ঢালিউডে নতুন হাওয়া
***********************************************************************
কেউ আশাবাদী ছিলেন, কেউ ছিলেন সংশয়ে। করোনা–পরবর্তী এই সময়ে ছবি মুক্তি দিলে কী হবে, দর্শক আদৌ প্রেক্ষাগৃহে আসবেন কি না, এমন নানা দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যেই ছিটমহল দিয়ে নতুন বছরের খাতা খোলে ঢালিউড। ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়লেও ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২’ প্রেক্ষাগৃহে কিছুটা দর্শক ফেরায়। এরপর ঈদুল ফিতরের আগপর্যন্ত আরও আধা ডজন ছবি মুক্তি পেলেও কোনোটাই দর্শক টানতে পারেনি। তবে ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘গলুই’, ‘শান’ ও ‘বিদ্রোহী’ দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় ঢালিউড। তারপর তিন মাস আবার দর্শক–খরায় ভোগে দেশের বিভিন্ন ছবিঘর।
বছরের মাঝামাঝি এসে বদলে যায় চিত্র। ঈদুল আজহায় ছন্দে ফেরে ঢালিউড। ‘সাইকো’, ‘পরাণ’ ও ‘দিন: দ্য ডে’ একসঙ্গে মুক্তি পেলেও দ্বিতীয় সপ্তাহে ‘পরাণ’ সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে সাড়া ফেলে। ঠিক তিন সপ্তাহ পর মুক্তি পাওয়া ‘হাওয়া’ যেন নতুন হাওয়া বইয়ে দেয় ঢালিউডে।
ছবি দুটি ঢাকা ও ঢাকার বাইরে প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তোলে। প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ভিড় বাড়তে থাকে। একটা পর্যায়ে দর্শককে টিকিটের জন্য হাহাকার করতেও দেখা গেছে। নিয়মিত দর্শকের পাশাপাশি ছবি দুটি দেখতে নতুন দর্শকও ভিড় করেন। যাঁদের কেউ এক দশক, কেউবা দুই দশক পর পরিবার নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে ছবি দেখতে এসছিলেন। এমনকি দেশের বাইরে ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া থেকেও ভালো আয় করে ছবি দুটি। মুক্তির প্রায় ছয় মাস পার হতে চলল, এখনো দেশের বেশ কয়েকটি হলে চলছে পরাণ। সম্প্রতি ভারতে মুক্তি পেয়েছে হাওয়া। তাই তো অনেকের মতে, এটি ছিল চলচ্চিত্রের জন্য ইতিবাচক বছর।
২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের প্রেক্ষাগৃহে ৪৮টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর ‘মেঘ রোদ্দুর খেলা’ ও ‘বীরাঙ্গনা ৭১’ নামে দুটি ছবি মুক্তির কথা রয়েছে। সে হিসাবে এ বছর মুক্তি পাওয়া ছবির সংখ্যা হবে ৫০। প্রযোজক পরিবেশক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে ‘ছিটমহল’, ‘তোর মাঝেই আমার প্রেম’, ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২’, ‘মাফিয়া ১’, ‘মুখোশ’, ‘শিমু: মেইড ইন বাংলাদেশ’, ‘গুণিন’, ‘লকডাউন লাভ স্টোরি’, ‘জাল ছেঁড়ার সময়’, ‘গলুই’, ‘শান’, ‘বিদ্রোহী’, ‘বড্ড ভালোবাসি’, ‘পাপ পুণ্য’, ‘আগামীকাল’, ‘বিক্ষোভ’, ‘তালাশ’, ‘অমানুষ’, ‘পরাণ’, ‘দিন: দ্য ডে’, ‘সাইকো’, ‘কার্নিশ’, ‘যা হারিয়ে যায়’, ‘হাওয়া’, ‘আশীর্বাদ’, ‘ভাইয়ারে’, ‘লাইভ’, ‘বীরত্ব’, ‘অপারেশন সুন্দরবন’, ‘বিউটি সার্কাস’, ‘ঈশা খাঁ’, ‘হৃদিতা’, ‘যাও পাখি বলো তারে’, ‘রাগী’, ‘জীবন পাখি’, ‘বসন্ত বিকেল’, ‘রোহিঙ্গা, ‘দামাল’, ‘কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া’, ‘দেশান্তর’, ‘ভাঙন’, ‘মেইড ইন চিটাগং’, ‘ও মাই লাভ’, ‘হডসনের বন্দুক’, ‘জয় বাংলা’, ‘৭১ এর একখণ্ড ইতিহাস’, ‘পায়ের ছাপ’ ও ‘কাগজ’।
‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’র আয় নিকট অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এ বছর মুক্তি পাওয়া একাধিক ছবি দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশ থেকে রেকর্ড আয় করেছে। এ ছাড়া এ বছর মুক্তি পাওয়া ‘গলুই’, ‘শান’, ‘পাপ পুণ্য’, ‘গুণিন’, ‘দামাল’, ‘দেশান্তর’, ‘পায়ের ছাপ’, ‘বিউটি সার্কাস’, ‘অপারেশন সুন্দরবন’, ‘বীরত্ব’, ‘মুখোশ’সহ ডজনখানেক ছবি দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। স্পনসর, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, টিভি স্বত্ব, ডিজিটাল স্বত্ব বিক্রি এবং দেশের বাইরে মুক্তি দিয়ে এসব ছবির বিনিয়োগ উঠে এসেছে। কেউ কেউ লাভ করেছেন বলেও জানালেন সংশ্লিষ্ট ছবির প্রযোজক ও পরিচালকেরা। পাশাপাশি কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া, পায়ের ছাপসহ কয়েকটি ছবি দেশের বাইরে বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসব থেকে পুরস্কারও জিতেছে।
সব মিলিয়ে বছরটিকে সিনেমার জন্য সম্ভাবনাময় মনে করছেন নির্মাতা কাজী হায়াৎ। তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে, গত বছর (২০২১ সাল) ১৯টি ছবি মুক্তি পায়। এবার হচ্ছে ৫০টি। এর মধ্য দুটি ছবি তো দারুণ ব্যবসা করেছে। সাত-আটটি ছবি প্রেক্ষাগৃহে চালানোর পর নানা মাধ্যমে স্বত্ব বিক্রি করে কিছুটা লাভও করেছে। অনেক দিন পর এ অবস্থাকে সিনেমার জন্য সম্ভাবনাই বলতে চাই।’
চলতি বছরটি ঢালিউডের জন্য আশীর্বাদ বলে মনে করেন পরাণ ছবির পরিচালক রায়হান রাফি। তাঁর ভাষ্য, ‘অনেক বছর পর বলতে পারি, বছরটি দেশের চলচ্চিত্রের জন্য শুভ। এখন নতুন করে বড় বড় প্রতিষ্ঠান সিনেমা বানানোর আগ্রহ দেখাচ্ছে, সিনেপ্লেক্সও শাখা বাড়াচ্ছে। বছরে যদি আমরা ৮-১০টি সিনেমা দিতে পারি, তাহলে আমাদের সিনেমার সোনালি দিন ফিরতে সময় লাগবে না।’
হাওয়ার পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন মনে করেন, ‘চলতি বছর বাংলা সিনেমা দেশের গণমানুষের কাছে পৌঁছে গেছে, দেশের বাইরেও বাংলাভাষী মানুষ দল বেঁধে আমাদের সিনেমা দেখেছেন, এটি খুব ভালো দিক। আনন্দেরও।’ তিনি বললেন, ‘খেলাধুলা, রাজনীতিসহ নানা বিষয় গণমানুষের আলোচনায় থাকে। কিন্তু সিনেমা বহু বছর গণমানুষের আলোচনা ছিল না, যেটি চলতি বছর হয়েছে। এ আলোচনা বাংলা সিনেমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর গণমানুষ যেটি নিয়ে আলোচনা করে, সেটি শিল্প হিসেবে দাঁড়াতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
হাওয়া ছবিতে চান মিয়া মাঝির চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী। তিনি বছরটিকে বাংলা সিনেমার ঘুরে দাঁড়ানোর বছর মনে করলেও ছবির সংখ্যার চেয়ে মানের দিকে জোর দেওয়া জরুরি মনে করছেন। চঞ্চল বলেন, ‘বর্তমান সময়ে এসে ধারাবাহিকভাবে ভালো সিনেমা নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই। এক যুগ আগে মনপুরা যেমন হিট হয়েছিল, মাঝে সে রকম হিট সিনেমা আমরা দিতে পারিনি। এখন থেকে যেন হাওয়া, পরাণ-এর মতো দর্শক আলোচিত ৮-১০টি ছবি দর্শককে উপহার দিতে পারি, তা মাথায় রাখতে হবে। তাহলে সিনেমার ঘুরে দাঁড়ানোর বছর সার্থক হবে।’
Source: প্রথম আলো
সিনেমার গানে বাজিমাত, জমজমাট কনসার্ট
***********************************************************************
২০২২ সালের সেরা গান কোনটি? জনপ্রিয়তার নিরিখে চোখ বন্ধ করে বেছে নিতে পারেন ‘সাদা সাদা কালা কালা’। গত এক দশকে কোনো বাংলা সিনেমার গান নিয়ে শ্রোতাদের মধ্যে এমন উন্মাদনা দেখা যায়নি। হাওয়া সিনেমার মুক্তির আগেই জুলাইয়ে গানটি প্রকাশ্যে আসে; সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়ে যায়।
কে মজেনি এই গানে? ঢাকা থেকে টেকনাফ কিংবা তেঁতুলিয়া; নির্মাতা থেকে অভিনয়শিল্পী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে দিনমজুর—সব শ্রেণির দেয়াল ভেঙে মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে গানটি। এখনো বন্ধুদের সঙ্গে ঘরোয়া আড্ডায় কিংবা দূরের যাত্রাপথে সঙ্গী এ গান। টিকটকে তরুণ–তরুণীদের মধ্যেও গানটি আলাদা মনোযোগ কেড়েছে। এখন পর্যন্ত শুধু ইউটিউবেই গানটির ‘ভিউ’ হয়েছে সাড়ে ছয় কোটির বেশি।
নির্মাতা মেজবাউর রহমান পরিচালিত হাওয়া সিনেমায় ব্যবহৃত গানটি লিখেছেন শিল্পী হাশিম মাহমুদ। গানটি নব্বইয়ের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় নিয়মিত পরিবেশন করতেন তিনি। গানের সুরও বেঁধেছেন তিনি। তাঁর কণ্ঠেই গানটি সিনেমায় ব্যবহারের কথা থাকলেও তাঁর অসুস্থতার কারণে সম্ভবপর হয়নি; গানটিতে কণ্ঠ দেন এরফান মৃধা। গানের সংগীতায়োজন করেছেন ইমন চৌধুরী। বাংলাদেশের বাইরে পশ্চিমবঙ্গেও গানটি তুমুল আলোচিত হয়েছে; কলকাতায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসবে হাওয়া প্রদর্শনের সময় ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গানে মুখর হয়েছিল কলকাতার নন্দন চত্বর।
বছরের সেরা পাঁচটি সিনেমার গানের তালিকা করলে ‘সাদা সাদা কালা কালা’র পরপরই থাকবে চরকির ওয়েব সিনেমা দুই দিনের দুনিয়ার ‘ট্যাকা পাখি’, পরাণ সিনেমার ‘চলো নিরালায়’ ও হাওয়া সিনেমার আরেক গান ‘আটটা বাজে দেরি করিস না’।
তরুণদের মধ্যে তুমুল সাড়া ফেলা ‘ট্যাকা পাখি’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তরুণ শিল্পী মাশা ইসলাম; কথা লিখেছেন সিনেমাটির নির্মাতা অনম বিশ্বাস। সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন ইমন চৌধুরী। জনি হকের কথায় নাভেদ পারভেজের সুর ও সংগীতে ‘চলো নিরালায়’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন অয়ন চাকলাদার ও আতিয়া আনিসা।
ইমন চৌধুরীর সংগীতায়োজনে ‘আটটা বাজে দেরি করিস না’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন বাসুদেব দাস বাউল। গানটির কথা ও সুর সংগৃহীত। সুর ও সংগীতায়োজনে এই বছরের শীর্ষে থাকবেন ইমন চৌধুরী; বছরের আরেক শ্রোতাপ্রিয় গান ‘ঘোমটা খুলে বদন তুলে’–রও সুর তুলেছেন ইমন চৌধুরী। চরকির গুণিন সিনেমার গানটি গেয়েছেন কাজল দেওয়ান ও আলেয়া বেগম।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত মেইড ইন চিটাগং সিনেমায় পার্থ বড়ুয়া ও নিশিতা বড়ুয়ার গাওয়া ‘ফেট ফুরেদ্দে তোঁয়াল্যাই’ গানটি বেশ আলোচিত হয়েছে। গানটির কথা ও সুর করেছেন প্রয়াত শিল্পী আমানউল্লাহ গায়েন।
এ ছাড়া শান সিনেমায় ‘চলো পাখি হই’, দামাল সিনেমার ‘ঘুর ঘুর পোকা’, অপারেশন সুন্দরবন সিনেমার ‘তোর হাওয়াতে চলে যে ডানা’ ও ওয়েব সিনেমা মায়ালশালিক–এর ‘বলা হয় না’ শ্রোতামহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
Source: প্রথম আলো
One of the principal features in Animal Crossing: New Horizons is crafting, and there are quite a few resources you could use to DIY.
https://www.lolga.com/
রাজের বাসা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে বেরিয়ে এসেছি, বললেন পরীমনি
***********************************************************************
বিয়ের এক বছর না ঘুরতেই ঢাকাই ছবির আলোচিত নায়িকা পরীমনির সঙ্গে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় নায়ক শরীফুল রাজের বিচ্ছেদের ইঙ্গিত পাওয়া গেল। আর সেই ইঙ্গিত দিলেন পরীমনি নিজেই।
গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ফেসবুকে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে দেওয়া পরীমনির এক স্ট্যাটাসে তেমনটাই আভাস পাওয়া গেছে। তবে স্ট্যাটাসে রাজের সঙ্গে পরীমনির বিচ্ছেদের ব্যাপারটি স্পষ্ট নয়। জানা গেছে, তার আগে রাত সাড়ে আটটার দিকে সন্তান রাজ্যকে সঙ্গে নিয়ে রাজের বাসা থেকে বের হয়ে গেছেন পরীমনি।
পোস্টে পরীমনি একাংশে লিখেছেন, ‘হ্যাপি থার্টি ফার্স্ট এভরিওয়ান! আমি আজ রাজকে আমার জীবন থেকে ছুটি দিয়ে দিলাম এবং নিজেকেও মুক্ত করলাম একটা অসুস্থ সম্পর্ক থেকে।’
আরেক অংশে লিখেছেন, ‘জীবনে সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার থেকে জরুরি আর কিছুই নাই।
তবে স্ট্যাটাসে রাজের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়টি স্পষ্ট করেননি পরীমনি।
স্ট্যাটাসের বিষয় সস্পর্কে জানার জন্য পরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে রাজের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা স্বীকার করেন পরীমনি। তবে এ ব্যাপারে বেশি কথা বলতে চাননি অভিনেত্রী। পরীমনি বলেন, ‘এখনো বিচ্ছেদ হয়নি। তবে আমি সম্পর্ক ছিন্ন করে রাজের বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছি। আজ থেকে আমরা আলাদা হয়ে গেলাম। শিগগির বিচ্ছেদের চিঠি পাঠিয়ে দেব।’
আলাদা হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তাঁর আরও বক্তব্য, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই সমস্যা হচ্ছিল। সমস্যা কাটিয়ে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে একসঙ্গে থাকার চেষ্টা করেছি, পারলাম না। তাঁর আচার-আচরণ একসঙ্গে থাকার পরিস্থিতি নাই। তাই বাধ্য হয়ে বাসা ছেড়ে আলাদা হয়ে গেলাম। আমার মনমানসিকতা এখন ভালো নাই, এর বেশি আর কিছু বলতে পারছি না।’
রাজ-পরীর ঘরে রাজ্য নামের এক ছেলেসন্তান আছে। তার বয়স চার মাস পার হচ্ছে। এদিকে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি প্রকাশ্যে আসে রাজ-পরীর সম্পর্কের খবর। গত ২২ জানুয়ারি দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ১০১ টাকার দেনমোহরে ঘরোয়া আয়োজনে তাঁদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। ২১ জানুয়ারি হয় তাঁদের গায়েহলুদের অনুষ্ঠান।
Source: প্রথম আলো
ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আগ্রহ বাড়ছে, প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে প্রচারণা কম
***********************************************************************
মানুষ এখন চলচ্চিত্রে গল্প শুনতে চায়। কোন অভিনেতা-অভিনেত্রী সে চলচ্চিত্রে আছেন, তা মুখ্য নয়। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক সমৃদ্ধ সংস্কৃতি আছে, যা বংশপরম্পরায় শত বছর ধরে ঐতিহ্য বহন করে আছে। সেসব গল্প তুলে আনতে হলে প্রয়োজন প্রতিবন্ধকতাহীন চলচ্চিত্রশিল্প। কোনো বিধিনিষেধ দিয়ে সেই ঐতিহ্য আটকে রাখা উচিত নয়। অন্যদিকে যে তথ্যচিত্র দিয়ে বাংলাদেশের এই শিল্পমাধ্যম এগিয়েছে, সেই তথ্যচিত্র নিয়ে প্রচারণার সুযোগ এখন কম। এসব কথা উঠে এল ফিল্ম অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের (ফ্যাব) দুই আলোচনা পর্বে।
‘গোয়িং ওয়াইল্ড, গোয়িং জেনার’ ছিল ফ্যাব ফেস্ট ২০২২–এর দ্বিতীয় আলোচনা পর্ব। অভিনেতা ইরেশ যাকের বলছিলেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অনেক রকম জেনার নিয়ে কাজ করার সুযোগ আছে। ফলে দর্শক এটাকে গ্রহণ করছে। নীতিমালার মধ্যে এমন অনেক কিছু থাকে, যা মানুষের ভাবনা সংকীর্ণ করে দেয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। জেনার ধরনের চলচ্চিত্র সমাজের জন্য বার্তা দিতে পারে না—কথাটা ঠিক নয় উল্লেখ করে
তিনি মন্তব্য করেন, জহির রায়হান, আলমগীর কবিরের কিছু কাজেও এমন ছাপ ছিল। নির্মাতা নুহাশ হুমায়ূন বলেন, ‘আমাদের এ অঞ্চলের সংস্কৃতির সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারলে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম “জনরা” কাজের জন্য খুব ভালো জায়গা।’ এ সময় উঠে আসে তাঁর একটি প্রোডাকশন হাউস তৈরির সংগ্রামের কিছু গল্প। চলতি বছরের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে প্রচারিত “শাটিকাপ” সিরিজের নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম বলেন, দেশের ভেতরেও অনেক ভালো কাজ হচ্ছে এবং প্রশংসা পাচ্ছে। চলচ্চিত্র তৈরি করতে হলে সব সময় শুধু বাইরের দেশের নির্মাণপদ্ধতি বা গল্পের দিকে তাকাতে হবে, এমন নয় বলে উল্লেখ করেন তরুণ এই নির্মাতা। ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সুযোগ ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন এই পর্বের আরেক আলোচক নির্মাতা সৈয়দ আহমেদ শাওকি। স্ক্রিপ্ট লেখক সাদিয়া খালিদ ঋতি আর নির্মাতা তানিম নুরের সঞ্চালনায় শুরু হয় এ আলোচনা পর্ব।
ফ্যাব ফেস্টের আলোচনার তৃতীয় পর্ব ছিল ‘বাংলাদেশি ডকুমেন্টারিস: রিভাইভ, রি-ইনভেন্ট, রিগেইন’। নির্দেশক তারেক আহমেদ বুলবুলের সঞ্চালনায় শুরু হওয়া এ পর্বের বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ডকুমেন্টারি কাউন্সিলের উপদেষ্টা, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা মানজারে হাসিন মুরাদ, চলচ্চিত্র নির্মাতা শবনম ফেরদৌসী, হুমায়রা বিলকিস এবং এলিজাবেথ ডি’কস্টা।
তাঁদের সবার বক্তব্যে উঠে আসে তথ্যচিত্র নির্মাণ ও প্রচারণার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের অনাগ্রহের দিকটি। এ সময় মানজারে হাসিন মুরাদ বলেন, প্রামাণ্যচিত্র তৈরিকে পেশা হিসেবে নিয়ে এ দেশে টিকে থাকা অসম্ভব। কিন্তু ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, দেশভাগ, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রথম প্রকাশিত শিল্পটি প্রামাণ্যচিত্র। প্রামাণ্যচলচ্চিত্র এ দেশে বাণিজ্যিক না, তাই এটি নির্মাণের গতি কম উল্লেখ করে মানজারে হাসিন মুরাদ বলেন, প্রামাণ্যচিত্র প্রচারের সময় বিজ্ঞাপন চলে না, তাই অনেক গণমাধ্যম আগ্রহ দেখায় না। একসময়ের উজ্জ্বল ডকুমেন্টারি কাউন্সিল এখন ধুঁকে ধুঁকে চলছে বলে আক্ষেপ করেন শবনম ফেরদৌসী। এ পেশার সঙ্গে নির্মাতার টিকে থাকার লড়াই উঠে এল তাঁর গল্পে। তরুণ দুই তথ্যচিত্র নির্মাতা জানালেন তাঁদের কাজের অভিজ্ঞতার গল্প। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত কলাকুশলীদের একটি প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নিয়ে ফ্যাবের এই আয়োজন।
সিনেমা কিংবা দৃশ্যশিল্পের নীতিমালা ‘সংস্কার’, বাংলা কনটেন্টের সম্ভাবনার এ সময়কে ‘নতুন করে সংজ্ঞায়িত’ করার লক্ষ্যে ভাবনা বিনিময়ের জন্য প্রথমবারের মতো ফ্যাব ফেস্টের আয়োজন করেছে ফিল্ম অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ (ফ্যাব); যেটিকে ‘চিন্তা লেনদেনের উৎসব’ বলছেন আয়োজকেরা। আজ শুক্রবার ঢাকার বাংলা একাডেমি মিলনায়তন ও প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে এই আয়োজন। চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী, দর্শক, গবেষকদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর এ আয়োজন দিনভর চলবে। সকাল থেকে এই আয়োজনে প্রযোজক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, শিল্পী, লেখক, সিনেমাটোগ্রাফার কিংবা দৃশ্য-সংস্কৃতির অংশীজন, নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি দেখা গেছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে চরকির প্যাভিলিয়নে উপস্থিত হলে সবার জন্য বিনা মূল্যে চরকি সাবস্ক্রিপশনের সুযোগ থাকছে। এ ছাড়া চরকির প্যাভিলিয়নে প্রথমা প্রকাশনের বইয়ে আছে বিশেষ ছাড়।
Source: প্রথম আলো
৩ ঘণ্টা পর সচল হলো টুইটার
***********************************************************************
প্রায় তিন ঘণ্টা পর ত্রুটি দূর করে আবার সচল হয়েছে খুদে ব্লগ লেখার সাইট টুইটার। অনলাইন সেবা বিঘ্নের বিষয় নজরদারি করার সাইট ডাউন ডিটেক্টর ডটকমের তথ্যমতে, বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ছয়টার পর থেকে বিশ্বজুড়ে টুইটার ব্যবহারে সমস্যা দেখা দেয়। অ্যাপের পাশাপাশি ওয়েব সংস্করণে এ সমস্যা হওয়ায় মুঠোফোন ও কম্পিউটার থেকে টুইটার ব্যবহার করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন প্রায় ১০ হাজার ব্যবহারকারী। সকাল সাড়ে ৯টার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় টুইটার।
ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, নাম এবং পাসওয়ার্ড লেখার পরও টুইটারে প্রবেশ করা যাচ্ছিল না। এ সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিফ্রেশ হওয়ার পাশাপাশি এরর বার্তাও দেখা যায়। অনেকে মুঠোফোন থেকে টুইটারে প্রবেশ করতে পারলেও টুইট পাঠাতে পারেননি। ব্যবহারকারীদের অভিযোগ পাওয়ার পর সমস্যার সমাধান করলেও সেবা বিঘ্নের কারণ সার্ভার ডাউন না সাইবার হামলা, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি টুইটার কর্তৃপক্ষ।
টুইটারে প্রবেশে সমস্যা চলাকালেই এক টুইটে (টুইটারে দেওয়া বার্তা) টুইটারের নতুন মালিক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, টুইটার সার্ভারের বেশ কিছু কারিগরি বিষয় পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীরা দ্রুত টুইটার ব্যবহার করতে পারবেন।
সূত্র: রয়টার্স, দ্য ভার্জ
Source: প্রথম আলো
Install app for better experience