নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, নিয়মিত গাঁ*জা সেবনের সঙ্গে হৃদরোগে মৃ*ত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। গবেষকরা জানান, গাঁ*জা সেবনকারীদের মধ্যে হৃদরোগজনিত কারণে মৃ*ত্যুর আশঙ্কা গাঁ*জা না সেবনকারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেশি।
এই গবেষণায় হাজার হাজার মানুষের স্বাস্থ্যগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়, যেখানে দেখা যায় যারা দৈনন্দিন বা নিয়মিত গাঁ*জা ব্যবহার করেন, তাদের হার্ট অ্যা*টাক, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কিংবা হৃদপিণ্ডের অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি অনেক বেশি। বিশেষ করে যারা ধূমপানের মাধ্যমে গাঁ*জা গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও তীব্র হতে পারে, কারণ গাঁ*জার ধোঁয়া রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে এবং রক্তচাপ বাড়ায়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ তৈরি করে।
গবেষকরা আরও বলেন, অনেকেই গাঁ*জাকে তুলনামূলক নিরাপদ ভেবে ব্যবহার করেন, কিন্তু এর স্বাস্থ্যঝুঁকি বিশেষ করে হৃদ্যন্ত্রের জন্য কতটা গুরুতর হতে পারে, তা এখনো অনেকের অজানা। তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, গাঁ*জা ব্যবহারের আগে এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সমুদ্রের সন্তান: ইন্দোনেশিয়ার বাজাউ জাতি 🌊
বাজাউ — এক রহস্যময় জাতি, যাদের পরিচয় জলমানব হিসেবে!
তারা জন্মায় সমুদ্রে, বেড়ে ওঠে ঢেউয়ের সাথে, আর তাদের জীবনভর ঠিকানা হয় জলরাশির বুকে।
ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপপুঞ্জ ঘিরে তারা ভাসমান নৌকায় বাস করে, যেটা তাদের ঘরও, রান্নাঘরও, আর বিশ্রামের স্থানও।
স্থলভূমি তাদের কাছে যেন অতিথি — কদাচিৎ প্রয়োজন হলে তবেই তারা মাটিতে পা রাখে।
🏊♂️ তাদের বিশেষত্ব কী?
বাজাউদের শরীর দীর্ঘসময় পানির নিচে থাকার জন্যই যেন গড়ে উঠেছে।
তারা অক্সিজেন ট্যাঙ্ক ছাড়াই এক নিঃশ্বাসে ৫-১৩ মিনিট পর্যন্ত পানির নিচে থাকতে পারে।
তাদের প্লীহা (spleen) সাধারণ মানুষের তুলনায় বড়, যা রক্তে বেশি অক্সিজেন ধারণে সাহায্য করে — বিজ্ঞানীরাও অবাক!
🐟 তারা মাছ ধরতে ডুবে যায় ৭০ মিটার পর্যন্ত গভীরতায় — যেখানে অন্যদের যাওয়া সম্ভব নয়।
📿 প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা শিখেছে সমুদ্রকে পড়তে, ঝড় বুঝতে, মাছের ভাষা ধরতে।
এইরকম বিস্ময়কর মানুষগুলোর গল্প জানলে সত্যিই মনে হয় —
👉 মানুষ প্রকৃতির সাথে এতো গভীরভাবে মিশে যেতে পারে?
তারা যেন জলপরীদের বাস্তব রূপ!
ইতিহাসে এমন কিছু প্রাণী ছিল যাদের আকার কল্পনারও বাইরে। তাদেরই একটা হলো 'আর্কেলন', পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কচ্ছপ। প্রায় ৭৪ মিলিয়ন বছর আগে লেট ক্রিটেশিয়াস যুগে, সমুদ্রে যখন বিশাল টিকটিকির মতো সরীসৃপ রাজত্ব করছিল, তখনই হাজির হয়েছিল এই দৈত্যাকৃতির কচ্ছপ।
আর্কেলন ছিল প্রায় ৪.৬ মিটার লম্বা, ডানার বিস্তার ৫ মিটার এবং ওজন একটি পূর্ণবয়স্ক গণ্ডারের সমান, প্রায় ২০৪০ কেজির মতো। আকারে বিশাল হলেও পানিতে সাঁতার কাটতে অসুবিধা হতো না বরং পেঙ্গুইনের মতো ভেসে বেড়াত। শক্ত বাঁকানো চঞ্চু দিয়ে সহজেই ঝিনুক ভাঙতে পারত। আবার জেলিফিশের মতো নরম প্রাণীও খেত।
এদের প্রধান আবাস ছিল Western Interior Seaway, যা একসময় উত্তর আমেরিকাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছিল। ইউরোপেও লেভিয়াথানোকেলিস নামের প্রায় ৪ মিটার লম্বা আরেক বিশাল কচ্ছপের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় কচ্ছপ হলো চামড়াযুক্ত সামুদ্রিক কচ্ছপ বা লেদারব্যাক টার্টল, যাদের দৈর্ঘ্য ১.৫ থেকে ১.৮ মিটার পর্যন্ত হয়। আর্কেলনের তুলনায় ছোট হলেও আজকের দিনে এরাই সমুদ্রের টাইটান।
অতিরিক্ত চর্বি জমে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত? ৩টি অভ্যাসে সমাধান (Fatty liver damaged by excessive fat? Solution in 3 habits)
আপনার লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে ক্ষতিগ্রস্ত হলে, নিম্নলিখিত ৩টি অভ্যাস অনুসরণ করে এর সমাধান করতে পারেন:
স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ:
চিনি, অতিরিক্ত লবণ এবং ভাজা খাবার (যেমন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ভাজা মুরগি) এড়িয়ে চলুন.
প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার (মাছ, ডিম, মুরগির মাংস) এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি (বাদাম, অ্যাভোকাডো, অলিভ অয়েল) গ্রহণ করুন.
প্রতিদিনের রান্নায় কম তেল ব্যবহার করুন এবং স্বাস্থ্যকর তেল যেমন সরিষার তেল বা অলিভ অয়েল বেছে নিন.
ফল, শাকসবজি এবং আস্ত শস্যদানা (Whole Grains) বেশি করে খান.
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম:
নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক কার্যকলাপ (যেমন brisk walking, cycling, swimming) লিভারের চর্বি কমাতে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে.
সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি-তীব্রতার ব্যায়ামের লক্ষ্য রাখুন.
সচেতন জীবনযাপন:
মদ্যপান সীমিত করুন বা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলুন, কারণ অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের ক্ষতি করতে পারে.
ধূমপান ত্যাগ করুন, কারণ ধূমপান ফ্যাটি লিভার রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে.
যদি আপনার ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকে, তবে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখুন.
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন এবং মানসিক চাপ কমানোর জন্য মেডিটেশন বা যোগব্যায়ামের মতো অভ্যাস গড়ে তুলুন.
গুরুত্বপূর্ণ: ফ্যাটি লিভার রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত উপসর্গহীন থাকে, তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা (বিশেষ করে লিভার ফাংশন টেস্ট) করানো গুরুত্বপূর্ণ.
কলা কেন সোজা হয় না?
ছোটবেলার এই প্রশ্নের উত্তর দেবে বিজ্ঞান।
কলা এমন একটি ফল, যা প্রায় সব মরসুমেই বিক্রি হয়। এমনকি সস্তার ফলের তালিকায় এর নাম রয়েছে। কিন্তু কখনও মনে এমন প্রশ্ন এসেছে যে, কলা কেন বাঁকা হয়? কলা কি সোজা হতে পারে না? নাকি শুধু পাকা কলাই বাঁকা হয়? এমন তো আর কোনও ফল নেই যারা গাছেই বেঁকে যায়। তাহলে কলাই কেন সোজা না হয়ে বেঁকে যায়? সব কিছুর পিছনেই কোনও না কোনও কারণ থাকে। আর তাই কলার বাঁকা হওয়ার পিছনেও একটি বৈজ্ঞানিক কারণ (Scientific Reason) রয়েছে। আর সেই কারণ বহু মানুষেরই অজানা। তাই সব প্রশ্নের উত্তর এখানে পেয়ে যাবেন।
কলা সোজা হয় না কেন?
শুরুতে গাছে যখন কলার ফুল আসে অর্থাৎ মোচা ধরে, তখন মোচার পাপড়ির নীচে সারি সারি ছোট কলা গজাতে থাকে। প্রতিটি পাতার নীচে এক গুচ্ছ করে কলা থাকে। প্রথমে কলা মাটির দিকে চলে যায়। কয়েকদিন পরে কলাগুলি বড় হওয়ার সময় ধীরে-ধীরে বেঁকতে থাকে। এক কারণকে বিজ্ঞানের ভাষায় নেগেটিভ জিওট্রপিজম বলা হয়।
কী এই নেগেটিভ জিওট্রপিজম?
যখন সূর্যের দিকে কোনও ফল বেড়ে ওঠে তখন তাকে নেগেটিভ জিওট্রপিজম বলা হয়। গাছের ফলের বৃদ্ধি ফটোট্রপিজম , গ্র্যাভিটিজম ও অক্সিনের উপর নির্ভর করে। সে হিসেবে অন্যান্য বৃক্ষ বা ফলের মতো কলার পাতা ও ফল গ্র্যাভিটির জন্য নিচের দিকে ঝুলে থাকে। কিন্তু কলা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলোর দিকে বাড়তে শুরু করে, যার কারণে কলার আকৃতি বাঁকা হয়ে যায়। ঠিক যেমন সূর্যমুখী ফুল সবসময় সূর্যের আলোর দিকে থাকে এবং সন্ধ্যায় সূর্য যেমন তার দিক পরিবর্তন করে, সূর্যমুখী ফুলও তার দিক পরিবর্তন করে। এ কারণে এই ফুলের নাম সূর্যমুখী, যার অর্থ সূর্যের দিকে মুখ করা। ঠিক কলার ক্ষেত্রেও এমনটাই হয়।
কলার বটানিক্যাল হিস্ট্রি সম্পর্কে জেনে নিন:
কলার বটানিক্যাল হিস্ট্রি অনুসারে, কলাগাছ ট্রপিকাল রেইনফরেস্ট বৃক্ষ হওয়ায়, এটিকে অনেক গাছের মাঝখানে ও নীচে থাকতে হয়। সেজন্য সুর্যের আলো কলা গাছে পৌঁছাত না। তাই কলা জন্মানোর জন্য গাছগুলি সেই পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নেয়। তবে, আজকালকার দিনে অনেক খোলা জায়গায় কলা গাছ হয়। আর তাই কলা গাছ রোদ পায়। যেহেতু কলা গাছ রোদ কম পায় তাই সূর্যের আলো পাওয়ার জন্য কলার কুড়ি থেকে ফল গ্র্যাভিটির দিকে বৃদ্ধি পায়। প্রথমে মাটির দিকে, তারপর আকাশের দিকে বাড়তে থাকায় কলার আকার বাঁকা হয়ে যায়।
আপনি কি কখনও সোজা কলা দেখেছেন?
পৃথিবীতে এক হাজারেরও বেশি প্রজাতির কলা রয়েছে। রং, আকৃতি বিশেষে অনেক ধরনের কলা পাওয়া যায়। তবে সেই সব কলার মধ্য়ে বেশিরভাগ কলাই বাঁকা। তবে সোজা কলা পাওয়া যায় না এ ধারণা একেবারেই ভুল। এমন অনেক প্রজাতির কলা আছে, যেগুলি সূর্যের দিকে বাড়ে না। অর্থাৎ ওদের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নেগেটিভ জিওট্রপিজমের কোনও ভূমিকা নেই।
Install app for better experience