কিবো রোবট প্রোগ্রামিং চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগ
***********************************************************************
জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি আয়োজিত চতুর্থ কিবো রোবট প্রোগ্রামিং চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নিতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে প্রতিযোগিতার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত। নিবন্ধনের পর আগামী ২৫ জুনের মধ্যে নিজেদের তৈরি প্রোগ্রাম জমা দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আগামী ২৬ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত হবে প্রিলিমিনারি রাউন্ড। অক্টোবরে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
কিবো রোবট প্রোগ্রামিং চ্যালেঞ্জ মূলত একটি শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যারোনটিকস অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নাসা) সহযোগিতায় এ প্রতিযোগিতার করে থাকে জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি। এই চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের সমস্যা সমাধানের জন্য ফ্রি-ফ্লাইং রোবট (অ্যাস্ট্রোবি এবং ইন-বল) নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
এ বছর চতুর্থবারের মতো বিশ্বব্যাপী কিবো রোবট প্রোগ্রামিং চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে স্টিমএক্স-৩৬৫ ও জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি। সহযোগী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক। https://tinyurl.com/KRPC4RE ঠিকানায় প্রবেশ করে প্রতিযোগিতায় নিবন্ধন করা যাবে।
Source: প্রথম আলো
ঢাকায় প্রধান কার্যালয় চালু করল ফ্লিট বাংলাদেশ
***********************************************************************
২০১৭ সালে রাজশাহীতে মাত্র ১০ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করা আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান ‘ফ্লিট বাংলাদেশ’-এর যুক্তরাষ্ট্রে একটি ওয়্যারহাউস ও একটি সুপারশপ আছে। যা ফ্লিট ইউএসএ নামে পরিচিত। আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রুপ অব কোম্পানিতে পরিণত হওয়া প্রতিষ্ঠানটির নয়টি কার্যালয়ে বর্তমানে কাজ করেন প্রায় এক হাজার কর্মী। এবার রাজধানীর বনানীতে প্রধান কার্যালয় চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আজ বুধবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ। এ সময় তিনি বলেন, ‘ফ্লিট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা খায়রুল আলমের মতো ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা সারা দেশে তৈরি করতে হবে। খায়রুল আলম সরকারের কাছে কোনো টাকা বা অনুদান চান না, তিনি শুধু চান, তাঁর চলার পথে যেন কেউ বাধা তৈরি না করে। আমরা শুধু খায়রুল নন, দেশের সব ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তার পাশে আছি।’ খায়রুলের প্রতিষ্ঠানটিকে প্রাইভেট হাইটেক পার্ক হিসেবে ঘোষণা দিতে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণও করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি রাসেল টি আহমেদ বলেন, ‘ফ্লিট বাংলাদেশের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের এই স্মার্ট বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। রাজশাহীসহ ঢাকাতেও এখন কর্মসংস্থান করেছে তারা।’
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্টাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাক্কো) সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা সব সময় উদ্যোক্তাদের পাশে থাকি। ফ্লিট বাংলাদেশের পাশেও থাকব। সারা দেশে কর্মসংস্থানের বিপ্লব ঘটাতে পারে ফ্লিট বাংলাদেশ।’
ফ্লিট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা খায়রুল আলম বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে কোনো অনুদান বা অর্থসহায়তা চাই না। আমরা চাই তরুণদের কাজের সুযোগ করে দিতে। এ কাজে যেন কেউ বাধা না দেয় এ জন্য সরকারকে পাশে চাই। ৬৪টি জেলায় ফ্লিট বাংলাদেশ কার্যক্রম চালাবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ও যুব কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক মুনির হাসান, টেকগারলিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান, ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা মো. মনির হোসেন ও চালডাল ডটকমের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জিয়া আশরাফ।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠার মাত্র চার বছরের মধ্যে আউটসোর্সিংয়ের পাশাপাশি খায়রুল আলম ফ্লিট রিয়েল এস্টেট নামের একটি প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছেন। তৈরি করেছেন ‘ফ্লিট বাই’ নামের একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানও।
Source: প্রথম আলো
সৌরবিদ্যুতে চলা চারটি নতুন পাওয়ার ইনভার্টার
***********************************************************************
দেশের বাজারে সৌরবিদ্যুতে চলা চারটি পাওয়ার ইনভার্টার এনেছে হুয়াওয়ে। গত শনিবার রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘হুয়াওয়ে পার্টনার ইকোলজিক্যাল কনফারেন্স ২০২৩’ শীর্ষক সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে হুয়াওয়ে টেকনোলজিস বাংলাদেশ।
সম্মেলনে হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ডিজিটাল পাওয়ার বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিয়াং উইশিং বলেন, ‘বাংলাদেশের শিল্প খাতের জন্য ডিজিটাল জ্বালানি তুলনামূলকভাবে নতুন ধারণা। নতুন এই ধারণা শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল করে তুলতেও ভূমিকা রাখবে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতে চলা চারটি পাওয়ার ইনভার্টার নিয়ে এসেছি। আমার বিশ্বাস, এসব পণ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ উপকৃত হবে।’
বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সম্মেলনে পাওয়ার ইনভার্টারগুলোর কার্যকারিতা তুলে ধরা হয়। বক্তারা জানান, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের জন্য তৈরি হুয়াওয়ে ইনভার্টারগুলো রিভার্স কারেন্ট ফ্লো, শর্টসার্কিট ও আগুনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে। শুধু তা–ই নয়, ইনভার্টারগুলো বন্ধের প্রয়োজন না হওয়ায় পরিচালন ব্যয় কম হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন ইপিসি প্রতিষ্ঠান সহযোগী হিসেবে হুয়াওয়ের সঙ্গে কাজ করছে। বাংলাদেশে ডিজিটাল জ্বালানির সম্ভাবনা নিয়ে ভূমিকা রাখার জন্য ওমেরা রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেড, সিনার্জি লিমিটেড এবং সোলার ইপিসি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডকে পুরস্কার দিয়েছে হুয়াওয়ে।
Source: প্রথম আলো
অ্যান্ড্রয়েডের জন্য ‘টোটাল কুকি প্রটেকশন’ চালু করল ফায়ারফক্স
***********************************************************************
অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের জন্যও স্বয়ংক্রিয় ‘টোটাল কুকি প্রটেকশন’ সুবিধা চালু করেছে ফায়ারফক্স। ফলে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চলা সব যন্ত্রে বিল্টইনভাবে ফায়ারফক্স ব্রাউোরের টোটাল কুকি প্রটেকশন সুবিধা ব্যবহার করা যাবে। নতুন এ সুবিধা চালুর ফলে ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ইতিহাস কোনো ওয়েবসাইট সংগ্রহ করতে পারবে না। এত দিন এ সুবিধা শুধু উইন্ডোজ, ম্যাক এবং লিন্যাক্স অপারেটিং সিস্টেমে চলা যন্ত্রে ব্যবহারের সুযোগ মিলত।
আমরা যখনই কোনো ওয়েবসাইটে ঢুঁ মারি, গোপনে আমাদের বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করে ওয়েবসাইট, যা কুকি নামে পরিচিত। ব্যবহারকারীদের ওয়েবসাইট দেখার (ব্রাউজিং) ইতিহাস জেনে বিজ্ঞাপন প্রচার করতেই এমনটি করে তারা। ব্যবহারকারীদের ব্রাউজিং ইতিহাসের তথ্য গোপন রাখতে ২০২১ সালে টোটাল কুকি প্রটেকশন সুবিধা চালু করে ফায়ারফক্স। ফলে বিভিন্ন ওয়েবসাইট চাইলেও ফায়ারফক্স ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ইতিহাস সংগ্রহ করতে পারে না।
টোটাল কুকি প্রটেকশন সুবিধা চালুর পর ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে চালু করতে হতো ব্যবহারকারীদের। ফলে নিজ থেকে চালু না করলে এ সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ মিলত না। এ সমস্যা সমাধানে গত বছর উইন্ডোজ, ম্যাক ও লিন্যাক্স অপারেটিং সিস্টেমের জন্য স্বয়ংক্রিয় টোটাল কুকি প্রটেকশন সুবিধা চালু করে ফায়ারফক্স।
Source: প্রথম আলো
অনলাইনে আইফোন কেনার সময় ভিডিও কলে পরামর্শ দেবে অ্যাপল
***********************************************************************
সরাসরি দোকান থেকে কেনার পাশাপাশি অ্যাপলের ওয়েবসাইট থেকে আইফোন কেনেন অনেকে। ঘরে বসে সহজে কেনার সুযোগ মিললেও অনলাইনে পণ্যের সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায় না। এমনকি কোনো কর্মীর কাছ থেকে আইফোনের সুবিধাগুলোর ব্যবহার পদ্ধতি শেখার সুযোগও মেলে না। সমস্যা সমাধানে অনলাইনে কেনাকাটার সময় ভিডিও কলে পরামর্শ নেওয়ার সুবিধা চালু করেছে অ্যাপল।
‘শপ উইথ এ স্পেশালিস্ট’ নামের এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে অ্যাপলের ওয়েবসাইট থেকে পণ্য কেনার সময় ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি অ্যাপল কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করা যাবে। ফলে আইফোনের বিভিন্ন মডেলের উল্লেখযোগ্য সুবিধা জানার পাশাপাশি অন্য ফোনের সঙ্গে তুলনাও করা যাবে। চাইলে বিশেষজ্ঞের প্রশ্নও করা যাবে। ফলে কেনার আগেই আইফোনের বিভিন্ন মডেল সম্পর্কে ধারণা মিলবে। বিনা মূল্যে এ সুবিধা ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছে অ্যাপল।
অ্যাপলের তথ্য মতে, প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তিরা এ সুবিধা পাবেন। ভিডিও কলে ক্রেতারা বিশেষজ্ঞদের চেহারা দেখতে পেলেও বিশেষজ্ঞরা কোনো ক্রেতার চেহারা দেখতে পারবেন না। ফলে ক্রেতাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নষ্ট হবে না। পণ্য কেনার কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকায় ক্রেতারাও স্বচ্ছন্দে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারবেন।
সরাসরি ভিডিও কলের মাধ্যমে অনলাইন কেনাকাটার সুযোগ চালুর সিদ্ধান্তকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, নতুন এ সুবিধা চালুর ফলে ক্রেতারা বর্তমানের তুলনায় স্বচ্ছন্দে আইফোন কিনতে পারবেন। ফলে আইফোনের বিক্রিও বাড়বে।
সূত্র: টেক ক্র্যান্চ
Source: প্রথম আলো
শহরে আসছে সুপারহিরো ‘শাজাম’
***********************************************************************
একজন পাগল বিজ্ঞানী ডক্টর সিভানা। কিন্তু সে তার মেধা ভালো কাজে ব্যয় করে না। অনিষ্ট সাধনে সব সময় সে প্রস্তুত। আর এই কাজ করতে গেলে সে বাধাপ্রাপ্ত হয় শাজামের। আর এ কারণেই শাজামকে বিপদে ফেলতে সর্বদা তৎপর ডক্টর সিভানা। তার ক্ষমতা বিনষ্ট করার চেষ্টা করতে থাকে ডক্টর সিভানা।
ডিসি কমিকসের আরেক সুপারহিরো এই শাজাম। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় দেখা যায় এই সুপারহিরোকে। প্রথমবারেই দর্শকের মন জয় করে নিয়েছিল নতুন এই সুপারহিরো। বক্স অফিসের পাশাপাশি সমালোচকদেরও মন জয় করেছিল শাজাম। সিকুয়েল নিয়ে আবারও দর্শকের সামনে হাজির হচ্ছে শাজাম।
১৭ মার্চ সারা বিশ্বে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘শাজাম! ফিউরি অব দ্য গডস’। অন্যান্য দেশের মতো একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। ডেভিড এফ স্যান্ডবার্গ পরিচালিত এই সিকুয়েলে অভিনয় করছেন প্রথম সিনেমায় অভিনয় করা জ্যাচারি লেভি, অ্যাশার অ্যাঞ্জেল, জ্যাক ডিলান গ্রেজার, হেলেন মিরেন, রস বাটলার প্রমুখ। নতুন কোনো নাম যুক্ত হয়নি এই সিকুয়েলে।
ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে সিনেমার ট্রেলার। আর ট্রেলারে ভালোই সাড়া ফেলেছে সিনেমাটি। তাইতো বক্স অফিসে অন্যান্য সুপারহিরোদের মতো শাজামও সাড়া ফেলবে বলে আশা করছেন নির্মাতারা। প্রথম সিনেমার গল্পে দেখা গেছে, মা–বাবাকে হারানো ১২ বছরের কিশোর বিলি ব্যাটসন।
একদিন ঘটনাক্রমে সে একটি সাবওয়ে ট্রেনের সামনে হাজির হয়। এই ট্রেন তাকে এক পরাবাস্তব জাদুকরী জগতে নিয়ে যায়। এই জগতের নাম ‘রক অব এটারনিটি’। এখানে তার দেখা হয় সুপারহিরো শাজামের সঙ্গে। সে তাকে নিজের শক্তি দান করে। এভাবেই এগোয় সিনেমার গল্প। পরিচালক সূত্রে জানা যায়, আগের গল্পের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাবে সিকুয়েলের গল্প।
Source: প্রথম আলো
মারা গেছেন সালমান খানের ‘জয় হো’ সিনেমার অভিনেতা
***********************************************************************
মারা গেছেন বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা সমীর খাখর। আজ বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। গতকাল দুপুরে অভিনেতার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ৭১ বছর বয়সী এই অভিনেতা দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার
সমীর খাখরের ভাই গণেশ খাখর জানান, দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন সামীর। এ ছাড়া তাঁর আরও শারীরিক সমস্যা ছিল। গতকাল হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলে ডাক্তারের পরামর্শে এই অভিনেতাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁরা। এ সময় তাঁর হার্ট ঠিকমতো কাজ করছিল না।
এ জন্য তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো গেল না। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর চারটার দিকে তিনি মারা যান।
ছোট পর্দায় খুবই জনপ্রিয় ছিলেন সমীর খাখর। মাঝে তিনি অভিনয় থেকে বিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এরপর তিনি দেশে ফিরে এসে আবারও অভিনয়ে ফিরতে চান। তখন তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘শেষনিশ্বাস পর্যন্ত আমি কাজ করতে চাই, আমি এখনো ক্লান্ত নই। আমি সারাজীবন মানুষকে বিনোদন দিতে চাই।’
এরপরই তিনি যুক্ত হন সালমান খানের ‘জয় হো’ সিনেমার সঙ্গে। এ ছাড়া বলিউডের ‘হাসি তো ফাঁসি’, ‘প্যাটেল কি পাঞ্জাবি সাদি’ এবং অজয় দেবগন ও সুনীল শেঠির ‘দিলওয়ালে’ সিনেমায়ও দেখা গেছে তাঁকে। সর্বশেষ তাঁকে ‘ফ্যামিলি ম্যান’ ও ‘ফারজি’র মতো জনপ্রিয় সিরিজে অভিনয় করতে দেখা গেছে।
দীর্ঘ ৩৮ বছরের অভিনয় ক্যারিয়ারে এই অভিনেতা অসংখ্য সিনেমা এবং টিভি শোতে অভিনয় করেছেন। এ ছাড়া ছোট পর্দায় তিনি ছিলেন দারুণ জনপ্রিয়। আজ বেলা ১১টার সময় বোরিভ্যালির বাভাই নাকা শ্মশানে এই অভিনেতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
Source: প্রথম আলো
মাশরাফি ও চঞ্চলের দেখা হলে কী কথা হয়
***********************************************************************
অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার পরিচয়। সম্পর্কটা বেশ পুরোনো। এখনো দেখা হলে জমে যায় আড্ডা। বেশ কয়েক বছর পর হঠাৎ তাঁদের দেখা হয় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। অল্প সময়ে জমে আড্ডাও। মাশরাফির সঙ্গে আড্ডায় কী কথা হয়, সেসব স্মৃতিচারণা করলেন চঞ্চল।
আড্ডায় নাটক নিয়ে কথা বলেন মাশরাফি। অন্যদিকে খেলার খুঁটিনাটি জানতে চান চঞ্চল চৌধুরী। দুজনের ভিন্ন দুই পেশা নিয়ে অনেক জানাশোনা। চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘যখন মাশরাফি খেলতে শুরু করেন তখন থেকেই পরিচয়। সেই পরিচয়, সম্পর্ক এখনো আছে। সেই মাশরাফি একটুও বদলায়নি। আগে যেভাবে মিশুক প্রাণবন্ত দেখেছি। এখনো সেভাবেই প্রাণবন্ত থাকেন।’
এবার দীর্ঘ একটা সময় পরে দেখা হলো তাঁদের। দেখা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একে–অন্যকে জড়িয়ে ধরেন। দুজনই বলতে থাকেন, ‘কত দিন দেখা হয় না।’ এবার আপনাদের মধ্যে কী কথা হলো? জানতে চাইলে চঞ্চল বলেন, ‘দেখা হতেই দুজনই ভাই আমার বলে জড়িয়ে ধরলাম। কুশল বিনিময় হলো। আমাদের কাছে পুরোনো নম্বর ছিল। দুজন নতুন নম্বর বিনিময় করলাম। প্রথম থেকে যে মাশরাফিকে দেখেছি সেই মাশরাফি এখনো আগের মতোই অমায়িক। এত বড় একজন খেলোয়াড়। তাঁর অনেক স্যাক্রিফাইস রয়েছে। যে কারণেই হয়তো বাংলাদেশের খেলাকে অন্য একটি উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। আবার তিনি দেশের জনপ্রতিনিধি। অথচ তাঁর সঙ্গে কথা বললে মনে হয়, পাশের বাড়ির ছেলেটা। যার মধ্যে কোনো অহংকার নেই। সদা চঞ্চল প্রকৃতির।’
চঞ্চল চৌধুরী
মাশরাফি কি তাহলে চঞ্চলের খবর রাখেন না? রাখেন বটে। ‘ভবের হাট’, ‘হাড় কিপটে’, ‘সাকিন সারিসুরি’, ‘তিন গ্যাদা’, ‘পাত্রী চাই’, ‘ঠোলের বাদ্য’, ‘গরু চোর’, ‘সার্ভিস হোল্ডার’সহ সিনেমা ‘মনপুরা’, ‘আয়নাবাজি’, ‘দেবী’, হালের ‘হাওয়া’ নিয়ে খোঁজখবর ভালোই রাখেন মাশরাফি। এমনকি ওটিটির ‘তাকদির’, ‘কারাগার’ সম্পর্কেও জানেন মাশরাফি। বিভিন্ন সময় আড্ডায় তাহলে মাশরাফি তাঁর কাজ নিয়ে কী বলেন?
চঞ্চল চৌধুরী
এ প্রশ্নে চঞ্চল বলেন, ‘এমন অনেকবার হয়েছে, দেখা হলেই মাশরাফি আগে আমার নাটকের সংলাপ বলেছে। যতবারই দেখা হোক, সে নাটকের সংলাপ বলবেই। আমার আগের গ্রামের যে নাটকগুলো খুবই জনপ্রিয়, সেগুলোর দারুণ ভক্ত মাশরাফি। আমাদের লাভলু ভাই, বৃন্দাবন দাস, শাহনাজ খুশি—এই জুটির অনেক নাটক, অন্য কাজগুলোও মাশরাফির দেখা। তার বাড়ি যশোর অঞ্চল হওয়ায় সে আমাদের আঞ্চলিক ভাষা ভালোভাবে বুঝতে ও বলতে পারে। আমাদের কাজগুলো তাকে বিনোদন দেয় এটাও শুনে ভালো লাগে।’ সর্বশেষ দেখা হলে ছবি তুলে রাখলেন চঞ্চল। সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে চঞ্চল লিখেছেন, ‘এই তো সেদিন এয়ারপোর্টে হঠাৎ দেখা। “ভাই আমার” বলে জড়িয়ে ধরা। অনেক বেশি আপন করে নেয় এই মানুষটা। এই তো আমাদের ক্যাপটেন ম্যাশ।’
Source: প্রথম আলো
মুক্তিযুদ্ধের ছবি, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ছবি
***********************************************************************
পংকজ পালিত তখন চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেন। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে প্রথম আলোর সাহিত্য পাতা ‘অন্য আলো’য় ‘মৃত্যু যেভাবে বাঁচায়’ নামে একটা গল্প পড়েন। সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরীর লেখা গল্পটি তাঁর হৃদয়ে এতটাই নাড়া দিয়েছিল যে তখনই ভেবেছিলেন, সেটি নিয়ে সিনেমা বানাবেন।
‘কোন প্রেক্ষাপটে গল্পটি লিখেছিলেন?’ এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠের কাছে নেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। ঘটনাস্থলেই কয়েকজন মারা যান, সেদিন জনসভার পথে স্বৈরাচারবিরোধী মিছিলে তিনিও (বিশ্বজিৎ চৌধুরী) ছিলেন। কাছ থেকে দেখা সেই ঘটনার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধকে জুড়ে দিয়ে গল্পটি লিখেছেন তিনি।
বিশ্বজিৎ চৌধুরীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সেই গল্প অবলম্বনেই পরে একটা চিত্রনাট্য লিখে অনুদানের জন্য জমা দেন পংকজ। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পেয়েই নেমে পড়েন নির্মাণে, এটিই তাঁর নির্মিত প্রথম কোনো সিনেমা।
মমিনুল ও আরিফা নামে দুই চরিত্রের জীবনের ‘না বলা গল্প’ নিয়েই একটি না বলা গল্প। দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন রওনক হাসান ও রুনা খান। একাত্তরে সদ্য তরুণ ও আশির দশকের শেষ ভাগে মধ্যবয়সী চরিত্রে পাওয়া গেছে তাঁদের।
চরিত্রের খোঁজে
‘মমিনুল চরিত্রে শাকিব খান কিংবা প্রতিষ্ঠিত কোনো নায়ক উপযুক্ত নন। আমি এমন একজনকে খুঁজছিলাম, যিনি নিজেকে ভাঙতে পারবেন; একই সঙ্গে তরুণ ও প্রৌঢ় চরিত্র ধারণ করতে পারবেন। সেটা রওনক হাসানের মধ্যে পেয়েছিলাম। আরিফা চরিত্রে রুনা খান খুব ভালো করেছেন, নিজেকে ভেঙেছেন,’ বলছিলেন নির্মাতা পংকজ পালিত।
‘মমিনুল চরিত্র ধারণ করলেন কীভাবে?’ রওনক হাসান জানান, ‘এ পর্যন্ত আমার অভিনীত সিনেমার মধ্যে এটিই সবচেয়ে কঠিন চরিত্র ছিল। ’৭১ ও ’৮৮ সালের আলাদা আলাদা চরিত্রে অভিনয় করা খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল, বেশ কয়েক রাত ঘুমাইনি। চরিত্রটি নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে আলাপ করেছি, তৌকীর (আহমেদ) ভাইয়ের সঙ্গে আলাপ করেছি। চরিত্রের প্রতি সুবিচারের চেষ্টা করেছি।’
২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রয়াত নির্মাতা সাজেদুল আউয়ালের ‘ছিটকিনি’ সিনেমার চিত্রগ্রহণ করেছেন পংকজ পালিত। সেই সিনেমায় অভিনয়ের সুবাদে রুনার সঙ্গে তাঁর পরিচয়। প্রথম নির্মাণেই রুনাকে নির্বাচন করেছেন পংকজ।
রুনা খান বলেন, ‘পরিচালক, সহশিল্পী রওনক ভাই, শিল্পনির্দেশক উত্তম গুহ দাদার সহযোগিতা পেয়েছি, পাশাপাশি অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজের চেষ্টা ছিল। যতটা সম্ভব আরিফাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করেছি।’
একটি না বলা গল্প
মমিনুল ও আরিফার বয়ানে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে তুলে এনেছেন নির্মাতা। সিনেমার গল্পে দেখা যাবে, একাত্তরে ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে ব্যর্থ হয়ে দেশে ফিরে আসে মমিনুল; এর ভেতর মমিনুলের জীবনে বহু গল্পের অবতারণা হয়। মমিনুলের বন্ধু ইকবাল মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়। তার স্ত্রী আরিফার জীবনেও ছাইচাপা আগুনের মতো অনেক ‘না বলা’ গল্প আছে। সিনেমার একপর্যায়ে এক ফ্রেমে আসে মমিনুল ও আরিফা।
একাত্তর ও আটাশিকে এই সময়ে তুলে আনাটা সহজ ছিল না। পংকজ পালিত বলেন, ‘এত বছর পর একাত্তরের দৃশ্য ধারণ করা খুব কঠিন, এমনকি ১৯৮৮ সালকেও ঠিকঠাকভাবে আনা যাচ্ছিল না। চট্টগ্রাম শহরের মধ্যে সেসব জায়গা খুঁজে বের করা কষ্টসাধ্য ছিল। ক্যামেরা ধরলেই এই সময়ের বিলবোর্ড সামনে আসে।’
দৃশ্যধারণের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সংগ্রহে থাকা একাত্তরের ফুটেজ সিনেমায় ব্যবহার করেছেন নির্মাতা। মুক্তি দেওয়ার আগেই বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র উৎসব থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন নির্মাতা; তবে দেশে মুক্তির আগে অন্য কোথাও পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না। এখন বাইরের উৎসবেও সিনেমাটি দেখাতে চান তিনি। সিনেমায় রওনক হাসান ও রুনা খান ছাড়া অভিনয় করেছেন প্রাণ রায়, নরেশ ভূঁইয়া, মোমেনা চৌধুরী।
ভারতের পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউিটে চিত্রগ্রহণে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে ঢাকায় এসে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চিত্রগ্রহণের ওপর শিক্ষকতা করেছেন পংকজ। চিত্রগ্রাহক হিসেবে দুই শতাধিক চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্রে কাজ করেছেন তিনি।
বাজেটে টান, ধারকর্জে রক্ষা
জীবনের প্রথম সিনেমা নির্মাণ করতে গিয়ে ঘাটে ঘাটে হোঁচট খেয়েছেন পংকজ পালিত। ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে নির্মিত সিনেমা খুব অল্প বাজেটে হয় না। সিনেমার দৃশ্যধারণ শেষ হওয়ার আগেই অনুদানের অর্থ ফুরিয়ে যায়। আর্থিক সংকটের মুখেও হাল ছাড়েননি। পংকজ পালিতের ভাষ্যে, ‘স্ত্রীর কাছে ঋণ করেছি, ছেলের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে সিনেমা করেছি। পোস্টার থেকে ব্যানার—সব নিজের পয়সায় করেছি। কারও কাছে স্পন্সর নিইনি।’
Source: প্রথম আলো
Install app for better experience