জানজিমান এলি তার জীবনের অনেকটা সময় অন্য মানুষের চেয়ে রুয়ান্ডার জঙ্গলে বেশি স্বস্তি খুঁজে পেতেন।
১৯৯৯ সালে মাইক্রোসেফালি নিয়ে জন্ম নেওয়া এলির বিকাশ ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সমস্যা ছিল। তবে তিনি যে কঠিন বাধাগুলোর মুখোমুখি হয়েছিলেন, তার অনেকগুলোই তার শারীরিক অবস্থার কারণে নয়; বরং মানুষের আচরণের কারণে তৈরি হয়েছিল।
তার মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, চেহারার কারণে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক—উভয়েই তাকে উপহাস করত। এসব থেকে বাঁচতে এলি প্রায়ই জঙ্গলে ছুটে যেতেন। কখনো কখনো তার মা তাকে খুঁজতে খুঁজতে অনেক দূর পর্যন্ত হেঁটে যেতেন।
তবুও তার মা কখনো তার পাশ থেকে সরে যাননি।
এলির জন্মের আগে তিনি পাঁচ সন্তানকে হারিয়েছিলেন। তাই তার মা এলিকে সেই সন্তান হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার জন্য তিনি প্রার্থনা করেছিলেন। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি সবসময় তার যত্ন নিয়ে গেছেন।
এরপর আফ্রিম্যাক্স টিভির একটি তথ্যচিত্রের মাধ্যমে তাদের গল্প কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সাহায্যের জন্য অর্থ দিতে শুরু করেন। আর এলির জীবনে যে সুযোগটি এতদিন অনুপস্থিত ছিল, অবশেষে সেটি সম্ভব হলো—শিক্ষার সুযোগ।
২২ বছর বয়সে এলি জীবনে প্রথমবারের মতো স্কুলে যান। তিনি রুয়ান্ডার উবুমওয়ে কমিউনিটি সেন্টারের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য পরিচালিত একটি শিক্ষা কার্যক্রমে যোগ দেন। তার মা বলেন, তাকে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেখানে দেখে তিনি অসীম আনন্দ পেয়েছিলেন।
বিশ্ব তার গল্প জানতে পেরেছিল বলেই এলির মূল্য হঠাৎ বেড়ে যায়নি।
পরিবর্তনটা হয়েছিল অন্য জায়গায়—অবশেষে তিনি একটি সুযোগ পেয়েছিলেন।
কখনো কখনো সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা কারও প্রতিবন্ধকতা নয়; বরং এমন একটি পৃথিবী, যে পৃথিবী তাকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় না।
আপনার কি মনে হয়, প্রতিবন্ধকতা যাই হোক না কেন, প্রত্যেক মানুষেরই শেখার এবং সমাজের অংশ হয়ে ওঠার সুযোগ পাওয়া উচিত?