সারোগেট মায়ের পেট ক্রমাগত বড় হচ্ছিল — আল্ট্রাসাউন্ডে ডাক্তাররা যা দেখলেন তা তাদের স্তব্ধ করে দিল
একজন তরুণী এক নিঃস্বার্থ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন: তিনি একজন সারোগেট মা হবেন (অন্যের সন্তান নিজের গর্ভে ধারণ করা)। কিন্তু গর্ভাবস্থা যত এগোতে লাগল, মনে হচ্ছিল কোথাও কোনো বড় ধরনের গোলমাল হচ্ছে। তার পেট প্রত্যাশার চেয়েও বহুগুণ বেশি বড় হয়ে যাচ্ছিল এবং সেই সাথে শুরু হলো অসহ্য যন্ত্রণা।
আতঙ্কিত হয়ে তিনি দ্রুত আল্ট্রাসাউন্ড করাতে ছুটলেন।পর্দায় যা ভেসে উঠল তা কোনো ট্র্যাজেডি বা দুর্ঘটনা ছিল না—বরং তা ছিল এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। পুরো ঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল; ডাক্তাররা অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে একে অপরের দিকে তাকাতে লাগলেন এবং যা দেখছেন তা নিয়ে নিচু স্বরে ফিসফিস করতে শুরু করলেন।
এমন একটি মুহূর্ত যা সবকিছু বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে—এবং যা পুরো মেডিকেল টিমকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছিল।আল্ট্রাসাউন্ড রুমের ভেতরে পিনপতন নীরবতা।
মনিটরের ঝাপসা সাদা-কালো ছবির দিকে তাকিয়ে ডাক্তাররা নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তরুণী সারোগেট মা ব্যথায় কোঁকাচ্ছিলেন, কিন্তু ডাক্তারদের স্তব্ধতা দেখে তার ভয় আরও বেড়ে গেল। তিনি কাঁপা কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলেন, "ডাক্তার, সব ঠিক আছে তো? আমার বাচ্চাটা কি সুস্থ?"
প্রধান ডাক্তার চশমাটা ঠিক করে নিয়ে গদগদ স্বরে বললেন, "মিসেস চৌধুরী, গত ২০ বছরের ক্যারিয়ারে আমি এমনটা দেখিনি। আপনার গর্ভে কোনো সমস্যা নেই, বরং যা আছে তা চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক পরম বিস্ময়!"
মনিটরে দেখা গেল, সেখানে কেবল একটি বা দুটি নয়, বরং পাঁচটি হৃদপিণ্ড স্পন্দিত হচ্ছে! কিন্তু অবাক করার বিষয় সেটি ছিল না। আসল চমক ছিল অন্য জায়গায়। ডাক্তাররা দেখলেন, পাঁচটি শিশুর মধ্যে একটি শিশু অন্য চারটিকে যেন পরম মমতায় জড়িয়ে ধরে আছে।
সাধারণত মাল্টিপল প্রেগন্যান্সিতে ভ্রূণগুলোর মধ্যে জায়গার জন্য লড়াই হয়, কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছিল তারা একটি অদ্ভুত জ্যামিতিক বিন্যাসে অবস্থান করছে, যা দেখতে হুবহু একটি পদ্মফুলের মতো।
মেডিকেল ভাষায় একে বলা হয় "The Lotus Formation," যা লাখে একজন সারোগেট মায়ের ক্ষেত্রেও ঘটে না। আরও বড় বিস্ময় ছিল এটি যে, ওই তরুণী যাদের হয়ে সারোগেসি করছিলেন, সেই নিঃসন্তান দম্পতিকে ডাক্তাররা আগে জানিয়েছিলেন তাদের কেবল একটি সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু গর্ভের ভেতরে কোষ বিভাজনের এক অলৌকিক প্রক্রিয়ায় সেটি পাঁচটিতে রূপ নিয়েছে।
কয়েক মাস পর, পুরো হাসপাতাল যখন কড়া নিরাপত্তায় মোড়া, তখন একে একে পাঁচটি ফুটফুটে সুস্থ শিশুর জন্ম হলো। সেই নিঃসন্তান দম্পতি, যারা একটি সন্তানের জন্য বছরের পর বছর কেঁদেছেন, তারা আজ পাঁচ সন্তানের বাবা-মা।
তরুণীটি যখন সুস্থ হয়ে উঠলেন, তিনি দেখলেন তার সেই ত্যাগের পুরস্কার হিসেবে ওই পরিবার তাকে কেবল অর্থ নয়, বরং তাদের পরিবারের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ করে নিয়েছে। যে পেট বড় হওয়া নিয়ে একসময় আতঙ্ক ছিল, আজ সেই পেট থেকে আসা পাঁচটি প্রাণ পুরো পৃথিবীর সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে উঠল।
ডাক্তাররা সেদিন যা দেখেছিলেন, তা কেবল চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্য ছিল না—তা ছিল প্রকৃতির এক অমোঘ আশীর্বাদ, যা প্রমাণ করে দিল যে নিঃস্বার্থ ত্যাগের প্রতিদান সবসময়ই বিস্ময়কর হয়।