"সিজার না কি প্রাকৃতিক প্রসব— সিদ্ধান্ত কার?"
আজকের বাংলাদেশে সন্তান জন্ম মানেই ‘সিজার’ শব্দটা যেন প্রথমেই কানে আসে।
সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের গত কয়েক বছরের রিপোর্ট দেখলে অবাক হতে হয়— প্রায় ৮০–৯০% ডেলিভারি সিজার করে করানো হচ্ছে!
কেন?
ডাক্তাররা সবাই খারাপ নন, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সিজারের পেছনে বাণিজ্যিক মানসিকতা কাজ করছে। পরিবারও অনেক সময় অযথা ভয় পেয়ে ডাক্তারের কথায় না ভেবেই সিজারে রাজি হয়ে যায়।
হাসপাতালে গর্ভবতী ভর্তি হওয়ার পর সাধারণত এই তিনটি ডায়লগ প্রায়ই শোনা যায়:
1. "বাচ্চা পানিশূন্যতায় আছে।"
2. "বাচ্চা পেটের ভেতর পায়খানা করেছে।"
3. "বাচ্চার পজিশন উল্টা।"
এই কথাগুলো শোনার পর পরিবারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগই থাকে না। সিজার যেন এক ধরনের বাধ্যবাধকতা।
---
সিজার বনাম স্পাইনাল ইনজেকশন (মেরুদণ্ডের ইনজেকশন)
সিজারের সময় মা-কে ব্যথাহীন করতে যে স্পাইনাল অ্যানাস্থেশিয়া ইনজেকশন দেওয়া হয়, তা অ্যানাস্থেসিওলজিস্ট ডাক্তার দেন— তিনি নারী বা পুরুষ যে কেউ হতে পারেন।
এ ইনজেকশন সাধারণত নিরাপদ হলেও মাথাব্যথা, কোমরব্যথা বা কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাময়িক।
---
কেন আমাদের দাদা-দাদীদের সময় নরমাল প্রসব হতো?
কারণ তারা প্রাকৃতিক খাবার খেতেন, শারীরিকভাবে বেশি পরিশ্রম করতেন।
এখনকার মায়েরা বেশি বসে থাকা জীবনযাপনে অভ্যস্ত। পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে অনেক সময় নরমাল প্রসব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
---
সমাধান কী হতে পারে?
1. সচেতন পরিবার তৈরি করতে হবে। ভয় পেয়ে অযথা সিজার করাবেন না।
2. হাসপাতালের খরচ স্বচ্ছ হতে হবে।
3. গর্ভকালীন সঠিক ব্যায়াম ও ডায়েট মেনে চলা জরুরি।
4. প্রকৃত প্রয়োজনে সিজার— কারণ অনেক মা ও শিশু আজ সিজারের কারণে বেঁচে যাচ্ছে।
---
শেষ কথা:
সিজার দরকার হলে করানো উচিত, তবে বাণিজ্যিক কারণে মা-বাচ্চার শরীর নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ হোক।
"মা’কে বাঁচান, বাচ্চাকে বাঁচান— সচেতন হন।"
