২.
দেয়াল জুড়েই সুন্দর করে অনেক এওয়ার্ড সারিতে সারিতে সাজানো আছে। মাঝেমধ্যে কিছু সিনেমার পোস্টার। সিনেমাগুলোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে এওয়ার্ড পাওয়া হয়েছে। কোন সিনেমার জন্য সেরা সিনেমার পুরষ্কার, কোন পোস্টারের পাশে সেরা অভিনেতার পুরষ্কার। মোটকথা, একটা সিনেমাকে যতগুলো ক্যাটাগরিতে পুরষ্কার দেয়া যায় প্রায় সব গুলো পুরষ্কারই যেন রাখা আছে। মজার ব্যাপার হল শুধু একটা ছবিকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে দেয়ালটা। কিন্তু এ ছবির পোস্টারের নামে, সিনেমার কথা দীপান্বিতা মনে করতে পারছেনা। পোস্টারটা নাম কাদামাটির সন্দেশ। একটা অনাবৃত নারীর শরীরের পিছনটুকু ডি ফোকাসে তোলা। তাই চেহারা বোঝা যাচ্ছেনা।
দীপান্বিতা মুগ্ধ হয়ে দেখছে পুরো বিষয়টায় একটা থিয়েট্রিক্যাল ভাব আছে। নান্দনিকতার ছোঁয়া আছে।
সুহান পত্রিকা হাতে কফিতে চুমুক দিয়ে সোফায় গিয়ে বসল। দীপান্বিতা দেখতে দেখতে ঘুরে তাকাতেই দেখে একটা সুদর্শন কাচাপাকা দাড়ির যুবক বসে আছে। চোখ দুটো রক্তজবার মত শান্ত। পত্রিকা পড়ছে। হাতে অলস কফির মগ। ধোয়া বেরুচ্ছে। দীপান্বিতা বিব্রতবোধ করছে। কারণ লোকটির চোখে আছে ইগনোর করার মত তীব্রতা। সে ভাবছে বসবে নাকি কথা বলা শুরু করবে। দ্বিধা মন নিয়ে দীপান্বিতা বলেই ফেলে নরম করে।
দীপান্বিতাঃ হ্যালো স্যার।
সুহান অলস চোখে তার দিকে তাকায়।
সুহানঃ কিছু বলবেন?
দীপান্বিতাঃ আপনার শোকেসের নান্দনিকতার কিছু একটা অসম্পন্ন আছে। কিন্তু ধরতে পারছিনা।
সুহান স্থির চোখে দীপার দিকে তাকিয়ে থাকে।
সুহানঃ ভাবছি, এম প্রোডাকশনের একটা যাদুঘর করে ফেলব।
দীপা বুঝতে পারছে সুহানের চোখে নেই কোন ইগনোর আছে শুধু ভাবনা। স্বপ্ন বললেও কম হবেনা।
দীপাঃ হ্যাঁ করাই যেতে পারে, যার কোন পুরষ্কারের একটা মিস নেই।
সুহানঃ একটু আগে জানতে চেয়েছিলেন না, এর নান্দনিক অসম্পন্ন লাগছে ঠিক ধরতে পারছেনা কেন?
দীপা মাথা নাড়ে। আবার শোকেসের দিকে তাকায়। বোকা বোকা তাকানো।
সুহানঃ আপনার সময় শেষ আপাতত। আর কালকের পত্রিকায় আরেকটা প্রতিবেদন ছাপাবেন। তাতে যেন লেখা থাকে সুহান আহমেদের কাছে ক্ষমা চাইলেন দীপান্বিতা আর পদত্যাগপত্র যেন ছাপাতে ভুলবেন না। না হলে মানহানির মামলায় ক্যারিয়ার গড়বে।
দীপাঃ স্যার, আই এম সরি। প্লিজ গিভ মি আ চান্স। আপানার সব সিনেমা আমি দেখেছি। আপনার একজন ভক্ত বলতে পারেন। আপনার কাজের মধ্যে ভাললাগা থেকেই আপনার প্রতি কৌতূহল হয়ে পড়ি। সবাই বলছিল আপনার সাথে দেখা করা অসম্ভব। আসলে অসম্ভব শব্দটা আমার অভিধানে নাই। তাই স্যার,। মানছি আমার ভুল হয়েছে।
সুহান আবার নরম হয়ে শোকেসের দিকে যায়। পুরো শোকেস একবার যত্ন নিয়ে দেখে। তারপর দীপাকে বলে।
সুহানঃ আপনার মুখে অসম্ভব শব্দটা খুবই আত্নবিশ্বাসী ভাব ছিল। যদি এই শোকেসের নান্দনিক অসম্পন্নতা খুজে বের করতে পারেন তবেই মাফ পাবেন।
দীপা আরেকবার শোকেসে তাকায় তারপর।
দীপাঃ তারপর আমি কি আপনার সাথে কফির মগ নিয়ে বসতে পারি?
সুহানঃ যদি পারেন তবে তো।
দীপাঃ আচ্ছা আমি যে ঠিকঠাক বলতে পেরেছি তা যদি আপনি অস্বীকার করেন।
সুহানঃ বুদ্ধিমান মানুষদের আমি সম্মান করি।
সুহান রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।
#সৃষ্টি
#premdevota
#thegodofart