ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
যারা ঘটনাটি জানেন, তারা তো জানেনই; আর যারা জানেন না, তাদের জন্য বলছি—সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি হয়তো আপনারও চোখে পড়েছে। হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা সেই মেয়েটি আর আমাদের মাঝে নেই। মৃত্যুর আগে তার বুকের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, আর গলায় এতটাই প্রচণ্ড চাপ দেওয়া হয়েছিল যে তার শ্বাস নেওয়ার শ্বাসনালীটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল😥।
মাত্র ৭-৮ বছরের বৈবাহিক জীবন ছিল তার। কোলজুড়ে রয়েছে দুটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান😔। কিন্তু এই পুরোটা সময় তাকে সইতে হয়েছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির মানুষের অমানুষিক নির্যাতন। প্রতিনিয়ত অত্যাচারের শিকার হয়ে মেয়েটি বেশ কয়েকবার বাবার বাড়িতে আশ্রয়ও নিয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই 'সংসার টিকিয়ে রাখার' দোহাই দিয়ে, বুঝিয়ে-শুনিয়ে তাকে আবার সেই নরকেই ফেরত পাঠানো হয়েছে😭।
আজ বোনের মৃত্যুর পর ভাইয়ের বুকফাটা কান্না দেখে অনেকেরই হয়তো চোখ ভিজে উঠছে। কিন্তু নির্মম সত্য হলো, এই কান্নাকে এখন বড্ড 'মায়া কান্না' বলে মনে হয়। ভাইয়ের মতো ভাই হলে তো আজ বোনের এই পরিণতির পর নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে পশুর মতো সেই খুনিদের প্রকাশ্যে শাস্তি দিত। কারণ আমরা সবাই জানি, এই সমাজে এমন অপরাধের সঠিক এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার সহজে মেলে না।
আফসোস, হয়তো এই নির্মম হত্যাকাণ্ডেরও কোনো সঠিক বিচার হবে না। কিছুদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটু আলোচনা-সমালোচনা হবে, কদিন আইনি নাটক চলবে, তারপর একসময় সব ধামাচাপা পড়ে যাবে। শুধু চিরতরে হারিয়ে গেল একটি তাজা প্রাণ, আর মাতৃহীন হলো দুটি অবুঝ শিশু।
এই জানোয়ারের মৃত্যদন্ড হোক, কোন স্বামী এরকম করার সাহস না পাক....
আপনার মতামত কি?
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি জিবরীল (আ.)-কে ডেকে বলেন, ‘আমি অমুক বান্দাকে ভালোবাসি, তুমিও তাকে ভালোবাসো।’ তখন জিবরীল (আ.) তাকে ভালোবাসেন। এরপর তিনি আসমানবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করেন, ‘আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালোবাসেন, তোমরাও তাকে ভালোবাসো।’ তখন আসমানবাসীরাও তাকে ভালোবাসে। অতঃপর পৃথিবীতেও তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেওয়া হয়।”
— , হাদিস ৩২০৯; , হাদিস ২৬৩৭
তাই যদি নিজের মধ্যে নিচের বিষয়গুলো দেখতে পান:
• গুনাহ করার পর অন্তরে অনুশোচনা অনুভব করেন
• ক্লান্ত হলেও নামাজ পড়ার ইচ্ছা জাগে
• এমন বিষয় নিয়ে দোয়া করতে গিয়ে চোখ ভিজে যায়, যা শুধু আল্লাহই জানেন
• পরীক্ষার পর পরীক্ষার মধ্যেও ঈমান আঁকড়ে ধরে থাকেন
• দিনের বিভিন্ন সময়ে বারবার আল্লাহর কথা মনে পড়ে
• ভুল করার পর আবার তাঁর দিকেই ফিরে আসেন
• কুরআনের আয়াত শুনলে হৃদয় নরম হয়ে আসে
তবে এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার জন্য কল্যাণ চাওয়ার সুন্দর লক্ষণ হতে পারে।
মনে রাখবেন, আল্লাহর ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ কোনো স্বপ্ন, অনুভূতি বা দুনিয়াবি সফলতা নয়; বরং তাঁর আনুগত্যের পথে আপনাকে স্থির রাখার তাওফিক। যদি তিনি আপনাকে বারবার তাঁর দিকে ফিরিয়ে আনেন, তবে সেটি তাঁর অসীম রহমতেরই নিদর্শন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।
Install app for better experience