শিলা হয়ে ওঠার গল্প:
"মেময়ার অব লাভ" এর পর নির্মাতা জাহিদ প্রীতম ভাইয়ার প্রতি একটা আস্থার জায়গা তৈরী হয়েছিল। সেই আস্থার জায়গা থেকে প্রীতম ভাইয়া যখন নীল অপরাজিতার গল্প আমাকে শোনায় আমি অবাক হয়েছিলাম সত্যি। কারন শিলা চরিত্রটি ছিল খুব বেশি চ্যালেঞ্জিং। একই চিত্রনাট্যে আমাকে দুই ধরনের চরিত্র ধারন করতে হতো। প্রথম হাফে আমাকে প্লে করতে হবে ১৭/১৮ বছরের কলেজ পড়ুয়া মফস্বল এর একজন সহজ মেয়ের চরিত্রে আর দ্বিতীয় হাফে প্যারালাইজড ধর্ষিতা রোগীর চরিত্রে। আমি ভাইয়াকে বললাম কেন আমি? ভাইয়া আমাকে আবারো বলল আপাতত শিলার জন্য আমি তোমাকেই ভাবছি। আমি কনফিডেন্ট ছিলাম না, কিন্তু প্রীতম ভাইয়া সবসময়ের মত তার ভিজ্যুয়াল আর প্ল্যান নিয়ে কনফিডেন্ট। অন্য কেউ হলে চ্যালেঞ্জটা নিতে চাইতাম না, ছেড়ে দিতাম। কিন্তু গল্পটা এতটাই স্ট্রং আর নির্মাতা যখন প্রীতম ভাইয়া তখন অন্যরকম সাহস পেলাম৷
তবে ভাইয়ার কাছে সময় চেয়ে নিলাম ১২ দিন। ঈদ কাছাকাছি চলে এলেও এই সময়টা নিতেই হতো। অ্যাক্টিং রেফারেন্স এবং লুক রেফারেন্সে প্রীতম ভাইয়া শিলা চরিত্রে যে মেয়েকে দেখে লিখেছে তাকে দেখালো। চ্যালেঞ্জ বেড়ে গেল৷ আমরা লুক নিয়ে কাজ করলাম, এক্সপ্রেশন নিয়ে কাজ করলাম, নিজের মধ্যে এমন কিছু মুদ্রা দোষ নিয়ে আসলাম যা একজন কলেজ ছাত্রীর থাকে। দুলে দুলে কথা বলা, উপরের ঠোঁট কামড়ে রাখা, ঠোট ফুলিয়ে আহ্লাদ নিয়ে কথা বলা, ভ্রু উঁচিয়ে গোল গোল চোখে তাকানো... আয়নার সামনে নিজেকে দেখে হেসে ফেলতাম।
সব কিছু ঠিকঠাক হলেও কোথায় যেন কমতি ছিল। পরে সিদ্ধান্ত নিলাম পছন্দের চুলগুলো কেটে ফেলব, এই গল্পের জন্য এতটুকু তো করাই যায়। আমি চুল কলেজ ছাত্রীদের মতই সমান করে কেটে ফেললাম। প্রীতম ভাইয়া আমাকে দেখে আরো বেশি কনফিডেন্ট হয়ে বলল সে তার শিলাকে এখন দেখতে পাচ্ছে। মাথায় ব্যান্ড পড়া, চোখে চশমা পড়িয়ে আমিও যখন আয়নার সামনে দাঁড়ালাম তখন নিজেকে শিলা রূপে প্রথম আবিষ্কার করলাম।
ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে আমি অভিভূত শিলার মত একটা চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে। আরো অভিভূত হচ্ছি আমার দর্শকরা নীতুর পর শিলাকেও এত এত ভালোবাসছে তার জন্য।
এই লেখাটা আমার সেই সমস্ত দর্শকদের উদ্দেশ্যেই যারা শিলাকে ভালবেসে শিলাকে আপন করে নিয়েছেন। তাই তাদের সাথে আমিও শিলা হয়ে ঊঠার গল্পটা না শেয়ার করে থাকতে পারলাম না।
শিলার জন্য দোয়া করবেন, আপনাদের শিলা যেন ইস্পাতসম দৃঢ় রূপান্তরিত শিলা হয়েই মেঘদূতের শক্তি হয়েই ফিরতে পারে আবারো ♥️