এর আগে সে ঠিকভাবে শ্বাস নিতে পারত না।
ক্রুজোঁ সিনড্রোম (Crouzon syndrome) একটি বিরল জেনেটিক অবস্থা, যা প্রায় প্রতি ৬০,০০০ নবজাতকের মধ্যে ১ জনের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এই রোগে খুলির হাড়গুলো খুব তাড়াতাড়ি জোড়া লেগে যায়—এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ক্র্যানিওসিনোস্টোসিস (craniosynostosis)। যখন হাড়গুলো সঠিক সময়ে বাড়তে পারে না, তখন মুখমণ্ডল স্বাভাবিকভাবে সামনের দিকে বৃদ্ধি পায় না। মধ্যমুখ (midface) অপর্যাপ্তভাবে বিকশিত থাকে। চোখের কোটর অগভীর থেকে যায়, ফলে চোখ সামনের দিকে ফুলে ওঠে। শ্বাসনালী যথেষ্ট প্রশস্ত না হওয়ায় অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া এবং গুরুতর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
এই শিশুর উপর Le Fort III distraction osteogenesis নামে একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। এই পদ্ধতিতে ধীরে ধীরে পুরো মধ্যমুখকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হয়। ছবিতে যে যন্ত্রটি দেখা যাচ্ছে, সেটিকে বলা হয় Rigid External Distraction (RED) frame। সার্জনরা পিনের মাধ্যমে এটি খুলির সঙ্গে সংযুক্ত করেন এবং মুখের হাড়ে নির্দিষ্ট স্থানে কাটা দেন। প্রায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন যন্ত্রটি সামান্য (সাধারণত দিনে ১ মিমি) সমন্বয় করা হয়, যাতে মধ্যমুখ ধীরে ধীরে সামনে আসে। হাড়গুলো ধীরে আলাদা হয় এবং ফাঁকা স্থানে নতুন হাড় গঠিত হয়। হাড় নতুন অবস্থানে মজবুতভাবে জোড়া লাগা ও সেরে ওঠার জন্য ফ্রেমটি মোটামুটি তিন মাস পর্যন্ত লাগানো থাকে।
এর ফলাফল নাটকীয় হতে পারে। চোখ স্বাভাবিক আকারের কোটরের ভেতরে সঠিকভাবে বসে যায়, বিপজ্জনকভাবে বাইরে বেরিয়ে থাকে না। শ্বাসনালী খুলে যায়, ফলে শিশু বাধাহীনভাবে শ্বাস নিতে পারে। স্লিপ অ্যাপনিয়া কমে যায় বা সম্পূর্ণ সেরে যেতে পারে। দৃষ্টিশক্তি স্থিতিশীল হয়। মুখমণ্ডলের গঠন আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
ক্রুজোঁ সিনড্রোমে আক্রান্ত অনেক শিশুর জন্য এই অস্ত্রোপচার জীবনরক্ষাকারী। এটি না হলে মস্তিষ্কে বাড়তি চাপ, স্থায়ী দৃষ্টিহানি এবং দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যর্থতার মতো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
উজবেকিস্তানে অনেকে তাদের সঞ্চয় মুখের ভেতরেই পরে রাখেন!
উজবেকিস্তানে সোনার দাঁত খুব সাধারণ দৃশ্য। বাজারে হাঁটলে দেখবেন- বয়স্ক অনেক নারী হাসলে ঝলমল করে ওঠে সোনার দাঁত। এটি শুধু ফ্যাশন নয়; এটি বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসা এক ঐতিহ্য।
এর পেছনে ছিল বাস্তব কারণ। প্রথমত, এটি ছিল মর্যাদার প্রতীক। যত বেশি সোনার দাঁত, তত বেশি সম্পদশালী বলে মনে করা হতো। দ্বিতীয়ত, এটি ছিল বহনযোগ্য সঞ্চয়। সোভিয়েত আমলে মানুষ ব্যাংকের ওপর আস্থা রাখত না। অর্থনীতি ছিল অনিশ্চিত। তাই সম্পদ নিরাপদে রাখার জন্য দরকার ছিল এমন এক জায়গা, যা সবসময় নিজের সঙ্গে থাকবে। সোনার দাঁত সেই সমাধান হয়ে ওঠে; মূল্যবান জিনিস চোখের সামনেই, নিজের শরীরের অংশ হয়ে থাকে।
তৃতীয়ত, ব্যবহারিক কারণ। সোভিয়েত যুগে দাঁতের চিকিৎসায় বিকল্প উপকরণ খুব বেশি ছিল না। সিরামিক বা টাইটানিয়াম সহজলভ্য ছিল না। সোনা ছিল চিকিৎসকদের হাতে থাকা অন্যতম উপাদান। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পরও মধ্য এশিয়ার অপেক্ষাকৃত দরিদ্র অঞ্চলে সোনার ব্যবহার চলতে থাকে।
এই প্রথা বিশেষ করে বয়স্ক নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যদিও পুরুষদের মধ্যেও ছিল। কেউ কেউ সুস্থ দাঁত উঠিয়ে সোনার দাঁত বসাতেন।
তবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ প্রবণতা কমে এসেছে। পশ্চিমা দন্তচিকিৎসার বদৌলতে এখন সিরামিকের দাঁতই বেশি জনপ্রিয়। তুর্কমেনিস্তানে ২০০৪ সালে শাসক সাপারমুরাত নিয়াজভ সোনার দাঁত নিষিদ্ধ করেছিলেন।
Install app for better experience