‘কী বলব! লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছি’
***********************************************************************
## প্রথম আলোয় আপনাকে নিয়ে জয় গোস্বামীর লেখা একটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। নিশ্চয় পড়েছেন? কেমন লেগেছে?
আমি কী বলব! লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছি। মাথা নুয়ে যাচ্ছে। আমার কাছে যদি জানতে চাওয়া হয়, জীবনে যতবার বিস্মিত হয়েছি, তার মধ্যে এটি শ্রেষ্ঠতম। আজকে যখন প্রথম আলোয় আমাকে নিয়ে কবিতাটা ছাপা হয়েছে, দেখলাম। ভালোই লাগছে। অনেক ভালো লাগছে। এই ভালো লাগার সত্যিকারের অনুভূতি আসলে প্রকাশ করব কীভাবে, জানি না। জয় গোস্বামীর কবিতা যেকোনো পত্রিকা প্রকাশ করতে উন্মুখ হয়ে থাকবে। আমার জন্য ভালো লাগা হচ্ছে, আমাকে নিয়ে লেখা একটা কবিতা, সেটা প্রথম আলো যত্ন নিয়ে ছেপেছে। এটার জন্য ধন্যবাদ, অনেক ধন্যবাদ। এই কবিতা কিন্তু তিনি আমাকে দিয়ে গেছেন।
## তাই নাকি?
হ্যাঁ। কবিতাটা তিনি লিখিত আকারে উপহার দিয়ে গেছেন। তাঁর হাতে লেখা এই কবিতা এখন আমার কাছে। এই উপহারের কোনো মূল্য হয়! অমূল্য।
## তার মানে আপনাদের দেখা হয়েছিল?
দেখা হয়েছিল। ১১ জানুয়ারি আমাদের দেখা হয়। উত্তরায় একটি কফি শপে। আমরা একসঙ্গে আধা ঘণ্টা সময় কাটিয়েছি। আমার জীবনে যতবার বিস্মিত হয়েছি, তার মধ্যে এই ঘটনা অন্যতম। আমি ভীষণ অবাক হয়েছি, আমার নাটকের, সিনেমার সংলাপ ওনার মুখস্থ। সেটা তিনি আবার অ্যাক্টিং করে দেখাচ্ছেন। আমি বিমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছি তাঁর দিকে। হতবিহ্বল হয়ে গেছি। ‘মহানগর’–এর সংলাপ, ‘দাগ’–এর সংলাপ, সঞ্জয় সমদ্দারের ‘অমানুষ’–এর সংলাপ এবং একটা মুহূর্তের কথাও বললেন। আমি তো অবাক। তিনি অনেক ডিটেইল দেখেন। ‘দানব’ নামে একটা নাটক করেছিলাম, সেটাতে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় লুকটা কেমন ছিল, তা–ও বললেন এবং সেগুলো ব্যাখার পর্যায় দিয়ে তিনি বলছিলেন। শুধু ভালো লেগেছে তা নয়, কেন ভালো লেগেছে, কেন তাঁর কাছে আলাদা মনে হয়েছে, সেই বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলেছেন। আধা ঘণ্টা অসাধারণ সময় কেটেছে। অসাধারণ!
## আপনাদের আড্ডায় আর কে কে ছিলেন?
আমি একাই ছিলাম। এমনিতে আমি কয়েক দিন ধরে রাত জেগে শুটিং করছিলাম। শুটিং শেষ হতে ভোর। কয়েক দিনই ভাবছিলাম, জয় গোস্বামীর সঙ্গে দেখা করব। দেখা করব। ভোরে বাসায় গিয়ে তখন তো ঘুমাতেই হয়। ঘুম থেকে উঠে আবার দেখি যে শুটিংয়ের সময় হয়ে গেছে। এভাবেই চলছিল। ১১ জানুয়ারি ভাবলাম, দেখা করবই। কবি শামীম রেজাকে ফোন দিলাম, বন্ধু মানুষ। তার ওখানেই তো ছিলেন জয় গোস্বামী। শামীম বলল, ‘দোস্ত, উনি তো রওনা দিয়ে দিয়েছেন।’ বললাম, কোথা থেকে? আমি ভাবছি, ফ্লাইটে উঠে গেছেন। তখন বলল, ‘না, আমার এখান থেকে বের হয়ে গেছেন।’ আমিও ভাবলাম, বিমানবন্দর গেলে তো উত্তরার জসীমউদ্দীন হয়ে যাবেন। এরপর আমিও বাসা থেকে রওনা দিচ্ছি। এরপর আমাদের দেখা হলো, উত্তরার বিনস অ্যান্ড অ্যারোমা সেন্টারে। এই দেখাটুকু না হলে মিস করতাম। আফসোসই লাগত।
## কী নিয়ে আপনাদের কথা হলো?
মেইনলি আমার অভিনয় নিয়ে উনি কথা বলেছেন। অন্যদিকে প্রসঙ্গ সরাতে চেয়েছি, কিন্তু পারিনি। আমার প্রতি তাঁর ভীষণ আবেগ আমাকে মুগ্ধ করেছে। ইট আ গ্রেট গিফট, কবিতাটা। আমি তাঁকে বলেছিও। কবিতাটা বাসায় বাঁধিয়ে রাখব।
## তিনি আপনার অভিনয়ের যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তা আপনাকে অবাক করেছে। তাঁর লেখা আপনি পড়েছেন। অন্য অনেক লেখকের লেখাও পড়েছেন। তিনি আপনার দৃষ্টিতে কেন অনন্য?
আমি শুধু ওইটুকুই বলতে পারব, তাঁর লেখার ব্যাখা–বিচারের কথা বলতে চাইছি না, বলার ক্ষমতাও আমার নেই আসলে—এটা পরিষ্কার কথা। লয় হওয়া, মিশে যাওয়া, হারিয়ে যাওয়া মানুষকে টের পাওয়া—সেটা তো তাঁর কবিতার মধ্যে পাওয়া যায় এবং এবার দেখা হওয়ার পর কেন তিনি এমন লিখতে পারেন, সেটাও ফিল করতে পারলাম। আমরা পরস্পর আলিঙ্গন করেছিলাম, গভীর আলিঙ্গনই। নিখাদ আলিঙ্গন। একদমই ভালোবাসার, প্রেমের আলিঙ্গন।
Source: প্রথম আলো