স্মার্টফোন আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু অনেক সময় আমরা অজান্তেই আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য—যেমন অবস্থান, কথোপকথন, সার্চ হিস্ট্রি ও অনলাইন কার্যকলাপ—গুগল, ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ট্র্যাক করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের জন্য টার্গেটেড বিজ্ঞাপন, সাজেস্টেড ভিডিও, রিলস বা অন্যান্য কনটেন্ট দেখানো হয়। এর ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর হুমকি তৈরি হয়।
তবে কিছু সহজ সেটিংস পরিবর্তন করে ব্যবহারকারীরা নিজস্ব তথ্যের নিরাপত্তা বাড়াতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গুগল ও ফেসবুকের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস বন্ধ করলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অনেকাংশে রক্ষা করা সম্ভব।
১. গুগলের Voice & Audio Activity
গুগল প্রায়ই আপনার ভয়েস ও অডিও ডেটা সংরক্ষণ করে, যাতে আপনার ব্যবহার অনুযায়ী কনটেন্ট সাজানো যায়। তবে এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
কিভাবে বন্ধ করবেন:
গুগল অ্যাপ খুলুন।
প্রোফাইল আইকনে ট্যাপ করুন।
‘Data & Privacy’ অপশনে যান।
Voice & Audio Activity বন্ধ করুন।
এতে আপনার ভয়েস ও অডিও তথ্য আর গুগলের সার্ভারে সংরক্ষিত থাকবে না।
২. পারসোনালাইজড অ্যাডস
গুগল আপনার সার্চ হিস্ট্রি, ব্রাউজিং প্যাটার্ন ও অ্যাপ ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে টার্গেটেড বিজ্ঞাপন দেখায়। তবে এই সুবিধা বন্ধ করলে আপনার তথ্য নিরাপদ থাকবে।
কিভাবে বন্ধ করবেন:
গুগল অ্যাপ খুলুন এবং ‘My Ad Center’-এ যান।
‘Personalized Ads’-এর টগল বন্ধ করুন।
এভাবে টার্গেটেড বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যাবে এবং সার্চ হিস্ট্রি সুরক্ষিত থাকবে।
৩. লোকেশন ট্র্যাকিং
গুগল ম্যাপসের লোকেশন ট্র্যাকিং সুবিধা আমাদের চলাচল সহজ করে দেয়, কিন্তু এটি আমাদের প্রতিটি গতিবিধি গুগলের কাছে পাঠায়।
কিভাবে বন্ধ করবেন:
গুগল ম্যাপস অ্যাপ খুলুন।
প্রোফাইল আইকনে ট্যাপ করুন।
‘Your Data in Maps’ অপশনে যান।
Location History বন্ধ করুন।
এতে গুগল আর আপনার চলাচলের তথ্য সংরক্ষণ করবে না, ফলে গোপনীয়তা বৃদ্ধি পাবে।
এই তিনটি সেটিংস বন্ধ করলে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা বাড়বে, কথোপকথন ও ব্যবহার ট্র্যাক কম হবে, সার্চ ও ব্রাউজিং ডেটা নিরাপদ থাকবে, এবং অনাকাঙ্ক্ষিত টার্গেটেড বিজ্ঞাপনও কম দেখা যাবে।
পাথরের ভেতর সিমেন্টের মতো আটকে থাকা একটি মানব খুলি — আর এক বিতর্ক, যার শেষ নেই
উত্তর গ্রিসের একটি গুহায় এমন একটি মানব খুলি পাওয়া গিয়েছিল, যা আক্ষরিক অর্থেই গুহার দেয়ালের সঙ্গে লেগে ছিল।
এটি পেট্রালোনা স্কাল নামে পরিচিত। এটি আবিষ্কৃত হয় থেসালোনিকি শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পেট্রালোনা গুহার ভেতরে।
খুলিটি—
মাটিচাপা দেওয়া ছিল না
আলগা অবস্থায় পড়ে ছিল না
ক্যালসাইটের মাধ্যমে পাথরের সঙ্গে শক্তভাবে আটকে ছিল, গুহার মেঝে থেকে প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার উপরে
নিচের চোয়ালটি অনুপস্থিত ছিল, আর খুলিটির গায়ে বাদামি রঙের সিন্টার জমে ছিল—যার অর্থ, মৃত্যুর অল্প সময়ের মধ্যেই এটি আবরণে ঢেকে যায়, হাজার হাজার বছর পরে কাকতালীয়ভাবে নয়।
কীভাবে এটি পাওয়া যায়
১৯৫৯: স্থানীয় এক রাখাল, ফিলিপোস খাতজারিদিস, দুর্ঘটনাবশত গুহাটি আবিষ্কার করেন
একই বছর পরে: স্পিলিওলজিস্ট ইয়োয়ানিস পেট্রোখেইলস গুহাটি পরীক্ষা করেন
১৯৬৮ থেকে: নৃতত্ত্ববিদ আরিস পুলিয়ানোসের নেতৃত্বে খননকাজ শুরু হয়
এখান থেকেই শুরু হয় আসল বিতর্ক।
পুলিয়ানোস দাবি করেন, খুলিটির বয়স ৭ লক্ষ বছরেরও বেশি—যা একে ইউরোপের প্রাচীনতম মানব জীবাশ্মগুলোর একটি বানাতে পারে। তার মতে, এটি সম্ভবত Homo heidelbergensis অথবা প্রাচীন Homo sapiens-এর এক রূপ।
অন্য অনেক বিজ্ঞানী এতে তীব্র আপত্তি জানান। তাঁদের মতে, খুলিটির বয়স অনেক কম—প্রায় ২ থেকে ৩ লক্ষ বছর।
জীবাশ্মে প্রবেশাধিকার, তারিখ নির্ধারণের পদ্ধতি, আর ব্যাখ্যা—সবকিছুই ধীরে ধীরে রাজনৈতিক রঙ ধারণ করে।
ফলাফল?
দশকের পর দশক ধরে বিতর্ক—কিন্তু কোনো পূর্ণ ঐকমত্য নয়।
কেন এই খুলি এখনো গুরুত্বপূর্ণ
এটি ইউরোপে মানুষের আগমনের সময়রেখাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে
এটি আধুনিক মানুষ ও নিয়ান্ডারথালের সংযোগস্থলে অবস্থান করে
এটি দেখায়, কীভাবে বৈজ্ঞানিক কর্তৃত্ব, প্রবেশাধিকার ও পক্ষপাত “গ্রহণযোগ্য ইতিহাস” গঠনে ভূমিকা রাখে
এটি শুধু একটি জীবাশ্ম নয়।
এটি মনে করিয়ে দেয়—মানব উৎস নিয়ে বিতর্ক এখনো চলছে; এগুলো একবার আবিষ্কার হয়ে চূড়ান্ত হয়ে যায় না।
আর কখনো কখনো, প্রমাণ সত্যিই পাথরে গাঁথা থাকে—
কিন্তু সত্যটা থাকে না।
এই ১৬ বছর বয়সী মেয়েটি ছোটবেলা থেকেই চুল টানার (trichotillomania) এবং চুল খাওয়ার (trichophagia) অভ্যাস করতো।
এর ফলে তার পাকস্থলীতে চুল জমা হতে থাকলো। চুল হজম হয় না, তাই একেবারে শক্ত বড় একটা গুটি তৈরি হলো।
সে ৬ মাস ধরে পেটের উপরের দিকে ব্যথা, খাওয়ার ইচ্ছা কমে যাওয়া, অল্প খাওয়াতেই ভরা লাগা এবং শেষ ২ মাস ধরে বমি করছিল।
গুটিটা পাকস্থলী আর ডিওডেনামের আকারের মডেল বা ছাঁচের মতো তৈরি হয়েছে।
অপারেশনের পর সব ঠিকঠাক হলো, মেয়েটিকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হলো যাতে চুল টানা ও খাওয়ার অভ্যাসের চিকিৎসা করা যায়।
ইসরায়েলের কারাগারে যা ঘটছে, তা আর অভিযোগ নয়—এটা খোদ ভুক্তভোগীদের জবানবন্দিতে উঠে আসা মানবতার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপরাধ।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুই ফিলিস্তিনি পুরুষ জানিয়েছেন, কীভাবে ইসরাইলি কারাগারে তাদের ওপর চালানো হয়েছে পরিকল্পিত যৌন নির্যাতন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে মেগিদ্দো ও সদে তিমান কারাগারে বন্দিদের ওপর পদ্ধতিগতভাবে যৌন সহিংসতা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
জাতিসংঘ ইতোমধ্যে এই নির্যাতনকে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় নীতি বলে অভিহিত করেছে।
সাংবাদিক সামি আল-সাইয়ি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই ১৬ মাস বন্দি ছিলেন।
তিনি জানান, নির্যাতনের সময় শুধু শরীর নয়—মানবিক মর্যাদা, সম্মান এবং পরিবারের নিরাপত্তাকেও পিষে ফেলা হয়েছে।
এই নৃশংসতার সামনে নীরবতা মানে অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো।মানবাধিকারের কথা বলা বিশ্ব যদি এখনো চুপ থাকে, তবে সেই মূল্যবোধ প্রশ্নবিদ্ধ।
হে আল্লাহ, এই জালিমদের আপনি ইনসাফের বিচারের মুখোমুখি করুন।নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ান, আর জুলুমকারীদের ওপর আপনার গায়েবি গজব নাযিল করুন—আমিন।