পেসমেকার থাকলে বুক থেকে ৬ ইঞ্চি দূরে আইফোন রাখার পরামর্শ অ্যাপলের
***********************************************************************
হৃদ্রোগের জন্য পেসমেকার ও শরীরে প্রতিস্থাপিত অন্যান্য যন্ত্র ব্যবহারকারীদের সতর্ক হয়ে আইফোন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে অ্যাপল কম্পিউটার। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এসব যন্ত্র ব্যবহার করলে বুক থেকে অন্তত ছয় ইঞ্চি দূরে আইফোন রাখতে হবে।
অ্যাপল সতর্ক করে বলছে, চুম্বক ও তড়িৎ–চৌম্বকীয় ক্ষেত্র (ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড) চিকিৎসাযন্ত্রগুলোর কাজে বাধা তৈরি করতে পারে। এতে বড় ধরনের বিপদের শঙ্কা থাকে। অ্যাপলের অনুমান, মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে অন্তত ৩০ লাখ মানুষের শরীরে পেসমেকার রয়েছে ও দুই লাখ মানুষের ডিফিব্রিলেটর (হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিক হলে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হৃৎস্পন্দনকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনার যন্ত্র) রয়েছে।
নতুন প্রজন্মের আইফোন–১৩ এবং ১৪–তে এই সতর্কবার্তা যুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে বলা রয়েছে, প্রতিস্থাপন করা থাকলে বুকের কাছে এয়ারপডস, অ্যাপলওয়াচ ও অন্য অনুষঙ্গ, হোমপড, আইপ্যাড, ম্যাক ও বিটসের হেডফোন রাখা উচিত নয়। গত মাসে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ফিটবিটস, অ্যাপলওয়াচ ও অন্যান্য পরিধেয় যন্ত্র শরীরে প্রতিস্থাপিত যন্ত্রের কাজে বাধা দিতে পারে।
অ্যাপল এক ব্লগে লিখেছে, কিছু নির্দিষ্ট অবস্থায় চুম্বক ও তড়িৎ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্র চিকিৎসাযন্ত্রের কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, শরীরে প্রতিস্থাপিত পেসমেকার এবং ডিফিব্রিলেটরে একাধিক সেন্সর থাকে। এ সেন্সরগুলো নিকটতম দূরত্বে চুম্বক ও বেতার তরঙ্গে সাড়া দেয়। তাই এ ধরনের শঙ্কা থেকে সুরক্ষিত থাকতে চিকিৎসাযন্ত্র এবং অ্যাপলের যন্ত্র কাছাকাছি দূরত্বে রাখা যাবে না।
২০২০ সালে আইফোন–১২ বাজারে আনার সময় এ বিষয় নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয় এবং তার কয়েক মাস পর আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এ নিয়ে সতর্কতাও জারি করে।
সূত্র: ডেইলি মেইল
Source: প্রথম আলো
ইউটিউব মিউজিকে যোগ হলো পডকাস্ট
***********************************************************************
ইউটিউব মিউজিকে পডকাস্ট চালু করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল। অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তাঁরা ইউটিউব মিউজিকের হোম স্ক্রিন এবং সার্চ প্যানেলে ‘পডকাস্ট’ দেখতে পাচ্ছেন। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ইউটিউব মিউজিকে পডকাস্ট আনার ঘোষণা দিয়েছিল গুগল।
অ্যান্ড্রয়েড পুলিশ জানিয়েছে, কিছু ব্যবহারকারী ইতিমধ্যে পডকাস্টগুলো ইউটিউব মিউজিকের হোম স্ক্রিনের ডান পাশে ‘সাজেশন’ হিসেবে দেখতে পাচ্ছেন। যদি কোনো ব্যবহারকারী সেখানে তা না–ও পান, তবে তিনি অনুসন্ধান করে দেখার চেষ্টা করতে পারেন। এ জন্য ব্যবহারকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা হতে হবে। কারণ, আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীরা এ সুবিধা পাচ্ছেন।
পডকাস্ট যোগ হওয়ার পরও ইউটিউব মিউজিকের চেহারা বা ইন্টারফেস আগের মতো রয়ে গেছে। রেডিটে আদান–প্রদান করা ইন্টারফেসের এক স্ক্রিনশটে প্লেয়িং শাখা এবং আরও কিছু অংশ দেখা গেছে। ইন্টারফেসের ওপরের দিকে পরিচিত টোগল রয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী অডিও থেকে ভিডিও সংস্করণে যেতে পারেন। আর এর নিচে ওপর–নিচে যাওয়া–আসার (স্ক্রল) বোতাম, স্ক্রাবিং বারসহ শিরোনাম ও তার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। কেবল প্লে/পজ অপশনের পাশের বোতামে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। এ ছাড়া সামনে–পেছনে স্কিপ করার সুবিধার পরিবর্তে স্লিপিং টাইমারসহ ১০ সেকেন্ড পেছনে যাওয়া এবং ৩০ সেকেন্ড সামনে যাওয়ার সুবিধা পাওয়া যাবে। ব্যবহারকারী চাইলে পডকাস্ট ফিল্টারও করতে পারবেন। এতে ব্যবহারকারী আগে যে সংগীত শুনছিলেন, তাতে জাম্প (লাফ) করে দ্রুত ফিরে যেতে পারবেন।
সূত্র: অ্যান্ড্রয়েড পুলিশ
Source: প্রথম আলো
অনলাইনে চাকরির প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত থাকবেন যেভাবে
***********************************************************************
সারা বিশ্বেই এখন ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করছে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল মাধ্যমনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো। এর সুযোগ নিচ্ছেন সাইবার অপরাধীরা। তাঁরা অনলাইনে চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে দিয়ে প্রতারণা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চাকরি খোঁজার ওয়েবসাইটের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তারও (এআই) আশ্রয় নিচ্ছেন তাঁরা। এভাবে প্রতারণা করে তথ্য ও টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পেশাজীবীদের যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইন ও ইনডিডে চাকরি নিয়ে অনেক প্রতারণার ঘটনা খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু যাঁরা অনলাইনে চাকরির জন্য প্রলুব্ধ করে ক্ষতিকর লিংক পাঠিয়ে সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছেন সাইবার প্রতারকেরা। তাঁরা এমনভাবে এসব প্ল্যাটফর্মে নিজেদের উপস্থাপন করে যে ভুয়া হিসেবে তাঁদের সহজেই শনাক্ত করা যায় না। প্রকৃত চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের মতোই সব তথ্য দিয়ে তাঁরা নিজেদের প্রোফাইল তৈরি করে রাখেন। তবে চাকরি খুঁজতে গিয়ে প্রতারণা থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে কিছু প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। দেখে নেওয়া যাক।
অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিলে যাচাই করুন
প্রতারকেরা প্রলোভন দেখানোর জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেন। যদি এমন হয় যে কোনো চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান কম কর্মঘণ্টায় অনেক টাকা আয় করার সুযোগ দিচ্ছে, তাহলে তা সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করতে হবে। প্রতারণামূলক চাকরির বিজ্ঞাপনে এ কাজের বর্ণনা সাধারণত খুবই সাধারণ মানের ও কখনো কখনো অস্পষ্ট থাকে। প্রকৃত চাকরির বিজ্ঞাপনে কাজের দায়িত্ব, কর্তব্য, চাকরিদাতার প্রত্যাশা বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়। পাশাপাশি একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণও থাকে।
প্রতারকেরা চাকরি নিয়ে আলোচনার শুরুর দিকেই ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাইতে পারে। কাজে যোগদানের আগে ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
চাকরির বিজ্ঞাপন সতর্ক চোখে দেখুন
প্রতারকদের চাকরির বিজ্ঞাপনে বানান ও ব্যাকরণগত ভুল দেখে সহজেই আগে তাঁদের শনাক্ত করা যেত। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আশ্রয় নিয়ে তাঁরা এখন বিজ্ঞাপনগুলো এমনভাবে লিখে উপস্থাপন করে যে সেটিকে প্রতারণা হিসেবে শনাক্ত করা এখন খুবই কঠিন। তাই চাকরির বিজ্ঞাপনও সতর্কভাবে পড়তে হবে এবং এ নিয়ে ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।
চাকরিদাতার পরিচয় যাচাই করুন
যে নিয়োগদাতা যোগাযোগ করবেন, প্রথমেই তাঁর ই–মেইল ঠিকানা যাচাই করতে হবে। ব্যক্তিগত ই–মেইল বা ই–মেইল ঠিকানায় ভুল বানান থাকলে সতর্ক থাকতে হবে। সাধারণত নিয়োগকারীরা প্রাতিষ্ঠানিক ই–মেইল ব্যবহার করে যোগাযোগ করেন।
লিংকডইন বা ইনডিডের মতো ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান নিয়ে খোঁজ করা যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের প্রোফাইল যাচাই করুন, পরিচিত কারও সঙ্গে তাঁরা যুক্ত কি না, তা দেখুন। যদি প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইলে খুবই কম আইডি যুক্ত থাকে, তবে সতর্ক থাকুন।
চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান নিয়ে অনলাইনে খোঁজ করুন। তাদের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য অন্যদের দেওয়া রিভিউ দেখা যেতে পারে।
প্রতারিত হলে নিজেকে নিরাপদ রাখুন
প্রতারকদের মাধ্যমে যদি প্রতারণার শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে দ্রুত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করুন। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়ে থাকলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্ড ও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করুন। ক্রেডিট কার্ডের নম্বর দিয়ে থাকলে তা সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ করে দিন। লিংকডইনে ভুয়া প্রতিষ্ঠানটির প্রতারণা নিয়ে লিখুন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করুন।
সূত্র: জেডডিনেট
Source: প্রথম আলো
বিশ্বখ্যাত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা মূল্যে পাইথন প্রোগ্রামিং শেখার সুযোগ
***********************************************************************
২০২০ সাল। করোনা মহামারিতে সবাই বাড়িতে। নারায়ণগঞ্জে নিজের বাসায় বসে ইন্টারনেটে একদিন একটা কোর্সের খবর পান সাজ্জাদ ইসলাম। বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড তাদের একটি জনপ্রিয় কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কোর্সের অর্ধেক অনলাইনে উন্মুক্ত করেছে, যেটা শেখাবেন স্ট্যানফোর্ড অধ্যাপকেরা। ‘কোড ইন প্লেস’ নামের এই অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে সাজ্জাদ প্রথম কোনো প্রোগ্রামিং ভাষা শেখার কোর্সে অংশ নেন। এ কোর্সটি ছয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ করতে হবে। প্রতি সপ্তাহে একাধিক ভিডিও ক্লাস ছাড়াও একজন মেন্টরের তত্ত্বাবধানে অনলাইনে রিভিউ করার সুযোগ। সাজ্জাদ যে দলের সঙ্গে অনলাইনে রিভিউ কোর্সের সুযোগ পান, সেটির মেন্টর ছিলেন স্ট্যানফোর্ডেরই একজন ছাত্র।
কিছুদিনের মধ্যে আমি এই কোর্সে অভ্যস্ত হয়ে উঠি এবং সব নিয়ম মেনে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সাফল্যের সঙ্গে কোর্সটি শেষ করি, কিন্তু এই শেষতো শেষ নয়, বরং এর মধ্যেই লুকানো ছিল বড় কিছুর শুরু।’ প্রথম আলোকে এভাবেই জানালেন সাজ্জাদ। এই কোর্সের মধ্যে কোডিংয়ের প্রতি যে আগ্রহ ও নিষ্ঠা তৈরি হয়, সেটি পরের বছরে সাজ্জাদকে সাহায্য করে ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডে (ডব্লিউআরও) অংশ নিতে।
২০২১ সালে অনুষ্ঠিত এই অলিম্পিয়াড হয়েছে অনলাইনে। নারায়ণগঞ্জ থেকেই অংশ নেন সাজ্জাদ। আর এটা করতে গিয়ে ডব্লিউআরও-এর বাংলাদেশি আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) মেন্টরদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার অংশগ্রহণ করে সাজ্জাদের দল বিশ্বের ৬৫টি দেশের ২০০ দলের মধ্যে দশম স্থান অর্জন করে।
পাশাপাশি গবেষণা করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে। কোডিং ও রোবটিকসের প্রতি ভালোবাসা এগিয়ে নিতে এর পর সাজ্জাদ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করেন এবং সম্পূর্ণ (১০০ শতাংশ) মেধাবৃত্তি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। সাজ্জাদ বর্তমানে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের পিচ ল্যাবে অধ্যাপক ক্রিস পিচের সঙ্গে কাজ করছেন। এই ল্যাব ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ প্রচেষ্ট হলো কোড ইন প্লেস।
এক বছর বন্ধ থাকার পর বিশ্বখ্যাত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ‘কোড ইন প্লেস’ নামের অনলাইনে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখার কোর্সটি আবারও সবার জন্য উন্মুক্ত করেছে। ছয় সপ্তাহের এই অনলাইন কোর্সের কয়েকটি পর্যায়। প্রতি সপ্তাহে একটি করে বিষয়ের একাধিক ভিডিও বক্তৃতা শুনতে হয়। ছয় সপ্তাহের বিষয়বস্তুতে রয়েছে—কন্ট্রোল ফ্লো উইথ কারেল, দ্য আর্ট অব কোডিং, কনসোল প্রোগ্রামিং, আন্ডারস্ট্যান্ডিং ভেরিয়েবল, গ্রাফিক্স এবং লিস্ট ও ডিকশনারি। এর ভিডিও ক্লাসগুলো নিজের সময়মতো করে দেখে নেওয়া যায়। কিন্তু প্রতি সপ্তাহে একজন ‘সেকশন লিড’ বা মেন্টরের সঙ্গে অনলাইন ক্লাসে যোগ দিতে হয়। এটি সেকশন লিডের সময় অনুসারে অনুষ্ঠিত হয়। কোর্স চলাকালীন অনুশীলন ছাড়াও তিনটি অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করতে হয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। কোর্স শেষে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে নিজের একটি প্রকল্পও সম্পন্ন করতে হয়। সম্পূর্ণ কোর্সটি পাইথন প্রোগ্রামিং ভাষার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।
কোড ইন প্লেস কোর্সের মাধ্যমে পাইথন প্রোগ্রামিং শেখার ব্যাপারে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বইয়ের লেখক তামিম শাহরিয়ার বলেন, এই কোর্সটি কেন করা উচিত? অনলাইনে অনেক বিনা মূল্যের ভিডিও এবং টিউটোরিয়াল আছে, অনেকেই এগুলো শুরু করে তবে শেষ পর্যন্ত যেতে পারে না। কিন্তু এই কোর্সটি যেহেতু একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে হবে এবং সেকশন লিডারের সঙ্গে সরাসরি কথা হবে, তাই শিক্ষার্থীরা একটি রুটিনের মধ্যে থেকে কোর্সটি শেষ করতে পারবে। আর এই কোর্সের জন্য কোনো টাকা খরচ করতে হবে না।
এর আগে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে মোট ২২ হাজার শিক্ষার্থী এই কোর্সের মাধ্যমে পাইথন প্রোগ্রামিংয়ে হাতেখড়ি নিয়েছেন। তাঁদেরকে মেন্টরিং করেছেন ২ হাজার ২০০ জন সেকশন লিড। স্ট্যানফোর্ডের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের দুজন অধ্যাপক, ক্রিস পিচ ও মেহরান সাহামি এই প্রকল্পের উদ্যোক্তা।
তাঁদেরই একজন অধ্যাপক ক্রিস পিচ এই প্রকল্পের অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের সব শিক্ষার্থী, সেকশন লিড ও পাঠক্রম প্রণেতাদের অভিনন্দন জানান। সেই সঙ্গে তিনি চলতি ব্যাচে অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহীদের আহ্বান জানিয়েছেন।
শুধু শেখার জন্য নয়। এই কার্যক্রমে সুযোগ রয়েছে শিক্ষক বা মেন্টর হিসেবে যুক্ত হওয়ার। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, প্রোগ্রামার হিসেবে কর্মরত, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাঁরা কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিখছেন কিংবা এর আগে যাঁরা কোড ইন প্লেসের শিক্ষার্থী ছিলেন, তাঁরাও এই প্রকল্পে সেকশন লিড হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। সেকশন লিডদের পাইথন প্রোগ্রামিংয়ের লিস্ট ও ডিকশনারি পর্যন্ত দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। নির্বাচিত হলে সেকশন লিডদের ‘আর্ট অব কম্পিউটার সায়েন্স টিচিং’-এর ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থী কিংবা সেকশন লিড হিসেবে এই অনলাইন কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য https://codeinplace.stanford.edu- এই ঠিকানার ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ১০ এপ্রিল ২০২৩।
Source: প্রথম আলো
ফোন ব্যবহার করলে শিশুদের যে সমস্যা হয়
***********************************************************************
অভিভাবকদের অনেকেই খাবার খাওয়ানোর সময় শিশুদের হাতে ফোন বা ট্যাবলেট কম্পিউটার ধরিয়ে দেন। শুধু তা–ই নয়, বিভিন্ন কাজ করার সময় ফোনে গান, কার্টুন বা মজার ভিডিও চালিয়ে দিয়ে শিশুদের ব্যস্তও রাখেন কেউ কেউ। সাময়িকভাবে উপকার পাওয়া গেলেও এর মাধ্যমে শিশুদের মেজাজ খিটখিটে হওয়ার পাশাপাশি তাদের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন স্পেনের নিউরোসাইকোলজিস্ট ড. আলভারো বিলবাও। সমস্যা সমাধানে ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের ফোন বা ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহার থেকে দূরে রাখা উচিত বলেও মনে করেন তিনি। নিজের লেখা ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং ইয়োর চাইল্ডস ব্রেইন’ বইয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস হাসপাতালের সাবেক এই মনোবিজ্ঞানী।
আলভারো বিলবাওয়ের তথ্যমতে, যেসব শিশু নিয়মিত ফোন, ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহার করে, তাদের তুলনায় অন্য শিশুদের মেজাজ ভালো হয়ে থাকে। এমনকি তাদের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিও ভালো হয়। শুধু তা–ই নয়, শিশুরা ফোন বা ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহারেও আসক্ত হয়ে পড়ায় অন্যান্য সাধারণ কার্যক্রমে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে, যা তাদের মেধার বিকাশের জন্য খুবই প্রয়োজন। আর শিশুদের মস্তিষ্ক বিকশিত হওয়ার পরই তাদের হাতে ফোন বা ট্যাবলেট কম্পিউটার দেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের দিনে এক ঘণ্টার বেশি ফোন বা ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহার করা উচিত নয়। দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ফোন বা ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহার বন্ধেরও সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
সূত্র: ডেইলি মেইল
Source: প্রথম আলো
বিশ্ব সভ্যতায় অর্থনীতি কিংবা সংস্কৃতিতে আজকের পিছিয়ে পড়া বাংগালীর অতীত যদি জানি তবে সহজেই বুঝতে পারব জাতি হিসেবে আমরা কেন আজ পরাজিত! আবার একটা প্রাচীন সভ্য বাঙ্গালী জাতি কেন এখনো এতো ধীর! আমরা কি ইতিহাস ভুলে যাচ্ছি তাই নাকি অন্য কোন সভ্যরা আমাদের ডমিন্যান্ট করছে?
ফার্সি শব্দ ‘পাইনাম” থেকে পানাম। মানে হল আশ্রয়। তাহলে পানাম নগর মানে আশ্রয়ের নগর। আর বাংলাদেশের সোনারগাঁ-এ রয়েছে পানাম নগর।
রহস্যময় ফার্সি শব্দ কি করে বাংলার বুকে ১৫ শতকে এল, তা জানতে গিয়ে সমাধান মিলল এর জগৎখ্যাত মোগল স্থাপত্যশৈলীর সাথে ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর মিল পেয়ে।
বাংলার বুকে অহংবোধ নিয়ে আজো টিকে থাকা পনের শতকের আধুনিক এক বাংলা ইউরোপীয় রাজ্য পানাম নগরী, সোনারগাঁর ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠে।
সোনারগাঁও এর কথা আসলেই আমার ভাললাগা আর বলার জোর বেড়ে যায়। কারণ এই ভূমিতেই আমার জন্ম। মানে আমার নানা বাড়ি। এদিক দিয়ে ভূঁইয়া বংশের বড় নাতি আমি।
আর ভূঁইয়াদের ইতিহাস মানে বাংলার ইতিহাস। মানে ইতিহাসের, বিশ্ব মানচিত্রে এ ভূখন্ডের প্রথম রাজধানী। ঠিক যখন বিশ্ব ইতিহাসের প্রতিটি অঞ্চল তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং সম্পদের অ্যাক্সেসের সাথে সুরক্ষিত ছিল এবং তাদের ব্যবহার করার জন্য প্রত্যেকের যথেষ্ট সৃজনশীলতা ছিল। প্রত্যেকেরই ভৌগোলিক সুবিধা এবং অসুবিধা ছিল, বেশিরভাগই ছিল গ্রামীণ সমাজ কিন্তু ক্রমবর্ধমান শ্রেণীগত পার্থক্য এবং নগরীকরণের চাপের সম্মুখীন হয়েছিল, সবই ছিল পিতৃতান্ত্রিক, এবং সকলকে বিশেষ করে বাণিজ্য, নীতি এবং অভিবাসনের ক্ষেত্রে বাইরের রাজনৈতিক শক্তির সাথে লড়াই করতে হয়েছিল।
আরো সহজ ভাষায় বলি, পৃথিবীতে সবে মাত্র আধুনিক পাসপোর্ট প্রথা শুরু হল আর প্রয়োজন হল রাজধানীর উল্লেখ। ঠিক সেই সময় ১২ ভূঁইয়াদের নেতা ঈশা খাঁ বাংলার বুকে প্রথম রাজধানী স্থাপন করলেন সোনারগাঁওকে। আর তার নগরী করলেন পানাম সিটিকে। যার অর্থ আশ্রয়ের নগরী।
এখন ব্যাপার হল, কি আশ্রয় দিতেন ঈসা খাঁ? নাকি দীর্ঘদিনের আশ্রয় দেয়ার জন্যই লোকমুখে এমন নাম চলে এসেছে?
কোথায়-কবে-কেন?
কিভাবে হল শুরু?
এসব জানতে যাদের লাগে ভাল,
তারাই ঐতিহাসিক যায়গার খোঁজ রাখে।
বিঃদ্রঃ এটা একটা প্রামাণ্যচিত্র।
#সৃষ্টি
#premdevota
#sonargaon
#panamcity