টানা তিন বছর তিনি বিছানা ছেড়ে উঠতেই পারেননি। 💔
মাত্র ২২ বছর বয়সে, খালিদ বিন মোহসেন শাআরি (Khalid bin Mohsen Shaari)-এর ওজন ছিল প্রায়—
⚖️ ৬১০ কিলোগ্রাম (১,৩৪৫ পাউন্ড)
যার ফলে তিনি বিশ্বের ইতিহাসে নথিভুক্ত সবচেয়ে ভারী মানুষের অন্যতম হয়ে ওঠেন।
তার শারীরিক অবস্থা এতটাই গুরুতর হয়ে পড়েছিল যে তিনি আর নিজের দৈনন্দিন কাজগুলোও একা করতে পারতেন না।
খুব সাধারণ কাজগুলোও, যেমন—
🚶 চলাফেরা করা
🚿 গোসল করা
🍽️ খাবার খাওয়া
—সবকিছুর জন্য অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন হতো।
একপর্যায়ে তার পরিস্থিতি সৌদি আরবজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
তাকে উদ্ধার করার অভিযান ছিল এমন এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, যা অধিকাংশ চিকিৎসা দল আগে কখনো দেখেনি। 🏥
খালিদকে স্বাভাবিক উপায়ে বাড়ি থেকে বের করা সম্ভব ছিল না।
তাই তাকে বের করার জন্য শ্রমিকদের তার বাড়ির কিছু অংশ আংশিক ভেঙে ফেলতে হয়েছিল বলে জানা যায়।
দ্বিতীয় তলা থেকে তাকে নামানোর জন্য ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় এবং পরে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এই পুরো চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয় সৌদি সরকারের সহায়তায়—
👑 বাদশাহ আবদুল্লাহর নির্দেশনায়,
যিনি তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সমস্ত ব্যয় বহন করেছিলেন।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিশেষজ্ঞদের একটি বহুমুখী দল তার জন্য একটি সমন্বিত চিকিৎসা পরিকল্পনা শুরু করে, যার মধ্যে ছিল—
⚕️ ওজন কমানোর অস্ত্রোপচার (ব্যারিয়াট্রিক সার্জারি)
🥗 কঠোর খাদ্য নিয়ন্ত্রণ
💪 ফিজিওথেরাপি
🏥 নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা
এরপর শুরু হয় এক অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের গল্প।
মাসের পর মাস খালিদের ওজন কমতে থাকে।
একই সঙ্গে তিনি ধীরে ধীরে ফিরে পান চলাফেরার সক্ষমতা এবং নিজের কাজ নিজে করার স্বাধীনতা।
পরবর্তী বছরগুলোতে অতিরিক্ত ওজন কমে যাওয়ার ফলে শরীরে ঝুলে পড়া অতিরিক্ত চামড়া অপসারণের জন্যও তার একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয়।
২০১৭ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তিনি কমিয়েছেন—
📉 ৫৪০ কিলোগ্রামেরও বেশি (প্রায় ১,১৯০ পাউন্ড) ওজন।
এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে নথিভুক্ত সবচেয়ে বড় ওজন হ্রাসের ঘটনাগুলোর একটি।
তবে সংখ্যার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল এর অর্থ।
যে মানুষটি একসময় বিছানা ছেড়ে উঠতেই পারতেন না...
🚶 তিনি আবার হাঁটতে শিখলেন।
😊 নিজের স্বাধীনতা ফিরে পেলেন।
❤️ জীবনের সেই অংশগুলো আবার ফিরে পেলেন, যেগুলো একসময় চিরতরে হারিয়ে গেছে বলেই মনে হয়েছিল।
জানা যায়, সুস্থ হওয়ার সময় হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীরা তাকে একটি বিশেষ ডাকনাম দিয়েছিলেন—
"দ্য স্মাইলিং ম্যান" (হাসিখুশি মানুষ)।
কারণ তার পথচলা সহজ ছিল বলে নয়।
বরং বছরের পর বছর কঠিন সংগ্রামের মধ্যেও তিনি কখনো এগিয়ে যাওয়া থামাননি।
তার জীবনগাথা আজও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, অদম্য মানসিক শক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা একসঙ্গে কী অসাধারণ পরিবর্তন আনতে পারে—তার অন্যতম অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ✨