নানা আয়োজনে বিশ্ব নাট্য দিবস উদ্যাপন
***********************************************************************
বিশ্বজুড়ে নাট্যকর্মী ও শিল্পীর মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি ও সৌহার্দ্য স্থাপন, নাটকের বার্তা ছড়িয়ে নানা আয়োজনে ঢাকায় বিশ্বনাট্য দিবস উদ্যাপিত হলো।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নাট্যকর্মী, অভিনয়শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণে বিকেল পাঁচটায় শোভাযাত্রা দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শোভাযাত্রা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সামনে থেকে বের হয়ে চারুকলা ভবনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সন্ধ্যা ছয়টায় একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় আয়োজন করা হয় প্রীতি সম্মিলনীর।
প্রতিবছরের মতো এবারও এ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্র, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন ও পথনাটক পরিষদ।
সন্ধ্যা সাতটায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশ্বনাট্য দিবসের বাণী পাঠ, বিশ্বনাট্য দিবসে জাতীয় বাণী প্রদান, বিশ্বনাট্য দিবস সম্মাননা প্রদান ও বক্তৃতা প্রদান করা হয়।
আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ কেন্দ্রের সভাপতি আবদুস সেলিম, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সেক্রেটারি জেনারেল চন্দন রেজা ও বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান।
এবারে বিশ্বনাট্য দিবসের আন্তর্জাতিক বাণী প্রদান করেছেন মিসরের বরেণ্য অভিনেত্রী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সামিহা আইয়ুব। তাঁর বাণী পাঠ করেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাট্যজন লাকী ইনাম। এবারের বিশ্বনাট্য দিবসের জাতীয় বাণী প্রদান করেছেন নাট্য অভিনেতা ও নির্দেশক লিয়াকত আলী লাকী। অনুষ্ঠানে জাতীয় বাণী পাঠ করেন তিনি।
এবার বিশ্বনাট্য দিবস ২০২৩ সম্মাননা পান অভিনয়শিল্পী, নাট্যকার ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ। তাঁকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকী।
করোনাভাইরাসের কারণে গত তিন বছরে কোনো অনুষ্ঠান না হওয়ায় এবার বিগত বছরের সম্মননাও তুলে দেওয়া হয়। ২০২০ সালে সম্মাননা পেয়েছেন নাট্যকার ও নির্দেশক মিলন চৌধুরী ও অভিনেতা, সংগঠক পরেশ আচার্য্য।
২০২১ সালে সম্মাননা পেয়েছেন অভিনয়শিল্পী প্রয়াত লিলি চৌধুরী। শ্রদ্ধেয় লিলি চৌধুরীর পক্ষে তাঁর সম্মাননা গ্রহণ করেন তাঁর পুত্র আসিফ মুনীর। ২০২২ সালে মরণোত্তর সম্মাননায় ভূষিত হন অভিনয়শিল্পী, নাট্যকার ও নির্দেশক প্রয়াত মান্নান হীরা। তাঁর পক্ষে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন তাঁর স্ত্রী সৈয়দা নাদিরা মান্নান।
পরে বিশ্বনাট্য দিবসের স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন অভিনয়শিল্পী মাসুদ আলী খান। পরে সভাপতির বক্তব্য উপস্থাপন করেন লিয়াকত আলী লাকী। এরপর একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন দর্শকেরা।
Source: প্রথম আলো
নতুন পরিচয়ে জ্যোতিকা
***********************************************************************
এত দিন অভিনয়েই নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিলেন জ্যোতিকা জ্যোতি। কিন্তু ইদানীং পছন্দসই গল্প পাচ্ছিলেন না। তাই বেশ কিছুদিন ধরেই অভিনয়ের বাইরে একটা কিছু করার কথা ভাবছিলেন। তা ছাড়া বাড়তি উপার্জনেরও দরকার ছিল। এর মধ্যেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নিয়োগ পেলেন এই অভিনেত্রী। দুই বছর মেয়াদে শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
কয়েক দিন ধরে শিল্পকলা একাডেমিতে যাওয়া–আসার মধ্যে আছেন জ্যোতি। জানালেন, জীবনে প্রথম চাকরি। সবার সঙ্গে পরিচিত হতেই যাওয়া–আসা। গতকাল সোমবার বিকেলে তাঁর সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল, তখনো শিল্পকলা একাডেমিতেই ছিলেন তিনি। বললেন, ‘এত দিন কোন বিভাগে কাজ করব, তা জানা ছিল না। আজই বিভাগের বিষয়ে জেনেছি।’
জ্যোতিকা জ্যোতির কাজ কী হবে, সেটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সারা দেশে শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনাসম্পর্কিত যত কাজ হবে, সেসব দেখভালের দায়িত্ব আমার। যে দায়িত্ব আমার ওপর অর্পিত হয়েছে, সঠিক ও সুন্দরভাবে করার চেষ্টা করব। আশা করছি, নতুন এই পরিচয়ে সবার সেই আন্তরিক সহযোগিতা আমি পাব। সবাই এত আন্তরিকভাবে গ্রহণ করবেন, ভাবিনি। তাঁদের বিশ্বাস, আমার ওপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা আমি সঠিকভাবে পালন করতে পারব।’
জ্যোতি বলেন, ‘অভিনয়টাই করব ভেবেছিলাম, কিন্তু মানসম্মত গল্প পাচ্ছিলাম না বলে অভিনয় কমিয়ে দিই। আর্থিক সংকটেও পড়ি। তারপর ভাবলাম, আপাতত কোনো একটা চাকরি করি। পাশাপাশি ভালো গল্পে অভিনয় করলাম। নিজে চলতে পারব আর অভিনয়েও আপস করা লাগবে না। শিল্পকলা একাডেমির চাকরিটা পেয়ে ভালোই হয়েছে। ছুটির দিনগুলোয় স্বচ্ছন্দে অভিনয় করতে পারব।’
২০০৪ সালে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জ্যোতিকা জ্যোতির বিনোদন দুনিয়ায় পথচলা শুরু। এরপর টিভি নাটক ও চলচ্চিত্র নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করা এই অভিনেত্রী।
তাঁর অভিনীত কয়েকটি চলচ্চিত্র হলো ‘আয়না, ‘নন্দিত নরকে’, ‘জীবনঢুলি’, ‘অনিল বাগচীর একদিন’, ‘মায়া: দ্য লস্ট মাদার’, ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’, ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ ইত্যাদি। বর্তমানে জ্যোতির হাতে আছে ‘অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া’, ‘অনাবৃত’ ও ‘আগুনপাখি’ চলচ্চিত্রের কাজ।
Source: প্রথম আলো
যে কারণে দ্বিধায় ছিলেন ‘সীতা রমম’ অভিনেত্রী
***********************************************************************
‘সীতা রমম’ ছবিতে সৌন্দর্য দিয়ে সবাইকে কুপোকাত করেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী ম্রুণাল ঠাকুর। এবার বন্দুক হাতে রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করতে আসছেন তিনি। ‘গুমরাহ’ ছবিতে ম্রুণালকে পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে দেখা যাবে। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে থ্রিলার ছবিটির ট্রেলার। তামিল ছবি ‘থাডম’-এর হিন্দি রিমেক এ ছবি।
সত্য ঘটনার আধারে নির্মাণ করা হয়েছে গুমরাহ। নিজের চেনা ইমেজ ভেঙে এই ছবিতে এক অন্য ম্রুণাল। আর এই চরিত্র রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
অভিনীত চরিত্রটি প্রসঙ্গে এই বলিউড অভিনেত্রী বলেছেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করা মানে একটা দায়িত্ববোধ চলে আসা। আর এই প্রথম আমি এমন এক চরিত্রে অভিনয় করছি, যা অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আর কঠিন। একজন পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকায় নিজেকে তুলে ধরা বেশ মুশকিলের কাজ ছিল। কিন্তু ছবিতে আমার চরিত্রটি যেভাবে লেখা হয়েছে, তা বেশ রোমাঞ্চকর। আমার এই চরিত্রের মধ্যে অনেকগুলো স্তর আছে। অনেক চড়াই-উতরাই আছে। আর বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল।’
চরিত্রটির প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ম্রুণাল বলেছেন, ‘পর্দায় পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে উঠতে আমাকে রীতিমতো বন্দুক চালানো শিখতে হয়েছে। নারী অভিনয়শিল্পীদের জন্য এখন নানান শক্তিশালী চরিত্র লেখা হচ্ছে। আর তার জন্য আমি লেখকদের কাছে কৃতজ্ঞ।’ ‘গুমরাহ’ ছবিতে নিজের চরিত্র নিয়ে একসময় রীতিমতো দ্বিধায় ছিলেন ম্রুণাল।
এ প্রসঙ্গ টেনে এই বলিউড কন্যা বলেছেন, ‘শুরুতে আমি বর্ধন (কেতকর)–এর কাছে গিয়ে বলতাম যে আমার মনে হয় না, আমি চরিত্রটি ঠিকঠাক করতে পারব। আমার দ্বারা এই ছবি করা সম্ভব নয় বলে পরিচালককে বলতাম। আর উনি বলতেন, আমি ঠিক করতে পারব। আসলে ওনার আমার ওপর ভরসা ছিল।’
‘গুমরাহ’ ছবিতে ম্রুণালের সঙ্গে মূল চরিত্রে দেখা যাবে বলিউড নায়ক আদিত্য রায় কাপুরকে। এই ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে আছেন আদিত্য। নিজের চরিত্রের প্রসঙ্গে এই বলিউড তারকা বলেছেন, ‘“গুমরাহ” ছবিতে আমাকে এমন চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা আমি আমার ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে দেখিনি।’
ভূষণ কুমারের টি-সিরিজ আর মুরাদ খেতানি প্রযোজিত ‘গুমরাহ’ ৭ এপ্রিল বড় পর্দায় মুক্তি পাবে।
Source: প্রথম আলো
৫ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতাকে কীভাবে ৬ ফুট ১ ইঞ্চি বানাবেন, জানালেন ফারিয়া
***********************************************************************
মূলত অভিনেত্রী হলেও কয়েক বছর ধরে নিয়মিত গান করে আসছেন নুসরাত ফারিয়া। গায়কির সঙ্গে মিউজিক ভিডিওতে গ্ল্যামারাস লুক প্রশংসিত হয়েছে ভক্ত, অনুসারীদের কাছে। ঈদে মুক্তি পাবে ফারিয়ার নতুন গান ‘বুঝি না তো তাই’। ইনস্টাগ্রামে গানটির একটি স্থিরচিত্র পোস্ট করে বিশেষ একটা বার্তা দিয়েছেন তিনি। যা নজর কেড়েছে ভক্তদের।
সমুদ্রের পাড়ে নীল পোশাকে শেয়ার করা ছবিটির ক্যাপশনে নুসরাত ফারিয়া লিখেছেন, ‘আমার উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি কিন্তু আমার ব্যক্তিত্ব ৬ ফিট ১ ইঞ্চি।’ ইনস্টাগ্রাম ছাড়াও নিজের অফিশিয়াল ফেসবুকেও একই ছবি ও ক্যাপশন পোস্ট করেছেন তিনি। সোমবার সকালে পোস্টটি করার পর ফেসবুকে ২০ হাজারের বেশি মানুষ ছবিটিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
ইতিবাচক-নেতিবাচক—দুই ধরনের মন্তব্য করেছেন অনুসারীরা। একজন লিখেছেন, ‘আপনার আত্মবিশ্বাস আমার পছন্দ হয়েছে।’
অনেকে আবার তাঁর পোশাক নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যও করেছেন। এর আগে দেওয়া পোস্টে নুসরাত ফারিয়া জানিয়েছেন, গানটি তৈরি করতে তাঁদের প্রায় দেড় বছর সময় লেগেছে।
গানটিতে নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে জুটি বেঁধে নতুন গান নিয়ে আসছেন ব্রিটিশ র্যাপার মুমজি স্ট্রেনজার। এরই মধ্যে মুক্তি পেয়েছে নতুন ‘বুঝি না তো তাই’ গানের ট্রেলার।
সামনে বাংলাদেশি এই অভিনেত্রীকে দেখা যাবে কলকাতার সিনেমা ‘আবার বিবাহ অভিযান’-এ। শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্ম প্রযোজিত ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী ৮ জুন।
আবার বিবাহ অভিযান’ ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া দর্শকপ্রিয় সিনেমা ‘বিবাহ অভিযান’-এর সিকুয়েল। এতে নুসরাত ফারিয়া ছাড়া আরও আছেন অঙ্কুশ হাজরা, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, রুদ্রনীল ঘোষ, সোহিনী সরকার, প্রিয়াঙ্কা সরকার প্রমুখ।
Source: প্রথম আলো
মামুনুর রশীদের মন্তব্য নিয়ে যা বললেন হিরো আলম
***********************************************************************
‘আমরা একটা রুচির দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়ে গেছি। সেখান থেকে হিরো আলমের মতো একটা লোকের উত্থান হয়েছে। যে উত্থান কুরুচি, কুশিক্ষা ও অপসংস্কৃতির উত্থান। এই উত্থান কীভাবে রোধ করা যাবে, এটা যেমন রাজনৈতিক সমস্যা, তেমনি আমাদের সাংস্কৃতিক সমস্যাও।’ সম্প্রতি অভিনয়শিল্পী সংঘের একটি অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ। এ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ইউটিউবার আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। তিনি বরেণ্য অভিনেতা মামুনুর রশীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাকে তৈরি করে দেখান। আর বারবার যদি হিরো আলমকে নিয়ে আপনাদের রুচিতে বাধে, তাহলে হিরো আলমকে মেরে ফেলেন।’
মামুনুর রশীদের বক্তব্য ধরে প্রথম আলো তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। গত রোববার প্রথম আলোকে মামুনুর রশীদ জানান, হিরো আলম সম্পর্কে আগে তিনি খুব একটা জানতেন না। তবে নাট্যাঙ্গনের কয়েকজন তাঁকে হিরো আলমের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন।
এর পর থেকেই হিরো আলমকে নিয়ে বিরক্ত ছিলেন তিনি। মামুনুর রশীদ বলেন, ‘কয়েকজন বলার পর খোঁজ নিয়ে দেখলাম, হিরো আলম যখন সংসদ নির্বাচন করছে, তাঁকে কেউ একজন একটা গাড়ি দিচ্ছে। সেই গাড়ির আবার ৯–১০ বছরের ফিটনেস নেই। এই হিরো আলম নিয়ে আমি অনেক দিনই বিরক্ত ছিলাম। বিরক্ত ছিলাম এই কারণেও, আমাদের দেশের মানুষের তো রুচির দুর্ভিক্ষ হয়ে গেছে।’
তাঁর বক্তব্যের এক দিন পর গতকাল সোমবার ফেসবুক লাইভে আসেন হিরো আলম। গতকাল রাত আটটার দিকে প্রথমে তিনি ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘গত রোববার একটি সাক্ষাৎকারে দেশের স্বনামধন্য নাট্যজন শ্রদ্ধেয় মামুনুর রশীদ স্যার আমাকে নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। আমি অতিক্ষুদ্র মানুষ। সততা ও সৎসাহসই আমার একমাত্র সম্বল। মামুনুর রশীদ স্যারের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রাত ১০টা ৩০ মিনিটে লাইভে কিছু কথা বলব। শাসন করা তাঁকেই মানায়, আদর করেন যিনি।’
এরপর রাতে তিনি লাইভে এসে বলেন, ‘আমি নিজ যোগ্যতায়, নিজে পরিশ্রম করে আজ আলম থেকে হিরো আলম। আমাকে নিয়ে যাঁদের রুচি হয় না, সেই রুচিবান লোকেরা হিরো আলমকে তৈরি করেননি। এ জন্য রুচিবানেরা বাংলাদেশে রুচি আনতে চাইলে হিরো আলমকে মেরে ফেলে দেন।’
হিরো আলম আরও বলেন, ‘আপনাদের টাকা আছে, শ্রম আছে, অনেক কিছুই আছে কিন্তু আপনারা হিরো আলমকে তৈরি করবেন না। তৈরি করতে পারবেনও না।’
মামুনুর রশীদের কাছে আহ্বান জানিয়ে হিরো আলম বলেন, ‘মামুনুর রশীদ স্যার, আসুন আমাকে তৈরি করুন। আমাকে তৈরি করতে এলে বাংলাদেশের বড় বড় লোক যাঁরা আছেন, তাঁরা সবাই আপনাকে ধুয়ে দেবেন। যে মামুনুর রশীদের মতো লোক হিরো আলমকে নিয়ে নাটক বানাচ্ছেন, সিনেমা বানাচ্ছেন। এমন হলে আমাকে তৈরি করবে কে? রুচির পরিবর্তন কোন জায়গা থেকে হবে?
রুচিবান লোক বাংলাদেশে কোনো দিনও হবে না। কারণ, যাঁরা রুচিবান লোক, তাঁরা রুচিদার লোক তৈরি করবেন না। কারণ, আপনারা তেলওয়ালা মাথায় তেল দেবেন, যাঁদের টাকা আছে, তাঁদের দাম দেবেন। যাঁদের চেহারা সুন্দর, তাঁদেরই মূল্য দেবেন’, যোগ করেন হিরো আলম। লাইভে আত্মহত্যারও হুমকি দিয়েছেন ইউটিউবার হিরো আলম। তাঁর ভাষায়, ‘আমি কী অন্যায় করেছি। কেন আমার সবকিছু নিয়ে মানুষ টর্চার করে। এই সমাজ কেন আমাকে রুচিসম্মত লোক বানাতে পারল না। আপনাদের যদি এতই রুচিতে বাধে, তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে বলে আমাকে দেশ থেকে বের করে দেন, না হলে জেলখানায় বন্দী করে রাখুন। অন্যথায় লাইভে এসে আত্মহত্যা করে দেশটাকে রেহাই দিয়ে যাব।’
হিরো আলম বলেন, ‘আমি মরে গেলে দেশের রুচিসম্মত লোক দায়ী থাকবেন। রুচি কী বুঝায়—আমি বুঝি না। আমি তো রুচি নিয়ে দুনিয়াতে আসি নাই।’ মামুনুর রশীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন হিরো আলম বলেন, ‘আমার সৌভাগ্য আপনার মতো লোকেরা আমাকে চেনেন।’
Source: প্রথম আলো