এবার শাহরুখপত্নী গৌরী খানের বিরুদ্ধে এফআইআর
***********************************************************************
আবার এক উটকো ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ল শাহরুখ খানের পরিবার। এবার শাহরুখপত্নী গৌরীর বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি এফআইআর করেছেন। বলিউডের বাদশার পত্নীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন সেই ব্যক্তি।
গেল বছর নানান ঝড়ঝাপটার মধ্য দিয়ে গেছে শাহরুখ খানের পরিবার। সব সামলে সবেমাত্র থিতু হয়েছেন শাহরুখ খান আর তাঁর পরিবার। ‘পাঠান’ ছবির আশাতীত সাফল্য এই পরিবারের মুখে দীর্ঘদিন পর হাসি ফুটিয়েছে। তবে তা স্থায়ী হয়নি। গৌরী খান আইনি ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছেন। উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষ্ণৌতে খানপত্নীর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। মুম্বাইবাসী কিরীট যশওয়ান্ত শাহ তাঁর বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ এনেছেন।
কিরীটের অভিযোগ যে তিনি লক্ষ্ণৌতে তুলসিয়ানী কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। এই ফ্ল্যাটের মূল্য কয়েক কোটি রুপি। কিরীট এই কোম্পানিকে এখনো পর্যন্ত ৮৬ লাখ দিয়েছেন। তারপরও তাঁকে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হয়নি। গৌরী এই কনস্ট্রাকশন কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। আর তাই কিরীট শাহরুখপত্নীর বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন।
গৌরীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন কিরীট। তিনি তুলসিয়ানী কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিল কুমার তুলসিয়ানী আর পরিচালক মহেশ তুলসিয়ানীর বিরুদ্ধেও এফআইআর করেছেন। এই ৩ জনের ওপর ৪০৯ ধারা দায়ের করা হয়েছে। কিরীটের আরও অভিযোগ যে গৌরী খান দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তিনি এই ফ্ল্যাট কিনেছিলেন।
তবে জানা গেছে, গৌরী এ বিষয়ে বিন্দুবিসর্গ জানেন না। তিনি এই কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরমাত্র। তাই এই তারকাপত্নী আইনি ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি খবর ছিল যে গৌরী কয়েক কোটি রুপি দিয়ে মার্সিডিজ বেঞ্জের নতুন মডেল কিনেছেন। নীল রঙের এই মার্সিডিজ বেঞ্জ অত্যন্ত বিলাসবহুল বলে জানা গেছে।
Source: প্রথম আলো
রাত ১টায় আসছে বনবিবি
***********************************************************************
যান্ত্রিক কোলাহলের মাঝে প্রকৃতির গান নিয়ে আসছে কোক স্টুডিও বাংলা। আজ রাত একটায় কোক স্টুডিও বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে ‘বনবিবি’। দ্বিতীয় মৌসুমের দ্বিতীয় গানের ১৫ সেকেন্ডের একটি প্রচারণামূলক ভিডিও প্রকাশের পর পুরো গানটি শোনার জন্য কান খাড়া করে রয়েছেন শ্রোতারা।
চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার স্থানীয় ভাষায় গাওয়া গান ‘মুড়ির টিন’ বাজিয়ে দ্বিতীয় মৌসুমের যাত্রা শুরু করে কোক স্টুডিও বাংলা। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি গানটি প্রকাশের পর শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। সেটির রেশ কাটার আগেই আসছে ‘বনবিবি’, গানটির দায়িত্ব পেয়েছে ব্যান্ড মেঘদল। গানের কথা লিখেছেন শিবু কুমার শীল ও মেজবাউর রহমান সুমন, সুর বেঁধেছেন শিবু কুমার শীল। মেঘদলের সংগীতায়োজনে গানটি গেয়েছেন শিবু কুমার শীল ও জহুরা বাউল, সঙ্গে রয়েছে গানের দল ঘাসফড়িং।
কী থাকছে গানে? গান প্রকাশের আগেই গান–রহস্য খোলাসা করতে নারাজ তারা। তবে প্রথম আলোর পাঠকদের জন্য গান নিয়ে খানিকটা ধারণা দিলেন শিবু কুমার শীল। জানালেন, বনবিবি মূলত প্রাণ ও প্রকৃতির গান। প্রাচ্যের পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক চরিত্রদের গানে তুলে ধরেছে মেঘদল, সঙ্গে এস এম সুলতানের শততম জন্মবর্ষে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। ‘লোকগাথা ধরনের গান। এর আগে মেঘদলের গানে বারবার শহরের কথা এসেছে। কোক স্টুডিও থেকে আমন্ত্রণ পাওয়ার পর আমাদের ওপর কোনো চাপ ছিল না। আমরা নিজেরাই ঠিক করলাম, কী করতে চাই। অনেক আগে “ওম” নামের একটি গানের কম্পোজিশন করেছিলাম, এরপর দুই দশকেও আর কোনো কম্পোজিশন করিনি। ভাবলাম, আমরা এ সময়ের প্রকৃতি, পৃথিবী নিয়ে গান করতে চাই,’ বলেন শিবু কুমার শীল।
কোক স্টুডিও বাংলার ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, গানটি আজ রাত একটায় আসবে। গান প্রকাশের জন্য মধ্যরাতকে কেন বেছে নেওয়া হলো? শিবু কুমার শীল বললেন, ‘শহুরে জীবনযাপনের মধ্যে আমরা যখন প্রকৃতির নিস্তব্ধতাকে বুঝতে চাই, তখন কীভাবে বুঝতে চাই? যখন শহরের কোলাহল থেমে যায় তখনই হয়তো কিছুটা নীরবতা আসে। আটপৌরে শহুরে ব্যস্ততার মধ্যে ঝিঁঝি পোকার ডাক পেতে চাইলে আমাদের গভীর রাতের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।’
দুই দশকের পথচলায় মেঘদলকে বরাবরই শহরকেন্দ্রিক গানে পাওয়া গেছে, শহরবন্দি অ্যালবামসহ বেশির ভাগ গানেই উঠে এসেছে শহরের কথা। শহুরে চেনা গলি ফেলে অরণ্যের আলপথ ধরে হাঁটলেন শিবু-সুমনরা। পথ কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল? শিবুর ভাষ্যে, ‘কাজটা করার সময় চ্যালেঞ্জ অনুভব করেছি। আমরা আমাদের তৃপ্তির জন্য, আনন্দের জন্য গান করি। মানুষ আমাদের গান দুই যুগ ধরে শুনবে, এটা ভাবিনি। বনবিবি নিয়ে এই নিরীক্ষা ব্যর্থও হতে পারে। মানুষ পছন্দ না–ও করতে পারে। নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে গান করি। বাজার, খ্যাতি—এসবের বাইরে গিয়ে আমরা কাজটা করতে চাই।’
এ বছরই মেঘদলের দুই দশক পূর্তি হচ্ছে, নভেম্বরের জমকালো আয়োজনে শো করবে ব্যান্ডটি। এর মধ্যে অ্যালুমিনিয়ামের ডানা অ্যালবামের বাকি গানগুলোও প্রকাশ করা হবে। মার্চে জয় বাংলা কনসার্টেও গাইবে মেঘদল।
Source: প্রথম আলো
কিছু মানুষ অনন্ত জলিলকে নিয়ে অযথা ট্রল করে: চিত্রনায়ক রুবেল
***********************************************************************
কখনো সিনেমা, কখনো ব্যক্তিগত জীবন আবার কখনো কোনো সহকর্মী নিয়ে মন্তব্যসহ নানা কারণে আলোচনা–সমালোচনায় থাকেন অনন্ত জলিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের শিকার হন। সেই অনন্ত জলিলের সঙ্গে প্রথমবার সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন রুবেল। তাঁদের দেখা যাবে ‘কিল হিম’ সিনেমায়। শুটিংয়ের ফাঁকে অনন্ত জলিলের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করলেন তিনি।
অনন্ত জলিল সম্পর্কে রুবেল বলেন, ‘অনন্ত জলিলকে অসম্মান করা উচিত নয়। তাঁর সঙ্গে প্রথম কাজ করছি। প্রথম থেকেই দেখছি তিনি মানুষকে সম্মান জানাতে পছন্দ করেন। আমাকে যথেষ্ট সম্মান জানিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে মিশে ভালো লেগেছে। এখন পর্যন্ত তাঁর মধ্যে মন্দ কিছু পাইনি। আমার মনে হয় কিছু মানুষ অনন্ত জলিলকে নিয়ে অযথা ট্রল করে। সবাইকে সবার মতো থাকতে দেওয়া উচিত।’
কিছুটা বিরতি দিয়ে আবার কাজে নিয়মিত হচ্ছেন চিত্রনায়ক রুবেল। ‘কিল হিম’ ছাড়াও তাঁর হাতে রয়েছে চারটি সিনেমা। ‘কিল হিম’ সিনেমায় কী ধরনের চরিত্র জানতে চাইলে রুবেল বলেন, ‘আমি তো সচরাচর নায়ক ছাড়া অন্য কোনো চরিত্রে অভিনয় করি না। কিন্তু ‘কিল হিম’ সিনেমায় বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করছি। সেখানে চরিত্রের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। আমাকে সেই সম্মানটা দিয়েছেন অনন্ত জলিল। এ ছাড়া আমি আগে কখনোই এই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করিনি। এখানে দর্শক সারপ্রাইজড হবেন।’
গতকাল ৩০০ ফিট এলাকায় সিনেমাটির মারপিট দৃশ্যে অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা। সিনেমার গল্পে মুখোমুখি হতে দেখা যাবে তাঁদের। রুবেল বলেন, ‘অনন্ত জলিলের সঙ্গে বেশ কিছু দৃশ্য রয়েছে। তার মধ্যে দর্শকদের কাছে চমক হিসেবে থাকবে মারপিটের অংশগুলো। অনন্ত জলিলের এক শ্রেণির দর্শক রয়েছে, আমারও দর্শক রয়েছে, সবার গল্পটি অন্য রকম লাগবে।’ তবে মারপিটের দৃশ্যে কী চমক থাকবে, এখনই তা বলতে চান না রুবেল। ‘কিল হিম’ পরিচালনা করছেন মোহাম্মদ ইকবাল। সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন বর্ষা, মিশা সওদাগরসহ অনেকে।
Source: প্রথম আলো
‘মুড়ির টিন’ আমাদের যাপিত জীবনের গল্প
***********************************************************************
‘হালুগাডত্তুন ছাইজ্জি গারি লই আল্লার নাম
একগন্টা ফার ঐগেইয়্যে আইযু বদ্দারাট ন’ আইলাম…।’
(লাইন দুটির মানে হলো, কালুরঘাট থেকে ছেড়েছে গাড়ি আল্লাহর নাম নিয়ে, এক ঘণ্টা পার হয়ে গেল এখনো বহদ্দারহাট আসলাম না।)
আঞ্চলিক ভাষার কারণে কথাগুলো বোঝা যাক বা না-যাক, এখন লাখ লাখ সংগীতপ্রেমী তাল মেলাচ্ছেন গানটির তালে। এরই মধ্যে অনেকের প্লে-লিস্টে জায়গা করে নিয়েছে ‘মুড়ির টিন’ শিরোনামের গানটি। এটি কোক স্টুডিও বাংলার দ্বিতীয় সিজনের প্রথম গান। কোমল পানীয় কোকা-কোলার আন্তর্জাতিক সংগীতায়োজনের বাংলাদেশি সংস্করণের গানটিতে স্থান পেয়েছে চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার আঞ্চলিক ভাষা। আঞ্চলিক ভাষার গান হলেও কোক স্টুডিও বাংলার অন্যান্য গানের মতো এ গানটিও এখন সবার মুখে মুখে।
গানটির মাধ্যমে শ্রোতা-দর্শকদের নজর কেড়েছেন সংগীতশিল্পী রিয়াদ হাসান। তিনি এ গানের গীতিকার ও সুরকারও। নিজের গান ও কোক স্টুডিও বাংলার সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাই তরুণ এই সংগীতশিল্পীর কাছে। রিয়াদ হাসান বলেন, ‘গান গাওয়া আর লেখার চেষ্টা করছি অনেক দিন ধরে। প্রমিত বাংলায় গান লিখছি। আমার বাড়ি চট্টগ্রামে। কালুরঘাটে আমার বেড়ে ওঠা। তাই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার প্রতি অন্য রকম একটা টান তো আছেই। সেই টানেই নিজ এলাকার ভাষায় গান লেখা-সুর করা এবং গাওয়া। মুড়ির টিন আমাদের যাপিত জীবনের গল্প।’
গানের চর্চার শুরু এবং অনুপ্রেরণার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রিয়াদ হাসান বলেন, ‘আমার গান লেখার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে চট্টগ্রামের দুজন লোকসংগীতশিল্পী শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব ও শেফালী ঘোষ। তাঁদের গানে সব সময় যাপিত জীবন ও আঞ্চলিক নানা বিষয় ছিল। এমনভাবে তারা গান বানাতেন আর গাইতেন যে দর্শক-শ্রোতা হৃদয় দিয়ে তা অনুভব করত। তাঁদের মতো করে বর্তমান সময়টাকে ধরে গান লিখতে চেষ্টা করি।
এমন সব বিষয় নিয়ে লেখার চেষ্টা করেছি, যার সঙ্গে মানুষ নিজেকে যুক্ত করতে পারবে। ২০০৮-০৯ সালে ‘‘জিইসি মোড়’’ শিরোনামে একটা গান বানিয়েছিলাম। আমার প্রথম অ্যালবাম মুক্তি পায় ২০১৪ সালে। সেখানে একটা গান ছিল ‘‘ডিজিটাল ফোয়া’’ মানে ডিজিটাল ছেলে। পরবর্তী সময় আরেকটা গান করি ‘‘সাতকানিয়া ফটিকছড়ি’’ শিরোনামে। আঞ্চলিক গান নিয়েই কাজ করছিলাম। সেই সূত্র ধরে ডাক পাই কোক স্টুডিও বাংলায়। আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন গানটির সংগীত পরিচালক শুভেন্দু দাস শুভ।’
গানটি লেখার নেপথ্য গল্প জানতে চেয়েছিলাম রিয়াদ হাসানের কাছে। তিনি জানান, কালুরঘাটের মতো একটি উপশহরে তিনি নিজে ছিলেন এবং সেখানকার বাসযাত্রা দেখেছেন। সাধারণত লোকাল বাসগুলো যেমন হয়, যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যাওয়া, গাদাগাদি, যাত্রীর চেঁচামেচি ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে যখন ভাবলেন, তখন মনে হলো, এটা নিয়ে গান লেখা যায়। রিয়াদ বলেন, ‘এই গান যতটা না গান, তার চেয়ে বড় বিষয়, এটা আমার জন্য একটা আনন্দের জার্নি।
সংগীতশিল্পী শায়ান চৌধুরী অর্ণবের সঙ্গে কাজ করা, কাজ শেখা, অভিজ্ঞতা অর্জন অনেক বড় পাওয়া আমার জন্য। গান লেখার পর অর্ণব দা মতামত দেন আরও দুটো আঞ্চলিক ভাষা এর সঙ্গে যুক্ত করা যায়। এমন ভাবনা থেকেই সিলেট ও খুলনার ভাষা যুক্ত হয় র্যাপ আকারে। গানটি প্রাথমিকভাবে সুরারোপের ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারার বাইরে করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমেরিকান কান্ট্রি মিউজিকের ধাঁচে মিউজিক দেওয়া হয়েছে। সংগীত পরিচালনা করেছেন শুভেন্দু দাস শুভ। গানটির খুলনার ভাষার গায়ক ছিলেন তৌফিক আহমেদ। আর সিলেটের ভাষায় গেয়েছেন পল্লব।’
‘কেউ উঠে, কেউ নামে, কেউ থামে… ’ এ লাইনগুলো দিয়ে সিলেটি ভাষায় আমি মানুষের জীবনের উত্থান-পতন এবং মৃত্যুর কথাই বুঝিয়েছি। ভুল মানুষের সঙ্গে মিশে সুরমা নদীতে পড়ে যাওয়া মানে জীবনের অধঃপতন—পুরো বাসজার্নিটাকে আমি জীবনের জার্নির সঙ্গে তুলনা করেই গেয়েছি,’ বললেন র্যাপার পল্লব।
‘মুড়ির টিন’ গানের আরেক র্যাপার তৌফিক আহমেদ বলেন, ‘খুলনায় ড্রাইভারকে ‘‘পাইলট’’বলে। এই পাইলট ধীরে চালালেও সমস্যা, দ্রুত চালালেও সমস্যা। তো উনি করবেনটা কী? চালকের হয়ে চালকের দুঃখের কথা গানে গানে বলে দিয়েছেন তৌফিকই, নিজ এলাকার ভাষায়।’
‘আপনারা তো এখন সেলিব্রিটি। সবার মুখে মুখে আপনাদেরই নাম, প্রশংসা…।’ বাক্যটি শেষ না হতেই হেসে ওঠেন রিয়াদ হাসান। বলেন, ‘এই গান আমাকে মানুষের ভালোবাসা এনে দিয়েছে আরও বেশি করে। কোক স্টুডিও বাংলা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। এত বড় একটা প্ল্যাটফর্মে নিজের লেখা-সুরে গান করলাম, মানুষজন দেখছেন, শুনছেন, লাখ লাখ ভিউ হচ্ছে। সবাই খুব প্রাণোচ্ছলভাবে গানটাকে ধারণ করছে—এটা নিঃসন্দেহে আমার জন্য খুব আনন্দ ও অনুপ্রেরণার বিষয়।’
Source: প্রথম আলো
আলোচনা–সমালোচনার মধ্যেই হচ্ছে ডিরেক্টরস গিল্ড নির্বাচন
***********************************************************************
ছোট পর্দার পরিচালকদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ডের নির্বাচন ঘিরে তর্ক-বিতর্ক বেড়েই চলছে। পরিচালকেরা জানান, নির্বাচন ঘিরে প্রতিবারই সদস্যদের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। নির্বাচনে প্রার্থী হলেই তাঁদের নিয়ে শুরু হয়ে যায় নানা সমালোচনা, তর্ক-বিতর্ক, গ্রুপিং। নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়। এ জন্য ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সংগঠনমুখী হতে চান না অনেকে। পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলা জানা যায়, এই মান-অভিমান নতুন কিছু নয়। এসব কারণে এবারও নির্বাচন থেকে সরে গেছেন একাধিক সাংগঠনিক কাজের যোগ্য নির্মাতা। ১০ মার্চ নির্বাচন। তার আগেই ভোটারদের প্রশ্ন, নির্বাচন কতটা আগ্রহ জাগাতে পারবে।
জানা যায়, মেয়াদ শেষ হলেও একটি নির্দিষ্ট সময় পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগের নির্বাচনে তেমনটাই দেখা গেছে। কিন্তু এবার তা না করে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বার্ষিক সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে আলোচনার মুখ্য বিষয় হয়ে ওঠে নির্বাচন। সেই সভায় একাধিক পরিচালক সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ বলেন, নির্বাচনে গত দুই বছর তেমন কোনো কাজই হয়নি। যে কারণে দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন নির্বাচিতরা। কেউ কেউ বলেন, সেই ব্যর্থতার দায়ও কিছুটা নিয়েছেন নেতারা। নির্বাচিত নেতাদের বক্তব্য, করোনার মধ্যে কাজ শুরু করতেই বিলম্ব হয়। তারপরও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সালাউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘আমি তো এখনো দায়িত্বে আছি। এসব নিয়ে আমার কথা বলা ঠিক হবে না। নির্বাচনের পর নতুন কমিটির শপথের মধ্য দিয়ে আমাদের দায়িত্ব শেষ হবে। তবে শুধু এটুকু বলব, কাজ করতে গেলে পক্ষ-বিপক্ষ বিতর্ক হবেই। ১০ জন থাকলে কেউ কেউ অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলবেনই। একটা রানিং কমিটির যে স্বপ্ন, পরিকল্পনা থাকে, সেই মোতাবেক অনেক সময় কাজ করা হয়ে ওঠে না, কখনো হয়। সাধারণ কমিটিতে সেসব নিয়েই কথা হয়েছে। আমরা এটা বুঝেছি, নির্বাচিত করে দেওয়ার পর সবার মন রেখে কাজ করা কঠিন। আমরা চেষ্টা করেছি, কিছুটা পেরেছি, কিছুটা পারিনি। কেউ কেউ তড়িঘড়ি বললেও নিয়ম মেনেই সব করছি।’
কেউ কেউ অভিযোগ করে জানান, সংগঠনটির নির্বাচন যেভাবে হয়, সেখানে ভালো সংগঠকেরা নির্বাচন করতে চান না। গতবারও অনেকেই নির্বাচন থেকে সরে যান। এ ধারাবাহিকতায় এবার নির্বাচনের ইচ্ছা থাকলেও শিহাব শাহীন, সকাল আহমেদ, ইমরাউল রাফাত, হৃদি হক, বান্না, পিকলু চৌধুরী, তুহিন হোসেন, ইমেল হক, ফেরারি অমিত, নিয়াজ চন্দ্রদ্বীপ, গোলাম মুক্তাদিরসহ অনেকেই শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে যান।
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচন নিয়ে আশার জায়গাটা আর নেই। কেউ কেউ নির্বাচন বর্জন করেছেন। তাঁদের কথা, মান-অভিমান ও স্বার্থের দ্বন্দ্বকে কেউ কেউ সামনে আনছেন, যা শিল্পীদের এই নির্বাচনে কাম্য নয়। পরিচালক তুহিন হোসেন বলেন, ‘যাঁরা সংগঠনে কাজ করে চান, তাঁরাই এবার নির্বাচন থেকে দূরে। এটা প্রমাণ করে, নির্বাচন থেকে তরুণদের আস্থা উঠে যাচ্ছে। সংগঠনের অনেকেই চাচ্ছিলেন, গাজী রাকায়েত ভাই, মাসুদ হাসান, অনিমেষ আইচদের মতো সাংগঠনিক ব্যক্তিদের নির্বাচনে নিয়ে আসতে। কিন্তু সুস্থ পরিবেশ আর মানসম্মানের ভয়ে যোগ্য অনেকেই সংগঠন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সাংগঠনিক মানুষেরা না থাকায় দিন দিন সংগঠনটি ভেঙে পড়ছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরিচালক বলেন, নির্বাচনে ভোটাররা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন না। নিয়মিত আর অনিয়মিত কাজ করেন, এমন পরিচালকের মধ্যে এখন গ্রুপিং হয়। নিয়মিত কাজ করেন, এই সংখ্যা খুবই কম। অনিয়মিত কাজ করেন, তাঁরা একজোট হয়েছেন। তাঁদের কথা, নিজেদের মধ্যে কাউকে নির্বাচিত করে সবার কাজের সুযোগ সৃষ্টি করবেন। কিন্তু যিনি নিজেই কাজ পান না, তিনি কীভাবে অন্যকে কাজ দেবেন। এগুলো নিয়ে মনোমালিন্য সব সময়ই হচ্ছে। যে কারণে সংগঠনটি ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না।
এ বছর নির্বাচনের জন্য সাধারণ সভায় উত্থাপন করা হয়েছিল সিলেকশন প্রক্রিয়া। কিন্তু বেশির ভাগ সদস্যই নির্বাচন নিয়ে উৎসাহ দেখিয়েছেন। যে কারণে বর্তমান কমিটিকে সিলেকশন প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে আসতে হয়েছে। নির্বাচনে সমিতির খরচও বাড়বে। সালাহউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘সিলেকশন হলেও খারাপ কিছু হতো না। সংগঠন প্রথম যখন শুরু হয়, তখন সিলেকশন প্রক্রিয়ায় কাজ শুরু হয়েছিল। সবার মত নিয়ে এটা করা যেত। কিন্তু সদস্যরা নির্বাচনে আগ্রহী, এখানে আমাদের কিছু বলার থাকে না।’
ছোট পর্দার নির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ডের নির্বাচনে সভাপতি পদে পরপর দুইবার জয়ী হয়েছেন সালাহউদ্দিন লাভলু। নিয়মমতো তিনি এবার নির্বাচন করতে পারছেন না। অন্যদিকে পরপর দুইবার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ছোট পর্দার নির্বাচন থেকে সরে বড় পর্দার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এস এ হক অলিক। সেখানে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। সর্বশেষ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে এবার ছোট পর্দার এই সংগঠনের সভাপতি পদে লড়বেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পদপ্রার্থী অনন্ত হিরা। সাধারণ সম্পাদক পদে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচন করছেন কামরুজ্জামান সাগর। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ফরিদুল হাসানের সঙ্গে। এ ছাড়া সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ বাকি ১০ পদে লড়বেন ৩২ জন পরিচালক। জয়ী হবেন ১৯ জন।
সভাপতি পদ প্রার্থী এস এ হক অলিক নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘যাঁরা বিগত দিনে সংগঠনকে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে নিয়েছেন, গোছানোর চেষ্টা করেছেন, নানাভাবে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের সংগঠনে দরকার ছিল। আবার নতুনেরা আগামী দিনের কান্ডারি। নতুন-পুরোনো মিলেই আমরা সংগঠনের জন্য কাজ করে যাব। আমরা আশা করছি, মান-অভিমান ভুলে সবাইকে নিয়ে নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে সবাই মিলে সংগঠনটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
Source: প্রথম আলো
দেবব্রত চৌধুরী মানুষটি এতই নিরীহ ভালোমানুষ যে বাইরের লোক আড়ালে আর তার ছেলেমেয়েরা মুখের সামনেই ভীতু বলে হাসাহাসি করে। দেব্রতবাবুর অবশ্য তাতে কিছু এসে যায় না। নিজের কাজটুকু নিয়মমতো মুখ বুজে করেই তার শান্তি। নিজের কাজ মানে অফিস ছাড়া জপ-তপ, সন্ধ্যা-আহ্নিক ইত্যাদি। আর ছোট্ট বাগানটির দিকে সকাল-সন্ধ্যা নজর রাখা।
বীরভূম জেলায় বোলপুরের কাছে এঁর আদি বাড়ি। সেখানকার ইস্কুল থেকে ফার্স্ট ডিভিশনে ম্যাট্রিক পাস করে সেই যে কলকাতায় এসে পড়াশোনা আরম্ভ করেন সেই থেকেই তিনি একেবারে কলকাতার মানুষ হয়ে গেছেন।
https://www.anuperona.com/khuni/