চাইল্ডস পোজ, যোগশাস্ত্রে যা বালাসন নামে পরিচিত, একটি কোমল বিশ্রামভঙ্গি যা অনেক মানুষ শরীর ও মনকে শান্ত করার জন্য ব্যবহার করেন। এই ভঙ্গিটি খুবই সহজ: মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে নিতম্বকে ধীরে ধীরে পায়ের গোড়ালির দিকে নামিয়ে আনতে হয়, হাত সামনে প্রসারিত করা যায় বা শরীরের পাশে রেখে দেওয়া যায়, আর কপাল মাটিতে ছোঁয়াতে হয়।
এর নরম ও চাপহীন স্বভাবের কারণে, যোগচর্চার সময় এটি প্রায়ই বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের জন্য বিরতির ভঙ্গি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
চাইল্ডস পোজ উপকারী হওয়ার কারণ কোনো জাদু বা তাৎক্ষণিক আরোগ্য নয়, বরং শরীর স্বাভাবিকভাবে স্থিরতা ও ধীর শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রতি যেভাবে সাড়া দেয়, সেটাই মূল বিষয়। কেউ যদি আরামদায়কভাবে এই ভঙ্গিতে থাকে এবং গভীর, ধীর শ্বাসে মনোযোগ দেয়, তাহলে শরীরে ধীরে ধীরে প্রশান্তির অনুভূতি আসতে পারে।
এর কারণ হলো—শিথিল শ্বাস-প্রশ্বাস ও কোমল ভঙ্গি শরীরের স্বাভাবিক শিথিল প্রতিক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে। অনেকেই কয়েক মিনিট এই ভঙ্গিতে থাকার পর পিঠ, কাঁধ, নিতম্ব ও ঘাড়ের পেশিতে টান কমে যাওয়ার কথা জানান।
চাইল্ডস পোজ মানসিকভাবেও সান্ত্বনাদায়ক মনে হতে পারে। শরীরকে ভেতরের দিকে গুটিয়ে নেওয়া এই ভঙ্গিটি নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করতে পারে, যা চাপের মুহূর্তে মানুষকে স্থির ও grounded অনুভব করতে সাহায্য করে।
এই কারণেই যোগ ও মাইন্ডফুলনেস চর্চায় এটিকে প্রায়ই শান্তিদায়ক ভঙ্গি হিসেবে পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে মনে রাখা জরুরি, এর প্রভাব মৃদু এবং ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে হঠাৎ করে “রিসেট” করে না, আর এটি উদ্বেগ, ট্রমা বা কোনো চিকিৎসাজনিত সমস্যার চিকিৎসাও নয়।
এই ভঙ্গিটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে তখনই, যখন তা জোর না করে ধীরে ও আরামে করা হয়। আরামই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটু, বুক বা মাথার নিচে কুশন বা ভাঁজ করা কম্বল ব্যবহার করলে ভঙ্গিটি আরও সহজ ও আরামদায়ক হতে পারে।
যাদের হাঁটুতে ব্যথা, আঘাত বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, তাদের এই ভঙ্গিটি পরিবর্তন করে করা উচিত অথবা অস্বস্তি হলে এড়িয়ে চলা উচিত।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, চাইল্ডস পোজ হলো শরীরকে একটু ধীর করার একটি নীরব মুহূর্ত। এটি মানুষকে সামান্য বেশি স্বস্তি পেতে, গভীরভাবে শ্বাস নিতে এবং দৈনন্দিন টানটান ভাব কিছুটা ছেড়ে দিতে সাহায্য করতে পারে। এর আসল শক্তি নিহিত আছে সরলতা, ধৈর্য এবং সচেতন শ্বাস-প্রশ্বাসে—তাৎক্ষণিক বা নাটকীয় দাবিতে নয়।