💔 মাত্র ৪ বছর বয়সে, চীনের গ্রামীণ অঞ্চলে কিয়ান হংইয়ান এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ট্রাকের ধাক্কায় তার দুই পা হারান।
তার পরিবার ছিল অত্যন্ত দরিদ্র। ব্যয়বহুল চিকিৎসা বা কৃত্রিম পা (prosthetic legs) জোগাড় করার সামর্থ্য তাদের ছিল না।
ফলে দীর্ঘ সময় ধরে তার জন্য স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
তখন তার দাদু এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করেন, যা পরে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
তিনি একটি বাস্কেটবল কেটে ফাঁপা করেন, ভেতরে তুলা দিয়ে নরম করে দেন, এবং ছোট্ট কিয়ানকে তার ভেতরে বসিয়ে দেন, যাতে সে ভারসাম্য রেখে হাতের সাহায্যে চলাফেরা করতে পারে। 🏀
দিনের পর দিন, সে হাতের ভর দিয়ে নিজেকে এগিয়ে নিত, বাস্কেটবলের ভেতর থেকেই জীবনের পথে এগিয়ে চলত।
২০০৫ সালে তার এই অনন্যভাবে চলাফেরার ছবি অনলাইনে এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ শুধু তার অদম্য মানসিক শক্তিতেই নয়, বরং তার দাদুর ভালোবাসা ও প্রচেষ্টাতেও গভীরভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে—যিনি সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তাকে স্বাধীনতা দিতে চেয়েছিলেন।
তখন থেকেই সে বিশ্বজুড়ে “Basketball Girl” নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। ❤️
পরবর্তীতে দান ও সহায়তা আসার পর, কিয়ান বেইজিংয়ে পেশাদার চিকিৎসা ও কৃত্রিম পা পাওয়ার সুযোগ পান, যা তার জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
কিন্তু তার গল্প শুধু সুস্থতায় থেমে থাকেনি।
তিনি পরে পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে সাঁতার প্রশিক্ষণ শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে এই খেলায় অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেন।
বছর কয়েক পরে, যে ছোট্ট মেয়ে একসময় বাস্কেটবলের ভেতরে গ্রাম ঘুরে বেড়াত, তিনি গর্বের সঙ্গে চীনকে প্রতিনিধিত্ব করেন প্যারালিম্পিক প্রতিযোগিতায়। 🏊♀️✨
আজ কিয়ান তার নিজ শহরে প্রতিবন্ধী মানুষদের সহায়তা করেন, নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্যদের পাশে দাঁড়ান যারা একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
তার গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
অদম্য মানসিক শক্তি সবসময় উন্নত প্রযুক্তি বা অর্থ দিয়ে শুরু হয় না।
কখনো কখনো তা শুরু হয় পরিবার, সৃজনশীলতা, এবং একজন মানুষকে কখনো না ছেড়ে দেওয়ার অটুট প্রতিশ্রুতি দিয়ে।