জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন পানির ভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছেন, যা APM 08279+5255 নামের একটি দূরবর্তী কোয়াসারকে ঘিরে রয়েছে। এই কোয়াসারটি পৃথিবী থেকে বারো বিলিয়নেরও বেশি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে এবং এটি একটি অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর দ্বারা চালিত।
এর চারপাশে রয়েছে এক বিশাল গ্যাসমেঘ, যেখানে পৃথিবীর সব মহাসাগরে থাকা পানির মোট পরিমাণের প্রায় একশ চল্লিশ ট্রিলিয়ন গুণ পানি রয়েছে। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে বিগ ব্যাংয়ের প্রায় দুই বিলিয়ন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, অর্থাৎ মহাবিশ্বের একেবারে শুরুর দিকেই পানি আশ্চর্যজনকভাবে বিদ্যমান ছিল।
কোয়াসারটির কৃষ্ণগহ্বর গ্যাস ও ধূলিকণা গ্রাস করছে, যার ফলে বিপুল শক্তি নির্গত হচ্ছে এবং আশপাশের অঞ্চল চরম তাপমাত্রায় উত্তপ্ত হচ্ছে। এত সহিংস পরিবেশের মধ্যেও পানির অণুগুলো গঠিত হতে পেরেছে এবং টিকে থেকে কোয়াসারের বিশাল গ্যাসমেঘের ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর অর্থ হলো, জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পৃথিবীর মতো গ্রহের অস্তিত্বের অনেক আগেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উপস্থিত ছিল।
এত প্রাচীন সময়ে এত বিপুল পরিমাণ পানি আবিষ্কৃত হওয়ায় বিজ্ঞানীরা তরুণ মহাবিশ্ব সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়া আগে ধারণা করা সময়ের চেয়ে অনেক দ্রুত বিকশিত হয়েছিল, এবং জীবনের মূল উপাদান পানি হয়তো মহাবিশ্বজুড়ে কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি সাধারণ।
এই আবিষ্কার আমাদের গ্যালাক্সি ও কৃষ্ণগহ্বরের গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণাকে বিস্তৃত করে এবং বোঝাতে সাহায্য করে যে মহাবিশ্ব কীভাবে জীবনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করার উপকরণ তৈরি করেছে।