🎖️💔 যুদ্ধ শুরু হয় যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছানোর অনেক আগেই। কখনও কখনও এটি শুরু হয় একটি ট্রেন প্ল্যাটফর্মে।
তারা বাস, ট্রেন বা সামরিক ট্রাকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে — ইউনিফর্ম ঠিকঠাক, ব্যাগ গুছানো, বাইরে থেকে শান্ত দেখানোর চেষ্টা করে, যদিও তাদের হাত কাঁপে।
চারপাশে সবকিছু তখন খুব শব্দময় লাগে।
ইঞ্জিনের গর্জন। বুটের শব্দ। আদেশের চিৎকার।
কিন্তু বিদায় নেওয়া দুই মানুষের মাঝে সময় যেন ধীরে চলে। ⏳
কোনো নাটকীয় বক্তৃতা থাকে না।
শুধু নীরব কিছু কথা।
“আমি ফিরে আসব।”
“আমার জন্য অপেক্ষা করো।”
তারা একে অপরকে একটু বেশি সময় ধরে জড়িয়ে রাখে, যেন ছোট ছোট মুহূর্তগুলো মনে গেঁথে নিতে চায় — আলিঙ্গনের উষ্ণতা, পরিচিত শরীরের গন্ধ, কাছ থেকে মুখটা কেমন লাগে, যখন জানো কিছু সময়ের জন্য এটিই হয়তো শেষ দেখা।
কেউ কেউ জোর করে হাসে, যেন শেষ স্মৃতিটা অশ্রুতে ভিজে না থাকে।
আবার কেউ ভয়টা লুকানোর চেষ্টাই করে না।
হাতগুলো শক্ত করে ধরা থাকে, যতক্ষণ না আর ধরে রাখা সম্ভব হয়।
তারপর আসে সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তটি।
বিচ্ছেদ।
কারণ প্রতিটি ইউনিফর্মের আড়ালে থাকে একটি জীবন, যা হঠাৎ থেমে যায়।
বিয়ের পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়।
শিশুরা এখনো জন্মায়নি।
ঘর এখনো তৈরি হয়নি।
স্বপ্নগুলো চুপচাপ ভাঁজ করে রাখা হয় পকেটে, যেন চিঠি — আবার একদিন খুলে দেখার অপেক্ষায়।
যুদ্ধ শুধু সৈন্যদের সামনের সারিতে পাঠায় না।
এটি কাউকে পেছনে রেখে যায়… নীরবতাকে আঁকড়ে ধরে। 🕊️
আর সেই শেষ বিদায়ের ভেতরেই থাকে এক ভিন্ন ধরনের সাহস।
যে সাহস পদক এনে দেয় না।
যে সাহস কাউকে যেতে দেয় — তবুও বিশ্বাস করে, সে ফিরে আসবে।