খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত গুচ্ছগ্রামে বেড়ে ওঠা আমির এখন তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা
***********************************************************************
খাগড়াছড়ির পাহাড়ের পাদদেশে খাসজমিতে গড়ে ওঠা গুচ্ছগ্রামে কেটেছে আমির হোসেনের শৈশব। অভাব-অনটন আর সামাজিক অস্থিরতা ছিল নিত্যসঙ্গী। তবু স্বপ্ন দেখতেন বড় কিছু করার। ছোটবেলা থেকেই নতুন কিছু, ভিন্ন কিছু করার ভাবনা ঘুরত তাঁর মাথায়। সে কারণেই ঢাকায় ভালো চাকরির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমির নিজের জেলায় চলে আসেন মানুষের জন্য কিছু করার ভাবনা নিয়ে।
খাগড়াছড়ি শহরের প্রাণকেন্দ্র নারকেলবাগানে ছোট ভাই রাসেলকে নিয়ে ২০১৪ সালের গোড়ার দিকেই শুরু হয় আমিরের স্বপ্নের পথচলা। ওই সময় তিনি ভেবে দেখেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি—এ তিন খাতে সারা দেশেই প্রচুর সম্ভাবনা আছে। খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে এ তিন খাতের দুর্বলতা একেবারেই স্পষ্ট। আমির সিদ্ধান্ত নেন নিজে কোনো উদ্যোগ নিয়ে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান করার। কিন্তু হাতে তেমন পুঁজি নেই। আর্থিক সচ্ছলতাও ছিল না তাঁর। সংসারের খরচ সামলে নিজের স্বপ্নের পেছনে বিনিয়োগ করতে হবে। সদ্য বিয়ে করায় পরিবার থেকেও গতানুগতিক একটা কিছু করার চাপও ছিল।
সবদিক ভেবে আমির এমন কিছু করার কথা ভাবলেন, যাতে খাগড়াছড়িতে বসে সবকিছু সামলানো যায়। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং গুণগত মানের ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিসিনের পাইকারি ব্যবসা শুরু করলেন। এর বড় কারণ ছিল আমির নিজে ইউনানি-আয়ুর্বেদিক ওষুধ নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। আমির বিয়ে করেন ২০১৪ সালে। স্ত্রী মর্জিনা আক্তার খাগড়াছড়ির এইচএম পার্বত্য হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা করতেন। পরে আমির নিজেও হোমিওপ্যাথি ও ইউনানি চিকিৎসা বিষয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। এই দম্পতির এখন দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
২০১৫ সালে শুরু হয় আমিরের প্রথম উদ্যোগ ‘গুডমর্নিং হোমিওপ্যাথি’। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করে নিজের সুনাম, পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা। এ জন্য ব্যবসার পাশাপাশি তখন থেকেই সাধারণ মানুষদের নিয়ে বিনা মূল্যে বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক সেমিনার ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করতেন তিনি। ‘গুডমর্নিং এইড’ নামে একটি ফেসবুক পেজ ও পরবর্তী সময়ে একই নামে স্বাস্থ্যবিষয়ক ই-কমার্স ওয়েবসাইট চালু করেন। এর মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসার ‘ফার্স্ট এইড বক্স’ বিক্রি ও প্রাথমিক চিকিৎসার তথ্য আদান-প্রদান করেছেন আমির।
এ উদ্যোগগুলো চালাতে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা বাড়ানোর গুরুত্ব বুঝতে শুরু করেন আমির। কারণ, তাঁর উদ্যোগের সঙ্গে ওয়েবসাইট, সফটওয়্যার, ডিজিটাল বিপণন, গ্রাফিক ডিজাইন ইত্যাদি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমির দেখলেন, তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা থাকলে শুধু ফ্রিল্যান্সিং–আউটসোর্সিং নয়, যেকোনো উদ্যোগে সহজেই সফল হওয়া যাবে।
এডুলাইফের যাত্রা শুরু
২০১৫ সালে ১০ বাই ১৫ ফুটের একটি দোকান ভাড়া নিয়ে নিজের চেম্বার ও ওষুধ ব্যবসা চালাতেন আমির। পাশাপাশি, ভাড়া বাসায় কলেজ ছাত্রছাত্রীদের স্বল্পমূল্যে ইংরেজি পড়ানো শুরু করেন। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কম্পিউটারের প্রাথমিক বিষয়গুলো শেখানোর উদ্দেশ্যে গুডমর্নিং হোমিওপ্যাথি চেম্বারের পাশে আরও একটি ছোট্ট দোকান ভাড়া নেন। আনুষ্ঠানিকভাবে এডুলাইফ ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট চালু করেন। ছোট ভাই রাসেলকে নিয়ে সেই যে যাত্রা শুরু হয়, তা এখনো চলছে।
Source: প্রথম আলো