তারিণীখুড়োকে ঘিরে আমরা পাঁচ বন্ধু বসেছি, বাদলা দিন, সন্ধে হব-হব, খুড়োর চা খাওয়া হয়ে গেছে। এবার বিড়ি ধরিয়ে হয়তো গল্প শুরু করবেন। খুড়ো এলে সন্ধেতেই আসেন, আর এলেই একটি করে গল্প লাভ হয় আমাদের। সবই খুডোর জীবনেরই ঘটনা, কিন্তু সে ঘটনা গল্পের চেয়েও মজাদার। একজন লোকের এতরকম অভিজ্ঞতা হতে পারে সেটা আমার ধারণা ছিল না।
https://www.golperasor.com/202....2/09/blog-post_05.ht
স্মার্টফোনে বিজয় বাংলা ব্যবহারের নির্দেশনা প্রত্যাহার করতে বিটিআরসিকে আইনি নোটিশ
***********************************************************************
আমদানি এবং দেশে উৎপাদিত অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে বিজয় বাংলা অ্যাপ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক বলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নির্দেশনা প্রত্যাহার করার জন্য আজ সংশ্লিষ্টদের একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এই আইনি নোটিশ পাঠান।
যাঁদের এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তাঁরা হলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান এবং বিটিআরসির স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে বিজয় বাংলা কি–বোর্ড অ্যাপ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক বলে বিটিআরসি যে নির্দেশনা দিয়েছে, তা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছারি (আরবিট্রারি) এবং বিটিআরসি এ ধরনের নির্দশনা দেওয়ার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত নয়।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ফোনে অ্যাপটির ইনস্টলেশন বিনা মূল্যের হলেও, এটি গুগলের মাধ্যমে করতে হয়, যা প্রকৃতপক্ষে বিনা মূল্যের নয়। বিটিআরসির নোটিশের মাধ্যমে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এটি প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২–এর লঙ্ঘন এবং একই আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে বিটিআরসি ১৩ জানুয়ারি দেওয়া এই নির্দেশনা প্রত্যাহার করে না নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ইশরাত হাসান স্বাক্ষরিত আইনি নোটিশে বলা হয়েছে।
ইশরাত হাসান আজ ই–মেইলে চারজনকে আইনি নোটিশটি পাঠিয়েছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে তাঁদের ঠিকানায় এই নোটিশ পাঠানো হবে বলে তিনি প্রথম আলোকে জানান।
ইশরাত হাসান বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তৈরি কোনো একটি অ্যাপের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার এখতিয়ার কারওর নেই। এটা ভোক্তাদের জন্য ক্ষতিকর। এ জন্য সংক্ষুব্ধ নাগরিক মহিউদ্দিন আহমেদের পক্ষে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি। নোটিশের জবাবের ওপর নির্ভর করে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।
মহিউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এই আইনি নোটিশ পাওয়ার পরও যদি বিটিআরসি এই নির্দেশনা প্রত্যাহার না করে, তবে আমরা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করব।
প্রসঙ্গত, ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেমের সব অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোনে বাধ্যতামূলকভাবে বিজয় কি–বোর্ড অ্যাপ ব্যবহার করার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বিজয় ‘এপিকে’ (কার্যত মোবাইল অ্যাপ) ছাড়া কোনো ধরনের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন দেশে বাজারজাত করতে দেওয়া হবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিটিআরসি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন থাকা একটি সংস্থা। আর ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এই বিজয় বাংলা কি–বোর্ড ও সফটওয়্যারের নির্মাতা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত আনন্দ কম্পিউটার্স বিজয় কি-বোর্ড সরবরাহ করে। আনন্দ কম্পিউটার্সের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, এটির মেধাস্বত্ব মোস্তাফা জব্বারের নামে। বিটিআরসির এই নির্দেশনা দেওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা–সমালোচনা চলছে।
Source: প্রথম আলো
ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং হ্যাকাথনে সেরা বুয়েট
***********************************************************************
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (এনএলপি) হ্যাকাথনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘বুয়েট সিমান্টিক সেনানিগান্স’। দলের সদস্যরা হলেন মো. যারিফ উল আলম, রামিশা আলম ও সামীন সাহগীর। প্রথম রানার্সআপ হয়েছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দল লিঙ্গুয়েস্টিক ম্যাভরিক্স। দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দল রিটার্ন জিরো।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের আওতাধীন ‘গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ’ প্রকল্প এবং বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ২১ জানুয়ারি শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতা চলে টানা ৩৬ ঘণ্টা। রোববার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এক অনুষ্ঠানের বিজয়ী দলগুলোকে সনদ এবং মোট এক লাখ টাকার পুরস্কার দেওয়া হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের শুরুতেই যেসব প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সেগুলোর মধ্যে মেশিন লার্নিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপ লার্নিং ও ব্লক চেইন অন্যতম। আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর যন্ত্রকে কাজের নির্দেশনা দেওয়া হয় ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং বা এনএলপির মাধ্যমে। ফলে এ প্রযুক্তি আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কম্পিউটার সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মমলুক ছাবির আহমেদ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. নাবিল মোহাম্মেদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রিফাত শাহরিয়ার, বিডিওএসএনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
Source: প্রথম আলো
পাঁচ বছরের মধ্যে ২০ শতাংশ চাকরি এআইয়ের দখলে যাবে
***********************************************************************
গত বছরের শেষ দিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’ ছাড়া হয়। এর মধ্য দিয়ে এআই প্রযুক্তির নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। চ্যাটজিপিটি আসার পর থেকে চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে যে ভবিষ্যতে চাকরিতে মানুষের জায়গা দখলে নেবে এআই প্রযুক্তি।
এই প্রযুক্তি কবিতা, চিত্রনাট্যও পরীক্ষা করতে পারে। কম্পিউটারের সঙ্গে মানুষ যেভাবে যোগাযোগ করে তার পুরোটাই অনুকরণ করতে পারে। ক্রেতাকে সেবা দেওয়া, কপিরাইট, এমনকি আইনি সেবা দেওয়ার চাকরির ক্ষেত্রগুলোতে খুব দ্রুতই মানুষের স্থান এআই প্রযুক্তি দখলে নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মাইক্রোসফট চ্যাটজিপিটিতে এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কম্পিউটারের সঙ্গে মানুষ এখন যেভাবে যোগাযোগ করে তা পুরোপুরি বদলে দেবে এই প্রযুক্তি।
এআই প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ ও আলটিমার সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রধান রিচার্ড ডিভের ডেইলি মেইলকে বলেন, ‘কর্মশক্তির ২০ শতাংশ চ্যাটজিপিটি দখলে নিতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি। চ্যাটজিপিটি কোনো পাগলামি নয়। এটি প্রযুক্তির নতুন বিপ্লব। রোবট স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার কাজের জন্য আসছে না। তবে একজন মানুষ রোবট সঙ্গে নিয়ে তা করবে।’
ডিভের বলেন, মানুষের জায়গা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাতারাতি রোবটের দখলে চলে যাবে না। প্রথম ধাক্কাটা কম অভিজ্ঞ মানুষদের দেবে—যাঁরা দৈনন্দিন কাজকর্মে এআই প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছেন।
জাউন্স এআইয়ের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ‘মানুষের’ কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে—এমন এআই সমাধানের প্রস্তাব দিচ্ছে। জাউন্স বিনা মূল্যে আনলিমিটেড এআই কপিরাইটের প্রতিশ্রুতিও দেয়।
আর ডুনটপে সংস্থাটি গতি সীমা লঙ্ঘনকারী চালকদের জরিমানা থেকে বাঁচাতে আদালতে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছে। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যে লিখিত পরীক্ষা সফলভাবে শেষ করে চাকরির এক সাক্ষাৎকারে সংক্ষিপ্ত তালিকায় চ্যাটজিপিটি স্থান করে নিয়েছে।
এ ছাড়া আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টুইগ তাদের কিছু কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছে। তারা বিপণন, অর্থ ও ব্যবসার অন্যান্য কাজেও এআই ব্যবহার করছে।
ডিভের জানিয়েছেন, তিনি বেশ কয়েকজনকে চেনেন, যাঁরা তাঁদের চাকরিতে ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। তিনি সতর্ক করেন, ‘আমরা শুধু একটি এআই বিপ্লবের শুরুতে আছি। চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের সম্ভাবনা অন্তহীন।’
তবে ডিভের এও বলেছেন, আপাতত সৃজনশীল পেশার মানুষজন তাঁদের চাকরি নিয়ে নিরাপদ থাকা উচিত। উদ্বিগ্ন না হয়ে সৃজনশীল পেশাদারদের প্রযুক্তিটি গ্রহণ করা উচিত এবং নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এটি ব্যবহার করা উচিত।
সূত্র: ডেইলি মেইল
Source: প্রথম আলো
কোন বয়সে শিশুর হাতে স্মার্টফোন দেবেন
***********************************************************************
গত দুই দশকে ইন্টারনেট মানুষের হাতের নাগালে চলে এসেছে। ডায়াল-আপ (ল্যান্ডফোনের সংযোগনির্ভর) থেকে তারহীন ওয়াই-ফাই, থ্রি-জি থেকে ফাইভ-জি নেটওয়ার্কে বিবর্তন—সবকিছুই ইন্টারনেট ব্যবহারকে সহজ করেছে। তবে সবচেয়ে বড় বিপ্লব সম্ভবত স্মার্টফোনের বিস্তার।
২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ৬৮০ কোটি মানুষের একটি করে স্মার্টফোন আছে। বর্তমানে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা ৮০০ কোটির কিছু বেশি। তাই স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে একটা অংশ যে শিশু, তা খুব সহজে বলা যায়।
শিশুদের হাতে স্মার্টফোন দেওয়ার ভালো বা মন্দ প্রভাব নয়, সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা কথা বলেছেন কখন শিশুর হাতে স্মার্টফোন দেওয়া উচিত, তা নিয়ে। যুক্তরাজ্যের বিদ্যালয়গুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফস্টেডের প্রধান পরিদর্শক আমান্ডা স্পিলম্যানের পরামর্শ, অল্প বয়সী বাচ্চাদের অবাধে ইন্টারনেট-সুবিধা ও স্মার্টফোন দেওয়া উচিত নয়।
চলতি সপ্তাহে বিবিসি রেডিও-৫ সরাসরি এক অনুষ্ঠানে আমান্ডা স্পিলম্যান বলেন, ‘আমি ছোট শিশুদের অবাধে ইন্টারনেট দেওয়ার বিরোধী। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের কাছে স্মার্টফোন দেখলে অবাক হই। এমনকি মাধ্যমিক শুরু করা শিশুদের কাছে দেখলেও। এটা মেনে নেওয়া যায় না। শিশুরা যাতে এসব অবাঞ্ছিত বিষয় এড়াতে পারে, সে জন্য বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের ভূমিকা রাখতে বলেছেন তিনি।
পূর্বে চালানো বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, স্মার্টফোনের পর্দায় বেশি সময় কাটানোয় শিশুরা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা—যেমন চোখ, মানসিক চাপ, নিদ্রাহীনতা ও মেধা বিকাশের সমস্যায় পড়ে। ফোন নিয়ে বসে থাকলে শারীরিক কার্যক্রম কমে যায়। এতে স্থূলতা, আত্মসম্মান বোধ কমে যাওয়া ও মানুষের সঙ্গে মিশতে অসুবিধা হয় শিশুদের। স্মার্টফোনে সময় কাটানোর ফলে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে ও সামাজিক ভাব বিনিময়ে তারা সময় পায় না।
সান ডিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা যায়, স্মার্টফোনে সময় কাটানো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। শুধু তা-ই নয়, দিনে মাত্র এক ঘণ্টা পর্দায় কাটানোই দুই বছরের কম বয়সী শিশুকে উদ্বিগ্ন বা বিষণ্ন করে তোলায় যথেষ্ট হতে পারে।
গত বছর আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০ বছর আগের তুলনায় এখনকার কিশোর-কিশোরীরা নিঃসঙ্গতায় বেশি ভোগে। কারণ, তারা স্মার্টফোনে মগ্ন থেকে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের অপর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব শিশু স্মার্টফোনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে, তাদের মস্তিষ্কের গঠনও আলাদা হয়।
গত নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের শিশু অধিকার কমিশনের প্রধান ডেম রাচেল ডি সুজা বলেছেন, শিশুদের স্মার্টফোন কিনে দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করা উচিত। মা-বাবাকে সন্তানদের সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশের বিষয়টি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
২০১৭ সালে মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠা বিল গেটস জানান, বয়স ১৪ বছর হওয়ার আগে তিনি সন্তানদের স্মার্টফোন দেননি। প্রযুক্তি বিপ্লবের অগ্রনায়ক হওয়া সত্ত্বেও তিনি এখনো মনে করেন, শিশুদের ক্ষেত্রে সীমারেখা প্রয়োজন। আর রয়্যাল কলেজ অব সাইকোলজিস্টের ভাইস চেয়ারম্যান জন গোল্ডিন মনে করেন, ১১ বছরে যখন শিশুরা মাধ্যমিকে ভর্তি হয়, তখন তাদের স্মার্টফোন দেওয়া উচিত।
অবশ্য উল্টো কথাও বলছেন কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ। স্মার্টফোন প্রকৃতই শিশুদের জন্য ক্ষতিকর বলে তারা মনে করেন না। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার ডিউক ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা বলছেন, যেসব কিশোর-কিশোরীরা বাস্তবে মিশুক অনলাইনেও তারা সম্পর্কের উন্নয়ন করতে পারে।
গত বছর স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যে বয়সে বাচ্চারা স্মার্টফোন পায়, তার সঙ্গে তাদের সুস্থতার কোনো সম্পর্ক নেই। ২০১৯ সালে ইউনিসেফের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব শিশু ইন্টারনেট ব্যবহার করে, তাদের ডিজিটাল দক্ষতা বেশি এবং অনলাইনে শিক্ষা গ্রহণে তারা এগিয়ে।
গবেষণাটির দলনেতা ড্যানিয়েল কার্ডেফেল্ট-উইন্থার বলেছেন, মা-বাবা যদি খুব কঠোর হন, তবে তা হয়তো তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য অপ্রস্তুত করে তুলতে পারে। আবার কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলছেন, বয়স নয়, পরিপক্বতা বিবেচনায় স্মার্টফোন দেওয়ার বিষয়টি আসবে। আর ব্যক্তিভেদে পরিপক্বতার বয়সও ভিন্ন হয়।
সূত্র: ডেইলি মেইল
Source: প্রথম আলো
ওয়াই-ফাইয়ের গতি ৫০ শতাংশ বাড়বে এই ৫ উপায়ে
***********************************************************************
ভিডিও কলে জরুরি মিটিং চলাকালে ওয়াই-ফাই সংযোগের ধীরগতির কারণে সমস্যায় পড়েন অনেকেই। শুধু ভিডিও কলই নয়, ধীরগতির ওয়াই–ফাইয়ের কারণে অনলাইনে বিভিন্ন কাজ করতেও সমস্যা হয়। এই পাঁচ কৌশল ব্যবহার করে চাইলেই ওয়াই-ফাইয়ের গতি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যায়।
চ্যানেল পরিবর্তন
রাউটার মূলত চ্যানেল বা ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে সংকেত পাঠায়। এই চ্যানেলের কারণেও অনেক সময় রাউটারের গতি কমে যেতে পারে। বিশেষ করে আপনি যে ভবনে থাকেন, সেখানে আরও অনেকেই আলাদা ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারেন। এখন তাঁদের ব্যবহার করা রাউটারও যদি একই চ্যানেল বা ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করেন, তবে আপনার ওয়াই-ফাইয়ের গতি কমে যাবে। এ সমস্যা সমাধানে রাউটারের চ্যানেল পরিবর্তন করতে হবে।
মেঝে থেকে ওপরে ও খোলা জায়গায় রাউটার রাখতে হবে
অনেকেই টেবিলের ওপরে রাউটার রাখেন। ফলে আশপাশে ভারী বস্তু বা আসবাব থাকার কারণে ওয়াই-ফাইয়ের সিগন্যালের গতি কমে যায়। এ সমস্যা সমাধানে ঘরের মাঝামাঝি স্থানে মেঝে থেকে ওপরের দিকে রাউটার রাখতে হবে। এতে ঘরের সব দিকে সমানভাবে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল পাওয়া যাবে। জানালার পাশে রাউটার রাখা যাবে না। এতে রাউটারের সিগন্যাল ঘরের বাইরে পাওয়া গেলেও ভেতরে ঠিকমতো পাওয়া যাবে না।
ইথারনেট কেব্ল ব্যবহার
নির্দিষ্ট কোনো যন্ত্রে যদি ওয়াই-ফাই সিগন্যালের গতি কম পাওয়া যায়, তবে সেই যন্ত্রের ওয়্যারলেস রিসিভার অপশনেও সমস্যা থাকতে পারে। অনেক সময় একই রাউটারে বেশিসংখ্যক যন্ত্র যুক্ত থাকলে ওয়াই-ফাইয়ের গতি কমে যায়। ইথারনেট কেব্লের মাধ্যমে রাউটারের সঙ্গে যন্ত্র যুক্ত করে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
রাউটারের অ্যানটেনার অবস্থান পরিবর্তন
রাউটারে থাকা অ্যানটেনাগুলো ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে সাহায্য করে। অনেকে রাউটারের অ্যানটেনাগুলো এলোমেলোভাবে ব্যবহার করেন। মনে রাখতে হবে, প্রতিটি অ্যানটেনাই ৯০ ডিগ্রি কোণে আলাদাভাবে সিগন্যাল পাঠিয়ে থাকে। আর তাই আপনি যদি একতলা ভবনে থাকেন, তবে অ্যানটেনাগুলো উল্লম্বভাবে রাখুন। আর যদি বহুতল ভবনে থাকেন, তবে অ্যানটেনাগুলো উল্লম্ব ও অনুভূমিক দুভাবেই রাখতে হবে।
ওয়াই-ফাইয়ের পরিসর বাড়ানো
বাসা বা অফিসের আকার বড় হলে একটি রাউটার দিয়ে সব স্থানে সমান গতির সিগন্যাল পাওয়া যায় না। এ ছাড়া একাধিক দেয়ালের কারণেও ওয়াই-ফাইয়ের গতি কমে যায়। এ সমস্যা সমাধানে রেঞ্জ এক্সটেন্ডার বা মেশ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে হবে। এক্সটেন্ডারগুলো মূলত রাউটার থেকে সিগন্যাল গ্রহণ করে আবার পাঠিয়ে থাকে। এরপরও সমস্যার সমাধান না হলে রাউটার হালনাগাদ বা পরিবর্তন করতে হবে।
সূত্র: ডেইলি মেইল
Source: প্রথম আলো
Install app for better experience