চকলেট তৈরি করে দেবে থ্রি-ডি প্রিন্টার
***********************************************************************
চকলেটপ্রেমীদের জন্য সুখবর। ঘরে বসেই নিজেদের পছন্দমতো নকশার চকলেট তৈরি করা যাবে এই থ্রি-ডি (ত্রিমাত্রিক) প্রিন্টারে। কোকো প্রেস মডেলের প্রিন্টারটিতে চকলেট তৈরির জন্য বিভিন্ন নকশা যুক্ত করা রয়েছে। এর ফলে নকশা নির্বাচন করে দিলেই থ্রি-ডি প্রিন্টারে চকলেট তৈরি হয়ে যাবে।
প্রিন্টারটিতে চকলেট তৈরির উপাদানসহ আলাদা একটি সিলিন্ডার রয়েছে। এর ফলে ইচ্ছা করলেই যেকোনো সময় চকলেট তৈরি করা যাবে। চাইলে বাজার থেকে পছন্দের চকলেট কিনে সেটি গলিয়ে নতুন আকৃতির চকলেট তৈরির সুযোগও মিলবে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বাজারে আসতে যাওয়া প্রিন্টারটির দাম ১ হাজার ৫০০ ডলার।
সূত্র: সিনেট
Source: প্রথম আলো
১০ বছর পর বলিউড তারকা জিয়া খানের অপমৃত্যুর মামলার রায়
***********************************************************************
আজ শুক্রবার সকাল থেকে বলিউডে সবার মনোযোগ ছিল অভিনেত্রী জিয়া খান আত্মহত্যার মামলার দিকে। অবশেষে আদালতের রায় এল সামনে। এই মামলার মূল অভিযুক্ত জিয়ার প্রেমিক অভিনেতা সুরজ পাঞ্চালি বেকসুর খালাস পেলেন। অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে পাঞ্চালি পরিবার।
১০ বছর পর বোধ হয় এবার শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন সুরজ পাঞ্চালি। ১০ বছর ধরে তাঁর মাথার ওপর ঝুলছিল এই মামলা। সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের রায় অনুযায়ী আজ তিনি নির্দোষ। আজ সকাল থেকে সিবিআই আদালত চত্বরে টান টান উত্তেজনা ছিল। শেষমেশ জিয়া খান আত্মহত্যার মামলার রায় কী হতে চলেছে, তা নিয়ে ছিল উৎকণ্ঠা।
বেলা ১১টা নাগাদ এই মামলার মূল অভিযুক্ত সুরজ তাঁর মা জারিনা ওয়াহাবকে সঙ্গে করে মুম্বাইয়ের সিবিআই বিশেষ আদালতে পৌঁছান। গাড়ি থেকে নামতেই পাপারাজ্জিরা তাঁদের ঘিরে ধরেছিলেন। অভিনেত্রী জারিনা ওয়াহাব পাপারাজ্জিদের উদ্দেশে বলেন যে তাঁর ছেলে সম্পূর্ণ নির্দোষ।
অবশেষে দুপুর সাড়ে ১২টার পর আদালত তাঁর রায় শোনান। আর সেই রায় অনুযায়ী এই মামলার মূল অভিযুক্ত সুরজ পাঞ্চালিকে নির্দোষ বলে ছেড়ে দেওয়া হয়। আদালতের এই রায়ের পর সুরজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ইনস্টা স্টোরিতে এক ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘সত্যের সব সময় জয় হয়’।
অভিনেত্রী জিয়া খানের মৃত্যুর ১০ বছর পার হয়ে গেছে। ২০১৩ সালের ৩ জুন জুহুতে নিজের বাসায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন ২৫ বছরের এই অভিনেত্রী। প্রেমিক সুরজ পাঞ্চালির দিকে অভিযোগ উঠেছিল যে তিনি জিয়াকে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করেছেন।
জিয়ার মা রাবিয়া খান অভিযোগ এনেছিলেন যে সুরজ তাঁর মেয়ের ওপর শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার করতেন। এমনকি রাবিয়ার অভিযোগ ছিল যে সুরজ জিয়াকে হত্যা করেছেন। তাই তাঁর মতে এটা আত্মহত্যার ঘটনা নয়।
রাবিয়া সুরজের বিরুদ্ধে মুম্বাই আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সুরজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে পরে জামিনে ছাড়া পেয়েছিলেন বলিউড অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চালির ছেলে সুরজ। পরে সিবিআইকে এই আত্মহত্যার মামলার তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে ১০ বছর পর এই মামলার নিষ্পত্তি হলো। আজ আদালত সুরজকে নির্দোষ বলে ঘোষণা করল।
Source: প্রথম আলো
অনন্ত জলিলের মুখে ‘হোয়াই, কেন’ শুনে হাসি আটকাতে পারেননি দর্শক
***********************************************************************
গল্পটা চেনা, গল্পের গতিবিধিও অনেকটাই অনুমেয়; কচ্ছপ আর খরগোশের দৌড় প্রতিযোগিতার সেই চর্চিত গল্পের মতো। তবে উপস্থাপনাটা ঝলমলে, জাঁকালো। পপকর্ন চিবাতে চিবাতে একবসায় সিনেমাটি দেখে ফেলা যায়।
সিনেমায় প্রিন্স মাহমুদ নামের এক চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা অনন্ত জলিল। ঢাকার শীর্ষ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে তার লড়াইয়ের গল্প নিয়েই কিল হিম। শুরুটা শ্লথ হলেও ৪০ মিনিট পর গতি পেয়েছে, এরপর শেষ দৃশ্য পর্যন্ত তরতর করে এগিয়ে গেছে।
মসলাদার সিনেমার সব বন্দোবস্তই এতে রয়েছে। বিশেষ করে অ্যাকশন দৃশ্যগুলো গোছানো ও বাস্তবসম্মত। আড়াই ঘণ্টাজুড়ে হৃদয়গ্রাহী ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক একের পর এক দৃশ্যকে জীবন্ত করে তুলেছে।
চিত্রনাট্যের পরতে পরতে অ্যাকশন দৃশ্য রয়েছে। কিছু ফাঁকফোকর বাদ দিলে অ্যাকশনে যথেষ্ট মুনশিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন ফাইট ডিরেক্টর চুন্নু। বলা যায়, অ্যাকশনেই মোটামুটি উৎরে গেছে সিনেমাটি। আর কাজী সেলিমের শ্রুতিমধুর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক মাদকতা ছড়িয়েছে।
সিনেমায় চিত্রগ্রাহক সাইফুল শাহীনের ক্যামেরার কাজ চোখে আরাম দিয়েছে। দৃষ্টিনন্দন লোকেশন, ড্রোন শটের পরিমিত ব্যবহার আর প্রয়োজনীয় ক্লোজ শট সিনেমার পরিবেশনাকে ঝকমকে করে তুলেছে। সিনেমায় দুটি গান রয়েছে। এর মধ্যে আইটেম গানটি পর্দায় খুব একটা তরঙ্গ ছড়াতে না পারলেও রোমান্টিক গানটির কথা ও সুরের সঙ্গে লোকেশন আলাদাভাবে নজর কেড়েছে। সিনেমায় কমেডিও রয়েছে, তবে বেশ পরিমিত।
সিনেমাজুড়ে প্রযুক্তির যথাসাধ্য ব্যবহার করেছেন পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিহেভেরিয়াল সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে ভাইয়ের খুনের বদলা নিতে দেশে ফেরেন জিনিয়া (বর্ষা)।
জিনিয়ার অত্যাধুনিক ল্যাবে চৌকস পুলিশ প্রিন্স মাহমুদকে ধরে আনা হয়; এরপর তাঁর স্মৃতি মুছে ফেলে শরীরে একটি মাইক্রোচিপ বসানো হয়। হাতে যোগ করা হয় জিপিএস ট্র্যাকার, অতীত ভুলে নতুন পরিচয় পায় প্রিন্স মাহমুদ। তার নাম হয় সালমান চৌধুরী। জিনিয়া ও তার দলের কাছে থাকে সালমান চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণ।
এর আগে ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বলিউডের প্রিন্স সিনেমায় স্মৃতি মুছে ফেলার এমন ধারণা পাওয়া যায়। তবে এটাকে পুরোপুরি কপি না বলে অ্যাডাপটেশন বলা যায়। যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্যভাবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দৃশ্যগুলো তুলে আনা হয়েছে।
এবার অভিনয়ে আসা যাক। প্রায় পুরোটা সময় পর্দা অনন্ত জলিলের দখলে ছিল। সংলাপ প্রক্ষেপণ, উচ্চারণ, মুখভঙ্গি বিবেচনায় আগের সিনেমাগুলোর তুলনায় অনন্ত জলিলের অভিনয় বেশ পরিণত হয়েছে। কিছু দৃশ্য বাদ দিলে মোটামুটি সাবলীল অভিনয় করেছেন তিনি। চুলের স্টাইল, রোদচশমা আর পরিমিত পোশাকে অনন্ত জলিলকে ছিমছাম লেগেছে। জিনিয়া চরিত্রে বর্ষাও সাবলীল ছিলেন। ফাহাদ নামে এক শীর্ষ মাদক কারবারির চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিশা সওদাগর, তবে তাঁকে বাকি দশটা সিনেমা থেকে আলাদা করা যায়নি। টাইগার নামে এক কিলারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক রুবেল। এই চরিত্র দিয়ে প্রায় হারিয়ে যাওয়া রুবেলের পুনর্জন্ম হতে পারত, তবে নিজেকে তিনি যথেষ্ট ভাঙতে পারেননি।
তবে সিনেমার গল্পটা আরেকটু আঁটসাঁট হতে পারত, মেদ ছিল। দুয়েকবার বেশ ঝুলে গেছে। শুরুটা বেশ শ্লথ ছিল, কিছু দৃশ্য কমিয়ে ফেললেও চলত। মিশা সওদাগরের চার চ্যালার শত্রুদের মেরে ফেলার দৃশ্যগুলো গল্পের সঙ্গে খুব একটা প্রাসঙ্গিক ছিল না। সিনেমার চিত্রগ্রহণ মোটের ওপর বেশ ভালো হলেও তিন থেকে চারটি দৃশ্যে সংলাপ বলার সময় চরিত্রের ঘাড়ের ওপর থেকে বাদ পড়েছে। এটা কি ইচ্ছাকৃত নাকি অমনোযোগ!
অনন্ত জলিল উচ্চারণে অনেকটা উন্নতি করলেও পুরোটা এখনো পারেননি। একই কথা বাংলার পর ইংরেজিতে বলার নিজস্ব স্টাইল ধরে রেখেছেন। সিনেমার শেষ ভাগে খুব সিরিয়াস দৃশ্যে অনন্ত জলিলের মুখে ‘হোয়াই, কেন’ শুনে হাসি আটকাতে পারেননি দর্শক। দুয়েকবার অনন্ত জলিলের হাসির অভিনয়ও মেকি লেগেছে।
মোটের ওপর সিনেমাটি ক্লিশে লাগবে না, সিনেমাটি পরিবার নিয়ে দেখতে পারেন। আড়াই ঘণ্টা বৃথা যাবে না, ছোটখাটো অসঙ্গতিগুলো বাদ দিলে অনেকটা নির্ভেজাল বিনোদন নিয়ে হল থেকে ফিরতে পারবেন।
সুনান মুভিজের ব্যানারে নির্মিত সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে ঈদুল ফিতরে। সিনেমার শেষ ভাগে বলা হয়েছে, টু বি কন্টিনিউড (চলবে)। সিনেমার দ্বিতীয় খণ্ড আসবে কি না, তা এখনো খোলাসা করা হয়নি। তার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে।
Source: প্রথম আলো
কুকুর নিয়ে ঝগড়া, প্রতিশোধ নিতে মাদক দিয়ে ফাঁসানো হয় সেই অভিনেত্রীকে
***********************************************************************
বোনের সঙ্গে ঝগড়ার সূত্র ধরে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয় বলিউড অভিনেত্রী কৃষাণ পেরেরাকে। প্রায় এক মাস মাদক মামলায় কৃষাণ সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় কারাবাসের পর প্রকাশ্যে এল এ ঘটনা। জানা গেল, তাঁকে ফাঁসাতেই পরিকল্পনা এঁটেছিলেন মুম্বাইয়ের বাসিন্দা অ্যান্টনি পল। প্রাথমিক তদন্ত শেষে মুম্বাই পুলিশ এমনটাই জানিয়েছে। খবর এনডিটিভির
ঘটনার সূত্রপাত বছর কয়েক আগে, কোভিড মহামারির সময়। একই ভবনে থাকতেন কৃষাণ পেরেরার মা প্রমীলা পেরেরা ও অ্যান্টনি পলের বোন। একবার অ্যান্টনি পলের বোনের সঙ্গে পোষা কুকুর নিয়ে ঝগড়া হয় কৃষাণের মা প্রমীলার। এরপরই প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন অ্যান্টনি। মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেন প্রমীলার মেয়ে ‘সড়ক টু’ অভিনেত্রী কৃষাণকে। এই মাদক মামলায় এক মাস সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় আটক ছিলেন ভারতীয় এই অভিনেত্রী।
সব ঘটনা সামনে আসার পর গতকাল শারজার জেল থেকে মুক্তি পান কৃষাণ। প্রায় এক মাস আগে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে তিনি ফেঁসেছিলেন মাদক মামলায়। শারজা বিমানবন্দর থেকে আটক হয়েছিলেন ২৭ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী। দুই দিনের মধ্যে ভারতে ফিরে আসবেন কৃষাণ।
বোনের সঙ্গে ঝগড়ার প্রতিশোধ নিতেই একটি বেকারির মালিক অ্যান্টনি পল প্রমীলার মেয়ে কৃষাণকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন একটি ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক রবি বোভাতে। রবি প্রযোজক সেজে হলিউডের একটি ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন কৃষাণকে। শর্ত ছিল, অডিশন দিতে যেতে হবে আরব আমিরাতে। প্রস্তাবে রাজি হলে মুম্বাই থেকে শারজার বিমানের টিকিটও কেটে দেন রবি বোভাতে।
এরপর কৃষাণকে একটি ট্রফি দেওয়া হয় আরব আমিরাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এর মধ্যেই মাদক রেখে দিয়েছিলেন রবি। কিন্তু তা বুঝতে পারেননি অভিনেত্রী। শারজাহ বিমানবন্দরে ফোন করে মাদক বহনের তথ্যও দিয়ে দেন রবি। এপ্রিলের ১ তারিখ শারজাহ বিমানবন্দরে নামলেই কৃষাণকে আটক করা হয়।
মুম্বাই পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের প্রতিবেদন শারজায় পুলিশকে পাঠালে কৃষাণকে ছেড়ে দেয় শারজা পুলিশ। জেল থেকে ছাড়া পেয়েই ভিডিও কলে মা প্রমীলার সঙ্গে কথা বলেন অভিনেত্রী। মাকে দেখেই কেঁদে ফেলেন তিনি। আগামী দুই দিনের মধ্যে ভারতে ফিরবেন এই অভিনেত্রী।
Source: প্রথম আলো
ড্রামা লিগে মনোনয়ন পেল ‘পাবলিক অবসেনিটিস’
***********************************************************************
বাংলা ও ইংরেজিভাষী অফ-ব্রডওয়ে নাটক ‘পাবলিক অবসেনিটিজ’ শ্রেষ্ঠ নাটক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ড্রামা লিগে মনোনীত হয়েছে। এই নাটকের জন্য সেরা পরিচালকের মনোনয়ন পেয়েছেন বাঙালি নাট্যকার ও পরিচালক মিশা চৌধুরী। একই নাটকে কাজ করে বিশিষ্ট অভিনেতা বিভাগে মনোনীত হয়েছেন আরেক বাঙালি অভিনয়শিল্পী গার্গী মুখার্জি। ২৫ এপ্রিল ম্যানহাটনের পাবলিক লাইব্রেরিতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এই মনোনয়ন ঘোষিত হয়।
নিউইয়র্কের জনপ্রিয় সোহো রেপো থিয়েটারে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মঞ্চস্থ হয়েছে ‘পাবলিক অবসেনিটিজ’। বিষয়ের বৈচিত্র্য ও প্রযোজনার মুনশিয়ানার জন্য নাটকটি দর্শক ও নাট্যবিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে।
এক দীর্ঘ সমীক্ষায় নাটকটিকে ‘সম্মোহক’ অভিহিত করে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা লিখেছে, লেখক-পরিচালক মিশা চৌধুরী একই সঙ্গে নানা বিষয়, ইতিহাস ও সম্ভাবনাকে এমন দক্ষতার সঙ্গে একই সুতায় গেঁথেছেন যে প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী নাটকটি শেষ হওয়ার পরও আরও কিছু পাওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকেন দর্শক। টাইমস–এর ভাষায়, নাটকটি নব্য বাস্তববাদী নাট্যধারার সেরা কাজগুলো মনে করিয়ে দেয়।
নাটকটির কেন্দ্রে আছেন যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাঙালি-আমেরিকান যুবক ছোটন আর তার কৃষ্ণকায় মার্কিন বন্ধু। তারা কলকাতায় পিসির বাসায় বেড়াতে আসার পর তৈরি হয় বহুমুখী পারিবারিক উত্তেজনা। মার্কিন যুবকটি ছাড়া নাটকের সব পাত্র–পাত্রীই বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে কথা বলে। ইলেকট্রনিক পর্দায় বাংলা সংলাপের ইংরেজি অনুবাদ থাকলেও ভাষার এই মিশ্রণ অবাঙালি দর্শকদের জন্য আদৌ কোনো প্রতিবন্ধক হয়ে ওঠে না।
ভাষার আসল কাজ হলো যোগাযোগ, একে অপরের সঙ্গে সংযোগ প্রতিষ্ঠা করা। ভাষার ভিন্নতা সে সংযোগ প্রতিষ্ঠায় আদৌ কোনো প্রতিবন্ধক নয়। নাটকটির এই দ্বিভাষিক বৈশিষ্ট্য বাঙালি-অবাঙালি সব দর্শককেই মুগ্ধ করে।
আমেরিকায় প্রাচীনতম নাট্য পুরস্কারের একটি ড্রামা লিগ। ১৯২২ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।
পাবলিক অবসেনিটিস ছাড়া এ বছর শ্রেষ্ঠ নাটকের জন্য মনোনীত হয়েছে লাইফ অব পাই, সামার ১৯৭৬, দ্য ব্যান্ডেজড প্লেসসহ মোট ১৩টি নাটক। দীর্ঘদিন পর পুনরায় অভিনীত হচ্ছে এমন নাটকের মধ্যে রয়েছে ডলস হাউস ও আ রেইজিন ইন দ্য সান। গার্গী মুখার্জি ছাড়া বিশিষ্ট অভিনেতার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন জেসিকা চেস্টেইন ও ড্যানিয়েল ব্রুকস। আগামী ১৯ মে নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে ড্রামা লিগ পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে এবং তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
Source: প্রথম আলো
হলিউড ঘিরে স্বপ্ন প্রিয়াঙ্কার
***********************************************************************
কিছুদিন আগেই মেয়ে মালতী ও স্বামী নিক জোনাসকে নিয়ে নিজের দেশে এসেছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস। বলা যায়, এই ভ্রমণে এসে তিনি রথ দেখা, কলা বেচা দুই-ই করেছেন। একদিকে মালতীকে নানির বাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে গেলেন, অন্যদিকে ওয়েব সিরিজ সিটাডেল-এর প্রচারকাজও সারলেন। আজ শুক্রবার অ্যামাজন প্রাইমে সিরিজটি মুক্তি পাবে। সে উপলক্ষে মুম্বাইয়ের একটি পাঁচতারা হোটেলে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাসের মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধি দেবারতি ভট্টাচার্য। খোলামেলা আড্ডায় উঠে এল তাঁর ‘দেশি গার্ল’ থেকে ‘গ্লোবাল আইকন’ হয়ে ওঠার কিছু কথা।
‘হলিউডে আমার প্রায় দশ বছর হয়ে গেছে। এত দিনে আমার কাঁধে এমন এক শোর দায়িত্ব। আমার মনে হয়, পশ্চিমি দুনিয়ার আমার সম্পর্কে আর ভারতীয় ছবি সম্পর্কে ধারণা অনেকটা বদলে গেছে। এর অনেক বড় কারণ ওটিটি। এটা দুনিয়াটাকে খুব ছোট করে দিয়েছে,’ শুরুতে বলেন প্রিয়াঙ্কা।
ওখানে আমি অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। তাই আজ যে উচ্চতায় পৌঁছেছি, তার দায়িত্ব আমি বুঝি। তাই তরুণ অভিনেতা, লেখক, পরিচালক, বিশেষ করে নারীদের এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমার প্রযোজনা সংস্থার মাধ্যমে অনেক অনেক শো, ছবি বানাই। দক্ষিণ এশিয়ার কাহিনিকে বিশ্বের ভাষায় বলতে চাই। যখন পশ্চিমে কাজ শুরু করেছিলাম, তখন সেখানে ভারতীয় ও দক্ষিণ এশিয়ানের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা।
এই সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। শুধু দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিভাদের জন্য আমি প্রি-অস্কার পার্টিতে সঞ্চালনা করা শুরু করেছি। আমরা প্রায় ৩০০ জন সেই পার্টিতে শামিল হয়েছিলাম। একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে যেন বলছিলাম, আমরা পেরেছি। সত্যি বলতে, আমি সেদিন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম।’
ভারতের বাইরে থাকলেও পরিবারের সবার সঙ্গে বসে দেশি ছবি বা সিরিজের মজা নেন প্রিয়াঙ্কা। কথায় কথায় জানান, বলিউড নায়ক রাজকুমার রাওয়ের অনেক বড় ভক্ত তিনি। এই নায়কের কোনো ছবি দেখতে তিনি ভোলেন না।
বরাবরই স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন প্রিয়াঙ্কা। সময়ের সঙ্গে তাঁর স্বপ্নের রং, রূপ বদলেছে। ‘দেশি গার্ল’ এখন কী স্বপ্ন দেখেন, জানতে চাইলে হেসে বলেন, ‘১৭ বছর বয়সে ক্যারিয়ার শুরুর সময় আমার স্বপ্ন বা ইচ্ছা ছিল ছোট। একটা ভালো ছবি বা ভালো অভিনেতার সঙ্গে কাজ পেলেই খুশি থাকতাম। আজ আমার স্বপ্ন বড় আকার নিয়েছে। আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে আমি অনেক বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী। চাই অনেক বেশি ভারতীয় অভিনেতা, পরিচালকদের হলিউডে দেখতে। হিন্দি ভাষায় এমন কনটেন্ট আসুক, যা সারা দুনিয়া দেখবে।’
বলিউডে একসময় লম্বা সংগ্রাম করতে হয়েছে। হলিউডেও দশ বছর ধরে সংগ্রাম করতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী বলেন, ‘আমি বলিউডের সেরা পরিচালক, নির্মাতা, অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছি। নিজেকে নানা চরিত্রে মেলে ধরার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু হলিউডে এখন পর্যন্ত এসব করার সুযোগ পাইনি। একজন শিল্পী হিসেবে বলিউডে আমি যা করেছি, ওখানেও তা–ই করতে চাই। আশা করি আগামী দশ বছরে নিজেকে ওখানে প্রমাণ করতে পারব।’
আর পাঁচজনের মতো প্রিয়াঙ্কার জীবনও চড়াই-উতরাইতে ভরা। তিনি বলেন, ‘সংগ্রাম সবার জীবনেই থাকে। এই সংগ্রামই আমাকে শক্তিশালী করে তুলেছে। দেখুন, ব্যর্থ সবাই হয়। কিন্তু তার পরবর্তী পদক্ষেপই বোঝায়, মানুষ হিসেবে আপনি অন্তর থেকে কতটা শক্তিশালী।’
সিটাডেল-এ প্রিয়াঙ্কাকে রিচার্ড ম্যাডেনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অ্যাকশন করতে দেখা যাবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। সবার মতো শুরুর দিকে আমিও ভয় পাই। কিন্তু পরে সেই ভয়কে যখন জয় করি, তখন দারুণ আনন্দ হয়। সিটাডেল-এর পর এমন কিছু করতে চাই, যা আমাকে ভয় পাওয়াবে। টানা দেড় বছর ধরে সিরিজটির শুটিং করেছি। ওই সময় নিজেকে ফিট রাখতে হয়েছিল।’
কন্যা মালতী জীবনে আসার পর তাঁর জীবন অনেকটা বদলে গেছে বলে জানান এই অভিনেত্রী, ‘এখন আমার জীবনের প্রাধান্য বদলে গেছে। একটু বিরতি পেলেই সোজা বাড়িতে যাই। সিটাডেল-এর পর তাই এক বছরের ছুটি নিয়েছিলাম, যাতে ওর সঙ্গে সময় কাটাতে পারি। ওর দেখভাল করা জরুরি ছিল। সপ্তাহান্তে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসি।’
Source: প্রথম আলো
Install app for better experience