এপস্টিন ফাইলস: কী আছে এই নথিতে, কেন পুরো বিশ্বে আলোচনার ঝড়?
***
২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ) ইতিহাসের অন্যতম বড় এক নথি উন্মুক্ত করেছে, যা পরিচিত হয়েছে “এপস্টিন ফাইলস” নামে। প্রায় ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা নথি, সঙ্গে হাজার হাজার ছবি ও ভিডিও। সব মিলিয়ে এই প্রকাশ শুধু একটি মামলার দলিল নয়, বরং ক্ষমতা, অর্থ ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি বিশাল দলিল।
* এপস্টিন কে ছিলেন?
জেফ্রি এপস্টিন ছিলেন একজন ধনকুবের অর্থলগ্নিকারী, যিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নিপীড়ন ও পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। তিনি ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার হন এবং কারাগারে থাকাকালীন আত্মহত্যা করেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পরও প্রশ্ন থেকে যায় - এত বড়
অপরাধ চক্র এতদিন কীভাবে আড়ালে ছিল?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এপস্টিন ফাইলস।
* এই ফাইলগুলোতে কী আছে?
এই নথিগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে থাকা দুই দশকের তদন্ত উপকরণ। এতে রয়েছে—
- এপস্টিন ও তার সহযোগীদের ই-মেইল ও যোগাযোগের রেকর্ড
- এফবিআই ও প্রসিকিউটরদের তদন্ত নোট
- আদালতের নথি ও খসড়া অভিযোগপত্র
- বিমান ভ্রমণের তালিকা (ফ্লাইট লগ)
- বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও ব্যক্তিগত বৈঠকের তথ্য
- প্রায় ২ হাজার ভিডিও ও ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি
এগুলোতে বিশ্বের বহু রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, ধনকুবের, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের নাম উঠে এসেছে।
* কেন ট্রাম্প, মোদী, প্রিন্স অ্যান্ড্রুদের নাম আলোচনায়?
এই ফাইলসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম বহুবার এসেছে—মূলত ই-মেইল, সংবাদ শেয়ার বা তৃতীয় পক্ষের মন্তব্যে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, এসবের বেশিরভাগই যাচাইহীন টিপস বা গুজব, নতুন কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামও একটি ই-মেইলের প্রসঙ্গে এসেছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে ভারত সরকার এটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অপ্রাসঙ্গিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
নিউইয়র্কের রাজনীতিক জোহরান মামদানির মায়ের নামও একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের অতিথি তালিকায় এসেছে—এ ক্ষেত্রেও কোনো অভিযোগ বা অপরাধের প্রশ্ন নেই।




