উজবেকিস্তানে অনেকে তাদের সঞ্চয় মুখের ভেতরেই পরে রাখেন!
উজবেকিস্তানে সোনার দাঁত খুব সাধারণ দৃশ্য। বাজারে হাঁটলে দেখবেন- বয়স্ক অনেক নারী হাসলে ঝলমল করে ওঠে সোনার দাঁত। এটি শুধু ফ্যাশন নয়; এটি বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসা এক ঐতিহ্য।
এর পেছনে ছিল বাস্তব কারণ। প্রথমত, এটি ছিল মর্যাদার প্রতীক। যত বেশি সোনার দাঁত, তত বেশি সম্পদশালী বলে মনে করা হতো। দ্বিতীয়ত, এটি ছিল বহনযোগ্য সঞ্চয়। সোভিয়েত আমলে মানুষ ব্যাংকের ওপর আস্থা রাখত না। অর্থনীতি ছিল অনিশ্চিত। তাই সম্পদ নিরাপদে রাখার জন্য দরকার ছিল এমন এক জায়গা, যা সবসময় নিজের সঙ্গে থাকবে। সোনার দাঁত সেই সমাধান হয়ে ওঠে; মূল্যবান জিনিস চোখের সামনেই, নিজের শরীরের অংশ হয়ে থাকে।
তৃতীয়ত, ব্যবহারিক কারণ। সোভিয়েত যুগে দাঁতের চিকিৎসায় বিকল্প উপকরণ খুব বেশি ছিল না। সিরামিক বা টাইটানিয়াম সহজলভ্য ছিল না। সোনা ছিল চিকিৎসকদের হাতে থাকা অন্যতম উপাদান। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পরও মধ্য এশিয়ার অপেক্ষাকৃত দরিদ্র অঞ্চলে সোনার ব্যবহার চলতে থাকে।
এই প্রথা বিশেষ করে বয়স্ক নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, যদিও পুরুষদের মধ্যেও ছিল। কেউ কেউ সুস্থ দাঁত উঠিয়ে সোনার দাঁত বসাতেন।
তবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ প্রবণতা কমে এসেছে। পশ্চিমা দন্তচিকিৎসার বদৌলতে এখন সিরামিকের দাঁতই বেশি জনপ্রিয়। তুর্কমেনিস্তানে ২০০৪ সালে শাসক সাপারমুরাত নিয়াজভ সোনার দাঁত নিষিদ্ধ করেছিলেন।

