মাইক্রোসফট টিমসের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার আক্রমণ
***********************************************************************
ভিডিও কনফারেন্সিং সুবিধা মাইক্রোসফট টিমসের মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা ম্যালওয়্যার আক্রমণ চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জাম্পসেক। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, মাইক্রোসফট টিমসের ডিফল্ট কনফিগারেশন সুবিধা ব্যবহার করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে এ সাইবার হামলা চালানো হচ্ছে। বিষয়টি জানতে পেরে এরই মধ্যে ডিফল্ট কনফিগারেশন সুবিধার ফাইল আদান-প্রদান পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে মাইক্রোসফট।
জানা গেছে, মাইক্রোসফট টিমসে ডিফল্ট কনফিগারেশন সুবিধা চালু থাকলে নিজ কর্মীদের পাশাপাশি চাইলেই অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ফাইল আদান-প্রদান করা যায়। এ সুবিধার নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে মূলত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ম্যালওয়্যারযুক্ত লিংক বা ফাইল পাঠাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানোর প্রলোভনে পাঠানো লিংক বা ফাইলগুলোতে ক্লিক করলেই ব্যবহারকারীদের যন্ত্রে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করে।
জাম্পসেকের গবেষকেরা জানিয়েছেন, নতুন এ কৌশল কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা চাইলেই দূর থেকে মাইক্রোসফট টিমস ব্যবহারকারীদের তথ্য জানার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করতে পারে। মাইক্রোসফট টিমসে বাইরের অ্যাকাউন্ট বা উৎস থেকে ফাইল আদান-প্রদানের সুবিধা সীমাবদ্ধ করা হলেও আইডি পরিবর্তন করে সহজেই ম্যালওয়্যার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। আর তাই মাইক্রোসফট টিমস ব্যবহারের সময় বাইরের উৎস থেকে আসা লিংক বা ফাইলে ক্লিক করার আগে সতর্ক থাকতে হবে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
source : প্রথম আলো
অপ্রাপ্তবয়স্করা টিকটকে সব ভিডিও দেখতে পারবে না
***********************************************************************
ছোট আকারের ভিডিও সহজে তৈরি ও প্রকাশের সুযোগ থাকায় তরুণ-তরুণীদের কাছে খুবই জনপ্রিয় টিকটক। তবে টিকটকে থাকা সব ভিডিও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযোগী নয়। বিষয়টি অজানা নয় টিকটকের কাছে। আর তাই এবার অভিভাবকদের জন্য কনটেন্ট ফিল্টারিং–সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে চীনের ভিডিওনির্ভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি।
ফ্যামিলি পেয়ারিং–সুবিধার আওতায় চালু হতে যাওয়া নতুন এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে অভিভাবকেরা সহজেই নিজেদের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান টিকটকে কোন কোন ধরনের ভিডিও দেখতে পারবে, তা নির্ধারণ করতে পারবেন। ফলে সন্তান টিকটকের ভিডিও ফিডে শুধু অভিভাবকদের নির্ধারণ করা বিষয়ের ভিডিওগুলো দেখতে পারবে।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কনটেন্ট ফিল্টারিং–সুবিধা চালুর লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘ফ্যামিলি অনলাইন সেফটি ইনস্টিটিউট’-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে টিকটক। বর্তমানে টিকটকের ফ্যামিলি পেয়ারিং–সুবিধা কাজে লাগিয়ে সন্তান কতক্ষণ টিকটক ব্যবহার করতে পারবে, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করতে পারেন অভিভাবকেরা। নতুন এ সুবিধা চালু হলে সময় নির্ধারণের পাশাপাশি সন্তানের নিরাপদ ভিডিও দেখার বিষয়টিও নিশ্চিত করা যাবে।
টিকটকের তথ্যমতে, ফ্যামিলি পেয়ারিং–সুবিধার মাধ্যমে সন্তানের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অভিভাবক এবং তাঁদের সন্তানদের সেফটি সেটিংয়ে বিভিন্ন অপশন যোগ করার সুযোগ রয়েছে। ফ্যামিলি পেয়ারিং–সুবিধার মাধ্যমে অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রমও নজরদারি করতে পারেন। বর্তমানে সাড়ে আট লাখের বেশি অভিভাবক সন্তানদের নিরাপত্তায় টিকটকের ফ্যামিলি পেয়ারিং–সুবিধা ব্যবহার করছেন।
সূত্র: টেক ক্রান্চ
source : প্রথম আলো
মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রামে নতুন নিরাপত্তা সুবিধা
***********************************************************************
মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রামে নতুন প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সুবিধা চালু করেছে মেটা। এ সুবিধা চালুর ফলে সন্তান মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রামে কাদের সঙ্গে বার্তা, ছবি ও ভিডিও বিনিময় করছে, তা জানতে পারবেন অভিভাবকেরা। চাইলে অবাঞ্ছিত বার্তা সন্তানদের কাছে আসার আগেই ব্লক করতে পারবেন। শুধু তা-ই নয়, দীর্ঘ সময় মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করলে সন্তানকে বিরতি নেওয়ার কথা দূর থেকে মনে করিয়ে দিতে পারবেন।
মেটার ফ্যামিলি সেন্টার থেকে নতুন প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সুবিধা চালু করা যাবে। এ সুবিধা চালু থাকলে অভিভাবকেরা সহজেই যেকোনো সময় সন্তানদের মেসেঞ্জার অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি ও সেফটি সেটিংস পরিবর্তন করতে পারবেন। মেসেঞ্জারের সন্তানের বন্ধুতালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাম দেখার পাশাপাশি বার্তা প্রেরকদের তথ্যও জানতে পারবেন তাঁরা। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় এ সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ মিলবে।
নতুন এ সুবিধায় অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট দূর থেকেই পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। ফলে সন্তান ইনস্টাগ্রামে কোন কোন ব্যক্তিকে অনুসরণ করে, তা জানার পাশাপাশি সন্তানের অ্যাকাউন্টে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের বিষয়টিও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
সূত্র: টেক ক্র্যাঞ্চ
source : প্রথম আলো
সুপার মারিও গেমের মাধ্যমে উইন্ডোজ কম্পিউটারে সাইবার হামলা
***********************************************************************
গেমারদের লক্ষ্য করে সাইবার আক্রমণ চালাচ্ছে হ্যাকাররা। জনপ্রিয় গেম ‘সুপার মারিও থ্রি: মারিও ফরএভার’-এ ট্রোজান ইনস্টল করে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমচালিত কম্পিউটারের দখল নিচ্ছে হ্যাকাররা। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সাইবিল এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এ গেমের ব্যবহারকারী অনেক। তাঁরা সাধারণত বৈধ সফটওয়্যার হিসেবে গেম ইনস্টল করেন। এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে হ্যাকাররা।
সাইবিল বলছে, গেমের আকার বড় এবং ইনস্টল–প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা ম্যালওয়্যার গোপনে গেমের সফটওয়্যারের মধ্যে রাখতে সক্ষম হয়। গেম ইনস্টল করা হলে ম্যালওয়্যারটি যন্ত্রে বিতরণ করা হয়। ফলে হ্যাকাররা সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেয় এবং মুক্তিপণ (র্যানসামওয়্যার) হামলা চালাতে পারে।
‘সুপার মারিও থ্রি: মারিও ফরএভার’ ২০০৩ সালে চালু হওয়া ক্ল্যাসিক নিনটেনডো গেমের একটি বিনা মূল্যের সংস্করণ। গবেষকেরা বলছেন, হ্যাকাররা ‘সুপার মারিও থ্রি: মারিও ফরএভার’–এর ইনস্টলারের একটি অনুলিপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপ ও ফোরামে প্রচার করছে। অনুলিপি সংস্করণের গেমটি ইনস্টল করলে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের কম্পিউটার সংক্রমিত হয়। আর সেটির দখল নেয় সাইবার অপরাধীরা।
গেম ইনস্টল হয়ে গেলে তিনটি আলাদা ম্যালওয়্যার যুক্ত করে হ্যাকাররা। এসব ম্যালওয়্যার দিয়ে হ্যাকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহারকারীর কম্পিউটার থেকে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়। সাধারণত ওয়েব ব্রাউজারে থাকা তথ্য, পাসওয়ার্ড, ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের তথ্য, বিভিন্ন ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড ও ইউজার নেম হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা। এমনকি এ ম্যালওয়্যার উইন্ডোজ ডিফেন্ডারকে এড়িয়েও হ্যাকিং কার্যক্রম চালাতে সক্ষম।
‘সুপার মারিও থ্রি: মারিও ফরএভার’ গেমটি ইনস্টল করার পর কম্পিউটার স্ক্যান করার পরামর্শ দিচ্ছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানটি। কোনো ম্যালওয়্যার শনাক্ত হলে, তা তৎক্ষণাৎ মুছে ফেলে কম্পিউটার ও ব্রাউজারের বিভিন্ন পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার কথাও বলছে সাইবিল। এ ছাড়া গেম বা ইনস্টল অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নামানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: গ্যাজেটস নাউ
source : প্রথম আলো
অদম্য তিন তরুণ এখন সফল ফ্রিল্যান্সার
***********************************************************************
ফ্রিল্যান্সারের বাংলা ‘মুক্ত পেশাজীবী’। নয়টা-পাঁচটা চাকরিতে আবদ্ধ নন তাঁরা। বাসা কিংবা যেকোনো স্থানে বসেই কাজ করতে পারেন। প্রয়োজন নিজের দক্ষতা, বিদ্যুৎ আর দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ।
সম্প্রতি রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে এসেছিলেন তিন জেলার তিন তরুণ ফজলে এলাহী, বাপ্পী আহম্মেদ ও রিমন আহমেদ। তিনজনই তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন।
দেশে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার ও সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগে প্রযুক্তি খাতে ফ্রিল্যান্সিংয়ে তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে, এখন প্রায় সাড়ে ১০ লাখ ফ্রিল্যান্সার বাংলাদেশ থেকে কাজ করছেন। এমন তিনজন তরুণ ফ্রিল্যান্সারের কথা নিয়ে এই প্রতিবেদন।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান স্থানীয় কর্মী নিলে খরচ বেশি হয়। অনেক সময় চাহিদামতো এত কর্মী পাওয়া যায় না। তারা তখন বাইরে থেকে নির্দিষ্ট কাজটি করিয়ে নেয় (আউটসোর্সিং)। এতে ওই প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির যেমন অর্থ সাশ্রয় হয়, তেমনি যেকোনো স্থান থেকে কাজটি করে কোনো ব্যক্তি আয় করতে পারেন। বেশির ভাগ কাজের খবর থাকে নির্দিষ্ট কিছু ওয়েবসাইটে। তথ্যপ্রযুক্তির ভাষায় এগুলো ‘অনলাইন মার্কেটপ্লেস’ (অনলাইন কাজের বাজার)।
ফজলে এলাহীর বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায়। বাপ্পী আহম্মেদ থাকেন কুষ্টিয়ার বলরামপুরে। আর রিমন আহমেদের বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের হাওর এলাকায়। তাঁরা তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ। নিজের এলাকায় বসে বিদেশের গ্রাহক বা কোম্পানির কাজ করে দেন। এখন তিনজনের প্রত্যেকেরই মাসিক আয় টাকার অঙ্কে লাখের কোটা ছাড়িয়ে। আর ফ্রিল্যান্সিং করার আগে কষ্ট করতে হয়েছে প্রত্যেককে। দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁদের।
নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করেছেন, তবু হাল ছাড়েননি এলাহী
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পর একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন ফজলে এলাহী। করোনা মহামারির সময় চাকরি চলে যায়। হঠাৎ আয়ের সব রাস্তা বন্ধ, কিন্তু পরিবারের খরচ চালাতে হবে। কোনো উপায় না পেয়ে ঢাকার মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরি নেন। কাজ করতেন রাতে। দিনের জন্যও চাকরি জোগাড় করলেন। ইস্কাটনের একটি বেসরকারি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানে চিঠি বিলি ও ডেটা এন্ট্রির কাজ।
ফজলে এলাহী বলেন, ‘খুব কষ্ট করে
চলতে হতো। হাঁপিয়ে উঠতাম। কিন্তু পরিবারের কথা মনে করে নিজেকে সামলে কাজ করে যেতাম।’ একপর্যায়ে ফজলে এলাহী সিদ্ধান্ত নেন নিজে কিছু করার। ভাবলেন তথ্যপ্রযুক্তির কিছু বিষয়ে দক্ষ হয়ে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে তো কাজ করা যায়। প্রয়োজন প্রশিক্ষণ। কিন্তু হাতে কোর্স ফি নেই। একজন এগিয়ে এলেন। ফজলে
এলাহী বলেন, ‘এরপর শুরু করি তিন-চার মাসের একটি কোর্স। এখানে মনে হলো কিছু শিখলাম ও জানলাম।’
এরপর ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ের কাজ খুঁজতে থাকেন ফজলে এলাহী। ইন্টারনেটে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক আউটসোর্সিংয়ের কাজ
দেওয়া–নেওয়ার মার্কেটপ্লেসে নিজের প্রোফাইল (নিজের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে খোলা অ্যাকাউন্ট) তৈরি করে কাজের জন্য আবেদন করতে লাগলেন। ফজলে এলাহী ৯ মাস পরে প্রথম কাজ পেলেন ফাইভআর মার্কেটপ্লেসে।
আয় হলো ৩৫ ডলার। যথারীতি কাজটা ছিল বিদেশি গ্রাহকের।
ফজলে এলাহী বলেন, ‘ফাইভআরে কিছুদিন পর হঠাৎ আমার অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। আবার নতুন অ্যাকাউন্ট খুললাম। আবারও কাজ পেয়ে যাই।’ এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। এখন তিনি প্রতি মাসে দুই হাজার ডলার (২ লাখ টাকার বেশি) আয় করেন। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ফজলে এলাহী গুগল অ্যাডস, ওয়েব অ্যানালিটিকস, ফেসবুক কনভার্সনের কাজ করে থাকেন।
৩০ বছর বয়সী ফজলে এলাহীর বাবা আবুল কালাম আজাদ পেশায় ছিলেন শিক্ষক, মা ফৌজিয়া খাতুন গৃহিণী। দুই ভাইয়ের মধ্যে ফজলে এলাহী ছোট। ২০১৬ সালে রাজধানীর অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ এবং ২০১৯ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। স্ত্রী আতিকা জামান গৃহিণী। সম্প্রতি তাঁরা এক মেয়ের বাবা–মা হয়েছেন।
পানের বরজে কাজ করে ল্যাপটপ কিনেছিলেন বাপ্পী
বাপ্পী আহম্মেদের বয়স মাত্র ২৩ বছর। কুষ্টিয়ার ইবি (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়) থানার বলরামপুরে বাড়ি। সেখান থেকে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করেন। ইংরেজি নিয়ে স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন কুস্টিয়ার সরকারি লালন শাহ কলেজে। পরিবারের হাল ধরতে ২০২০ সালে একটি চাকরির জন্য ঢাকায় আসেন। বেতন ছিল ১২ হাজার টাকা। চার মাস চাকরি করার পর করোনা মহামারির সময়ে সেটা চলে যায়। এরপর গ্রামে ফিরে যান বাপ্পী।
বাপ্পীর বাবা রায়হান মণ্ডল টাইলসমিস্ত্রি। বাপ্পী ইউটিউবে ভিডিও দেখতে দেখতে একদিন ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং সম্পর্কে জানতে পারেন। একটা সময় বুঝতে পারেন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে হলে কম্পিউটার প্রয়োজন। কিন্ত বাপ্পীর হাতে টাকা নেই। পরিবারের কাছ থেকেও সহায়তা পাওয়া সম্ভব না।
বাপ্পী সিদ্ধান্ত নিলেন নিজেই কম্পিউটার কেনার টাকা জোগাড় করবেন। গ্রামে পানের অনেক বরজ রয়েছে। বরজে পানপাতা সংগ্রহ ও গোছানোর কাজ পাওয়া যায়। সারা দিন পান গুছিয়ে দিলে পাওয়া যায় ৩০০ টাকা। শুরু করলেন পান তোলার কাজ। তিন মাসে জমালেন আট হাজার টাকা। অনলাইনে কেনাবেচার একটি ওয়েবসাইট থেকে ব্যবহৃত (সেকেন্ডহ্যান্ড) ল্যাপটপ কম্পিউটারের খোঁজ পেলেন এই বাজেটে এবং সেটা কিনলেন। এবার শেখার পালা। একটি তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হলেন। ছয় মাসের একটি কোর্সে বাপ্পী গুগল অ্যাডস, অনলাইন অ্যানালিটিকস ও ফেসবুক অ্যাডস শিখলেন।
প্রথমে দক্ষতা, এরপর লেগে থাকা
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ‘ফ্রিল্যান্সিং’ তরুণদের কাছে লোভনীয় শব্দ। নিজের দেশে বসে বিদেশে কাজ করে আয় করার এক পথ। ফজলে এলাহী, বাপ্পী আহম্মেদ ও রিমন আহমেদ—তিনজনই বললেন এই খাতে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার গল্পই বেশি। না বুঝে না জেনে অনলাইনে শুধু প্রোফাইল খুলে ফেললেই কাজ করার সুযোগ আসে না। প্রযুক্তির যে বিষয়গুলোর চাহিদা এখন বেশি, সেগুলোর কোনো একটাতে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। এরপর ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হবে। তিন তরুণের পরামর্শ—বিদেশি গ্রাহকের কাজ দেওয়া–নেওয়ার ক্ষেত্রে সময় মানা ও সততার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করে দিতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
source : প্রথম আলো
‘ছুটির ঘণ্টা’র ঘটনা ঘটেছিল ঈদের ছুটিতে
***********************************************************************
‘ছুটির ঘণ্টা’ ছবির নাম শোনেনি বা দেখেনি, বাংলা চলচ্চিত্রের এমন দর্শক খুব কমই আছে। মূলধারার বাণিজ্যিক ছবির যে ৪/৫টি ছবির নাম যদি বলতে হয়, তার মধ্যে অবশ্যই ‘ছুটির ঘণ্টা’ নামটিও থাকে। গত শতকের আশির দশকে অনেক দর্শকের প্রিয় চলচ্চিত্রের তালিকায় ছিল ‘ছুটির ঘণ্টা’।
কী মর্মান্তিক গল্প! ঈদের ছুটি ঘোষণার দিন স্কুলের বাথরুমে সবার অজান্তে তালাবদ্ধ হয়ে আটকে পড়ে একটি ১২ বছর বয়সের ছাত্র। আর তালাবদ্ধ বাথরুমে ১১ দিনের ছুটি শেষ হওয়ার প্রতীক্ষার মধ্যে দিয়ে হৃদয়বিদারক নানা ঘটনা ঘটে। অমানবিক কষ্ট সহ্য করার পর কীভাবে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, এমনই একটি করুণ ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে ছবিতে। প্রথমে স্কুলে আনা টিফিন, পরে কিছুদিন শুধু পানি পান করে বেঁচে ছিল সে। আটকে পড়া দিনগুলোতে নিজের অনুভূতিগুলো দেয়ালে লিখে রেখেছিল। শেষে শিশুটির জীবনে বাজে ‘ছুটির ঘণ্টা’। ঈদের ছুটি শেষে স্কুল খোলে। উদ্ধার হয় ছেলেটির মরদেহ। স্কুলের দপ্তরি আব্বাস মিয়া স্বেচ্ছায় এই মৃত্যুর দায় নিজের কাঁধে নিয়ে জেলে যান।
১৯৮০ সালে নির্মিত হয় ‘ছুটির ঘণ্টা’ ছবিটি। প্রযোজনা করেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান সংগীত পরিচালক সত্য সাহা। পরিচালক আজিজুর রহমান। ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন রাজ্জাক, শওকত আকবর, খান আতাউর রহমান, শাবানা, সুজাতা, এ টি এম শামসুজ্জামান, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, শিশুশিল্পী সুমন। ছবির ‘একদিন ছুটি হবে অনেক দূরে যাব’ আর ‘আমাদের দেশটা স্বপ্নপুরী’ গানগুলো তখন দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
অনেকেই জানেন, ওই সময় বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বেদনাদায়ক সত্য ঘটনা চলচ্চিত্রে তুলে ধরা হয়েছিল, যা পরে আরও বেশি মানুষের মনে নাড়া দিয়েছিল। আজও ছবিটির কথা উঠলে দর্শকদের মন নাড়া দিয়ে ওঠে। জীবনকালে সেই গল্প বলেছেন পরিচালক আজিজুর রহমান।
২০১৮ সালে পরিচালক আজিজুর রহমান প্রথমআলোকে জানিয়েছিলেন, তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে, ফতেহাবাদ গ্রামে একটি পুকুরপাড়ে ‘অশিক্ষিত’ ছবির শুটিং করছিলেন। ওই সময় ঢাকায় জাপান এয়ারলাইনসের একটি বিমান ছিনতাই হয়। ফলে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বললেন, ‘টেনশনে পড়ে গিয়েছিলাম। তখন মোবাইল দূরে থাক, ল্যান্ডফোনও এত সহজলভ্য ছিল না। প্রোডাকশন ম্যানেজারকে বললাম, শহর থেকে কয়েকটি পত্রিকা নিয়ে আসতে। দুপুরে বাংলার বাণী পত্রিকা হাতে আসে। পড়তে পড়তে ভেতরের পাতায় একটি খবরে চোখ আটকে যায়— “একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা”। নারায়ণগঞ্জের একটি স্কুলের ছাত্র ছুটির আগে বাথরুমে আটকা পড়েছিল। খবরটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার মন খারাপ হয়ে গেল। কীভাবে সে বেঁচে ছিল, সেই ঘটনাগুলোও দেয়ালে ছেলেটি লিখে গিয়েছিল!
তিনি জানান, প্রথমেই গল্পটি নিয়ে একটি ছবি বানানোর ভাবনা মাথায় আসে। ওই দিন কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করেন। কিন্তু খুব একটা উৎসাহ দেয়নি কেউ। পরে ঢাকা ফিরে যোগাযোগ করেন নানা দিকে। এই গল্প নিয়ে ছবি নির্মাণের জন্য প্রযোজক মিলছিল না। ওই সময় ১০ জনের বেশি প্রযোজকের কাছে তিনি গিয়েছেন। সবার একই কথা, একটি স্কুলছাত্র বাথরুমে মারা গেছে, সেখানে কী দেখানোর আছে। তা ছাড়া তখন নায়ক আর নায়িকাপ্রধান ছবির প্রাধান্য ছিল। এ গল্পে তো নায়িকা রাখার সুযোগ নেই।
আজিজুর রহমান বলেন, ‘নিরুপায় হয়ে আবার সত্যদাকে (সত্য সাহা) ধরলাম। বোঝালাম। “অশিক্ষিত” ছবিতে তো তিন-চার কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। আমার এই ছবির জন্য পাঁচ সাত লাখ টাকা বিনিয়োগ করুন। একটা রিস্ক নিন। আমার আগ্রহ দেখে তিনি রাজি হলেন।’
ছবিটির সংলাপ লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান। স্কুলের ঘণ্টাবাদক হিসেবে ঠিক হলো নায়ক রাজ্জাক। কিন্তু ওই প্রশ্নটা থেকেই যায়, নায়িকার কী হবে। একদিন কাকতালীয়ভাবে নায়িকার চরিত্রটি গল্পে যুক্ত হয়। তখন কাকরাইলে ফিল্মপাড়া ছিল। একদিন পরিচালক আজিজুর রহমান তাঁর কাকরাইলের অফিসের দরজা খুলে দেখতে পান, এক মহিলা অফিসের টেবিলের ওপর বসে সিগারেট ফুঁকছে। মহিলা জানালেন, তিনি সুইপারের স্ত্রী, স্বামীর জ্বর হয়েছে, তাই সে ঝাড়ু দিতে এসেছে। আজিজুর রহমান বলেন, ‘ওই দৃশ্য দেখে মাথায় নায়িকা আইডিয়া আসে। নায়িকা হবে স্কুলের ঝাড়ুদারনি। সেই চরিত্রে অভিনেত্রী খুঁজতে খুঁজতে মনে হলো, শাবানাই যথাযথ।
ওই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শাবানাকে নিয়ে ধোলাইখালের সুইপারপট্টিতেও গিয়েছিলেন পরিচালক। তাদের পরিবেশ, আচার-আচরণ, পোশাক, চলাফেরা কাছ থেকে দেখেছেন শাবানা আর আজিজুর রহমান।
ছবির শুটিং হয়েছিল কাপ্তাই এলাকায়। সেখানকার একটি রেস্ট হাউসকে ছাত্রের বাড়ি বানানো হয়। রেস্ট হাউসের জানালা থেকে স্কুল দেখা যায়। ফলে সেখান থেকে স্কুলের ছবি নেওয়া হলো। আবার স্কুল থেকে বাড়ির দৃশ্যও ধারণ করা হলো। এফডিসিতে সেট বানিয়ে ঘরের ভেতরের অংশ ধারণ করা হয়। বাথরুমের ভেতরের অংশের চিত্র ধারণ করা হলো।
তবে ঝামেলা হয়েছিল চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে। বোর্ড আটকে দিল। তাদের যুক্তি, এই ছবি দেখলে কোমলমতি শিশুরা ভয় পাবে, তাদের ওপর বাজে প্রভাব পড়বে। আজিজুর রহমান বিপদে পড়ে যান। তিনি বুদ্ধি বের করলেন। ছবির একটা বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। সেখানে বেশির ভাগ শিশুকে বাবা-মাসহ আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু ছবি শেষে দেখা গেল, শিশুরা ভয় তো পেলই না, উল্টো চোখ মুছতে মুছতে হল থেকে বের হচ্ছে, এমনকি অভিভাবকেরাও। বাচ্চারা জানায়, তারা মোটেও ভয় পায়নি। এরপর এই ছবির মুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকল না। ১৯৮০ সালে ‘ছুটির ঘণ্টা’ মুক্তি দেওয়া হলো।
ছাড়পত্র পাওয়ার পর নতুন সংকট দেখা দেয়। কোনো সিনেমা হল ছবিটি নিতে চায় না। শেষে মাত্র ২০টি হলে মুক্তি পায় ‘ছুটির ঘণ্টা’। এরপর সারা দেশে কোথাও চার-পাঁচ সপ্তাহ, কোথাও এক-দুই থেকে পাঁচ মাসও ছবিটি চলেছে।
অনেক ঘটনা ঘটে ছবি মুক্তির পর। দিনাজপুরের মডার্ন হলে ম্যাটিনি শোতে এক মহিলা ছবি দেখতে দেখতে আবেগে কোলের শিশুসন্তানকেই চাপ দিয়ে মেরে ফেলেছেন! রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ আজাদের কর্মী চান মিয়া স্মৃতিচারণায় বলেন, ‘মুক্তির কিছুদিন পর ছবিটি উঠিয়েছিলাম। টানা কয়েক মাস চলেছে। একদিনের কথা মনে আছে, এক শোতে “ছুটির ঘণ্টা” দেখতে আসা হলের সব দর্শকই ছিলেন নারী।’
(পুনঃ প্রকাশিত, আংশিক সম্পাদিত )
source : প্রথম আলো
রাগের সঙ্গে রক
***********************************************************************
অনেক বছর ধরে গান করছেন গৌরব। সংগীতের শুদ্ধতা অক্ষুণ্ন রেখে ফিউশনেও সুনাম কুড়িয়েছেন এ সংগীতশিল্পী। সাধারণত বাউল ও লোকজ আঙ্গিকের গানে তাঁকে পাওয়া যায়। তবে এবার ভিন্ন স্বাদের কাজ করলেন। নিজের লেখা, সুর ও সংগীতায়োজনে গানটিতে গৌরবের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন ও বাজিয়েছেন ১০ জন শিল্পী-মিউজিশিয়ান। গানটি ঈদ উপলক্ষে প্রকাশ পাবে।
গানের শিরোনাম ‘প্রেমের মানুষ’। গানের বিষয়ে শ্রোতাদের ধারণা দিতে গতকাল মঙ্গলবার গানটির কিছু অংশ (প্রমো) প্রকাশ হয়েছে। কাল বৃহস্পতিবার ঈদের দিন আসবে সম্পূর্ণ গান। গানটি সম্পর্কে গৌরব বলেন, ‘যোগ রাগের ওপর একটা ফাঙ্ক রক গানের অ্যারেঞ্জ করেছি। ট্র্যাডিশনাল হাতে বাজানো অ্যাকুস্টিক যন্ত্র বাজিয়ে গানটা তৈরি করেছি। যাঁরা বাজিয়েছেন, তাঁরা কোক স্টুডিওর মতো প্ল্যাটফর্মেও নিয়মিত কাজ করছেন। সাধারণত একসঙ্গে এতজন মিউজিশিয়ান নিয়ে সলো গান আমাদের দেশে খুব কম হয়। আমরা সবাই মিলে আনন্দ নিয়ে কাজটি করার চেষ্টা করেছি।’
সংগীতশিল্পী গৌরব ২০০০ সালে গড়েন নিজের ব্যান্ড ‘আজব’। প্রায় এক দশকের ব্যান্ড ক্যারিয়ারের পর ২০১১ সালে যুক্তরাজ্য থেকে সংগীত এবং শব্দপ্রকৌশলের ওপর পড়াশোনা করে সংগীত পরিচালনা ও সলো ক্যারিয়ারে মনোযোগ দেন।
দীর্ঘ পথচলায় প্রকাশিত হয় তাঁর তিনটি অ্যালবাম। ১৫ বছর ধরেই পারফর্ম করেছেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংগীতমঞ্চে। সংগীত পরিচালনা করছেন চলচ্চিত্রেও। এবার নতুন ঘরানায় নিজেকে হাজির করতে শিগগিরই প্রকাশ করতে চলেছেন অ্যালবাম।
গৌরব বলেন, ‘গানের ঝুড়িতে অনেক গান জমে আছে। শ্রোতারা যেভাবে গৌরবকে শোনেননি, এবার তাই শোনাব। আমি শহরে বেড়ে ওঠা মানুষ। ফোক গানে আমাকে শ্রোতারা যেমন গ্রহণ করেছেন, আমার বিশ্বাস, নতুন রূপেও তারা আমাকে গ্রহণ করবেন।’
‘প্রেমের মানুষ’ গানে গৌরবের সঙ্গে বাজিয়েছেন আহনাফ খান, ফারশিদ আলম, শারফুদ্দিন রাব্বি, রাহিন হায়দার, স্বায়ন্তন মাসাং; কণ্ঠে যুক্ত হয়েছেন সারোয়ার সোহেল। আরও ছিলেন জান্নাতুল ফিরদৌস আকবর, মেহবুবা মিনহাজ বিপা ও নিগার সুলতানা। স্টুডিও এলকেজির প্রযোজনায় গানটি প্রকাশিত হবে প্রতিষ্ঠানটির ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে।
source : প্রথম আলো
মা হতে চলেছেন শুভশ্রী
***********************************************************************
পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় দ্বিতীয় সন্তানের মা হতে চলেছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সুখবরটি দিয়েছেন শুভশ্রী-রাজ চক্রবর্তী দম্পতি। শুভশ্রীর এখন উউভান নামের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। এবার তাঁদের ঘরে আসছে দ্বিতীয় সন্তান। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা খবরে রাজ-শুভশ্রী জানিয়ে লিখেছেন, ‘দাদা হতে চলেছে ইউভান। ইউভানের পদোন্নতি হলো। এবার বড় ভাই হতে চলেছে সে।’
এ খবর প্রকাশ করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভশ্রী-রাজকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন ভক্তরা। শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন অনেক টালিউডের তারকাও। অভিনেত্রী মৌনী রায় লিখেছেন, ‘ছোট্ট সোনার জন্য আমার অনেক অনেক অনেক ভালোবাসা…আমি কিন্তু দারুণ মাসি হব, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’
রাজ–শুভশ্রী পরিবারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নুসরাত জাহান। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, দেবলীনা কুমার, সৌমিতৃষা কুণ্ডুর মতো তারকারাও।
প্রসঙ্গত, গত মে মাসেই রাজ-শুভশ্রী বিয়ের পাঁচ বছর উদ্যাপন করেছিলেন। এবার পরিবারে নতুন সদস্যের আগমনের অপেক্ষা। কলকাতার গণমাধ্যম টিভি নাইন বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শুভশ্রীর স্বামী পরিচালক রাজ জানিয়েছেন গতকাল শুভশ্রীর প্রেগন্যান্সির তিন মাস পূর্ণ হয়েছে। তাঁর ভাষায়, আসলে তিন মাস না হলে তো জানাতে নেই, তাই আমরাও ব্যাপারটা বলিনি, তিন মাস পার হতেই সবার সঙ্গে খবরটা শেয়ার করে নিলাম। তিনি আরও বললেন, ‘আমাদের পরিকল্পনায় এটিই ছিল। শুভশ্রীর দ্বিতীয় প্রেগন্যান্সি কোনোভাবেই ‘আনপ্ল্যানড নয়’। ইউভানের বয়স তিন হলে তার জন্য খেলার সঙ্গী আনার পরিকল্পনা আগেই করেছিলাম।’
২০২০ সালের মে মাসে প্রথম সন্তান আসার খবর জানিয়েছিলেন রাজ-শুভশ্রী। ওই বছর সেপ্টেম্বরেই ফুটফুটে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন নায়িকা। ২০১৮ সালের ১১ মে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বাওয়ালি রাজবাড়িতে ধুমধাম করে বিয়ের পর্ব সেরেছিলেন রাজ-শুভশ্রী। রাজকীয় পরিণতি পেয়েছিল এ জুটির প্রেম।
৩২ বছর বয়সী শুভশ্রীর জন্ম বর্ধমানে। তিনি ২০০৭ সালে পিতৃভূমি ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্র অঙ্গনে যাত্রা। এখন পর্যন্ত ২৬টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
source : প্রথম আলো
Anuza Fatin
Slet kommentar
Er du sikker på, at du vil slette denne kommentar?
Linkeei Official
Slet kommentar
Er du sikker på, at du vil slette denne kommentar?