ইরাকি কুর্দিস্তানে ৬৯ বছর বয়সী ইহসান মুহসিন প্রতিটি গরম গ্রীষ্মের দিন একই নীরব রুটিন মেনে চলেন। তিনি কালারের রজগারি এলাকায় থাকেন, আর প্রতিদিন সকালে এবং আবার সন্ধ্যায় তিনি পানিভর্তি প্লাস্টিকের বোতল হাতে বাড়ি থেকে বের হন। ধাপে ধাপে তিনি শুকনো, জনশূন্য সমতল ভূমি পেরিয়ে যান—যেখানে তিনি পাখি ও বন্য প্রাণীদের জন্য তৈরি করে রাখা প্রায় ১৭টি ছোট পানির জায়গায় পৌঁছান।
গত প্রায় দুই বছর ধরে তিনি গ্রীষ্মকাল এলেই এ কাজটি করে আসছেন। এই সময়ে প্রায় পুরোপুরি বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়, নদী ও কূপের পানির স্তর নেমে যায়, আর মরুভূমিতে জীবন আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তাঁর এই প্রচেষ্টার কারণে কবুতর, চড়ুই, খরগোশসহ নানা প্রাণী এই ছোট পানির স্টেশনগুলোর সঙ্গে পরিচিত হয়ে গেছে। তারা প্রায়ই আশেপাশে বসে অপেক্ষা করে, কারণ তারা জানে—ইহসান তাজা পানি নিয়ে আসবেন।
এর পেছনে কোনো দাতব্য সংস্থা নেই, কোনো দল নেই, এমনকি কোনো ক্যামেরাও নেই। তিনি শুধু বাড়িতে বোতলগুলো ভরে নেন, প্রচণ্ড রোদের মধ্যে হাঁটতে বের হন, আর তারপর নীরবে এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন যখন প্রাণীগুলো এসে পানি পান করে। তিনি বলেন, যত গরমই হোক বা যত ক্লান্তই লাগুক—তিনি প্রতিদিনই বের হন।
যে সময়ে জলবায়ু সংক্রান্ত খবরগুলো প্রায়ই ভারী ও হতাশাজনক মনে হয়, তখন তাঁর এই সাধারণ দৈনন্দিন হাঁটা এক ছোট কিন্তু অটল দয়ার কাজ—যা এসব প্রাণীর জীবন টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।