কালাচ বা কমন ক্রেইট আর রাসেল'স ভাইপার হচ্ছে আমাদের দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলোচিত দুটি সাপের প্রজাতি। এজ দুটি সাপের প্রজাতিই মারাত্নক বিষধর এবং প্রতি বছর প্রতি বছর বাংলাদেশের প্রচুর মানুষ এই দুটি প্রজাতির সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
রাসেল'স ভাইপার ও কালাচ দুটো সাপের বিষের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। রাসেল'স ভাইপার হচ্ছে ভাইপারিডি গোত্রের একটি সাপ এবং একই সাথে এর রয়েছে মারাত্নক হেমোটক্সিক বিষ, যা রক্ত জমাট বাঁধতে দেয়না, যার ফলে ইন্টারনাল রক্ত ক্ষরণ ঘটতে পারে, সেই সাথে কিডনীর কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্থ হয়, এমনকি কিডনী বিকল হয়ে যেতে পারে, যেই কারণে বেশিরভাগ রোগী মারা যায়। এছাড়া পেশীর কোষগুলো নষ্ট হতে থাকে এবং মাংসপেশী অচল হয়ে যায়। আর অপরদিকে ক্ষতস্থানের আশেপাশে ফোস্কা পড়ে, পচন ধরে যায়, মাঝে মাঝে অঙ্গহানি ঘটতে পারে। আর এই সাপের বিষের প্রভাবে রোগী সুচিকিৎসা না পেলে ২/৩ দিনের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তি মারা যেতে পারে।
আর অপরদিকে কালাচের বিষ হচ্ছে মারাত্নক নিউরোটক্সিক বিষ। এর রয়েছে দুই ধরণের নিউরোটক্সিক বিষ, একটি প্রিসিন্যাপটিক নিউরোটক্সিক বিষ যা মস্তিকের স্নায়ুকে বিকল করে করে দেয়, আরেকটি হচ্ছে পোষ্টসিন্যাপটিক নিউরোটক্সিক বিষ যা পেশীগুলোর সংকেত গ্রহণকারী কোষগুলোকে বিকল করে দেয়, ফলে ধীরে ধীরে পেশীসমূহ আস্তে আস্তে বিকল হয়ে যায়, বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যক্তির রেসপিরেটরি সিস্টেম বিকল হয়ে শ্বাস- প্রাশ্বাস বন্ধ হয়ে রোগী মারা যায়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে রোগী ৬ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে মারা যায়।
Toxinologist রা বিষের তীব্রতা পরিমাপ করেন LD50 এর মানের উপর ভিত্তি করে। কোনো সাপের বিষের কার্যকারিতা তুলনা করার জন্য LD50 (Lethal Dose 5-এর মান ব্যবহার করা হয়। LD50 বলতে বোঝায় একটি নির্দিষ্ট প্রাণীর (যেমন ইঁদুর) জনসংখ্যার ৫০% কে মেরে ফেলার জন্য প্রয়োজনীয় বিষের পরিমাণ। LD50 মান যত কম হয়, বিষের বিষাক্ততা তত বেশি হয়।
এখন দেখা যাক গবেষণাগারে কোন সাপের ক্ষেত্রে LD50 এর মান কত পেয়েছেন টক্সিনোলজিস্টরা?
কমন ক্রেইট: বিভিন্ন গবেষণায় ইন্ট্রাভেনাস (শিরায়) ইনজেকশনের মাধ্যমে কমন ক্রেইটের বিষের LD50 মান প্রায় 0.169 থেকে 0.2828 মাইক্রোগ্রাম/গ্রাম পর্যন্ত পাওয়া যায়।
রাসেলস ভাইপার: একই পদ্ধতিতে রাসেলস ভাইপারের বিষের LD50 মান প্রায় 0.3321 থেকে 0.4 মাইক্রোগ্রাম/গ্রাম পর্যন্ত পাওয়া যায়।
উপরে উল্লিখিত মানগুলো থেকে দেখা যায় যে, কমন ক্রেইটের LD50 মান রাসেলস ভাইপারের LD50 মানের চেয়ে কম। এর অর্থ হলো, কমন ক্রেইটের বিষ রাসেলস ভাইপারের বিষের চেয়ে বেশি বিষাক্ত।
কিন্তু একবার ছোবড়ে রাসেল'স ভাইপার কালাচের থেকে বেশি বিষ ছেড়ে দেয়।
আবার কালাচের বিষের ফলে মৃত্যু অনেক দ্রুত ও সময়মত চিকিৎসা না পেলে শতভাগ নিশ্চিত। আর কালাচ সাধারণত ঘুমের মধ্যে মানুষের ঘরে বিছানায় যেয়ে ছোবড় দেয়, যেখানে রাসেলস ভাইপার শুধুমাত্র আক্রান্ত হলে প্রতিঘাত করে। তাই কালাচকে বেশি মারাত্নক ও প্রাণঘাতী বলা যায়।


