অসময়ে চুল পাকার কারণ: কেন কম বয়সেই সাদা হচ্ছে চুল?
বয়স বাড়ার সাথে সাথে চুল পেকে যাওয়া একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। মূলত চুলের গোড়ায় থাকা ‘মেলানিন’ নামক রঞ্জক উৎপাদনকারী কোষগুলোর কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার কারণেই চুল সাদা হতে শুরু করে। তবে বর্তমান সময়ে অনেকেরই বেশ কম বয়সে চুল পেকে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘প্রি-ম্যাচুর গ্রেয়িং’ বা অকালপক্কতা।
হঠাৎ কেন অসময়ে চুল পেকে যাচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে প্রধান ৪টি কারণ চিহ্নিত করেছেন:
১. মানসিক চাপ বা স্ট্রেস
আধুনিক ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস এড়ানো কঠিন। তবে এই দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ আপনার চুলের রঙের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলে।
কারণ: অতিরিক্ত স্ট্রেসের ফলে অনিদ্রা, উদ্বেগ এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা তৈরি হয়, যা পরোক্ষভাবে চুলের ক্ষতি করে।
সমাধান: আশার কথা হলো, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে অনেক সময় চুলের স্বাভাবিক রঙ কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
২. অটো-ইমিউন রোগ
যখন শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (Immune System) ভুলবশত নিজের সুস্থ কোষগুলোকেই শত্রু ভেবে আক্রমণ করে, তখন তাকে অটো-ইমিউন রোগ বলা হয়।
প্রভাব: এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলো চুলের মেলানিন উৎপাদনকারী কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে চুলের স্বাভাবিক রঞ্জক নষ্ট হয়ে যায় এবং চুল দ্রুত সাদা হতে শুরু করে।
৩. ভিটামিন বি-১২ এর অভাব
শরীরের শক্তি বৃদ্ধি এবং রক্তের লোহিত কণিকা (Red Blood Cells) সুস্থ রাখার জন্য ভিটামিন বি-১২ অপরিহার্য।
প্রভাব: লোহিত কণিকার কাজ হলো চুলের গোড়াসহ শরীরের প্রতিটি অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া। শরীরে ভিটামিন বি-১২ এর ঘাটতি হলে চুলের কোষগুলো পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পায় না। ফলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অসময়ে চুল পেকে যায়।
৪. ধূমপান
ধূমপানের সাথে চুল পাকার একটি সরাসরি ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
ঝুঁকি: গবেষণায় দেখা গেছে, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে ৩০ বছর বয়সের আগেই চুল পেকে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেশি।
ক্ষতি: ধূমপানের ফলে শরীরের রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে যায়, যা চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত করে এবং চুল ঝরে পড়ার হার বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া তামাকের বিষাক্ত উপাদানগুলো চুলের কোষের স্থায়ী ক্ষতি করে।