পাথরের ভেতর সিমেন্টের মতো আটকে থাকা একটি মানব খুলি — আর এক বিতর্ক, যার শেষ নেই
উত্তর গ্রিসের একটি গুহায় এমন একটি মানব খুলি পাওয়া গিয়েছিল, যা আক্ষরিক অর্থেই গুহার দেয়ালের সঙ্গে লেগে ছিল।
এটি পেট্রালোনা স্কাল নামে পরিচিত। এটি আবিষ্কৃত হয় থেসালোনিকি শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পেট্রালোনা গুহার ভেতরে।
খুলিটি—
মাটিচাপা দেওয়া ছিল না
আলগা অবস্থায় পড়ে ছিল না
ক্যালসাইটের মাধ্যমে পাথরের সঙ্গে শক্তভাবে আটকে ছিল, গুহার মেঝে থেকে প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার উপরে
নিচের চোয়ালটি অনুপস্থিত ছিল, আর খুলিটির গায়ে বাদামি রঙের সিন্টার জমে ছিল—যার অর্থ, মৃত্যুর অল্প সময়ের মধ্যেই এটি আবরণে ঢেকে যায়, হাজার হাজার বছর পরে কাকতালীয়ভাবে নয়।
কীভাবে এটি পাওয়া যায়
১৯৫৯: স্থানীয় এক রাখাল, ফিলিপোস খাতজারিদিস, দুর্ঘটনাবশত গুহাটি আবিষ্কার করেন
একই বছর পরে: স্পিলিওলজিস্ট ইয়োয়ানিস পেট্রোখেইলস গুহাটি পরীক্ষা করেন
১৯৬৮ থেকে: নৃতত্ত্ববিদ আরিস পুলিয়ানোসের নেতৃত্বে খননকাজ শুরু হয়
এখান থেকেই শুরু হয় আসল বিতর্ক।
পুলিয়ানোস দাবি করেন, খুলিটির বয়স ৭ লক্ষ বছরেরও বেশি—যা একে ইউরোপের প্রাচীনতম মানব জীবাশ্মগুলোর একটি বানাতে পারে। তার মতে, এটি সম্ভবত Homo heidelbergensis অথবা প্রাচীন Homo sapiens-এর এক রূপ।
অন্য অনেক বিজ্ঞানী এতে তীব্র আপত্তি জানান। তাঁদের মতে, খুলিটির বয়স অনেক কম—প্রায় ২ থেকে ৩ লক্ষ বছর।
জীবাশ্মে প্রবেশাধিকার, তারিখ নির্ধারণের পদ্ধতি, আর ব্যাখ্যা—সবকিছুই ধীরে ধীরে রাজনৈতিক রঙ ধারণ করে।
ফলাফল?
দশকের পর দশক ধরে বিতর্ক—কিন্তু কোনো পূর্ণ ঐকমত্য নয়।
কেন এই খুলি এখনো গুরুত্বপূর্ণ
এটি ইউরোপে মানুষের আগমনের সময়রেখাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে
এটি আধুনিক মানুষ ও নিয়ান্ডারথালের সংযোগস্থলে অবস্থান করে
এটি দেখায়, কীভাবে বৈজ্ঞানিক কর্তৃত্ব, প্রবেশাধিকার ও পক্ষপাত “গ্রহণযোগ্য ইতিহাস” গঠনে ভূমিকা রাখে
এটি শুধু একটি জীবাশ্ম নয়।
এটি মনে করিয়ে দেয়—মানব উৎস নিয়ে বিতর্ক এখনো চলছে; এগুলো একবার আবিষ্কার হয়ে চূড়ান্ত হয়ে যায় না।
আর কখনো কখনো, প্রমাণ সত্যিই পাথরে গাঁথা থাকে—
কিন্তু সত্যটা থাকে না।