বাংলাদেশের কোন অপারেটরের নেটওয়ার্ক গতি সবচেয়ে ভালো
এটা নির্ভর করবে আপনার এলাকার নেটওয়ার্কের উপর । একটা উদাহরণ দিলেয় বুঝবেন । মনে করেন আপনি দুইটি সিম ব্যবহার করেন । সেখানে আপনার বাড়ির কাছে বাংলালিংক অপারেটরের টাওয়ার আছে ।
বাড়ি থেকে অনেক দূরে গ্রামীণফোনের টাওয়ার আছে । সেখানে দেখা যায় বাংলালিংক এর নেটওয়ার্ক গতি সবচেয়ে ভালো পাওয়া যাবে । অবশ্যই গ্রামীনফোনের নেটওয়ার্ক কম পাওয়া যাবে ।
কাছের টায় বেশি গতি পাবে । কারণ সব সিম এখন ৪জি ব্যবহার করে । ৫জির প্রস্তুতি চলছে ।যেমন আপনি যদি টেলিটক ব্যবহার করে থাকেন তাহলে বিষয়টি আরও ভালো বুঝতে পারবেন ।
শহর অঞ্চলে টেলিটক খুব ভালো ভাবে ব্যবহার করা যায় । কিন্তু গ্রাম অঞ্চলে নেটওয়ার্কে সিগনাল ও খুঁজে পাওয়া যায় না । কারণ সেই সব জায়গায়তে টেলিটকের টাওয়ার খুব কম ।
তাই বলা যায় এটা আপনার ডিভাইস ও কাছের টাওয়ার এর উপর নির্ভর করে অনেকটা । ধন্যবাদ ।
উইন্ডোজ কম্পিউটারের গতি বাড়াবেন যেভাবে
***********************************************************************
আপনার পারসোনাল কম্পিউটার (পিসি) একটু পুরোনো হয়েছে। তার ওপর ভারী ভারী সফটওয়্যার ইনস্টল করা। নিয়মিত অ্যান্টিভাইরাসও দেওয়া হচ্ছে না। সব মিলিয়ে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে চলা পিসির গতি কমে গেছে। আবার নতুন পিসিরও গতি কমে যেতে পারে। যদি আপনার পিসির গতি কম থাকে, তবে কিছু পরামর্শ অনুসরণ করতে পারেন। এতে পিসির গতি বাড়তে পারে।
১
আপনার পিসিতে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ও অন্য যন্ত্রাংশের চালক সফটওয়্যারের সর্বশেষ হালনাগাদ দেওয়া আছে কি না, দেখুন। না থাকলে এখনই দিন। এ জন্য স্টার্ট বাটন থেকে সেটিংসে গিয়ে উইন্ডোজ আপডেট এবং চেক ফর আপডেটে চাপুন। যদি ‘ইউ আর আপ টু ডেট’ লেখা থাকে, বুঝবেন পিসি হালনাগাদ আছে। আর যদি ‘আপডেটস আর অ্যাভেইলেবল’ লেখা থাকে, আপডেট দিয়ে দিন। তাতে আপনার পিসিরি গতি বাড়তে পারে।
২
একই সময়ে অনেক অ্যাপ, প্রোগ্রাম ও ওয়েব ব্রাউজার খোলা থাকলে কম্পিউটারের গতি কমে যায়। একই সময়ে ব্রাউজারে অনেক ট্যাব খোলা থাকলেও গতি কমে যেতে পারে। যদি এমনটা হয়ে থাকে, তবে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ, ট্যাবগুলো বন্ধ রাখুন। এতেও যদি গতি না বাড়ে, তবে পিসি রিস্টার্ট দিন এবং কেবল প্রয়োজনীয় অ্যাপ, প্রোগ্রাম ও ব্রাউজার খুলুন, দেখবেন গতি বাড়ছে।
৩
গতি বাড়াতে উইন্ডোজের রেডিবুস্ট ফিচার ব্যবহার করতে পারেন। রেডিবুস্টের মাধ্যমে আপনি ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ বা এসডি কার্ডকে একটি অতিরিক্ত র্যামের মতো ব্যবহার করে পিসি না খুলেই গতি বাড়াতে পারেন। রেডিবুস্ট ব্যবহারের জন্য আপনার ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ বা মেমরি কার্ড থাকতে হবে এবং সেটিতে অন্তত ৫০০ মেগাবাইট খালি জায়গা এবং উচ্চ ডেটা ট্রান্সফার রেট থাকবে হবে।
৪
আপনার হার্ডডিস্কের পেজিং ফাইলকে উইন্ডোজ মেমোরির মতো ব্যবহার করে। উইন্ডোজ ১১–তে একটি সেটিংস আছে, যা পেজ ফাইল আকারকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালায়। আপনার উইন্ডোজে এই সেটিংস ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, নিশ্চিত হোন। এটি পিসির গতি বাড়ায়।
৫
আপনার পিসির ডিস্কে জায়গা কমে গেছে কি না, দেখুন। এমন হলে ডিস্ক খালি করেও পিসির গতি বাড়াতে পারেন। এই ক্ষেত্রে আপনি আপনার যন্ত্রাংশ থেকে অপ্রয়োজনীয় বা অস্থায়ী কিছু ফাইল মুছে ফেলতে পারেন।
৬
উইন্ডোজ ১১ সংস্করণে অ্যানিমেশন ও শ্যাডো ইফেক্টের মতো অনেক ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট আছে। শুনতে দারুণ মনে হলেও এতে অপারেটিং সিস্টেমের অতিরিক্ত শক্তি খরচ হয়। এর ফলে পিসির গতি কমে যায়। আর পিসির র্যাম যদি কম থাকে, তবে এটি আরও বেশি কার্যকর। তাই উইন্ডোজের উপকরণ ও কর্মক্ষমতার মধ্যে সামঞ্জস্য করুন।
৭
আপনি হয়তো আপনার ফাইলগুলো যেকোনো জায়গা থেকে ব্যবহারের সুবিধা নিতে অনলাইন ক্লাউড স্টোরেজ ওয়ানড্রাইভ ব্যবহার করেন। ফাইলগুলো আপনার পিসি ও ওয়ানড্রাইভের মধ্যে সিনক্রোনাইজিংয়ের মাধ্যমে রাখেন। এতে আপনার পিসির গতি কমে যায়। তাই পিসির গতি বাড়াতে সিঙ্ক করা বন্ধ রাখতে পারেন।
৮
আপনার পিসি খোলার সঙ্গে সঙ্গে কিছু প্রোগ্রাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয় এবং ভেতরে–ভেতরে চলতে থাকে। আপনি এই প্রোগ্রামগুলো বন্ধ রাখতে পারেন। এতে পিসি চালু হওয়ার পর এগুলো চলতে শুরু করবে না। এর ফলে পিসির গতি বাড়বে।
৯
ভাইরাস, ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকর সফটওয়্যারের কারণে আপনার পিসির গতি কমে যেতে পারে। আপনার পিসিতে ভাইরাস বা অন্যান্য ক্ষতিকারক কোনো সফটওয়্যার আছে কি না, স্ক্যান করে সেগুলো মুছে ফেলুন। এতে আপনার পিসির গতি বাড়বে।
১০
সম্প্রতি ইনস্টল করা নতুন কোনো অ্যাপ, ড্রাইভার বা আপডেটের কারণে আপনার পিসিতে হয়তো সমস্যা দেখা দিয়েছে। পিসি রিস্টার্ট দিন। এতে হয়তো আপনার পিসি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চলতে শুরু করবে এবং গতি বাড়বে।
সূত্র: সাপোর্ট ডট মাইক্রোসফট ডটকম
Source: প্রথম আলো
দুই বছর পর লাস ভেগাসে আবার প্রযুক্তিপণ্যের সর্ববৃহৎ মেলা
***********************************************************************
প্রযুক্তি অনুরাগীদের অপেক্ষার পালা অবশেষে শেষ হচ্ছে। ৫ থেকে ৮ জানুয়ারি চার দিনব্যাপী কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক শো (সিইএস) বসছে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাস কনভেনশন সেন্টারে। ২০২০ সালের পর এবারই সশরীর বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইলেকট্রনিকস পণ্যের এই প্রদর্শনী হচ্ছে। বছরজুড়ে দুনিয়ার বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কী ধরনের পণ্য আনবে, তার ধারণা পাওয়া যায় সিইএস থেকে। এ বছরের এই প্রদর্শনীর থিম হলো মানব নিরাপত্তা (হিউম্যান সিকিউরিটি), যা মানুষের খাদ্য বা স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগকে বোঝায়।
এরই মধ্যে ২ হাজার ৮০০-র বেশি প্রতিষ্ঠান এই মেলায় নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে স্যামসাং, অ্যামাজন, গুগল, এলজি, মাইক্রোসফট, সনি, প্যানাসনিক ও আসুসের মতো বড় বড় নামও রয়েছে। তবে অ্যাপল কম্পিউটার থাকছে না। এ ছাড়া স্টার্টআপসহ অনেক ছোট কোম্পানি এতে অংশ নেবে। এবারই প্রথম বাংলাদেশ থেকে প্রথম কোম্পানি হিসেবে অংশ নিচ্ছে ওয়ালটন।
যেসব চমক থাকছে
কিছু বড় কোম্পানি এই প্রদর্শনীতে কী পণ্য উন্মুক্ত করবে, সে ব্যাপারে মুখ খুলছে না। তবে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আবার প্রকাশ করেছে। যেমন সনি একটি গাড়ির ভিডিও প্রকাশ করে বলেছে, ‘৪ জানুয়ারি লাস ভেগাসে দেখা হচ্ছে।’ জাপানি এই প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সাল থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন ও বিপণন করতে স্বদেশি হোন্ডা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে।
এ ছাড়া প্লেস্টেশন ৫-এর জন্য সনির ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট প্লেস্টেশন ভিআর২ ফেব্রয়ারিতে বাজারে আসার কথা। এটিও সিইএসে দেখানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আসুস এ প্রদর্শনীতে ত্রিমাত্রিক ওএলইডি ল্যাপটপ কম্পিউটার উন্মুক্ত করবে বলে গুঞ্জন রয়েছে। আসুস গত ডিসেম্বরে এ–সংক্রান্ত একটি টিজারও প্রকাশ করেছিল। এ ছাড়া ডেল, এইচপি ও লেনোভো গেমিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এমন নতুন টু-ইন-ওয়ান ল্যাপটপ বা মনিটর আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিইএস ২০২৩–এর জন্য অ্যামাজনের ডেডিকেটেড ওয়েব পেজ থাকলেও কোম্পানিটি তাদের পণ্য সম্পর্কে কিছু বলেনি।
সূত্র: ডেইলি মেইল
Source: প্রথম আলো
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নতুন সুবিধা পরখ করছে ইউটিউব
***********************************************************************
অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমচালিত স্মার্টফোন ও অন্য যন্ত্রের জন্য নতুন ভিডিও প্রগ্রেস বার এনেছে ইউটিউব। এখন অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের ইউটিউব ভিডিওতে লাল রঙের ভিডিও প্রগ্রেস বার দেখা যায়। নতুন নকশায় প্রগ্রেস বার আরও সরু হতে পারে।
গুগলের নাইন টু ফাইভ প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নতুন নকশার ভিডিও প্রগ্রেস বার অ্যান্ড্রয়েডের কিছু ডার্ক থিম ব্যবহারকারীরা দেখতে পারছেন। নতুন প্রগ্রেস বার সাদা বা ধূসর রঙের। তবে ইউটিউবের কতসংখ্যক ভিডিওতে এমন প্রগ্রেস বার দেখা যাচ্ছে, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
ইউজার ইন্টারফেসে ইউটিউব সম্প্রতি অনেক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। ভিডিও চালু অবস্থায় নির্দিষ্ট অংশ বড় (জুম) করে দেখার সুযোগ দিতে ‘পিনচ টু জুম’ সুবিধাসহ লাইক, সাবস্ক্রাইব বাটনে পরিবর্তন এনেছে ইউটিউব। এ ছাড়া গত বছরের নভেম্বরে ভিডিও নির্মাতাদের জন্য লাইভ কিউঅ্যান্ডএ (প্রশ্নোত্তর) সুবিধা চালু করে ইউটিউব।
নতুন এ সুবিধা চালুর ফলে লাইভ ভিডিওর সঞ্চালকেরা দর্শকের করা প্রশ্নগুলো আলাদা চ্যাট বক্সে দেখতে পারবেন এবং চ্যাট বক্সে থাকা প্রশ্নগুলো থেকে উত্তর দিতে পারবেন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
Source: প্রথম আলো
ভাষা শেখাতে টিকটক
***********************************************************************
ওয়েলসের ওয়েলশভাষীরা নিজেদের মাতৃভাষার প্রচারে ও অন্যদের ওয়েলশ শেখাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক ব্যবহার করছেন। এই মাধ্যম ব্যবহার করে ওয়েলশ ভাষা শিখতে আগ্রহীরা ওয়েলশ ভাষাপ্রেমীদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছেন।
ওয়েলসের কারমারদেনশায়ারের লানেলিতে বসবাস করেন ইতিহাসে স্নাতক ২৩ বছর বয়সী বেথানি ডেভিস। টিকটকে তাঁর ৪৪ হাজার অনুাসারী। তিনি টিকটকের জন্য ওয়েলশ ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে আধেয় (কনটেন্ট) তৈরি করেন। বেথানি যখন ছোট ছিলেন, তখন তাঁরা এ অঞ্চলে চলে আসেন। সে সময় ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ওয়েলশ ভাষায় পড়ানো হতো। এ জন্য তাঁর মা তখন ওয়েলশ ভাষা শিখেছিলেন। তাঁর মায়ের কাছ থেকেই তিনি অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। এরপর স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও ওয়েলশ ভাষা ও সংস্কৃতি তিনি ভালোবাসতেন।
করোনায় স্বামীসহ ঘরবন্দী ছিলেন বেথানি। তাঁর স্বামী ভালো ওয়েলশ বলতে পারতেন না। তখন তিনি এ ভাষায় কথোপকথন না করতে পারায় শূন্যতা অনুভব করতেন। এ থেকেই টিকটকে ওয়েলশ ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ শুরু করেন বেথানি। টিকটক ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টিকটকের ভিডিও স্বল্পদৈর্ঘ্যের ও মজার। এটিই মূলত টিকটকের অনন্য বিষয়, যার ফলে আপনি অন্যদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।’
বেথানির মতো টনিরিফেলে বসবাসরত নিকি গ্যাম্বলও ওয়েলশ ভাষা নিয়ে টিকটকে আধেয় প্রকাশ করেন। তিনি স্কুল, কলেজে ওয়েলশ ভাষায় পড়াশোনা করতেন। তবে তাঁর পরিবার এ ভাষায় কথা বলতে পারেন না। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ওয়েলশ ভাষা ব্যবহার করতেন। করোনায় টিকটকে যুক্ত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন চর্চা না করা ওয়েলশ ভাষা নিয়ে তাঁর দক্ষতা প্রকাশ শুরু করেন।
তিনি বলেন, ‘স্কুল শেষে আমি আসলে তেমন ওয়েলশ ব্যবহার করতাম না। এরপর আমি দেখলাম টিকটক ভীষণ কাজের। এটি আমার পুরোনো জীবনটা ফিরিয়ে দিয়েছে।’ টিকটকে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ গ্যাম্বলকে অনুসরণ করেন।
সূত্র: বিবিসি
Source: প্রথম আলো
দিন বদলাচ্ছে ফ্রিল্যান্সারদের
***********************************************************************
বয়স বড়জোর ২৩-২৪। পরিপাটি ঝকঝকে চেহারা। গায়ে বিশ্বখ্যাত কোনো ব্র্যান্ডের শার্ট-জিনস, পায়ে নামী ব্র্যান্ডের কেডস, কাঁধের ব্যাগে ল্যাপটপ-অ্যাপলের ম্যাকবুক। এর সবই নিজের আয়ে কেনা। এই বয়সে যাঁর লেখাপড়া শেষ দিকে থাকার কথা বা চাকরি খোঁজার কথা, তিনি কীভাবে এমন স্বাবলম্বী জীবনযাপন করছেন? এই তরুণ হচ্ছেন ফ্রিল্যান্সার। এখন তাঁর মতো অনেক তরুণ দেশে বসে ডলারে আয় করেন। অনেকের মাসিক আয় হাজার ডলার বা তার বেশি।
ফ্রিল্যান্সারের বাংলা করা যায় মুক্ত পেশাজীবী। নয়টা-পাঁচটা চাকরির ঘেরাটোপে আবদ্ধ নন তাঁরা। বাসা কিংবা যেকোনো স্থানে বসেই কাজ করতে পারেন। লাগবে নিজের দক্ষতা, বিদ্যুৎ আর গতিশীল ইন্টারনেট-সংযোগ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান স্থানীয় কর্মী নিলে খরচ বেশি হয়। অনেক সময় চাহিদামতো এত কর্মী পাওয়া যায় না।
তারা তখন বাইরে থেকে (আউটসোর্সিং) নির্দিষ্ট কাজটি করিয়ে নেন। এতে ওই প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির যেমন অর্থ সাশ্রয় হয়, তেমনি যেকোনো স্থান থেকে কাজটি করে ওই ব্যক্তিও আয় করেন। বেশির ভাগ কাজ মেলে নির্দিষ্ট কিছু ওয়েবসাইটে। তথ্যপ্রযুক্তির ভাষায় এগুলো ‘অনলাইন মার্কেটপ্লেস’ (অনলাইন কাজের বাজার)। দেশে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার ও সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগে ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে।
সফটওয়্যার তৈরির প্রতিষ্ঠান টেকনোবিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ ইমরাউল কায়ীশ একসময়ের সফল ফ্রিল্যান্সার। তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ সাল থেকে মূলত দেশে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ আসা শুরু হয়। তরুণেরাই এ কাজে অগ্রণী। ফ্রিল্যান্সিংকে জনপ্রিয় করতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের ‘বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড’-এর অবদান রয়েছে।
ফ্রিল্যান্সিংয়ে লাখো তরুণ, আয় কত
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ জানালেন, দেশে এখন সাড়ে ছয় লাখ ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। তাঁদের সব মিলিয়ে বার্ষিক আয় প্রায় ১০০ কোটি ডলার বা ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা (ডলার ১০৬ টাকা ধরে)। ২০১৪ সাল থেকে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫৩ হাজার তরুণকে তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান তানজিবা রহমান বলেন, সাড়ে ছয় লাখের হিসাবটা আপওয়ার্ক মার্কেটপ্লেস ধরে। বাংলাদেশ থেকে ১৫৩টি মার্কেটপ্লেসে কাজ করা হয়। সেগুলো হিসাব করলে এই সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। এর ৫৫ শতাংশেরই বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছর। তবে ফ্রিল্যান্সিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ এখনো কম।
তানজিবা রহমান বলছেন, ফ্রিল্যান্সিংয়ে সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে ভারত। এরপরই বাংলাদেশের অবস্থান। তবে আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তানজিবা রহমান বলেন, ২০২০ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার ফ্রিল্যান্সারকে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হয়েছে। এসব কার্ডধারী ব্যাংকঋণ সুবিধা পাবেন। ব্যাংকের মাধ্যমে বাইরে থেকে আয়ের অর্থ আনলে ৪ শতাংশ প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক দায়িত্বও পালন করেন
ফ্রিল্যান্সারদের কাজকর্মে একটা বিষয় চোখে পড়ে। একা একা শুরু করে যখন সফল হন, তিনি আশপাশের তরুণদের সম্পৃক্ত করেন এই কাজে। তাঁদের আয়ের পথ তৈরি করে দেন।
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গারো তরুণ সুবীর নকরেক সেই বনাঞ্চল থেকেই ফ্রিল্যান্সিং করে সফল হয়েছেন। এরপর তিনি আইটি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে আশপাশের গারো তরুণদের শিখিয়েছেন। সব জাতিগোষ্ঠীর প্রায় ৫০ হাজার তরুণকে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন।
আবার কওমি মাদ্রাসার ডিগ্রিধারী শেরপুরের মিনহাজ নিজে সফল হয়ে মাদ্রাসার ৭০০ ছাত্রকে ফ্রিল্যান্সিং শিখিয়েছেন। ক্যানসারে আক্রান্ত বাবাকে বাঁচাতে ত্রিমাত্রিক গ্রাফিকস ও অ্যানিমেশন শিখে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছিলেন ঢাকার শুভ সরকার। এখন তাঁর বাবা সুস্থ আর তিনি সফল ফ্রিল্যান্সার।
Source: প্রথম আলো
সুপারহিরোকে হটিয়ে শীর্ষে টম ক্রুজ
***********************************************************************
ব্যবসার নিরিখে গত কয়েক বছরের সিনেমার হিসাব–নিকাশ করতে গেলে অবধারিতভাবেই প্রথম দিকে আসে সুপারহিরো সিনেমাগুলোর নাম। তবে এবার ব্যতিক্রম। গত মে মাসে মুক্তির পর বিশ্বজুড়ে দাপট দেখিয়েছে টম ক্রুজ অভিনীত ‘টপ গান: ম্যাভেরিক’। তিন দশকের বেশি সময় পর তৈরি হওয়া সিকুয়েলটির ব্যবসা প্রত্যাশিতই ছিল; কিন্তু সেটি যে সব পূর্বানুমান মিথ্যা করে দিয়ে এক বিলিয়নের বেশি ব্যবসা করবে, সেটা কে ভেবেছিল। সমালোচকেরা তেমন পাত্তা না দিলেও ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড ও ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’-এর নতুন কিস্তিও দুর্দান্ত ব্যবসা করেছে। আয়ের নিরিখে চলতি বছর প্রথম তিনে এই ছবিগুলোই আছে।
২০২২ সালে সমালোচকদের পছন্দের সিনেমার মধ্যে আছে ব্রিটিশ ড্রামা ছবি ‘আফটারসান;, মার্টিন ম্যাকডোনার ‘দ্য বানশিজ অব ইনিশেরিন’, স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘দ্য ফ্যাবেলম্যানস’, ক্রিটিকস চয়েসে ১৪ মনোনয়ন পাওয়া ‘এভরিথিং এভরিহোয়্যার অল অ্যাটওয়ানস’, ‘টার’, ‘অ্যানিমেশন ছবি টার্নিং রেড’, ‘গুয়ের্মো দেল তোরোজ পিনোচিও’ ইত্যাদি।
আলোচিত ছবির মধ্যে আরেকটি হলো ২৩ ডিসেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ‘নাইভস আউট’-এর সিকুয়েল ‘গ্লাস অনিয়ন: আ নাইভস আউট মিস্ট্রি’।
অস্কারে চড়–কাণ্ড
অস্কার হবে আর কোনো ঘটনা ঘটবে না, তা কি হয়! তবে এবার যা ঘটেছিল, তা ছাড়িয়ে গেছে আগের সব রেকর্ড। ৯৪তম অস্কারে মার্কিন কমেডিয়ান ক্রিস রককে চড় কষেন উইল স্মিথ। মঞ্চে দাঁড়িয়ে উইল স্মিথের স্ত্রীকে নিয়ে ঠাট্টা করেন ক্রিস। রসিকতায় শুরুতে হাসতে দেখা যায় দর্শক সারিতে বসা উইল স্মিথকে, কিন্তু বিরক্ত হন তাঁর স্ত্রী জাডা। তখন আসন ছেড়ে উঠে মঞ্চে গিয়ে ক্রিসের গালে কষে এক থাপ্পড় মারেন উইল স্মিথ। স্বভাবতই ঘটনাটি নিয়ে তুলকালাম বেঁধে যায়। ঘটনার পর উইল স্মিথ ক্ষমা চেয়েছেন ক্রিস রকের কাছে। ১০ বছরের জন্য স্মিথকে নিষিদ্ধ করেছে অস্কার কর্তৃপক্ষ। তবে এরপর অনেক দিন কেটে গেলেও তাদের সম্পর্কের বরফ গলেনি।
জনি-অ্যাম্বার লড়াই
চলতি বছরের মে মাসে যখন জনি ডেপ ও অ্যাম্বার হার্ডের লড়াই চলছিল, দুনিয়ার অন্য প্রান্তে তখন চলছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। কিন্তু যুদ্ধের খবর ভুলে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষে মনোযোগী হন দুই তারকার আইনি লড়াই দেখতে। সেটা এতটাই যে কয়েক সপ্তাহে মামলাটির টিভি সম্প্রচার দেখেন বিলিয়নের বেশি দর্শক। ২০১৭ সালে বিচ্ছেদ হয় এই দুই তারকার। পরের বছরই জনির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেন হার্ড। এরপরই সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন জনি। গত জুন মাসে দেওয়া রায়ে জনির বিরুদ্ধে আনা হার্ডের পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগকে সাজানো বলে উল্লেখ করেন বিচারক। একই সঙ্গে জনিকে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলাটির কারণে বছরজুড়েই আলোচিত ছিলেন এই সাবেক দম্পতি।
অনেক অপেক্ষার ‘অ্যাভাটার’
২০০৯ সালে প্রথম কিস্তি মুক্তির ১৩ বছর পর ১৬ ডিসেম্বর মুক্তি পায় ‘অ্যাভাটার’-এর সিকুয়েল ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’। অনুমিতভাবেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে ছবিটি।
আলোচিত বিশ্ব চলচ্চিত্র
বড় বাজেটের হলিউড সিনেমার সঙ্গে চলতি বছর আলোচনায় এসেছে অ-ইংরেজিভাষী বেশ কয়েকটি সিনেমা। এর মধ্যে আছে পার্ক চান-উকের ‘ডিসিশন টু লিভ’, চলতি বছর স্বর্ণপাম জেতা রুবেন ওস্টল্যান্ডের ‘ট্রায়াঙ্গল অব স্যাডনেস’, আলি আব্বাসির ‘হলি স্পাইডার’, জাফর পানাহির নো বিয়ারস। তবে চলতি বছর বিশ্ব চলচ্চিত্রের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল পাকিস্তানি চলচ্চিত্রের উত্থান। দেশটির জয়ল্যান্ড প্রথমবারের মতো কান চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনীত হয়; আরেকটি ছবি দ্য লেজেন্ড অব মওলা জাট রেকর্ড ব্যবসা করে।
Source: প্রথম আলো
অভিনয়ে মন
***********************************************************************
এই সময়ের জনপ্রিয় তরুণ গায়িকাদের মধ্যে অন্যতম ডুয়া লিপা। গত কয়েক বছরে গ্র্যামি থেকে বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস—হেন পুরস্কার নেই, তিনি জেতেননি। নতুন অ্যালবাম বা গান মুক্তি পেলেই হলো, টপ চার্টের শীর্ষে পৌঁছাতে দেরি হয় না। সেই ব্রিটিশ গায়িকা ডুয়া লিপা এবার মন দিচ্ছেন অভিনয়ে।
লেডি গাগা, সেলেনা গোমেজ থেকে টেলর সুইফট—সম্প্রতি অনেক গায়িকাই চলচ্চিত্র ও সিরিজে নিয়মিত হয়েছেন। টেলর সুইফট তো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনারও ঘোষণা দিয়েছেন। এবার জানা গেল ডুয়া লিপার অভিনয়ের কথা।
চলতি বছর ‘অর্গাইল’ দিয়ে বড় পর্দায় লিপার অভিষেক হবে। ম্যাথু ভনের স্পাই থ্রিলার ছবিটিতে তিনি ছাড়াও আছেন হেনরি ক্যাভিল, স্যাম রকওয়েল, স্যামুয়েল এল জ্যাকসন। ছবিটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি গানও গেয়েছেন লিপা। তবে প্রথম সিনেমা মুক্তির আগেই নাকি একের পর এক সিনেমার প্রস্তাব পাচ্ছেন তিনি। এতেই অভিনয়কে সিরিয়াসলি নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন লিপা। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য সানকে গায়িকার এক ঘনিষ্ঠজন বলেন, তিনি প্রচুর প্রস্তাব পাচ্ছেন, তাঁর হাতে অনেকগুলো চিত্রনাট্য আছে। সব বিবেচনা করে অভিনয়ে নিজের প্রতিভা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
সূত্রটি আরও জানায়, কেবল অভিনয়ই নয়, প্রযোজনাতেও আগ্রহী ডুয়া লিপা। টিভি ও চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা চালুর পরিকল্পনা করছিলেন অনেক দিন ধরেই, চলতি বছর বিষয়টি নিয়ে কোমর বেঁধে নামবেন। কিছুদিন আগে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনয় নিয়ে কথা বলেছিলেন ডুয়া লিপা। তখন ‘অর্গাইল’-এ অভিনয় প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘এটা (অভিনয়) খুবই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। তবে আমার জন্য এটা কেবল শুরুমাত্র।’ অভিনয়কে তিনি নিজেকে ‘আবিষ্কারের’ সবচেয়ে বড় উপায় বলেও অভিহিত করেছিলেন। তবে নিয়মিত অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও প্রথম কাজটি করা তাঁর জন্য যে সহজ ছিল না, সাক্ষাৎকারে স্বীকারও করেন ২৭ বছর বয়সী গায়িকা, ‘বড় চরিত্রে অভিনয় নিয়ে একধরনের ভয় ছিল, তবে এখন আমি অভিনয়শিল্পী; যে কিনা নিজের আবেগ-অনুভূতি পর্দায় তুলে ধরে।’
‘অর্গাইল’বড় বাজেটের অ্যাকশন ছবি। পরিচালক আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ছবিটির অন্তত তিন কিস্তি হতে পারে। চলতি বছর মুক্তি চূড়ান্ত হলেও দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি।
Source: প্রথম আলো