🧬 ১৯৫১ সালে, পাঁচ সন্তানের মা, দরিদ্র কৃষ্ণাঙ্গ নারী হেনরিয়েটা ল্যাকস জরায়ুর ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স হাসপাতালে যান। তার অজান্তে ও অনুমতি ছাড়াই, চিকিৎসকেরা গোপনে তার শরীর থেকে কোষের নমুনা সংগ্রহ করেন।
এই কোষগুলো কেন এত অসাধারণ ছিল? অন্য সব কোষের মতো এগুলো মারা যায়নি। বরং অনন্তকাল ধরে বিভাজিত হতে থাকে। এগুলোর নাম দেওয়া হয় HeLa—এবং এগুলোই হয়ে ওঠে মানব ইতিহাসের প্রথম ‘অমর’ কোষ, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তি।
তার কোষ ব্যবহার করা হয়েছে ৭৫,০০০-এরও বেশি গবেষণায়, যার মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে—
💉 পোলিও ভ্যাকসিন
🎗️ ক্যান্সারের চিকিৎসা
👶 আইভিএফ (টেস্ট টিউব বেবি)
🧬 জিন ম্যাপিং
💉 এমনকি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনও
কিন্তু হেনরিয়েটা কখনোই এসব জানতে পারেননি। মাত্র ৩১ বছর বয়সে তিনি প্রচণ্ড যন্ত্রণার মধ্যে মারা যান, না জেনেই যে তার কোষ বেঁচে থাকবে চিরকাল। বহু বছর ধরে তার পরিবার দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়েছে, আর সেই সময়ে বিশ্বের গবেষণাগার ও ওষুধ কোম্পানিগুলো তার দেহ থেকে নেওয়া কোষের মাধ্যমে বিপুল লাভ করেছে।
তারা একে বলেছিল “বিজ্ঞান”।
কিন্তু সত্যটা হলো—আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান গড়ে উঠেছে হেনরিয়েটা ল্যাকসের কোষের ওপর, অথচ তার এই ত্যাগকে দীর্ঘদিন কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।