর নাম এসেছে পানির গভীর, গাঢ় নীল রং থেকে, যা মূলত প্রচণ্ড গভীরতা ও সীমিত আলো প্রবেশের কারণে তৈরি হয়।
অনেক ব্লু হোল এখনো প্রায় সম্পূর্ণভাবে অনাবিষ্কৃত। এগুলোর ভেতরে রয়েছে অনন্য বাস্তুতন্ত্র এবং অত্যন্ত কঠিন রাসায়নিক পরিবেশ। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট গভীরতায় অক্সিজেন সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যায়, ফলে সেখানে কেবল বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া টিকে থাকতে পারে। এই অস্বাভাবিক পরিবেশ ব্লু হোলকে ভূতত্ত্ব, সামুদ্রিক জীববিজ্ঞান এবং এমনকি প্রাচীন পৃথিবীর পরিবেশ নিয়ে গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
এর সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণ হলো বেলিজের গ্রেট ব্লু হোল। এটি আকাশ থেকে এমনকি মহাকাশ থেকেও দেখা যায়। এর ব্যাস ৩০০ মিটারেরও বেশি এবং গভীরতা প্রায় ১২০ মিটার। সেখানে ডাইভিং করা অনেক দুঃসাহসিক অভিযাত্রীর স্বপ্ন হলেও, প্রবল স্রোত, প্রচণ্ড গভীরতা এবং সীমিত দৃশ্যমানতার কারণে এটি বিপজ্জনকও হতে পারে।
স্লথ ভালুক, যাকে অনেক সময় দাড়িওয়ালা ভালুকও বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার স্থানীয় প্রাণী। বিশেষ করে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও বাংলাদেশে এদের দেখা যায়। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো লম্বা ও নমনীয় মুখ, যা পিঁপড়া ও উইপোকাদের বাসা থেকে টেনে বের করে খাওয়ার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এর শরীর কালচে-কালো লম্বা লোমে ঢাকা এবং বুকের ওপর একটি স্বতন্ত্র “V” আকৃতির দাগ রয়েছে।
এই ভালুক সাধারণত নিশাচর ও একাকী জীবনযাপন করে এবং অন্যান্য অনেক ভালুকের মতো শীতনিদ্রায় যায় না। সাধারণত ধীরগতিতে চললেও বিপদের মুখে এটি দ্রুতগতির ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এর শক্তিশালী নখ উইপোকার ঢিবি খুঁড়তে এবং মধু, ফল ও ফুলের সন্ধানে গাছে উঠতে সাহায্য করে। স্লথ ভালুক সর্বভুক প্রাণী; এর প্রধান খাবারের মধ্যে রয়েছে পোকামাকড়, মধু, ফল এবং মাঝে মাঝে ছোট প্রাণী।
বর্তমানে IUCN-এর শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী স্লথ ভালুক “Vulnerable” বা ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত। মূলত আবাসস্থল ধ্বংস ও অবৈধ শিকারের কারণে এদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। ফলে বন্য পরিবেশে এই অসাধারণ প্রাণীকে দেখা দিন দিন আরও বিরল হয়ে উঠছে।
কেরাটোকোনাস (Keratoconus) হলো একটি ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়া চোখের রোগ, যেখানে সাধারণত গোলাকার ও শক্ত কর্নিয়া ক্রমশ পাতলা হয়ে সামনে দিকে ফুলে উঠে শঙ্কু বা কোণের মতো আকৃতি ধারণ করে। এই পরিবর্তনের ফলে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে, দৃষ্টিতে বিকৃতি দেখা দিতে পারে এবং আলোতে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা তৈরি হতে পারে।
এই রোগটি প্রায়ই কৈশোর বা তরুণ বয়সে শুরু হয় এবং কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে পারে। কখনও কখনও এক চোখ অন্য চোখের তুলনায় বেশি আক্রান্ত হয়। সাধারণ দৃষ্টিজনিত সমস্যার মতো কেরাটোকোনাস সবসময় সাধারণ চশমা দিয়ে ঠিক করা যায় না। কিছু মানুষের বিশেষ ধরনের কনট্যাক্ট লেন্সের প্রয়োজন হতে পারে, আর রোগটি বেশি অগ্রসর হলে দৃষ্টিশক্তি উন্নত করার জন্য চিকিৎসা পদ্ধতি বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, জেনেটিক কারণ এবং ঘন ঘন চোখ ঘষার অভ্যাস এই রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা এবং যথাযথ যত্ন নেওয়া এর অগ্রগতি ধীর করতে ও দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।
Install app for better experience