সিংহমুখী সেই ছেলে, যে শুধু একজন মানুষ হিসেবে দেখা যেতে চেয়েছিল 🦁
স্টেফান বিব্রোস্কির জন্ম ১৮৯০ সালে পোল্যান্ডের বিয়েলস্ক শহরে। জন্মের প্রথম নিশ্বাস থেকেই পৃথিবী তাকে “ভিন্ন” হিসেবে দেখেছিল।
তার শরীর মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঘন, ফ্যাকাশে লোমে ঢাকা ছিল—একটি বিরল রোগ হাইপারট্রাইকোসিস-এর কারণে।
এ দৃশ্য দেখে তার মায়ের ঠোঁট থেকে বেরিয়েছিল মাত্র একটি শব্দ—
“অভিশাপ।”
এবং তিনি তাকে ত্যাগ করেন।
কিন্তু যা কারও কাছে ছিল লজ্জা, অন্যদের কাছে তা ছিল প্রদর্শনীর বস্তু। এক শোম্যান তাকে নিজের তত্ত্বাবধানে নিল—রক্ষা করার জন্য নয়, বরং প্রদর্শনের জন্য। ইউরোপের ধুলোমাখা মেলা থেকে আমেরিকার জাঁকজমকপূর্ণ মঞ্চ পর্যন্ত, মানুষ তাকে দেখতে ভিড় করল।
আর তারা তাকিয়েই থাকত।
“লায়োনেল দ্য লায়ন-ফেসড ম্যান” নামের মঞ্চনামে তিনি বার্নাম অ্যান্ড বেইলি সার্কাসের সঙ্গে ভ্রমণ করতেন। মানুষ বিস্ময়ে হাঁ করে তাকাত। ক্যামেরার ঝলকানি পড়ত। পোস্টারে লেখা থাকত—“অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক পশু।”
কিন্তু সেই কেশরের আড়ালে বাস করত এক কোমল আত্মা—
পাঁচটি ভাষায় পারদর্শী, বই ভালোবাসতেন, আর ছিলেন এক স্বপ্নবাজ।
খ্যাতির স্বপ্ন নয়।
বরং অনেক শান্ত একটি স্বপ্ন—
তিনি হতে চেয়েছিলেন একজন দন্তচিকিৎসক।
শুধু প্রদর্শিত হতে নয়, কিছু গড়ে তুলতে।
শুধু অভিনয় করতে নয়, আরোগ্য দিতে।
সে সুযোগ তিনি কখনও পাননি।
পৃথিবী তাকে কখনও মঞ্চের বাইরে নামতে দেয়নি।
স্টেফান জীবন কাটিয়েছেন এক আকর্ষণ হিসেবে, কিন্তু মৃত্যুবরণ করেছেন গভীর মর্যাদাসম্পন্ন একজন মানুষ হিসেবে—একটি স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে বাহ্যিক রূপ বিভ্রান্ত করতে পারে, আর বিস্ময় অনেক সময় ভুল পোশাক পরে আসে।
তিনি কোনো দানব ছিলেন না।
তিনি ছিলেন লোমে মোড়া মানবিক দৃঢ়তা।
আর তার গল্পটি এই নয় যে কী তাকে আলাদা করেছিল—
বরং এই যে, কীভাবে তিনি এমন এক পৃথিবীতে, যা তাকে কিংবদন্তিতে পরিণত করতে চেয়েছিল, সুন্দরভাবে ও দৃঢ়ভাবে নিজেই থেকে গিয়েছিলেন।