চীনের হেনান প্রদেশের লিনলৌ নামের একটি গ্রামীণ গ্রামে জীবনের প্রায় পুরোটা সময় কাটিয়েছিলেন ঝাং রুইফাং। ধারণা করা হয়, তিনি ১৯১৭ সালের দিকে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের শেষের দিকে তাঁর কপালে একটি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা দেয়—প্রায় ৬ সেন্টিমিটার লম্বা শিংয়ের মতো একটি অংশ।
তাঁকে পরীক্ষা করা চিকিৎসকদের মতে, এই অস্বাভাবিক গঠনটি কেরাটিন দিয়ে তৈরি—যে একই উপাদান আমাদের চুল ও নখেও পাওয়া যায়। এটি সম্ভবত একটি কিউটেনিয়াস হর্ন (cutaneous horn), যা ত্বকের একটি বিরল অস্বাভাবিকতা এবং সাধারণত ক্ষতিকর নয়।
এই অদ্ভুত শারীরিক বৈশিষ্ট্যটি বিশ্বজুড়ে মানুষের কৌতূহল সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচিত হয়। তবে ঝাং নিজে বিষয়টি নিয়ে খুব একটা বিচলিত ছিলেন না।
নিজের চেহারার পরিবর্তন নিয়ে তিনি বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন হননি এবং এটি অস্ত্রোপচার করে অপসারণ করারও ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। বরং তিনি আগের মতোই গ্রামের সহজ-সরল জীবনযাপন চালিয়ে যান। মানুষের কৌতূহল ও নানা প্রশ্নকে তিনি শান্তভাবে, কখনো হালকা হাস্যরসের সঙ্গে গ্রহণ করতেন।
তাঁর গল্প যেন একটি নীরব শিক্ষা দিয়ে যায়—
মর্যাদা সবসময় নিজের ভিন্নতাকে বদলে ফেলার মধ্যে থাকে না; কখনো কখনো জীবনের বাস্তবতাকে যেমন আছে, ঠিক তেমনভাবেই গ্রহণ করার মধ্যেও গভীর সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে।