তিনি চেয়েছিলেন একটি বার্তা দিতে।
কিন্তু তার বদলে, তিনি বলেন—তিনি নিজের দৃষ্টিশক্তিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন। 👁️💔
২০২০ সালে, উত্তর আয়ারল্যান্ডের আইন শিক্ষার্থী ও মা আনায়া পিটারসন (Anaya Peterson) বিশ্বের অন্যতম বিতর্কিত শারীরিক পরিবর্তনের একটি পদ্ধতি বেছে নেন—
👁️ চোখের ট্যাটু (Eyeball Tattooing)
যাকে স্ক্লেরাল ট্যাটু (Scleral Tattooing)-ও বলা হয়।
এই প্রক্রিয়ায় চোখের বাইরের সাদা অংশের নিচে রঙের পিগমেন্ট প্রবেশ করানো হয়, যার মাধ্যমে চোখের চেহারা স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করা হয়।
আনায়া একটি আকর্ষণীয় পরিবর্তন বেছে নিয়েছিলেন।
একটি চোখে নীল রঙের ট্যাটু।
অন্য চোখে বেগুনি রঙ।
এই পরিবর্তন খুব দ্রুত অনলাইনে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
তবে তার কাছের অনেক মানুষ এটি নিয়ে উদ্বিগ্নও হয়েছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা তাকে সতর্ক করেছিলেন, কারণ অনেক চক্ষু বিশেষজ্ঞ এই ধরনের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন।
দুঃখজনকভাবে, সেই আশঙ্কাই পরে বাস্তবে পরিণত হয়।
চোখে ট্যাটু করার কয়েক মাস পর আনায়া গুরুতর কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে শুরু করেন।
⚠️ চোখ ফুলে যাওয়া
⚠️ প্রদাহ (Inflammation)
⚠️ তীব্র অস্বস্তি
⚠️ দৃষ্টিশক্তির সমস্যা
তার উপসর্গ এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে তাকে চিকিৎসা ও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
পরবর্তীতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই জটিলতাগুলো তার দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলেছিল এবং অনেক সাধারণ কাজও কঠিন হয়ে উঠেছিল।
তিনি বলেন, দূর থেকে মানুষের মুখ চিনতে তার সমস্যা হচ্ছিল এবং নিজের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে তিনি দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগে ভুগছিলেন। 💔
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বহুবার সতর্ক করেছেন যে স্ক্লেরাল ট্যাটু-তে বিভিন্ন ঝুঁকি থাকতে পারে, যেমন—
👁️ সংক্রমণ
👁️ দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ
👁️ রেটিনার ক্ষতি
👁️ ছানি (Cataract)
👁️ আংশিক বা সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারানো
সাধারণ ত্বকের ট্যাটুর তুলনায় চোখ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অঙ্গ।
এখানে সামান্য ভুলও জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দিতে পারে।
আনায়ার গল্প দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
কেউ কেউ তার অভিজ্ঞতাকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখেছেন।
অন্যদিকে, কেউ কেউ যুক্তি দিয়েছেন যে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের নিজের শরীর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত—যদিও সেই সিদ্ধান্তে বড় ঝুঁকি থাকে।
এই বিতর্ক আজও চলছে।
তবে আনায়া যা ঘটেছে তা খোলাখুলিভাবে বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে অন্যরা এমন কোনো পদ্ধতি বেছে নেওয়ার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারেন।
তার গল্প আসলে শুধু ট্যাটু নিয়ে নয়।
এটি—
সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার গল্প।
ঝুঁকি নেওয়ার আগে তা বোঝার গল্প।
এবং এটি মনে করিয়ে দেয় যে কিছু সিদ্ধান্ত শুধু চেহারাকে নয়, জীবনের আরও অনেক কিছুতে প্রভাব ফেলতে পারে।
কারণ—
ফ্যাশন ও প্রবণতা বদলে যায়...
কিন্তু আপনার দৃষ্টিশক্তি পাওয়া যায় মাত্র একবার। 👁️❤️
❤️ হাত-পা ছাড়া জন্মেছিলেন—কিন্তু জীবনের উদ্দেশ্য ছাড়া নয়
১৯৮২ সালের ৪ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় যখন নিক ভুজিসিক (Nick Vujicic) জন্মগ্রহণ করেন, তখন প্রসব কক্ষে নেমে এসেছিল এক নীরবতা।
তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন একটি অত্যন্ত বিরল শারীরিক অবস্থা নিয়ে—
🧬 টেট্রা-অ্যামেলিয়া সিনড্রোম (Tetra-Amelia Syndrome)
যার কারণে তার কোনো হাত বা পা ছিল না।
তার বাবা-মা হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন।
চিকিৎসকদের কাছেও খুব বেশি উত্তর ছিল না।
অনেকেই ভেবেছিলেন, তার ভবিষ্যৎ শুধুই সীমাবদ্ধতার মধ্যে আবদ্ধ থাকবে।
কিন্তু তারা সম্পূর্ণ ভুল ছিলেন।
বড় হয়ে ওঠার পথটি সহজ ছিল না।
যে সাধারণ কাজগুলো নিয়ে অধিকাংশ মানুষ কখনো ভাবেই না, সেগুলো করতে নিককে অসাধারণ দৃঢ় সংকল্পের প্রয়োজন হতো।
স্কুলজীবনে তাকে সহ্য করতে হয়েছে—
অপমান,
একাকীত্ব,
এবং নিজের ভিন্নতা নিয়ে কষ্টদায়ক প্রশ্ন।
বছরের পর বছর এই মানসিক চাপ আরও ভারী হয়ে উঠতে থাকে।
শৈশবের এক পর্যায়ে নিক গভীর হতাশার সঙ্গে লড়াই করেন এবং ভাবতে শুরু করেন—তার জীবনের আদৌ কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না।
কিছু সময়ের জন্য মনে হয়েছিল, তার চ্যালেঞ্জগুলো হয়তো সহ্য করার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
কিন্তু কোনো এক সময় তার জীবনে পরিবর্তন আসে।
নিজের যা নেই, তার দিকে মনোযোগ না দিয়ে নিক মনোযোগ দিতে শুরু করেন—
তিনি এখনও কী করতে পারেন, তার দিকে।
বাম নিতম্বের সঙ্গে যুক্ত ছোট একটি পা ব্যবহার করে তিনি শিখে নেন—
✍️ লিখতে
⌨️ টাইপ করতে
💻 কম্পিউটার ব্যবহার করতে
📞 ফোন ধরতে
🪥 দাঁত ব্রাশ করতে
এবং আরও অনেক দৈনন্দিন কাজ নিজে করতে।
যেসব অর্জন অন্যদের কাছে সাধারণ মনে হতে পারে, নিকের কাছে প্রতিটি ছিল—
অধ্যবসায়ের মাধ্যমে অর্জিত একেকটি বিজয়। 💪
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিক বুঝতে পারেন, তার গল্প অন্য মানুষকে সাহায্য করার শক্তি রাখে।
ছোট ছোট দলের সামনে কথা বলা থেকে শুরু হওয়া যাত্রা ধীরে ধীরে পরিণত হয় একটি বৈশ্বিক আন্দোলনে।
তিনি নিজের অভিজ্ঞতা খোলাখুলিভাবে মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে শুরু করেন—
তার সংগ্রাম,
তার সন্দেহ,
তার ব্যর্থতা,
এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তার পরিস্থিতি তার পরিচয় নির্ধারণ করবে না।
মানুষ তার কথা শুনতে শুরু করে।
তারপর আরও মানুষ শুনতে থাকে।
আর অল্প সময়ের মধ্যেই সারা বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ তার বার্তা জানতে পারে।
🌎 বছরের পর বছর ধরে নিক ৭০টিরও বেশি দেশে ভ্রমণ করেছেন এবং বিভিন্ন বয়সের মানুষের সামনে কথা বলেছেন—
দৃঢ়তা,
আশা,
বুলিং,
মানসিক স্বাস্থ্য,
বিশ্বাস,
এবং কখনো হাল না ছাড়ার গুরুত্ব নিয়ে।
তিনি একজন বেস্টসেলিং লেখক হয়েছেন, অন্যদের সাহায্যের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং নিজের জীবনের লড়াইয়ের মুখোমুখি অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন।
তবে তার গল্পের সবচেয়ে অসাধারণ অংশ হয়তো তার পেশাগত সাফল্য নয়।
বরং—
তিনি যে জীবন গড়ে তুলেছেন, সেটিই সবচেয়ে বিস্ময়কর।
নিক সাঁতার কাটেন। 🏊
সার্ফিং করেন। 🌊
স্কাইডাইভিং করেন। 🪂
গলফ খেলেন। ⛳
২০১২ সালে তিনি কানায়ে মিয়াহারা (Kanae Miyahara)-কে বিয়ে করেন এবং তারা একসঙ্গে চার সন্তান নিয়ে একটি ভালোবাসাপূর্ণ পরিবার গড়ে তুলেছেন। ❤️👨👩👧👦
যে পৃথিবী একসময় তার মধ্যে শুধু বাধা দেখেছিল, আজ সেই পৃথিবী তাকে দেখে একজন—
স্বামী,
বাবা,
লেখক,
উদ্যোক্তা,
এবং বিশ্বের অন্যতম পরিচিত অনুপ্রেরণামূলক বক্তা হিসেবে।
তার জীবন আমাদের এমন একটি বিষয় মনে করিয়ে দেয়, যা অনেক মানুষ ভুলে যায়।
সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা সবসময় শারীরিক নয়।
অনেক সময় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়—
আমরা নিজের জন্য যে সীমা নির্ধারণ করি, তার মাধ্যমে।
নিক ভুজিসিকের জীবন জন্মগতভাবে কী নেই, তার গল্প নয়।
এটি একটি গল্প—
সাহসের।
জীবনের উদ্দেশ্যের।
পরিস্থিতির কাছে আত্মসমর্পণ না করার।
এবং প্রমাণ করার যে একজন মানুষ তার সব অঙ্গ হারিয়েও এমন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে, যা অনেকেই কল্পনাও করতে পারে না।
✨ কখনো কখনো সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ তারা নয়, যাদের সবকিছু আছে।
বরং তারা—
যারা নিজেদের যা আছে, তা দিয়েই একটি অর্থপূর্ণ জীবন গড়ে নিতে শেখে।
❤️ হাত-পা ছাড়া জন্মেছিলেন—কিন্তু জীবনের উদ্দেশ্য ছাড়া নয়
১৯৮২ সালের ৪ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় যখন নিক ভুজিসিক (Nick Vujicic) জন্মগ্রহণ করেন, তখন প্রসব কক্ষে নেমে এসেছিল এক নীরবতা।
তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন একটি অত্যন্ত বিরল শারীরিক অবস্থা নিয়ে—
🧬 টেট্রা-অ্যামেলিয়া সিনড্রোম (Tetra-Amelia Syndrome)
যার কারণে তার কোনো হাত বা পা ছিল না।
তার বাবা-মা হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন।
চিকিৎসকদের কাছেও খুব বেশি উত্তর ছিল না।
অনেকেই ভেবেছিলেন, তার ভবিষ্যৎ শুধুই সীমাবদ্ধতার মধ্যে আবদ্ধ থাকবে।
কিন্তু তারা সম্পূর্ণ ভুল ছিলেন।
বড় হয়ে ওঠার পথটি সহজ ছিল না।
যে সাধারণ কাজগুলো নিয়ে অধিকাংশ মানুষ কখনো ভাবেই না, সেগুলো করতে নিককে অসাধারণ দৃঢ় সংকল্পের প্রয়োজন হতো।
স্কুলজীবনে তাকে সহ্য করতে হয়েছে—
অপমান,
একাকীত্ব,
এবং নিজের ভিন্নতা নিয়ে কষ্টদায়ক প্রশ্ন।
বছরের পর বছর এই মানসিক চাপ আরও ভারী হয়ে উঠতে থাকে।
শৈশবের এক পর্যায়ে নিক গভীর হতাশার সঙ্গে লড়াই করেন এবং ভাবতে শুরু করেন—তার জীবনের আদৌ কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না।
কিছু সময়ের জন্য মনে হয়েছিল, তার চ্যালেঞ্জগুলো হয়তো সহ্য করার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
কিন্তু কোনো এক সময় তার জীবনে পরিবর্তন আসে।
নিজের যা নেই, তার দিকে মনোযোগ না দিয়ে নিক মনোযোগ দিতে শুরু করেন—
তিনি এখনও কী করতে পারেন, তার দিকে।
বাম নিতম্বের সঙ্গে যুক্ত ছোট একটি পা ব্যবহার করে তিনি শিখে নেন—
✍️ লিখতে
⌨️ টাইপ করতে
💻 কম্পিউটার ব্যবহার করতে
📞 ফোন ধরতে
🪥 দাঁত ব্রাশ করতে
এবং আরও অনেক দৈনন্দিন কাজ নিজে করতে।
যেসব অর্জন অন্যদের কাছে সাধারণ মনে হতে পারে, নিকের কাছে প্রতিটি ছিল—
অধ্যবসায়ের মাধ্যমে অর্জিত একেকটি বিজয়। 💪
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিক বুঝতে পারেন, তার গল্প অন্য মানুষকে সাহায্য করার শক্তি রাখে।
ছোট ছোট দলের সামনে কথা বলা থেকে শুরু হওয়া যাত্রা ধীরে ধীরে পরিণত হয় একটি বৈশ্বিক আন্দোলনে।
তিনি নিজের অভিজ্ঞতা খোলাখুলিভাবে মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে শুরু করেন—
তার সংগ্রাম,
তার সন্দেহ,
তার ব্যর্থতা,
এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তার পরিস্থিতি তার পরিচয় নির্ধারণ করবে না।
মানুষ তার কথা শুনতে শুরু করে।
তারপর আরও মানুষ শুনতে থাকে।
আর অল্প সময়ের মধ্যেই সারা বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ তার বার্তা জানতে পারে।
🌎 বছরের পর বছর ধরে নিক ৭০টিরও বেশি দেশে ভ্রমণ করেছেন এবং বিভিন্ন বয়সের মানুষের সামনে কথা বলেছেন—
দৃঢ়তা,
আশা,
বুলিং,
মানসিক স্বাস্থ্য,
বিশ্বাস,
এবং কখনো হাল না ছাড়ার গুরুত্ব নিয়ে।
তিনি একজন বেস্টসেলিং লেখক হয়েছেন, অন্যদের সাহায্যের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং নিজের জীবনের লড়াইয়ের মুখোমুখি অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন।
তবে তার গল্পের সবচেয়ে অসাধারণ অংশ হয়তো তার পেশাগত সাফল্য নয়।
বরং—
তিনি যে জীবন গড়ে তুলেছেন, সেটিই সবচেয়ে বিস্ময়কর।
নিক সাঁতার কাটেন। 🏊
সার্ফিং করেন। 🌊
স্কাইডাইভিং করেন। 🪂
গলফ খেলেন। ⛳
২০১২ সালে তিনি কানায়ে মিয়াহারা (Kanae Miyahara)-কে বিয়ে করেন এবং তারা একসঙ্গে চার সন্তান নিয়ে একটি ভালোবাসাপূর্ণ পরিবার গড়ে তুলেছেন। ❤️👨👩👧👦
যে পৃথিবী একসময় তার মধ্যে শুধু বাধা দেখেছিল, আজ সেই পৃথিবী তাকে দেখে একজন—
স্বামী,
বাবা,
লেখক,
উদ্যোক্তা,
এবং বিশ্বের অন্যতম পরিচিত অনুপ্রেরণামূলক বক্তা হিসেবে।
তার জীবন আমাদের এমন একটি বিষয় মনে করিয়ে দেয়, যা অনেক মানুষ ভুলে যায়।
সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা সবসময় শারীরিক নয়।
অনেক সময় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়—
আমরা নিজের জন্য যে সীমা নির্ধারণ করি, তার মাধ্যমে।
নিক ভুজিসিকের জীবন জন্মগতভাবে কী নেই, তার গল্প নয়।
এটি একটি গল্প—
সাহসের।
জীবনের উদ্দেশ্যের।
পরিস্থিতির কাছে আত্মসমর্পণ না করার।
এবং প্রমাণ করার যে একজন মানুষ তার সব অঙ্গ হারিয়েও এমন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে, যা অনেকেই কল্পনাও করতে পারে না।
✨ কখনো কখনো সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ তারা নয়, যাদের সবকিছু আছে।
বরং তারা—
যারা নিজেদের যা আছে, তা দিয়েই একটি অর্থপূর্ণ জীবন গড়ে নিতে শেখে।
International Shipping from Toronto - Astra International Move overseas with confidence using Astra International. Our full-service international moving company in Toronto offers expert packing, global shipping, customs clearance, and door-to-door relocation solutions. For more information about International Moving Company Toronto - Astra International visit https://astrainternational.com..../international-mover
তিনি চেয়েছিলেন একটি বার্তা দিতে।
কিন্তু তার বদলে, তিনি বলেন—তিনি নিজের দৃষ্টিশক্তিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন। 👁️💔
২০২০ সালে, উত্তর আয়ারল্যান্ডের আইন শিক্ষার্থী ও মা আনায়া পিটারসন (Anaya Peterson) বিশ্বের অন্যতম বিতর্কিত শারীরিক পরিবর্তনের একটি পদ্ধতি বেছে নেন—
👁️ চোখের ট্যাটু (Eyeball Tattooing)
যাকে স্ক্লেরাল ট্যাটু (Scleral Tattooing)-ও বলা হয়।
এই প্রক্রিয়ায় চোখের বাইরের সাদা অংশের নিচে রঙের পিগমেন্ট প্রবেশ করানো হয়, যার মাধ্যমে চোখের চেহারা স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করা হয়।
আনায়া একটি আকর্ষণীয় পরিবর্তন বেছে নিয়েছিলেন।
একটি চোখে নীল রঙের ট্যাটু।
অন্য চোখে বেগুনি রঙ।
এই পরিবর্তন খুব দ্রুত অনলাইনে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
তবে তার কাছের অনেক মানুষ এটি নিয়ে উদ্বিগ্নও হয়েছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা তাকে সতর্ক করেছিলেন, কারণ অনেক চক্ষু বিশেষজ্ঞ এই ধরনের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন।
দুঃখজনকভাবে, সেই আশঙ্কাই পরে বাস্তবে পরিণত হয়।
চোখে ট্যাটু করার কয়েক মাস পর আনায়া গুরুতর কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে শুরু করেন।
⚠️ চোখ ফুলে যাওয়া
⚠️ প্রদাহ (Inflammation)
⚠️ তীব্র অস্বস্তি
⚠️ দৃষ্টিশক্তির সমস্যা
তার উপসর্গ এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে তাকে চিকিৎসা ও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।
পরবর্তীতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই জটিলতাগুলো তার দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলেছিল এবং অনেক সাধারণ কাজও কঠিন হয়ে উঠেছিল।
তিনি বলেন, দূর থেকে মানুষের মুখ চিনতে তার সমস্যা হচ্ছিল এবং নিজের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে তিনি দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগে ভুগছিলেন। 💔
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বহুবার সতর্ক করেছেন যে স্ক্লেরাল ট্যাটু-তে বিভিন্ন ঝুঁকি থাকতে পারে, যেমন—
👁️ সংক্রমণ
👁️ দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ
👁️ রেটিনার ক্ষতি
👁️ ছানি (Cataract)
👁️ আংশিক বা সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারানো
সাধারণ ত্বকের ট্যাটুর তুলনায় চোখ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অঙ্গ।
এখানে সামান্য ভুলও জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দিতে পারে।
আনায়ার গল্প দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
কেউ কেউ তার অভিজ্ঞতাকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখেছেন।
অন্যদিকে, কেউ কেউ যুক্তি দিয়েছেন যে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের নিজের শরীর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত—যদিও সেই সিদ্ধান্তে বড় ঝুঁকি থাকে।
এই বিতর্ক আজও চলছে।
তবে আনায়া যা ঘটেছে তা খোলাখুলিভাবে বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে অন্যরা এমন কোনো পদ্ধতি বেছে নেওয়ার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারেন।
তার গল্প আসলে শুধু ট্যাটু নিয়ে নয়।
এটি—
সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার গল্প।
ঝুঁকি নেওয়ার আগে তা বোঝার গল্প।
এবং এটি মনে করিয়ে দেয় যে কিছু সিদ্ধান্ত শুধু চেহারাকে নয়, জীবনের আরও অনেক কিছুতে প্রভাব ফেলতে পারে।
কারণ—
ফ্যাশন ও প্রবণতা বদলে যায়...
কিন্তু আপনার দৃষ্টিশক্তি পাওয়া যায় মাত্র একবার। 👁️❤️
Install app for better experience