গত কিছুদিন ধরে খেয়াল করছি, ‘যৌনকর্মীর ছেলে’ গালিটা বেশ চর্চিত হচ্ছে বন্ধুমহলে। একজন আরেকজনকে ‘যৌনকর্মীর ছেলে’ বলে খুশিতে লুটিয়ে পড়ছে।
প্রথমে ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারছিলামনা, এটা কি ধরণের ফাজলামি হতে পারে! এক বন্ধু আরেক বন্ধুর মাকে সরাসরি ‘পতি*তা’ বলছে কিন্তু সেই অর্থে কারো তেমন প্রতিবাদ নেই। ভাবটা যেনো এমন, নিজের মা চুলোয় যাক ‘ট্রেন্ডের সাথে চলছি’ এটাই তো আসল।
যাই হোক, একটু আগে মারজুক রাসেলের ফেসবুক পেজের একটা পোস্টে বাক্যটির ব্যবহার দেখে বুঝতে পারলাম, আসলেই ‘যৌনকর্মীর ছেলে’ কথাটার উৎপত্তি কোথায়।
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকের নতুন ট্রেন্ড এই ‘যৌনকর্মীর ছেলে’গালি।
যেহেতু এই নাটকের বেশিরভাগ দর্শক উঠতি বয়সের ছেলেমেয়ে, তাই স্বভাবগতভাবেই জমজমাট এই গালির ব্যবহার এখন সর্বত্র এবং সর্বজন স্বীকৃত। একবার ভাবুন তো, একটা নাটক গোটা এক প্রজন্মকে শেখাচ্ছে, কিভাবে অন্যের জন্মদাতা মাকে সহজভাবে বে*শ্যা বা পতিতা বলে গালি দিতে হয়।
শুধু কি তাই? ফেসবুকে এসে সেই নাটকের প্রমোশনাল পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, এএএএএ ‘যৌনকর্মীর ছেলে’...! পোস্টদাতা এই নাটকেরই অন্যতম চরিত্র পাশা নামে খ্যাত মারজুক রাসেল। তিনিই মূলত এই গালির জনক।
মা কেন্দ্রিক গালিতে বরাবরই মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছে এই টোকাই রাসেল। একটা সময় নিজের ফেসবুকের ওয়ালই ছিলো তার ‘মা’ চর্চার একমাত্র হাতিয়ার, বর্তমানে ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকের সুবাদে সেই ব্যাপ্তি বেড়েছে কয়েকগুন।
ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকটি ঘিরে এমন অভিযোগ নতুন কিছু নয়, গত কয়েক মাসে বেশ কিছু বিতর্কিত কারণে অনেকবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই নাটক। তবে নাটকের নির্মাতারা এসবের থোরাই কেয়ার করে।
দিন যত গড়িয়েছে নোংড়ামি আর ভাড়ামোতে প্রত্যেকবার নিজেকে ছাড়িয়ে গেছে এই নাটকের পরিচালক কাজল আরেফিন অমি।
সর্বশেষ ‘যৌনকর্মীর ছেলে’ গালির মাধ্যমে আবারো নিজেদের জাত চেনালো অমি, মারজুক রাসেল, শুভ, জিয়াউল হক পলাশ গ্যাংরা।
সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ, নতুন প্রজন্মকে এদের হাত থেকে বাঁচান!
©collected
Install app for better experience