😨🖐 জানেন কি, আঙুলের নখে একটি সাধারণ পরিবর্তন শরীরের ভেতরের গুরুতর রোগের সংকেত দিতে পারে?
অ্যাক্রোপ্যাকি (Acropachy), যা ডিজিটাল ক্লাবিং (Digital clubbing) নামেও পরিচিত, এমন একটি অবস্থা যেখানে আঙুলের ডগা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে বা মোটা হয়ে যায় এবং নখ নিচের দিকে বাঁকতে থাকে। সাধারণত এতে ব্যথা হয় না, তবে এটি ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্র, লিভার বা পরিপাকতন্ত্রের কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হতে পারে।
ছবি তোলার সময় চোখের মণি বা pupil প্রসারিত থাকলে ক্যামেরার ফ্ল্যাশের আলো চোখের ভেতরে প্রবেশ করে। সেই আলো চোখের পেছনের রেটিনা (retina)-য় প্রতিফলিত হয়ে সরাসরি ক্যামেরার লেন্সে ফিরে আসে। রেটিনায় প্রচুর রক্তনালি থাকায় প্রতিফলিত আলো আমাদের চোখে লাল রঙের বলে মনে হয়। এ কারণেই ছবিতে চোখ লাল দেখায়।
বর্তমানে এই ঘটনা আগের তুলনায় অনেক কম দেখা যায়। কারণ আধুনিক স্মার্টফোনে তুলনামূলকভাবে কম সরাসরি ফ্ল্যাশ ব্যবহার করা হয়, আশপাশের আলো আরও ভালোভাবে কাজে লাগানো হয় এবং বেশি আলো সংবেদনশীল সেন্সর ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি, ফোনের সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল চোখ শনাক্ত করে তা সংশোধনও করতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রেই আধুনিক ফোনে ছবি তোলার জন্য ফ্ল্যাশের প্রয়োজনই হয় না। তাই ছবিতে লাল চোখ দেখা এখন অনেকটাই অতীতের বিষয় হয়ে উঠেছে।
Plica fimbriata হলো জিহ্বার নিচের দিকে, lingual frenulum বা জিহ্বার বন্ধনীর কাছাকাছি থাকা মিউকাস ঝিল্লির ছোট ছোট ভাঁজ। এগুলোকে সাধারণত জিহ্বার বিকাশের সময় তৈরি হওয়া স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় গঠন হিসেবে ধরা হয়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ক্ষুদ্র ভাঁজগুলো কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করে না। অনেক মানুষ যে তাদের জিহ্বার নিচে এমন গঠন রয়েছে, সেটিও জানেন না।
কখনো কখনো এগুলোতে সামান্য জ্বালা বা ঘর্ষণ হলে কথা বলা কিংবা চিবানোর সময় হালকা অস্বস্তি হতে পারে। তবে সাধারণভাবে Plica fimbriata মানুষের মুখের স্বাভাবিক শারীরিক গঠনেরই একটি অংশ।
ব্রিটিশ হাইপাররিয়ালিজম শিল্পী Baris Kareli প্লাটিনাম-কিউর সিলিকন ব্যবহার করে মানুষের ত্বকের মতো দেখতে ভাস্কর্য তৈরি করেন। তিনি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে ত্বকের সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য—যেমন লোমকূপ, ভাঁজ এমনকি সূক্ষ্ম লোম—তৈরি করেন।
তার শিল্পকর্মে সাধারণ ও পরিচিত বিভিন্ন বস্তু, যেমন Coca-Cola-এর ক্যান, কৃত্রিম মানবত্বকে আবৃত করে এমন অস্বস্তিকর অথচ আকর্ষণীয় শিল্পকর্মে পরিণত হয়।
এর ফলে দর্শকদের মনে প্রায়ই এক অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি হয়—একদিকে বিস্ময় ও আকর্ষণ, অন্যদিকে অস্বস্তি বা অস্বাভাবিকতার অনুভূতি।
দৈনন্দিন পরিচিত আকৃতির সঙ্গে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত কৃত্রিম ত্বকের সমন্বয়ের মাধ্যমে Kareli-এর শিল্প আমাদের স্পর্শের অনুভূতি, পরিচয় এবং মানবদেহ ও আমাদের চারপাশের জড়বস্তুর মধ্যকার সীমারেখা নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে।
অ্যালবিনিজম (Albinism) হলো একটি বিরল বংশগত অবস্থা, যেখানে শরীরে মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থ খুব কম বা একেবারেই তৈরি হয় না। মেলানিন ত্বক, চুল ও চোখের স্বাভাবিক রং তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ফলে অ্যালবিনিজমে আক্রান্ত মানুষের ত্বক খুব হালকা, চুল ফ্যাকাশে স্বর্ণালি বা সাদা এবং চোখ নীল, ধূসর কিংবা আইরিসের স্বচ্ছতার কারণে কিছু ক্ষেত্রে সামান্য লালচে দেখাতে পারে।
তবে অ্যালবিনিজম শুধু বাহ্যিক চেহারার ওপর প্রভাব ফেলে না। মেলানিনের ঘাটতি দৃষ্টিশক্তিকেও প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে আলোতে চোখ অতিরিক্ত সংবেদনশীল হওয়া এবং দৃষ্টির তীক্ষ্ণতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অ্যালবিনিজম একটি বংশগত অবস্থা—এটি ছোঁয়াচে নয় এবং জীবনযাপনের ধরন বা কোনো ব্যক্তিগত অভ্যাসের কারণে সৃষ্টি হয় না।
বিশ্বের কিছু অঞ্চলে, বিশেষ করে আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায়, অ্যালবিনিজমে আক্রান্ত মানুষরা বৈষম্য ও ক্ষতিকর কুসংস্কারের শিকার হন। তাই অ্যালবিনিজম সম্পর্কে সঠিক সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
“জায়ান্ট ওয়াটার বাগ” বলতে সাধারণত Belostomatidae পরিবারের পোকামাকড়কে বোঝানো হয়। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সত্যিকারের পোকামাকড়গুলোর মধ্যে অন্যতম এবং দৈর্ঘ্যে প্রায় ১২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বড় হতে পারে। এসব জলজ শিকারি আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের নদী, পুকুর ও জলাভূমিতে বাস করে। শিকারের অপেক্ষায় তারা প্রায়ই পানির নিচের গাছপালার মধ্যে লুকিয়ে থাকে। তাদের সামনের শক্তিশালী পা অনেকটা আঁকড়ে ধরার নখরের মতো কাজ করে, যার সাহায্যে তারা মাছ, ব্যাঙাচি এমনকি ছোট ব্যাঙও ধরে ফেলতে পারে।
শিকার ধরার পর জায়ান্ট ওয়াটার বাগ তার শরীরে পরিপাককারী এনজাইম প্রবেশ করায়। এই এনজাইম শিকারের টিস্যুকে তরলে পরিণত করে, এরপর পোকাটি সেই তরল শুষে খায়। শিকার ধরার এই পদ্ধতি মিঠাপানির বাস্তুতন্ত্রে তাদের অত্যন্ত কার্যকর শিকারিতে পরিণত করেছে।
তাদের শিকারি আচরণ কিছুটা ভয়ংকর মনে হলেও, জলজ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রকৃতি এমন অসংখ্য প্রাণীতে ভরা, যারা দেখতে ছোট হলেও তাদের বেঁচে থাকার কৌশল অবিশ্বাস্যভাবে শক্তিশালী। জায়ান্ট ওয়াটার বাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ক্ষুদ্র জলজ বাস্তুতন্ত্রের মধ্যেও এমন শীর্ষস্থানীয় শিকারি থাকতে পারে, যাদের ক্ষমতা সত্যিই বিস্ময়কর।
টোকান পাখির মাথার খুলি ছোট, হালকা ও নাজুক হলেও এটি শরীরের তুলনায় পাখিজগতের অন্যতম বৃহৎ ঠোঁটকে ধারণ করে। এর রহস্য লুকিয়ে আছে ঠোঁটের অভ্যন্তরীণ গঠনে।
টোকানের ঠোঁট শক্ত ও নিরেট নয়। এটি হালকা, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত হাড় দিয়ে তৈরি এবং বাইরে কেরাটিনের একটি স্তর দিয়ে আবৃত—যে উপাদানটি মানুষের নখেও পাওয়া যায়। এই বিশেষ গঠন ঠোঁটটিকে একই সঙ্গে শক্তিশালী ও আশ্চর্যজনকভাবে হালকা করে তুলেছে। ফলে অতিরিক্ত চাপ ছাড়াই টোকান সহজে চলাফেরা করতে পারে।
টোকানের ঠোঁট শুধু খাবার সংগ্রহের জন্য নয়, এটি একটি বহুমুখী হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করে। টোকান এমন সরু ডালে থাকা ফল সংগ্রহ করতে এর ঠোঁট ব্যবহার করে, যেগুলো তার শরীরের ওজন বহন করতে পারে না। এছাড়া সঙ্গী আকর্ষণের প্রদর্শন, হালকা আত্মরক্ষা এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ঠোঁটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঠোঁটের ভেতরে থাকা রক্তনালিগুলো শরীরের অতিরিক্ত তাপ বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে। এভাবে ঠোঁটটি অনেকটা প্রাকৃতিক কুলিং সিস্টেমের মতো কাজ করে এবং টোকানের শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে।
জীববিজ্ঞান ও প্রকৌশলের এই অসাধারণ সমন্বয় দেখায়, বিবর্তন কীভাবে এমন কাঠামো তৈরি করতে পারে, যা একই সঙ্গে অত্যন্ত কার্যকর এবং দৃষ্টিনন্দন।
Install app for better experience