সোহনা ও মোহনা ২০০৩ সালে নয়াদিল্লিতে শারীরিকভাবে সংযুক্ত যমজ হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। চিকিৎসকরা নির্ধারণ করেছিলেন, তাদের আলাদা করার চেষ্টা করলে একজন ভাইয়ের মৃত্যু হতে পারে এবং অন্যজনও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। কিছুদিন পর তাদের জৈবিক বাবা-মা তাদের পরিত্যাগ করেন। এরপর ছেলেদের আমৃতসরের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান পিঙ্গালওয়ারা আশ্রয় দেয়।
তারা এক জোড়া পা এবং লিভার ও গলব্লাডারসহ কয়েকটি অঙ্গ ভাগ করে নেন। তবে প্রত্যেকের মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, দুই হাত, কিডনি ও মেরুদণ্ড আলাদা। ছোটবেলা থেকেই তাদের ব্যক্তিত্ব ও মতামতও ছিল আলাদা, যদিও প্রায় প্রতিটি শারীরিক নড়াচড়ার জন্যই দুজনের সমন্বয় প্রয়োজন হতো।
তাদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল বিদ্যুৎ নিয়ে।
পিঙ্গালওয়ারার একজন ইলেকট্রিশিয়ানের কাছ থেকে তারা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজ শেখা শুরু করেন। পরে পড়াশোনা শেষ করে ইলেকট্রিক্যাল কাজের ওপর আইটিআই ডিপ্লোমা অর্জন করেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে পাঞ্জাব স্টেট পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেড তাদের আমৃতসরের ৬৬ কেভি বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়মিত টি-মেট হিসেবে নিয়োগ দেয়।
একই সময়ে ঘটে আরও একটি অসাধারণ ঘটনা।
ভারতের নির্বাচন কমিশন সোহনা ও মোহনাকে দুইজন আলাদা ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করে। এর মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয় যে তারা একই শরীরের সঙ্গে যুক্ত হলেও, তাদের নিজস্ব চিন্তা, মতামত ও সিদ্ধান্ত রয়েছে। পরে তারা আলাদাভাবে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নেন এবং ভোট দেওয়ার সময় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়।
একসময় তারা ছিল এমন দুই শিশু, যাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চিকিৎসকরাও খুব বেশি কিছু অনুমান করতে পারেননি।
আজ তাদের রয়েছে শিক্ষা, দক্ষতার ভিত্তিতে চাকরি এবং আইনের স্বীকৃত আলাদা ব্যক্তিসত্তা।
সোহনা ও মোহনা কীভাবে পৃথিবীতে আসবেন, তা তারা নিজেরা বেছে নিতে পারেননি। কিন্তু সেই জীবন নিয়ে কী তৈরি করবেন, তা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা কখনো থেমে থাকেননি।
তাদের গল্পের কোন অংশটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে?