🛬 যে মানুষটি ১৮ বছর বিমানবন্দরে বাস করেছিলেন…
মেহরান করিমি নাসেরি কোনো পর্যটক ছিলেন না।
তিনি কোনো কর্মচারীও ছিলেন না।
তিনি ছিলেন—আক্ষরিক অর্থেই—একজন দেশহীন মানুষ, আধুনিক বিশ্বের মাঝখানে আটকে পড়া এক মানবজীবন।
প্রায় দুই দশক ধরে, প্যারিসের শার্ল দ্য গোল বিমানবন্দরই হয়ে উঠেছিল তার সবকিছু:
তার ঘর, তার রান্নাঘর, তার বিছানা, তার অনিশ্চিত অপেক্ষার জায়গা।
📄 সবকিছুর শুরু হয় যখন তিনি তার কাগজপত্র হারিয়ে ফেলেন।
আর ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই—কোনো দেশই তাকে গ্রহণ করল না।
তিনি আইনগতভাবে ফ্রান্সে ঢুকতে পারতেন না,
আবার অন্য কোথাও পাঠানোও সম্ভব ছিল না।
তাই তিনি থেকে গেলেন।
দিনের পর দিন। বছরের পর বছর।
একটা বেঞ্চে বসে, পাশে একটা ট্রলি, কয়েকটা বই,
আর মাঝপথে থেমে যাওয়া স্বপ্নগুলো নিয়ে।
👋 বিমানবন্দরের কর্মীরা ধীরে ধীরে তাকে চিনে ফেলল।
তারা তাকে খাবার দিত।
সকালবেলা শুভেচ্ছা জানাত।
যাত্রীরা পাশ দিয়ে হেঁটে যেত—
কেউ কৌতূহলী দৃষ্টিতে, কেউ আবার সহানুভূতিতে কিছু কয়েন রেখে যেত।
মেহরান একটি ডায়েরি লিখতেন,
আর সব সময় সই করতেন—“স্যার আলফ্রেড মেহরান” নামে।
এই নামটা তিনি নিজেই বেছে নিয়েছিলেন,
কারণ এটুকুই ছিল একমাত্র জিনিস
যেটা পৃথিবী তার কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারেনি।
🗂️ এক সময় তাকে কাগজপত্র দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
আশ্রয়।
নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ।
কিন্তু তিনি না বলেন।
কারণ সেই কাগজগুলোতে তার নাম ছিল না।
আর যে মানুষটা সবকিছু হারিয়েছে,
তার কাছে নামটাই ছিল শেষ সম্বল।
🎬 তার গল্প থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়েছিল হলিউডের সিনেমা
The Terminal, টম হ্যাঙ্কস অভিনীত।
কিন্তু মেহরানের বাস্তব জীবনের শেষটা কোনো চিত্রনাট্যের মতো ছিল না।
২০২২ সালে,
বিমানবন্দরের বাইরে বহু বছর কাটানোর পর,
তিনি আবার ফিরে আসেন সেই টার্মিনালে—
যেটা এক সময় ছিল তার আশ্রয়।
সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ঠিক সেই জায়গায়,
যেটা একসময় তাকে ধারণ করেছিল—
একই সঙ্গে অতিথি হিসেবে…
আর এক নীরব প্রেতছায়া হিসেবে।
✈️ কখনও কখনও,
সবচেয়ে দীর্ঘ যাত্রা…
হলো সেই যাত্রা,
যেখানে তুমি কখনও উড়েই উঠতে পারো না।