বরবটি (ইংরেজি: Yardlong bean) এটি এক প্রকার সবজি। বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় সবজি। সারা বছরই এই সবজি চাষ করা যায়। রান্না করে খাওয়ার পাশাপাশি এটি কাঁচাও খাওয়া যায়।
বরবটির ফুল
পরিচিতি
এই সবজি প্রোটিনসমৃদ্ধ। বরবটি বসতবাড়িতেও চাষ করা যায়। ভাজা-সেদ্ধ-তরকারি সবকিছুতেই সমান উপযোগী। পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। সাধারণত সেদ্ধ, ভাজা বা ঝোল রান্না করে খাওয়া হয়।
জাত
বিভিন্ন ধরনের বরবটির জাত রয়েছে। যেমন- বিএইউ বরবটি-১ , কেগর নাইটি, চীনা বরবটি, ফেলন, লালবেনী, ঘৃত কুমারী, গ্রীন লং, তকি, বনলতা ইত্যাদি। তবে কেগরনাটকী নামে একটি উন্নত প্রজাতির বরবটি অনেক দিন পর্যন্ত চাষ হয়ে আসছে। কেগরনাটকী প্রজাতিটি পৌষ এবং মাঘ মাস ছাড়া সারা বছরই চাষ করা যায়। বরবটির উল্লেখযোগ্য প্রজাতির মধ্যে কেগরনাটকী ও লাল বেণী প্রজাতির ফলন সবচেয়ে বেশি।
সময়
ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাস হলো বরবটির বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। শীতকালে বরবটির বীজ বোনা উচিত নয়।
পুষ্টিগুণ
১০০ গ্রাম বরবটিতে রয়েছে জলীয় অংশ ৮৭.৫ গ্রাম, প্রোটিন ৩.০ গ্রাম, শর্করা ৯.০ গ্রাম, মোট খনিজ পদার্থ ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৩ মিলিগ্রাম, আয়রন ৫.৯, ভিটামিন বি-১ ০.১৪, ভিটামিন বি- ২ ০.৩০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি খুব অল্প, খাদ্যশক্তি ১৮ ক্যালরি। আছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিভাইরাল , অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল, অ্যান্টিক্যান্সার ধর্ম। এতে আরও রয়েছে ভিটামিন বি১ , বি ২, ক্লোরোফিল , রিবোফ্লাভিন , ফসফরাস, থায়ামিন , তন্তু ও বিভিন্ন খনিজ পদার্থ।
অপকারিতা
বরবটির অপকারিতা খুবই কম। যাদের রক্তে চিনির পরমাণ অনেক বেশি তাদের বারবটি না খাওয়াই ভালো। কিডনিতে ক্রিয়েটিনিনের সমস্যা এবং যাদের গেঁটে বাত আছে তাদের বরবটি পরিহার করাই উচিত।