সাবধান, স্মার্টফোনে নজরদারি করছে জনপ্রিয় এসব অ্যাপ
***********************************************************************
স্মার্টফোনে আড়ি পাততে সক্ষম অ্যাপ বা স্পাইওয়্যারের সাহায্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তির অনলাইন বা দৈনন্দিন কার্যক্রমে নজরদারি করে থাকে সাইবার অপরাধীরা। এ জন্য বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোনে গোপনে স্পাইওয়্যার প্রবেশ করায় তারা। সম্প্রতি গুগল প্লে স্টোরে থাকা জনপ্রিয় ১০১টি অ্যাপে স্পাইওয়্যারের সন্ধান পাওয়া গেছে। অ্যাপগুলো নামালেই গোপনে স্পাইওয়্যার প্রবেশ করে ব্যবহারকারীদের অবস্থানসহ ফোনে থাকা সব তথ্য সাইবার অপরাধীদের কাছে পাঠাতে থাকে।
স্পাইওয়্যারযুক্ত অ্যাপগুলোর সন্ধান পেয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ডক্টর ওয়েবের নিরাপত্তা–বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দাবি, গুগলের নিরাপত্তাব্যবস্থার চোখ এড়িয়ে প্লে স্টোরে জায়গা করে নেওয়া অ্যাপগুলো এরই মধ্যে ৪২ কোটি ১২ লাখ ৯০ হাজারের বেশিবার ডাউনলোড করা হয়েছে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা অনেক অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীই সাইবার হামলার আশঙ্কায় রয়েছেন। বিষয়টি জানতে পেরে এরই মধ্যে প্লে স্টোর থেকে অ্যাপগুলো মুছে ফেলেছে গুগল।
স্পাইওয়্যারযুক্ত ১০১টি অ্যাপের মধ্যে ১০ কোটিবার ডাউনলোড হয়েছে দুটি অ্যাপ। সেগুলো হলো ‘নয়েজ: ভিডিও এডিটর উইথ মিউজিক’ এবং ‘জ্যাপিয়া-ফাইল ট্রান্সফার, শেয়ার’। ৫ কোটিবার ডাউনলোড হয়েছে ‘ভিফ্লাই: ভিডিও এডিটর অ্যান্ড ভিডিও মেকার’, ‘এমভিবিট-এমভি ভিডিও স্ট্যাটাস মেকার’ এবং ‘বিউগো-ভিডিও মেকার অ্যান্ড ভিডিও এডিটর’ অ্যাপ। ১ কোটিবার ডাউনলোড হয়েছে ‘ক্রেজি ড্রপ’, ‘ক্যাশজিন-আর্ন মানি রিওয়ার্ড’ এবং ‘ফিজো নভেল রিডিং অফলাইন’। ৫০ লাখবার ডাউনলোড করা অ্যাপগুলো হলো ক্যাশইএম গেট রিওয়ার্ডস ও টিক ওয়াচ টু আর্ন।
প্লে স্টোর থেকে মুছে ফেলা হলেও ফোনে থাকা স্পাইওয়্যারযুক্ত অ্যাপগুলো আগের মতোই নজরদারি করতে পারে। আর তাই ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোন থেকে অ্যাপগুলো দ্রুত মুছে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা–বিশেষজ্ঞরা। ক্ষতিকর অ্যাপ থেকে রক্ষা পেতে অ্যাপ নামানোর আগেই নির্মাতাদের বিষয়ে অনলাইনে খোঁজখবর নিতেও পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
সূত্র: গ্যাজেটস নাউ
source : প্রথম আলো
সেই কঙ্গনা, যার বড় বড় স্বপ্ন ছিল...
***********************************************************************
অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে বারবার প্রমাণ করেছেন। পরিচালকের আসনেও দেখা গেছে তাঁকে। এবার প্রযোজকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন বলিউড নায়িকা কঙ্গনা রনৌত। অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে আসতে চলেছে তাঁর প্রযোজিত ছবি ‘টিকু ওয়েডস শেরু’। গত বুধবার মুম্বাইয়ের এক অডিটরিয়ামে মহাধুমধামের সঙ্গে মুক্তি পেল ‘টিকু ওয়েডস শেরু’ ছবির ট্রেলার। ৪৯ বছর বয়সী নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকীর সঙ্গে এই ছবিতে জুটি বেঁধে আসছেন ২১ বছরের অবনীত কাউর। ছবিতে হাসি, রোমান্সের আড়ালে আছে সিনেমাজগতের পেছনের গল্প। সাই কবির পরিচালিত ছবিটি ২৩ জুন অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে আসতে চলেছে।
ট্রেলার মুক্তির অনুষ্ঠানে এই ছবিকে ঘিরে নিজের আবেগের কথা জানান কঙ্গনা। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, আমি যেন এক নতুন যাত্রা শুরু করছি। ২০০৬ সালে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম। কিন্তু তাও মনে হচ্ছে, আজ আমার আবার অভিষেক হতে চলেছে। এই ছবি আমার হৃদয়ে এক বিশেষ স্থানে আছে।
কারণ, অনেকেরই জানা নেই যে ছবিটি প্রথমে ইরফান খান আর আমার করার কথা ছিল। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও হয়ে গিয়েছিল। আমরা গণমাধ্যমকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। বড়সড় একটা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছিল। ওই সময় ছবির নাম ছিল “ডিভাইন লাভার্স”। কিন্তু কপাল খারাপ, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ছবির পরিচালক সাই কবির। আর সে কারণে তিন থেকে চার বছর দেরি হয়ে গেল।’
এখানেই শেষ নয়, কঙ্গনা যোগ করেন, ‘কবির স্যার যখন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফিরে এলেন, তখন আমরা ইরফান স্যারকে চিরতরে হারাই। এই ঘটনার পর আমি খুবই হতাশ হয়ে পড়ি। এই ছবির মাধ্যমে এক দশক আগের কঙ্গনাকে দেখাতে চেয়েছিলাম আমরা। সেই কঙ্গনা, যার বড় বড় স্বপ্ন ছিল, আর সে বলিউডে নিজের একটা স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ার আশায় বুঁদ থাকত। আমি কবির স্যারকে বলি, আমাদের এই প্রকল্প আর এগোবে না। এরপর আমি অ্যামাজন স্টুডিওর অপর্ণা পুরোহিতের সঙ্গে দেখা করে এই ছবির চিত্রনাট্য শোনাই। তিনি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান।’
কঙ্গনা জানান, ইরফানের পর ‘শেরু’ চরিত্রের জন্য নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকীর কথা ভাবা হয়। কঙ্গনা বলেন, ‘আমি নওয়াজ স্যারের নম্বর খুঁজে বের করি। কিন্তু শুনলাম, আগামী পাঁচ বছর তিনি নতুন কোনো ছবিতে স্বাক্ষর করবেন না। আর ছবির ব্যাপারে নওয়াজ স্যার কারও সঙ্গে কথাও বলবেন না। আমি তাঁকে মেসেজ দিই। নওয়াজ স্যার জানান যে তিনি বেঙ্গালুরুতে আছেন। আমি সেখানেও যাই। আমাকে দেখে তিনি অবাক, “আরে আপনি সত্যি সত্যি চলে এসেছেন!” নওয়াজ স্যার চিত্রনাট্য না শুনেই রাজি হয়ে যান। আমার মনে হয়, শিল্পীরা এ রকমই পাগল হয়।’
‘টিকু’র চরিত্রে ছোট পর্দার তারকা অবনীত কাউরকে দেখা যাবে। এই ছবির মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে বলিউডে পা রাখতে চলেছেন তিনি।
এর আগে ‘টিকু’র চরিত্রটি করার কথা ছিল কঙ্গনার। এই বলিউড নায়িকা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘“টিকু”র চরিত্রে নায়িকার খোঁজে আমাদের অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। বলিউডে সে রকম শক্তিশালী অভিনেত্রী পাচ্ছিলাম না, যিনি “টিকু”র চরিত্রে অভিনয় করতে পারবেন। আর এই চরিত্রে ছোট শহরের এক সরলতা লুকিয়ে আছে। কোনো বলিউড অভিনেত্রীর মধ্যে তা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অবশেষে অবনীতকে খুঁজে পাই। আমার মনে হয়েছিল, অবনীত টিকু চরিত্রের জন্য যথাযথ।’
কঙ্গনার ঝুলিতে এখন দারুণ সব প্রকল্প। ভবিষ্যতে তাঁকে ‘তেজস’ ছবিতে দেখা যাবে। এ ছাড়া তাঁর ঝুলিতে আছে ‘ইমার্জেন্সি’র মতো ছবিও। এই ছবিতে তাঁকে ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকায় দেখা যাবে। ‘ইমার্জেন্সি’র পরিচালনার দায়িত্ব কঙ্গনার কাঁধে, ছবিটির প্রযোজকও তিনি।
source : প্রথম আলো
‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’: এক ভয়ংকর সুন্দর নান্দনিক অন্তর্ঘাত
***********************************************************************
‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’। তারুণ্যের ঢেউয়ে ঢেউয়ে দিন দিন উত্তাল হয়ে ওঠা ঢাকার নাট্যমঞ্চের এক বিপন্ন বিস্ময়ের নাম। এক ভয়ংকর সুন্দর নান্দনিক অন্তর্ঘাত। ‘ভয়ংকর সুন্দর’ উচ্চারণের পেছনে বিরোধাভাস আছে। এই বিরোধাভাসই এ নাটকের সোনার কাঠি। আর ‘অন্তর্ঘাত’ তার স্বভাবধর্ম। ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ এক প্রকাণ্ড প্রশ্নচিহ্ন হয়ে আমাদের জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়াচ্ছে। চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে চাইছে ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের বুকে নারী নির্যাতনের সেই ছবিকে, যা ভুলে যাওয়ার কুহেলিকায় ক্রমে আচ্ছন্ন, তা না হলে রাজনৈতিক দাবা খেলার বোড়ে।
স্পর্ধা ইনডিপেনডেন্ট থিয়েটার কালেকটিভের দুই ঘণ্টা মেয়াদের এ প্রযোজনার পালা পড়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে। ১৬ জুন শুরু হয়ে লাগাতার ২১টি মঞ্চায়ন। চলবে মাসের শেষ অবধি।
সারস্বত অঙ্গনের দায়দায়িত্ব সামাল দিয়ে কয় বছর আগে পূর্ণোদ্যমে নাট্যাঙ্গনে ফিরে আসার দিনটি থেকেই সৈয়দ জামিল আহমেদের কাছে আমাদের প্রত্যাশার পারা চড়তে শুরু করেছে। গ্রুপ থিয়েটারের চালু ধাঁচের বাইরে এসে স্পর্ধা ইনডিপেনডেন্ট থিয়েটার কালেকটিভ গড়ে উৎকর্ষের যে স্বতন্ত্র চর্চা তিনি শুরু করেছিলেন, ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ তাতে এক জরুরি ধাপ।
এর গড়নের সঙ্গে জামিল আহমেদের কয় বছর আগের কাজ ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’র মিল আছে। দুটিই উপাত্ত সংগ্রহ করেছে গদ্যসাহিত্য থেকে। ফারাক বলতে ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’র কাঠামো তৈরিতে শহীদুল জহিরের রচনাকে সমগ্রতায় ধরেছিলেন জামিল। ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ খণ্ডিত মাত্রায় ধরেছে ১৯৯৪ সালের একুশের বইমেলায় বেরোনো নীলিমা ইব্রাহিমের বইটিকে। মূল বইয়ে উত্তমপুরুষ একবচনে লেখা সাতটি আখ্যান ছিল। মুক্তিযুদ্ধের রণরক্ত-ক্লেদ মাখানো সাতটি আখ্যান। সাতটি আখ্যানের প্রতিভূ হিসেবে সাত অভিনেত্রীকে এ নাটকের পুরোভাগে রেখেছেন জামিল। গোড়ার দিকে তাঁদের দিয়ে অভিনয়ে চরিত্রের নামও বলিয়ে নিয়েছেন।
তবে পূর্ণাঙ্গতায় পাওয়া গেছে দুটি আখ্যান। একটির নায়িকা ময়না (শারমিন আক্তার শর্মী), যিনি ওই নারকীয় অভিজ্ঞতার পর নিজের জোরে পুনর্বাসনের পথ কেটেছিলেন, ডিঙিয়ে এসেছিলেন শতসহস্র প্রতিকূলতা। অন্যটির নায়িকা মেহেরজান (মহসিনা আক্তার)—অষ্টম শ্রেণির সেই ছাত্রী, যিনি শারীরিক সুখের কোনো অনুভূতি পাওয়ার আগেই ‘চোপ খানকি’ দাবড়ানি শুনে হতবাক হয়েছিলেন। তারপর যৌনলালসার উপকরণ হয়ে যুদ্ধের শেষে পাকেচক্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের মাটিতে। অনেক দিন বাদে মাথা উঁচু করে ফিরে এসেছিলেন দেশের মাটিতে এবং বুঝেছিলেন, ‘আমি জীবনের সব পেয়েছি, কিন্তু মাটি হারিয়েছি।’ মেহেরজানের এ আখ্যানে ফিরে ফিরে এসেছেন স্বয়ং নীলিমা ইব্রাহিম (বুড়ি আলী)।
নাটক শুরু হতেই বোঝা গেল, হরেক জায়গা থেকে হরেক রকমের আলো ফেলার বন্দোবস্ত করেছেন জামিল। ফ্লোর ম্যাট হয়ে উঠছে তাঁর ক্যানভাস। শুরুতে কোনো কথা নয়, পিয়ানোর নৈরাজ্যময় বাজনায় ভর করে সাইক্লোরামার ওপর কিছু ছবি ফেললেন জামিল। লাঞ্ছনার শিকার নারীর চিত্রমালা। একসময় তা থিতু হলো সিলেটের শালুটিকরে পাকিস্তানি মিলিটারি ক্যাম্পের দেয়ালে আঁকা যৌনবিকারের সেই বীভৎস রেখাচিত্রে। ইতিমধ্যে একে একে মঞ্চে অবতীর্ণ হয়েছেন সাত কুশীলব। সচল হয়েছে প্রেক্ষাপট। তারপর আমাদের সচকিত করে আরমীন মূসার সুরে ‘আমি একজন বীরাঙ্গনা’ গেয়ে উঠলেন সবাই। ঘাসফড়িং কয়্যারের গাইয়ে-বাজিয়ের দল সহযোগ দিল। লোকচক্ষে এই বীরাঙ্গনাকুল কীভাবে বারাঙ্গনা হলেন—এই খেদোক্তি নিয়েই মূল আখ্যানভাগে ঢুকে পড়লেন জামিল।
স্বগতোক্তির ধাঁচে সরলরৈখিক আখ্যান। স্পষ্ট উচ্চারণে প্রবল উদ্দীপনায় বলে চলেছেন কুশীলবকুল। কুশলী শারীরিক অভিনয়। পরিশ্রমী তো বটেই, পরিমার্জিতও। অথচ গ্রাফিক ভায়োলেন্সের ধার ধারছেন না জামিল। অনুশীলনের নিবিড় মাত্রায় নাচতে নাচতে একক স্বর কখনো বহুস্বরী হয়ে বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনা তৈরি করছে, তো কখনো সমস্বরে বাসা বাঁধছে। এ-গানে, এ-বাজনায় কোথাও বাংলার চেনাজানা সুরের আলপনা নেই। ‘আমার সোনার বাংলা’—তা–ও নেই। আমাদের আবেগের চোরা কুঠুরিতে হানাদারি নেই। কালেকটিভ আনকনশাসের ঢাকনি খুলে ডাকিনী-যোগিনী তুলে আনা নেই। প্রায় সবটাই পশ্চিমি গতে বাঁধা। তাই বলে বাখ-বেথোভেন নয়, একেবারে একেলে সাউন্ডস্কেপ। এমনকি অঙ্গভঙ্গিমাতেও নেই বাঙালি কালচারাল বডির লালিত্যময় অলংকার।
‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’র কুশীলবদের শরীর চলেছে জার্মান কি মার্কিন ঘরানার ব্যালের ছাঁদে। দৃঢ়তা ও ভঙ্গুরতার তালে তালে। শরীরকে তুলি আর আলোকে রং বানিয়ে একের পর এক ছবি আঁকছেন জামিল।
আর্তনাদে মিশে যাচ্ছে এডওয়ার্ড মুঙ্খ, ক্যাথে কোলভিজের ছবি। এমনকি পিয়েতার নানান ধরন। শিল্পের সংকরায়ণে আস্থাশীল জামিল। এই পারফরম্যান্স স্পেস যেন তাঁর নিরীক্ষাগার। এর প্রতিটি আনাচকানাচজুড়ে তাঁর কল্পবিশ্বের মানচিত্র। পেছনের দেয়ালের পাঁচটি আয়ত ও বর্গাকার কুলুঙ্গির খোদল জামিলের হাতযশে আলাদা এক দুনিয়ার আমেজ এনে দিল। অভিব্যক্তিবাদী যেসব ছবি ক্রমাগত এঁকে চললেন জামিল, সেগুলোর একাংশ ঠাঁই পেল ওই সব চোরা কুঠুরিতে। সেঁধিয়ে গেল আমাদের অবচেতনে।
এভাবে বিষয় তো বটেই, ‘কহে বীরাঙ্গনা বলছি’ আলাদা হয়ে রইল তার বহুবর্ণী বহুমাত্রিক বিন্যাসের জন্য। এর দরুন কাঙ্ক্ষিত অভিঘাতে কি খামতি হলো কোনো? হয়তো হলো। জামিলের জ্ঞাতসারেই হলো। বাঁধভাঙা আবেগের কাছে নতজানু হয়ে নয়, জামিল নিশ্চিতভাবেই চেয়েছেন তাঁর দর্শক যেন বোধবুদ্ধিতে শান দিতে দিতে মিলনায়তন থেকে নিষ্ক্রান্ত হন। ওই নারকীয়তার ভাগীদার হন। সহমর্মী হন। সংবেদনশীলতায় আতুর হন। অপরিচয়ের যে বাতাবরণ ঘিরে আছে ‘বীরাঙ্গনা’দের, তার ঘেরাটোপ থেকে রেহাই পান। তাঁদের বীর মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা দিতে অকুণ্ঠ হন।
বলতেই হবে যে স্পর্ধার অভিনেত্রী সংঘের সবাই সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন। চরিত্র থেকে চরিত্রান্তরে গেছেন। জেন্ডার রিভার্সালের চাল দিয়ে বাজিমাত করেছেন অনায়াসে। তবু আলাদা করে বলতেই হয় মহসিনা আক্তারের কথা। মুহুর্মুহু ভোল বদলেছে তাঁর অভিনীত মেহেরজান চরিত্রের। ঢেঁকির দোলায় ওলট-পালট হয়েছে বাস্তবতা। অথচ মেহেরজানের মনস্তাত্ত্বিক নির্মাণে মহসিনার কোনো গাফিলতি নজরে আসেনি। এত ঋজুতা, এত মূর্ছনা তাঁর চরিত্রায়ণে।
‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’র ভূমিকায় নীলিমা লিখেছিলেন, ‘অনেকে সংবর্ধনা ও সম্মান জানানোর জন্য তাঁদের ঠিকানা চেয়েছেন। তার জন্য আরও এক যুগ অপেক্ষা করতে হবে।’
এর তিন দশক বাদে সংবাদমাধ্যমের জন্য ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’র বিশেষ মঞ্চায়নের শেষে জামিল বলেন, ‘পাকিস্তানিরা বীরাঙ্গনাদের ব্যবহার করেছে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে। আমরা বাংলাদেশিরা জাতীয়তাবাদের একটি প্রতীক হিসেবে পক্ষে বা বিপক্ষে লোক টানার জন্য বীরাঙ্গনাদের ব্যবহার করেছি। তাঁদের সম্মান দিতে শিখিনি।’
চরাচরব্যাপী এই শূন্যস্থান ভরাট করার জন্য ২১টি মঞ্চায়ন বড় কম পড়বে জানি। তবু ‘লালজমিন’, ‘বীরাঙ্গনার বয়ান’-এর পর এ প্রযোজনা দেশে বা বিদেশে গুমরে মরা অনেক আর্তনাদকে তার অসহ্য তীব্রতাসমেত গণপরিসরে ফিরিয়ে দিল। এক স্নায়বিক অথচ মানবিক পীড়নের মুখে আমাদের দাঁড় করিয়ে দিল স্পর্ধার ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’। বিনোদনের সাড়ে বত্রিশ ভাজায় বুঁদ হয়ে থাকা সমকালে এ পাওয়া নেহাত কম নয়।
source : প্রথম আলো
‘ফুলজান’ দিয়ে ফেরা
***********************************************************************
শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে আরেকটি বাংলা সিনেমা ‘ফুলজান’। নারীকেন্দ্রিক গল্পের এ ছবি পরিচালনা করেছেন আমিনুল ইসলাম। ছবিটি দেশের ১৫টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। ছবির নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন মিষ্টি জান্নাত। তিনি বলেন, ‘ছবিতে সামাজিক বার্তা আছে। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র ফুলজান, যেটি আমি করেছি। চার বছর পর আমার কোনো ছবি বড় পর্দায় মুক্তি পাচ্ছে। এ কারণে বেশ রোমাঞ্চিত। আশা করছি, দর্শকের ভালো লাগবে এ ছবি।’
২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘তুই আমার রানি’তে সর্বশেষ মিষ্টি জান্নাতকে দেখা যায়। ‘ফুলজান’ দিয়ে চার বছর পর প্রেক্ষাগৃহে ফিরছেন তিনি। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন রিয়াদ রায়হান, সনি রহমান, জারা প্রমুখ।
অজপাড়াগাঁয়ে জন্ম নেওয়া ফুলজানের জীবন নিয়ে সিনেমা। ফুলজানের বিয়ে, স্বামী-সংসার, সংসারের টানাপোড়েন, সন্দেহ, ষড়যন্ত্র, দ্বন্দ্ব–সংঘাত—এসব নিয়েই গল্প। পরিচালক আমিনুল ইসলামের দাবি, ছবিটির পরতে পরতে রোমাঞ্চ রয়েছে। মেয়েদের পাশাপাশি পুরুষেরাও নানাভাবে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন। তাঁদের সেই কষ্টগুলো, সামাজিক অসংগতিগুলো ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে ছবিতে।
source : প্রথম আলো
Install app for better experience