বহু বছর ধরে একটি গুজব তাকে সর্বত্র অনুসরণ করেছে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। 🎤
অনেকেই শুনেছিলেন যে Michael Jackson নাকি নিজের গায়ের রং পরিবর্তন করেছিলেন, কারণ তিনি “কালো হতে চাননি।” এই গল্পটি ট্যাবলয়েড ও জনপ্রিয় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই ব্যাখ্যাটি সঠিক ছিল না।
১৯৯৩ সালে Oprah Winfrey-এর সঙ্গে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জ্যাকসন নিজেই প্রকাশ করেন যে তার ছিল Vitiligo — একটি অটোইমিউন রোগ, যা ত্বকের রং উৎপাদনকারী কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অনিয়মিত সাদা দাগ তৈরি হয়, যা সময়ের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
২০০৯ সালে তার মৃত্যুর পর করা ময়নাতদন্তেও নিশ্চিত করা হয় যে তার ভিটিলিগো ছিল। পাশাপাশি এতে উল্লেখ করা হয় যে তিনি Lupus নামের আরেকটি অটোইমিউন রোগেও ভুগছিলেন, যা ত্বকসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। 🧬
ভিটিলিগোর গুরুতর ক্ষেত্রে, ত্বক বিশেষজ্ঞরা কখনও কখনও চিকিৎসার মাধ্যমে অবশিষ্ট গাঢ় অংশগুলো হালকা করার চেষ্টা করেন, যাতে ত্বকের রং তুলনামূলকভাবে সমান দেখায়। যখন সাদা দাগ অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়ে, তখন এটি একটি স্বীকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি।
এমন কোনো প্রমাণিত চিকিৎসাগত তথ্য কখনো পাওয়া যায়নি, যা দেখায় যে জ্যাকসন বর্ণগত কারণে নিজের ত্বকের রং পরিবর্তন করেছিলেন।
সম্ভবত এই ভুল ধারণা ছড়িয়েছে কারণ সে সময় ভিটিলিগো সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা খুব কম ছিল, তার ওপর ছিল তার চেহারা নিয়ে তীব্র গণমাধ্যমের নজর এবং অতিরঞ্জিত ট্যাবলয়েড সংবাদ।
কখনও কখনও একটি গুজব রোগ নির্ণয়ের চেয়েও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আর কখনও সত্যটা খুবই সাধারণ — রহস্যময় নয়, বরং চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয়।